এক দফা দাবিতে আনসার সদস্যদের শাহবাগ অবরোধ

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আনসার সদস্যরা। আজ রাত ১০টার পরে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন উপস্থিত আনসার সদস্যরা। 

 তাদের সবাই রাত ১০ টার দিকে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে অবস্থান নেন।

আরিফা নামে এক জন আনসার সদস্য বলেন, ‘যখন জীবনের ভয়ে পুলিশ ছিল না, র‍্যাব ছিল না, তখন আমরা ছিলাম। কিন্তু এই আমরাই সব সময় অবহেলিত। এবার চাকরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’

আনসারদের শাহবাগ মোড়ে অবস্থানের ফলে চারপাশে রাস্তা আটকে যায় এবং যানজট তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, সারা বাংলাদেশে ৫৩ হাজার সদস্য রয়েছে। তারা চান ব্যাটালিয়ন আনসারের মত চাকরির জাতীয়করণ।

আশুলিয়ায় ৩ পুলিশ হত্যা: দুই মামলায় অজ্ঞাত আসামি দেড় শতাধিক

ঢাকার আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের তন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পৃথক দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। 

আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ। এর আগে গত বুধবার আশুলিয়া থানায় এ দুটি মামলা করা হয়।

এর মধ্যে একটি মামলার বাদী নিহত পুলিশ সদস্য মো. সোহেল রানার স্ত্রী মোছা. রেশমা পারভীন। এতে অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সদস্য সোহেল রানা জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) আশুলিয়া জোনে কর্মরত ছিলেন। এ মামলায় ডিএসবির আরেক সদস্য এএসআই রাজু আহম্মেদকে হত্যার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেকটি মামলার বাদী পুলিশ সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাব্বি আক্তার। এটিতেও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। তবে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। রফিকুল ইসলাম পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (মালিবাগ, ঢাকা) কর্মরত ছিলেন।

মোছা. রেশমা পারভীনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে অজ্ঞাতনামা একদল দুষ্কৃতকারী আশুলিয়া থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। এএসআই সোহেল সে সময় বাইপাইল মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পার্শ্ববর্তী ধামসোনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের ভাড়া বাসায় চলে যান। বিকেল ৪টার দিকে নিরাপত্তার জন্য থানার এএসআই মো. রাজু আহমেদ, কনস্টেবল নাজমুল হক ও কনস্টেবল আতোয়ার হোসেনও ওই একই বাসায় আশ্রয় নেন।

এদিকে দুষ্কৃতকারীরা থানায় তাণ্ডবের পরে তাঁরা আশপাশে পুলিশ সদস্যের অবস্থান খুঁজতে থাকে। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ১০০-১৫০ দুষ্কৃতকারীরা ওই ভাড়া বাসায় হামলা চালায়। তারা বাসার ভেতরে ঢুকে বাসায় অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে কনস্টেবল নাজমুল ও কনস্টেবল আতোয়ার সেখান থেকে কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আর এএসআই রাজু আহমেদ ও সোহেলের মরদেহ বাসায় পড়ে থাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে দুষ্কৃতকারীরা ফের ঘটনাস্থলে এসে এএসআই সোহেলের মরদেহ পুড়িয়ে দেয় ও এএসআই রাজু আহমেদের মরদেহ নিয়ে থানার পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজে ঝুলিয়ে রাখে। এক দিন পর পরিবারের সদস্যরা সোহেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

রাব্বি আক্তারের স্ত্রীর করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট বিকেল ৪টার পর থেকে মো. রফিকুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরদিন তাঁরা জানতে পারেন আশুলিয়া থানা এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের সঙ্গে দুজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে একজন দেখতে রফিকুল ইসলাম রাব্বির মতো। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরে খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন রফিকুল ইসলাম ৫ আগস্ট বিকেলে থেকে ৬ আগস্ট সকালের যেকোনো একসময় ওই ফুটওভার ব্রিজের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা উত্তেজিত জনতা রফিকুলের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ চেক করে পুলিশের পরিচয়পত্র পেয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যা করে পায়ে রশি বেঁধে ফুটওভার ব্রিজে ঝুলিয়ে রাখে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ বলেন, গত বুধবার আশুলিয়া থানায় ৫ আগস্টের ঘটনায় পৃথকভাবে দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মনোনীত হলেন কমলা

আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পদপ্রার্থী গ্রহণ করেছেন কমলা হ্যারিস। প্রথম ভাষণে নিজের নীতি স্পষ্ট করলেন তিনি।

হ্যারিস জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকার সব মানুষের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে চান। তিনি বলেছেন, ‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রার্থীপদ গ্রহণ করছি।

আমেরিকার সব মানুষের হয়ে, তাদের কাহিনি বিশ্বের এই মহান দেশে স্বর্ণাক্ষরে লেখার জন্য প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ এই ভাষণ শুনছেন ও দেখছেন। তাদের কাছে আমি একটা কথাই বলতে চাই, আমি সেই প্রেসিডেন্ট হতে চাই, যিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন, তাদের উচ্চাশা পূরণ করবেন। এমন একজন প্রেসিডেন্ট হতে চাই, যিনি নেতৃত্ব দেবেন, যিনি সবার কথা শুনবেন।

’ভোটদাতাদের তিনি বলেছেন, ‘একটা নতুন পথে হাঁটার সুযোগ এসেছে। অতীতের তিক্ততা ভুলে, হতাশা মুছে দিয়ে এগোবার সুয়োগ এসেছে। একটা দল বা একটা গোষ্ঠী হিসাবে নয়, আমেরিকার মানুষ হিসেবে এগোনোর সুযোগ এসেছে। আমাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার সুয়োগ নেই।
’হ্যারিস বলেছেন,‘অনেক ক্ষেত্রেই ডনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়াস মানুষ নন। কিন্তু ডনাল্ড ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে আনার প্রতিক্রিয়া খুবই গুরুতর হতে বাধ্য।’পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে

কমলা হ্যারিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তিনি ইউক্রেন ও ন্যাটোর পাশে শক্তভাবে দাঁড়াবেন।

হ্যারিসের মতে, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় এসেছে। বন্দিদের মুক্তি দেয়াটা জরুরি।

আমি সবসময়ই ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে। কিন্তু গাজায় যা হয়েছে তা ভয়ংকর ও হৃদয়বিদারক।’ 

তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং আমি এই যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করেছি। আমরা চেয়েছি, ইসরায়েল যেন সুরক্ষিত থাকে এবং বন্দিরা যেন মুক্তি পান। ফিলিস্তিনি মানুষরা যেন মর্যাদা, সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও  অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারেন।’

ডেমোক্র্যাটদের সম্মেলন শেষ

কমলা হ্যারিসের ভাষণের মধ্যে দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্মেলন শেষ হয়েছে। হ্যারিস মার্কিন ভোটদাতাদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন বিভাজনের রাজনীতিতে সায় না দেন। তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে দেশজুড়ে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করবেন।

বাইডেন সরে যাওয়ার পর কমলা হ্যারিস এখন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী। যদি তিনি জিততে পারেন, তাহলে ইতিহাস তৈরি হবে। আমেরিকা তার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পাবে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সামনেই বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের হট্টগোল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সামনেই বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসক-কর্মচারীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে যত অপকর্ম হয়েছে, এগুলোর সহযোগী ছিলেন ওই কর্মকর্তারা।

সোমবার ঢাকার মহাখালীতে কোভিড ডেডিকেটেড ডিএনসিসি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে বৈঠক করছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বর্তমান মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকাল থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফটকে বিক্ষোভ করছিলেন চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক, কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করছিলেন। তাদের বাধার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অফিসে ঢুকতে পারেননি।

বেলা ১১টার দিকে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মিছিল শুরু করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। মিছিল নিয়ে তারা কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে যান।

শুরুতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। এক পর্যায়ে তারা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় হাসপাতালের একজন নারী চিকিৎসক তাদের বাধা দেন। তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে বিক্ষোকারীরা ভেতরে ঢুকে পড়েন।

