ভয়াবহ বন্যায় মানুষের হাহাকার, ত্রাণ ও সুপেয় পানির সংকট

কুমিল্লার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে থাকা কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি উপজেলাই বানের পানিতে নিমজ্জিত। পানিবন্দি অন্তত ১৫ লাখ মানুষ। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।চারদিকে এখন বানভাসী মানুষের হাহাকার। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ত্রাণ ও সুপেয় পানির সংকট।

কুমিল্লায় আকস্মিক বন্যার আঘাতে সর্বপ্রথম প্লাবিত হয় জেলার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম উপজেলা। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য উপজেলা প্লাবিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বুড়িচংসহ অন্যান্য উপজেলা। জেলার অন্যান্য উপজেলায় কমবেশি ত্রাণ পৌঁছালেও সেভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছায়নি জেলার মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটে। অথচ পানির নিচে থাকা এ দুই উপজেলায় ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন বানভাসী মানুষ।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে শুরু করে কয়েকটি স্থানে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও এগুলো চাহিদার সিকিভাগ পূরণ করতে পারছে না।যার কারণে এ দুই উপজেলার বানভাসী মানুষেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মনোহরগঞ্জ উপজেলার গাজিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আবদুল বাকী মিলন বলেন, বুড়িচংসহ অন্যান্য উপজেলার আগে মনোহরগঞ্জ উপজেলা পুরোপুরি প্লাবিত হয়। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় আসেনি। আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে সরকারি বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি। খাবারের কষ্টে মানুষ হাহাকার করছেন।
দোকানপাটেও তেমন খাবার সামগ্রী নেই। থাকলেও দাম অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। ১৪/১৫ শ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়। সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এসব বিষয়ে তদারকিসহ এ উপজেলাকে দ্রুত দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া দরকার ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মানুষজন কুমিল্লায় এলেও ত্রাণ ও উদ্ধার কর্মীরা বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, লাকসাম এসব এলাকায় বেশি প্রবেশ করছেন। স্থানীয় সামান্য কিছু উদ্যোগ ছাড়া ত্রাণ পাচ্ছেন না নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ।আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) সকালে এ দুই উপজেলার অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচার-প্রচারণা কম থাকায় ব্যক্তি ও সংগঠন কেন্দ্রীক ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ করা বাইরের স্বেচ্ছাসেবকরা একদম আসছেন না এ দুই উপজেলায়। মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলা একেবারেই নোয়াখালীর পাশে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারাই ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কুমিল্লায় আসছেন, তাদের সবাই কাছাকাছি অঞ্চল বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম বা আশপাশের উপজেলাগুলোতে প্রবেশ করছেন। মহাসড়ক থেকে দূরের উপজেলা হওয়ায় সেখানের এ উপজেলাগুলোতে বানভাসীদের কাছে যাচ্ছেন না কেউই। যার কারণে এ উপজেলাগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের মধ্যে হাহাকার বেড়েই চলেছে।

লাঙ্গলকোটের বাসিন্দা আজিম উল্যাহ হানিফ বলেন, নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়া গত কয়েক দিন ধরে পানির নিচে। এলাকাটা অনেক ভেতরে হওয়ায় কেউই সেখানে যাচ্ছেন না। যার কারণে তাদের খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থা পুরো উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে। সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা কম থাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব এলাকার বানভাসী মানুষজন।

স্থানীয়রা জানান, গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে বুড়িচং উপজেলার প্লাবনের খবর বেশি প্রচার হওয়ায় সারাদেশ থেকে দলে দলে নৌকা ও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করছেন সেখানেই। কিন্তু এর আগেই ডাকাতিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে জেলার দক্ষিণের চারটি উপজেলা। এসব এলাকায় অন্তত ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি আছেন। সরকারি ত্রাণ সেসব মানুষদের জন্য খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সেসব এলাকার বানভাসীরা।

উপজেলার ঢালুয়ার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুরো নাঙ্গলকোটে শুধু পানি আর পানি। অনেক অসুস্থ মানুষ, বৃদ্ধ মানুষ, গর্ভবতী নারীও আটকে আছে। তাদের উদ্ধার করা খুব দরকার, পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তাও। দেশের বিত্তশালী মানুষদের এদিকটার প্রতি একটু মনযোগ দেওয়ারও অনুরোধ করব।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার এক মাদরাসা শিক্ষক বলেন, বলেন, পুরো উপজেলার প্রায় সব সড়ক পানির নিচে। পুকুর দিঘি থেকে শুরু করে মাছের ঘের সবকিছুই প্লাবিত হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ এখন অবর্ণনীয়।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজালা রানী চাকমা বলেন, এই উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আজও পানি কিছুটা বেড়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে যেগুলোতে নৌকা ছাড়া যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। আমাদের কাছে নৌকার প্রচুর সংকট রয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে পাঠিয়ে সেসব এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন একটা মানুষও অভুক্ত না থাকে। তবে আমাদের আরও অনেক সহায়তা দরকার। আমি অনুরোধ করবো বিত্তশালীরা বানভাসী মানুষের জন্য এগিয়ে আসুন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, নাঙ্গলকোটে ত্রাণ সরবরাহে কিছুটা সংকট আছে আমরা সেটা স্বীকার করছি। এ উপজেলার কিছু জায়গায় একেবারেই পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি ।

টঙ্গীতে ১৯ দফা দাবিতে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডএ শ্রমিক বিক্ষোভ

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
১৯ দফা দাবি জানিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামের একটি ওষুধ উৎপাদন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। গতকাল রোববার সকাল দশটার দিকে টঙ্গীর তিস্তাা গেট এলাকায় কারখানাটির প্রধান ফটকের বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে এ বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকরা জানায়, রোববার সকালে কারখানাটির প্রায় দুই হাজার পাঁচ শ জন শ্রমিক কারখানায় কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় তাঁরা তাদের ১৯ দফা দাবি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক দাবিগুলো মেনে না নেওয়ায় শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে কারখানাটির সমনের শাখা সড়কে অবস্থান নিয়ে ¯েøাগান দিতে থাকে তারা।
শ্রমিকদের ১৯ দফা দাবির মধ্যে আছে, সাধারণ কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা নিশ্চিত, নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন, অস্থায়ী শ্রমিকদের ছয় মাসের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণ, স্থায়ী শ্রমিকদের বেতন ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও অস্থায়ী শ্রমিকদের হাজিরা বোনাস ও ঈদ বোনাস পাঁচ হাজার টাকা করা, নৈশকালীন কাজের মজুরি পাঁচ শ টাকা, প্রতি বছর শেষে উৎপাদন বোনাস প্রদান, পরিচালক আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগ প্রভৃতি।
শ্রমিকদের দাবি মেনে না নেওয়ায় গতকাল বিকেল পষর্ন্ত তারা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে।
কারখানাটির মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা আসিফ হাসনাত বলেন, শ্রমিকদের সব দাবি যৌক্তিক নয়। আমরা তাদের অধিকাংশ যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন বলেন, শ্রমিকেরা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। আমরা কারখানায় এসেছি। মালিকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতি কতজনের সাজা মওকুফ করেছেন, জানতে চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

রাষ্ট্রপতি কতজনের কারাদণ্ড মওকুফ, দণ্ড স্থগিত বা হ্রাস করেছেন তার তালিকা প্রকাশের জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক। নোটিশে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও ক্ষতিয়ে দেখা দরকার বলে উল্লেখ করা হয়। 

আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) নোটিশে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাবলে বহু ক্রিমিনাল, হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের ক্ষমা বা তাদের দণ্ড মওকুফের আদেশ দিয়ে আসছেন।

রাষ্ট্রপতির মার্জনায় বহু ফাঁসির আসামি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেল থেকে বেরিয়ে সমাজে আবার মাফিয়া ডন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।নোটিশে আরো বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায়, কাদের সুপারিশ বা তদবিরে দাগী, ঘৃণিত, কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষমা করে বা দণ্ড মওকুফ করে দায় মুক্তি দিচ্ছেন তা একজন নাগরিক হিসেবে আমার বা আমাদের জানার অধিকার আছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতার অপব্যবহার বা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা রাজনৈতিক কোনোরূপ বল প্রয়োগ আছে কি না তাও ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

নোটিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতার উৎস বা কোন আইন দ্বারা তিনি কীভাবে কোনো প্রক্রিয়ায় তা করে থাকেন বা দণ্ড মত্তকুফের মানদণ্ড কী? তা মানুষের জানা দরকার।

তাই এখানে ১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত যতজনকে রাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ করে বা দণ্ড স্থগিত করে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন তাদের নামের তালিকা ও কী প্রক্রিয়ায় তাদের ক্ষমা করা হয়েছে তার বিশদ বর্ণনা নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে আমাকে প্রদান করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দণ্ড মওকুফ হওয়াদের তালিকা না পেলে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘প্রয়োজনে আত্মহত্যা করব, তবু পদত্যাগ করব না’

কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও চাকরিচ্যুতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে স্কুলটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীন বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করব না। যদি সুইসাইড (আত্মহত্যা) করতে হয় তা-ও আমি পদত্যাগ করব না।’

‘কোনো স্টুডেন্ট পদত্যাগ করাতে পারে না। একটা আইন আছে, সরকারি স্কুলের একটা প্রসিডিউর আছে। তবে আমি কুড়িগ্রামে এক সেকেন্ডও থাকতে চাই না। কিন্তু আমি জীবন থাকতে সাইন করব না।’ যোগ করেন এই প্রধান শিক্ষক।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তার পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলায়। স্বামীর বাড়ি লালমনিরহাট জেলা সদরে।

লালমনিরহাট থেকে প্রাইভেট কারে করে স্বামী রেজাউল করিমসহ নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি স্কুলটিকে অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার আঁতুড়ঘরে পরিণত করেন বলে অভিযোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এমনকি স্কুলের বিজ্ঞানাগারে নিজ স্বামীর বিশ্রামের জন্য তৈরি করেছেন বিশ্রামাগার।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলে তাঁকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। স্কুলের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন কক্ষে তালা লাগিয়ে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বকালীন গত ১৫ বছরে স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আঁচ করতে পেরে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। কয়েক দিন ধরে তিনি স্কুলে অনুপস্থিত।

রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
স্কুলটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বলছেন, ‘স্কুলটি যেন প্রধান শিক্ষকের প্রমোদখানা! কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে স্কুলে একরকম ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বেপরোয়াভাবে স্কুল পরিচালনা করছেন। গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় তিনি সবসময় শিক্ষকদের হুমকির ওপর রাখতেন। শিফট পরিবর্তনসহ বদলির ভয় দেখাতেন। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না।’

অর্থ আত্মসাৎ 
শিক্ষক ও অন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘স্কুলটিতে দুই শিফটে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। গত ১৫ বছরে প্রধান শিক্ষক স্কুল ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। বিভিন্ন প্রকার খাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বাৎসরিক ও মাসিক যে টাকা আদায় করা হতো তার কোনো আয়ব্যয়ের হিসাব তিনি দেননি। প্রতিমাসে কর্মচারীদের পারিশ্রমিক বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ২০ টাকা করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু ব্যয় হয় সামান্য। স্কুলে শিক্ষার্থীদের কোনো কমনরুম না থাকলেও কমনরুম ফি আদায় করা হয়। আরো বেশ কয়েকটি খাতের লাখ লাখ টাকার কোনও হিসাব তিনি দিচ্ছেন না।’

ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনে বাণিজ্য 
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, যোগদানের কয়েক বছরের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক রুখসানা পারভীন স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য শুরু করেন। এ ছাড়াও টাকার বিনিময়ে তিনি মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থীকে ডে শিফটে এবং ডে শিফটের শিক্ষার্থীদের মর্নিং শিফটে দিতেন। এসব কাজে কুড়িগ্রামের কয়েকজন সাংবাদিক নেতা, একজন সাবেক তথ্য কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ মিলে একটি সিন্ডিকেট কাজ করত। অপেক্ষমান তালিকার ক্রম ভঙ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হত। এ ছাড়াও লটারিতে টেকেটি এমন শিক্ষার্থীও ভর্তির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

রুখসানার ভয়ে তটস্থ থাকতেন শিক্ষকেরা 
চোখের সামনে নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও রুখসানার ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না সাধারণ শিক্ষকরা। জেলার বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য থাকায় রুখসানা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। কোনো শিক্ষক মুখ খোলার চেষ্টা করলেই তাদেরকে বদলির হুমকি দিতেন। এমনকি শিক্ষকদেরকে নিরাপত্তা নিয়েও ভয় দেখাতেন। ফলে ভয়ে সাধারণ শিক্ষকেরা কিছু বলতে পারতেন না। তবে স্কুল শিক্ষার্থীদের অন্দোলনের পর শিক্ষকেরা সাহস ফিরে পেয়েছেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত) তুষার কুমার রক্ষিত বলেন, ‘আমাদের সবার মুখ এতোদিন বন্ধ ছিল। আমাদের কিছু বলার ক্ষমতা ছিল না। কথা বললেই বদলির হুমকি, মর্নিং থেকে দিবা, দিবা থেকে মর্নিং শিফটে দেওয়া সহ নানা ধরণের হয়রানির হুমকি আমাদের দমিয়ে রেখেছিল। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি ও আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসক ও উপপরিচালককে লিখিত আকারে জানিয়েছি।’

অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষকের
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুখসানা পারভীন। আগে সকল শিক্ষক-কর্মচারী তাঁর পাশে থাকলেও এখন বিপক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসব অভিযোগ করছেন বলে দাবি তাঁর।

তিনি বলেন, ‘গার্লস স্কুলে কী হয় তা সকলেই জানে। আমি স্কুলটিকে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে আমি ভর্তি-বাণিজ্য করে কারও কাছে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছি, আমি তার জন্য সই দিতে রাজি আছি।’

গত ১৫ বছরের হিসাব প্রসঙ্গে এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমার কর্তৃপক্ষ চাইলে আমি সকল হিসাব দিতে প্রস্তুত। অভিযোগের সত্যতা পেলে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নেব।’

দেশের ১১ জেলার ৭৭ উপজেলা প্লাবিত, ১৮ জনের মৃত্যু

আকস্মিক বন্যায় গত ২০ আগস্টের পর দেশের ১১টি জেলার ৭৭টি উপজেলার অধীন ৫৮৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ লাখ পরিবার। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ মানুষ।

বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবারের বন্যায় বন্যাকবলিত ১১টি জেলার মধ্যে সাতটি জেলায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে পাঁচজন, নোয়াখালীতে তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন ও কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোর জেলা প্রশাসককে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেডিক্যাল টিম ও অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা এবং সচিব বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বন্যা উপদ্রুত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

উপদেষ্টা বর্তমানে ফেনীতে রয়েছেন। 

অতি দ্রুত জনগণের সামনে রোডম্যাপ উপস্থাপন করুন, প্রধান উপদেষ্টাকে ফখরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সীমিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রোডম্যাপ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই যে প্রধান উপদেষ্টা অতি দ্রুত জনগণের সামনে তিনি কী করতে চান, তা উপস্থাপন করবেন। একটা রোডম্যাপ দেবেন যে কীভাবে তিনি অতিদ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, কীভাবে তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো ঘটিয়ে জনগণকে স্বস্তি দিয়ে সামনের দিকে ‍এগোবেন নির্বাচন করার জন্য।’

এ সময় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংলাপেরও দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীনে সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা মনে করি, তাঁরা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। এই সরকারের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে, জনগণের আস্থা রয়েছে, সকলেরই আস্থা আছে। কিন্তু অবশ্যই সেটা (নির্বাচন অনুষ্ঠান) সীমিত সময়ের মধ্যেই করতে হবে, একটা সময়ের মধ্যে করতে হবে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই করতে হবে। তা না হলে যে উদ্দেশ্যে সেই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যাহত হবে। অবশ্যই অতিদ্রুত জনগণের যে চাহিদা, সেই চাহিদাকে পূরণ করবার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে একটা নির্বাচন দ্রুত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যায়—সে জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীনে সরকার কাজ করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমি নির্বাচন কথাটার ওপর জোর দিতে চাই। এই যে সংস্কারের বিষয়টা এসেছে, সব সময় আসছে সেই সংস্কারের জন্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেটা কীভাবে আসবে? সেটা আসবে একটা নির্বাচিত সংসদের মধ্য দিয়ে। এর কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং, কয়েকজন ব্যক্তি একটা সংস্কার করে দিলেন—এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের মাধ্যমে সেই সংস্কার আসতে হবে।’

সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এখন পর্যন্ত এই সরকারের সত্যিকার অর্থে অ্যাজেন্ডাভিত্তিক কোনো আলোচনা হয়নি। রাজনীতি ছাড়া তো এটা হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত তো আনতে হবে। যারা রাজনীতি করছেন, তাঁদের সঙ্গে অবশ্যই মতবিনিময় করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র নেতৃবৃন্দ যারা আজকে সহযোগিতা করছেন, তাঁদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে—এই বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে এই বিপ্লবকে যেন সুসংহত করা যায়, প্রতিবিপ্লব যেন না ঘটে। ইতিমধ্যে যে চক্রান্তের কথাবার্তা উঠে আসছে, সেগুলোকে যেন প্রতিহত করা যায়।’

বিগত সরকারের দোসর সচিবদের সরানোরও দাবি জানান ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই না, যে সমস্ত ব্যক্তিরা হাসিনার (সাবেক প্রধানমন্ত্রীর) পাশে থেকে, তার সঙ্গে থেকে, তার দোসর হয়ে তারা মানুষের ওপরে নির্যাতন-নিপীড়ন করেছেন, লুটপাট করেছেন, বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তাদের আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আশপাশে দেখতে চাই না। পত্রিকায় যখন ছবি দেখি যে এই সমস্ত লোকেরা আবার সংযুক্ত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করছেন, তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই। আমরা খুব চিন্তিত হই যে আজকে ১৬–১৭ দিন হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সমস্ত সেক্রেটারিরা ওই সরকারকে এত দিন ধরে চালিয়েছে, তাদের সমস্ত কুবুদ্ধিগুলো দিয়েছে তারা এখনো এই সরকারের সচিবের দায়িত্ব পালন করছে। আমরা দেখতে চাই যে অবিলম্বে এই ব্যুরোক্রেসিতে যারা প্রো-পিপল আছেন, যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, সেই আইন মেনে তাদের এই সরকারের পাশে দেখতে চাই। এ কথাগুলো আমরা বলতাম না। বলতে বাধ্য হচ্ছি এ জন্য যে আমরা সেগুলো দেখতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অথচ আগের উপাচার্যরা পদত্যাগ করেছেন। আমরা দেখতে চাই যে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, যা বলছে আ. লীগ

সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। শনিবার (২৪ আগস্ট) দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। 

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের নামে ঢালাও হত্যা মামলা করার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঢালাওভাবে হত্যা মামলার আসামি করছে।

ইতোমধ্যে বহু বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্টের নামে মামলা হয়েছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা মানবাধিকারের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এর নিন্দা এবং অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’নাছিম বলেন, ‘বিরুদ্ধ মত দমনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হত্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

যাদের এই অনির্বাচিত সরকার প্রতিপক্ষ মনে করছে তাদের হত্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। বাছবিচারহীনভাবে প্রতিপক্ষকে দমনে হত্যা মামলার এমন অপব্যবহার বাংলাদেশ কখনো দেখেনি।’বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী থানায় করা আরেকটি হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, একাত্তর টিভির সাবেক বার্তা প্রধান সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এটিএন নিউজের সাবেক বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহা, একাত্তর টিভির প্রিন্সিপাল করেসপনডেন্ট ফারজানা রুপা, একাত্তর টিভির চাকরিচ্যুত হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব নাঈমুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু এসব প্রতিবাদ ও উদ্বেগের তোয়াক্কা করছে না সরকার। গ্রেপ্তারকৃতদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য কোনো আইনজীবীকে লড়তে দেওয়া হচ্ছে না। যা সুষ্পষ্টভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’নাছিম বলেন, ‘গত ২০ আগস্ট ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘গণগত্যা’র মামলা করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতেই এমন অশুভ চেষ্টা চলছে বলে আমরা মনে করি।’বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ওপরে আদালত প্রাঙ্গণে হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন নারী নেত্রীকে নিরাপত্তা দিতে না পারাকে সরকারের ব্যর্থতা বলে মনে করি।’

শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার সমালোচনা করে নাছিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অটিজম বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা অন্যন্য। তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকার পরও তাকে গত বৃহস্পতিবার একটি হত্যা মামলার আসামি করা হয়। বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে যারা তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে তাদেরকেও টার্গেট করে নির্মূলের পথ নিতে চাইছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের।’

বাহাউদ্দিন আরো নাছিম বলেন, ‘আমরা সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করা, সাংবাদিকদের থামিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে হত্যা মামলাকে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব নয়।’

আনসারদের বিক্ষোভের মুখে যেসব সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ আনসার কর্তৃক উত্থাপিত দাবি-দাওয়াসমূহ সরকার গভীর মনোযোগ ও সহানুভূতির সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে। প্রাথমিকভাবে কিছু দাবি যৌক্তিক প্রতীয়মান হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে—

সাধারণ আনসারদের ৩ বছর চাকরিকালের পর যে বিশ্রাম দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে বিশ্রাম না দিয়ে চাকরি অব্যাহত রাখার বিষয়টি পরীক্ষা করা হবে।

আপাতত সাধারণ আনসার হিসেবে নতুন কোনো নিয়োগ দেওয়া হবে না।

সাধারণ আনসারদের প্রতিনিধিসহ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সাধারণ আনসার কর্তৃক উত্থাপিত যাবতীয় দাবি-দাওয়াসমূহ পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করে ০৭ (সাত) কার্য দিবসের মধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবে।

উক্ত কমিটির নিকট থেকে প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি প্রাপ্ত সুপারিশ পরীক্ষা করে বাস্তবায়নের কর্মপন্থা নির্ধারণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে সাধারণ আনসারদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘মনে রাখা দরকার যে, আনসার ভিডিপি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। ঐতিহ্যবাহী এ সুশৃঙ্খল বাহিনীর সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ কারও করা উচিত হবে না। এ প্রেক্ষিতে সকল সাধারণ আনসার সদস্যকে স্ব স্ব কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে কাজে যোগদানের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমাদের গোচরীভূত হয়েছে যে, মুষ্টিমেয় কজন উসকানিদাতা এই সুশৃঙ্খল বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সরকার প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না।’

চট্টগ্রামে থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুট: ৪০ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট, ভাঙচুর করে থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাসহ ৪০ হাজার আসামি দেখিয়ে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাশ বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। 

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়েদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইনের বিবিধ ধারায়, বিস্ফোরক আইনের ১৯০৮–এর ৩/৬ ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সনের ১৫(৩)/২৫-ডি ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় শেখ হাসিনার সরকার। এ সময় চট্টগ্রাম নগরের অন্য থানার পাশাপাশি কোতোয়ালি থানায় হামলার ঘটনা ঘটে এবং অস্ত্র লুট, ভাঙচুর করে থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বন্যায় এ পর্যন্ত নিহত ১৫, ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ লাখ মানুষ

 অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা ঢলে বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫১ লাখের বেশি মানুষ।১১ জেলায় পানিবন্দি প্রায় ১০ লাখ মানুষ। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

বন্যায় সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন‌ মারা গেছেন। যাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, দুজন নারী। কুমিল্লায় চারজন, চট্টগ্রামে চারজন, কক্সবাজারে তিনজন, ফেনীতে একজন, নোয়াখালীতে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন ও লক্ষ্মীপুরে একজন।

দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানায়, ১১ জেলায় (ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার) মোট ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৯ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৯ জন। ৭৭ উপজেলা বন্যাপ্লাবিত এবং ৫৮৯টি ইউনিয়ন বা পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, পানিবন্দি বা ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট তিন হাজার ১৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৩০ জন লোক এবং ১৮ হাজার ৯৬টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মোট ৬৩৯টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জেলায় দুর্গতদের মাঝে বিতরণের জন্য নগদ তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ১৫০ টন চাল এবং ১৫ হাজার বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ-সামগ্রী মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।

বন্যা আক্রান্ত জেলাসমূহের জেলা প্রশাসককে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেডিকেল টিম ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া  হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তথ্য ও সহযোগিতার জন্য ০২৫৫১০১১১৫ নম্বর চালু রয়েছে। ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর জেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা ও সচিব বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বন্যা উপদ্রুত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমানে উপদ্রুত এলাকায় অবস্থান করছেন।

এদিকে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান পাঠাতে আগ্রহীদের স্বাগত জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগ্রহীদের সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ‘প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’ নামের অ্যাকাউন্টে (হিসাব নম্বর : ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩) অনুদান পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।