এ সময় হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক করছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম। তার সামনেই কিছুক্ষণ হট্টগোল করেন বিক্ষোভকারীরা।
আখতার হোসেন সেখানে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের পাঁচজন প্রতিনিধিকে রেখে বাকিদের বের করে দেন।

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তারা উপদেষ্টাকে সম্মান করেন, কিন্তু পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করেছে বিক্ষোভ করতে।

উপদেষ্টা তখন বলেন, আমাকে সম্মান করলে আমার সামনে এ ধরনের কাজ করতেন না।

 

শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্বেগ

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষকদের অপমান এবং হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ বা উপাচার্যকে শিক্ষার্থীরা জোরপূর্বক পদত্যাগ করাতে বাধ্য করছে। জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করছে না।
এই হেনস্তা থেকে নারী শিক্ষকরাও রেহাই পাচ্ছেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দেশে সৃষ্ট এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাসমূহে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গভীরভাবে লজ্জিত, দুঃখিত এবং উদ্বিগ্ন।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি মনে করে, এসব ঘটনা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং পাঠদান প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলবে। সামাজিক অবক্ষয় এবং মানবিক মূল্যবোধের অভাবেই সমাজে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বিবৃতিতে বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ থেকে শিক্ষার্থীদের সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার, নাগরিক সমাজ এবং অভিভাবকদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা নিয়ে যা প্রচার হচ্ছে, তা দুঃখজনক: ড. ইউনূস

বন্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা প্রচার হচ্ছে, তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এটিই ছিল প্রথম সাক্ষাৎ। পরে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 তিনি বলেন, ‘ত্রিপুরার বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা বলেছেন, এতো বৃষ্টিপাত হয়েছে এটা ভারতেরও ধারণার বাইরে ছিল। সামাজিক মিডিয়াগুলোতে যেমনটি প্রচার হচ্ছে এটাকে দুঃখজনক বলেছেন ড. ইউনূস।’ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল। ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্যায় এখন পর্যন্ত দুজনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দুজনের মধ্যের একজন ফেনীর ও একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। এখন পর্যন্ত এই ৮ জেলায় ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।অভিযোগ উঠেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও বন্যার পরিস্থিতির জন্য ভারতকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়া বাঁধ খুলে দিয়ে ভারত অমানবিক আচরণ করেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান করতে হবে।’অবশ্য ভারত সরকারের দাবি, বাংলাদেশের বন্যা গোমতির নদীর ওপর নির্মিত ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে হয়নি। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গোমতী নদীর ক্যাচমেন্ট এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এই বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশে বন্যা মূলত বাঁধের নিচের দিকের এই বৃহৎ ক্যাচমেন্টের পানির কারণে।

 এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের বর্ষায় বৃষ্টিপাত বেশি হতে পারে বলে আগেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের পুনে শহরে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট আউটলুক ফোরামের ২৮তম অধিবেশনে বলা হয়েছিল, এবারের বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের বৃষ্টি যেমন বেশি হবে, তেমনি বাংলাদেশের উজানে ভারতের রাজ্যগুলোতেও বৃষ্টি বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘১০ জেলায় ৩৬ লক্ষ মানুষ বন্যা দুর্গত। এদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে এমন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি (প্রধান উপদেষ্টা)। এখন পর্যন্ত কোন নিখোঁজ মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রণব ভার্মা প্রথমবারের মতো প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাথে দেখা করেছেন। তিনি বলেছেন বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে ভারত সবসময়ই আগ্রহী। ভারতের সাথে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে। ইউনুস সেন্টারের সাথে ভারতের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও তার কাজ রয়েছে। এই সুসম্পর্ক অবশ্যই চলমান থাকবে, সুন্দর সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।’

পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারত–বাংলাদেশ কাজ করবে বলে বৈঠকে ড. ইউনুস জানিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব।

বন্যায় ১৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত : ত্রাণ মন্ত্রণালয়

বন্যায় দেশের ৬ জেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে মন্ত্রণালয়। 

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীর পানি বাড়ছে।মঙ্গলবার থেকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির তথ্যে জানানো হয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ৬টি। কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। ৪৩ উপজেলা বন্যায় প্লাবিত।

৬ জেলায় মোট এক লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৮ জন। একিং ফেনী জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।বন্যাকবলিত ছয় জেলায় মোট এক কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া ৮ হাজার ৫৫০ টন চাল ও ৮ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়,
কুমিল্লায় বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে দুইদিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার (২১ আগস্ট) মারা যান তিনজন, সোমবার (১৯ আগস্ট) মারা গেছেন একজন।

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া বীরচন্দ্রপুর গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে সুবর্ণা আক্তার নামে এক অন্তঃসত্ত্বা মারা গেছেন।

ঘরে উজানের ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় তাড়াহুড়া করে সরতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে পানিতে ডুবে যান তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।বন্যার পানিতে ডুবে ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিক্ষোভের মুখে যমুনা থেকে বের হতে পারেনি প্রধান উপদেষ্টার গাড়িবহর 

নানা দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনরতরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রীয় বাসভবনের প্রবেশপথে অবস্থান নেওয়ায় যমুনা থেকে বের হতে পারেনি তাঁর গাড়িবহর।

আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার গাড়িবহর বের করতে তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা বিক্ষোভরতদের সরিয়ে পথ তৈরি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর গাড়িবহর যমুনার ভেতরে ঢুকে যায়।

সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা, ম্যাটসের শিক্ষার্থী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার কর্মচারীরা নানা দাবিদাওয়া নিয়ে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ এনআইডি সেবা

চাকরি স্থায়ীকরণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইসিতে স্থানান্তরের দুই দফা দাবিতে, কর্মবিরতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে এনআইডি সেবা।

দাবি আদায়ে বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন নির্বাচন কমিশনের আইডিইএ-টু প্রকল্পের আউটসোর্সিংয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে এনআইডি সেবা বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সেবা বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

 আইডিইএ-টু প্রকল্পে বর্তমানে ২ হাজার ২৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। তারাই মাঠপর্যায়ে এনআইডির কাজ করেন।এরআগে দুই দফা দাবি আদায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ)-২ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারাদেশে এনআইডি সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাতে এক বৈঠক থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আইডিইএ-২ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা জানান,এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে ইসিতে রাখা এবং আইডিইএ-২ প্রকল্পের নবম গ্রেড থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এনআইডি সেবা কার্যক্রম।

দাবি না মানা পর্যন্ত সারা দেশের সব জেলা-উপজেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস কর্মরতদের ঢাকায় এসে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।

আসিফ নজরুলের গাড়ি আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছেন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যমুনা থেকে বের হওয়ার পথে আসিফ নজরুলের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় তারা গাড়িতে অবস্থানরত আসিফ নজরুলকে তাদের চার দফা দাবি মেনে নিতে আলটিমেটাম দেন।

নোয়াখালী প্যারামেডিক্যাল সেন্টার অ্যান্ড এনপিসি ম্যাটসের শিক্ষার্থী মো. তানবির হোসেন হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি চার বছরের কোর্স শেষ করার পর একসময় তারা সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে পারতেন।

২০১০ সাল থেকে সরকার সেটি বন্ধ করে দিয়েছে। এটা ভয়াবহ বৈষম্য। আমাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে আমাদের জন্য পদ সৃজন করতে হবে।’তিনি বলেন, “শুধু তা-ই নয়, আমাদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথও বন্ধ।

চাইলে আমরা উচ্চতর কোনো পড়াশোনা করতে পারি না। দ্য স্টেট মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ বোর্ড থেকে আমাদের একসময় সার্টিফিকেট দিত। এখন বাদ দিয়ে আরেকটি নতুন বোর্ড যেটাকে ‘এলাইক বোর্ড’ বলে সেখান থেকে সার্টিফিকেট দিচ্ছে। আমরা আগের বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট চাই।
২০ মিনিট পর দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি পেয়ে আইন উপদেষ্টার গাড়ি ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা।