অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে শপথ নিয়েছেন। তবে সেদিন শপথ হলে উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়নি। আজ শুক্রবার সকালে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

এ ছাড়া, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্বে আছে।

উপদেষ্টাদের মধ্যে সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন; ড. আসিফ নজরুল পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; আদিলুর রহমান খান পেয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়; হাসান আরিফ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং মো. তৌহিদ হোসেন পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; শারমীন এস মুরশিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ফরিদা আখতার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।এর বাইরে নুর জাহান বেগম পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। উপদেষ্টা পরিষদে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি মো. নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন ড. ইউনূস

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৪ জন আজ বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান। আরো ৩ জন উপদেষ্টা ঢাকায় উপস্থিত না থাকায় শপথ নিতে পারেননি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন:

১. সালেহউদ্দিন আহমেদ

২. ড. আসিফ নজরুল

৩. আদিলুর রহমান খান

৪. এ এফ হাসান আরিফ

৫. তৌহিদ হোসেন

৬. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

৭. মো. নাহিদ ইসলাম

৮. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

৯. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

১০. সুপ্রদীপ চাকমা

১১. ফরিদা আখতার

১২. বিধান রঞ্জন রায়

১৩. আ. ফ. ম খালিদ হাসান

১৪. নূর জাহান বেগম

১৫. শারমিন মুরশিদ

১৬. ফারুক–ই–আজম

নিয়োগ পাওয়া ১৬ উপদেষ্টার মধ্যে ১৩ জন আজ শপথ নিয়েছেন। ঢাকার বাইরে থাকায় তিনজন শপথ নিতে পারেননি। তবে তাঁদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা হলেন: ফারুক–ই–আজম, সুপ্রদীপ চাকমা ও বিধান রঞ্জন রায়। শিগগিরই তাঁরা শপথ নেবেন বলে জানা গেছে।

বঙ্গভবনের দরবার হলে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের নেতারা উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়া মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাদের সিদ্দিকীও রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কাউকে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি আওয়ামীপন্থী পেশাজীবী কোনো নেতাকে। তবে বিএনপিপন্থী পেশাজীবী অনেক নেতা উপস্থিত আছেন। আছেন সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা।

দাবি মানা না হলে দায়িত্বে ফিরবেন না পুলিশ সদস্যরা

নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা ও সহকর্মী হত্যার বিচারসহ কয়েকটি দাবি পূরণ না পাওয়া পর্যন্ত সারা দেশের অধস্তন পুলিশ সদস্যরা কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করছেন। এমনকি বিভিন্ন জেলার পুলিশ লাইনসে দিনভর বিক্ষোভ করে ঊর্ধ্বতনদের তোপের মুখে ফেলেন তাঁরা।

তবে পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলাম তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, কতিপয় উচ্চাভিলাষী পুলিশ কর্মকর্তার জন্য এসব ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত করে পুলিশ আইনে তাঁদের বিচার করা হবে। সংস্কার করবেন পুলিশ বাহিনীকেও।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত রোববার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর দেশের নানা জায়গায় থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশের প্রায় সব থানাসহ অন্যান্য কার্যালয় থেকে পুলিশ সদস্যরা চলে যান। এরপর দুই দিন ধরে পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে অধস্তন সদস্যরা কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. ময়নুল ইসলামকে। দায়িত্ব গ্রহণ করেই গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এই আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ-সহিংসতায় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যরা হত্যার শিকার হয়েছেন।

এই ঘটনার জন্য পুলিশের কিছু কর্মকর্তা দায়ী বলে মনে করেন নবনিযুক্ত আইজিপি ময়নুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কতিপয় উচ্চাভিলাসী, অপেশাদার কর্মকর্তার কারণে এবং কর্মকৌশল প্রণয়নে বলপ্রয়োগের স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ না করায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। নেতৃত্বের ব্যর্থতায় আমাদের অনেক সহকর্মী আহত, নিহত ও নিগৃহীত হয়েছেন।’

ময়নুল ইসলাম আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব মেট্রোপলিটন, জেলা, নৌ, রেলওয়ে ও হাইওয়ে থানার কর্মকর্তা ও ফোর্সকে নিজ নিজ পুলিশ লাইনসে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সন্ধিক্ষণে আপনারা দেশ ও জাতির প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আত্মনিয়োগ করুন। আপনাদের সুচিন্তিত মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি দক্ষ, জনবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক পেশাদার পুলিশ সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আইজিপি বলেন, ‘মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপাররা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের থানা এলাকায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক, পেশাজীবী, ছাত্র প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে নাগরিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করবেন। আমরা জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি বর্ণিত কমিটি থানা ও থানা এলাকার নিরাপত্তা বিধানে আপৎকালীন সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।’

কিন্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই কাজের ফিরতে চান না পুলিশ সদস্যরা। আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে রাজশাহীতে গতকাল বিক্ষোভ করেছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাঁদের শান্ত করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন নগরীর বোয়ালিয়া জোনের উপকমিশনার (ডিসি) নূরে আলম সিদ্দিকী। পরে সেনাসদস্যরা তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, সরকারের পতন হচ্ছে, তা আগের দিনই টের পেয়েছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তখন ঊর্ধ্বতন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিরাপদে চলে যান। অথচ সরকার পতনের দিনও শিক্ষার্থীদের দমন করতে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মাঠে নামানো হয়। এর ফলে থানায় ঢুকে ১৩ পুলিশকে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটে।

বিক্ষোভ করে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেন, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলার পুলিশ সদস্যরা।

তবে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, সার্বিক বিষয় নিয়ে পুলিশপ্রধান গতকাল রাতেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন।

সরানো হলো র‍্যাবের ডিজি ও ডিএমপি কমিশনারকে
পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনার পর এবার র‍্যাবের প্রধান এবং ঢাকার পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হল। গণ-আন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ভেঙে পড়েছে, তখন পুলিশের শীর্ষ পদে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদকে সরিয়ে পুলিশের এই এলিট ফোর্সের নেতৃত্বে আনা হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানকে; যিনি এত দিন পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ছিলেন।

আর ঢাকার পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে সেই জায়গায় চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডির উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মাইনুল হাসানকে। হারুন-অর-রশিদ এবং হাবিবুর রহমানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এসব বদলির আদেশ জারি করেন।

অন্যদিকে পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে অধস্তনদের নিয়ে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহেল বাকী ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দাউদ হোসেনকে।

আমার প্রথম কথা, দেশের কোথাও হামলা করা যাবে না: ড. ইউনূস

দেশে ফিরে সব ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে যাওয়া নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যদি আমার ওপর বিশ্বাস রাখেন, ভরসা রাখেন তাহলে নিশ্চিত থাকুন দেশের মানুষের ওপর কোথাও হামলা হবে না। আমার প্রথম কথা হলো, আপনারা বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা থেকে দেশকে রক্ষা করুন।’
আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছেন তিনি।
এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব সমন্বয়কসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।বিমানন্দরে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নতুন বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন বিজয় দিবস শুরু করল। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যারা এটি করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, তারা (সমন্বয়কেরা) দেশকে রক্ষা করেছে।
দেশকে পুনর্জন্ম করেছে। এই পুনর্জন্ম যে বাংলাদেশ যে পেল সেই বাংলাদেশ যেন খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলতে পারে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। এটাই আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা এগিয়ে চলতে চাই।
 
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমার আবু সাঈদের কথা মনে পড়ছে। যে আবু সাঈদের ছবি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে গেঁধে আছে।’ড. ইউনূস বলেন, এ স্বাধীনতাকে আরও মজবুত করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যে তরুণ সমাজ এটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারা এ দেশকে নতুনভাবে পুনর্জন্ম দিয়েছে।
এ স্বাধীনতা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

ঢাকায় পৌঁছেছেন ড. ইউনূস, বরণ করতে বিমানবন্দরের মানুষের ভিড়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে যাওয়া নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় পৌঁছেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছেন তিনি।

বিমানন্দরে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নতুন বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন বিজয় দিবস শুরু করল। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

যারা এটি করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, তারা (সমন্বয়কেরা) দেশকে রক্ষা করেছে। দেশকে পুনর্জন্ম করেছে।তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমার আবু সাঈদের কথা মনে পড়ছে। যে আবু সাঈদের কথা দেশের প্রতিটি মানুষের মনে গেঁধে আছে।

’বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে স্বাগত জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান

দেশের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি গতকাল পদত্যাগ করা এ এম আমিন উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হলেন। 

আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন। এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জনাব মো. আসাদুজ্জামানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, ২৩ দিনে নিহত ৫৬৮

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ ও মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গতকাল বুধবার আরো ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্য, দুজন র‌্যাব সদস্য, ডিবি সদস্য একজন এবং একজন আনসার সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর গত তিন দিনে শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৮৩টি লাশ। হাসপাতাল সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

১ জুলাই থেকে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। এই আন্দোলন ১৫ জুলাই থেকে সহিংসতায় রূপ নেয়।

১৬ জুলাই সংঘর্ষে নিহত হয় ছয়জন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৪৩৯ জন নিহত হয়। এর বাইরে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত আরো ১০৩ জনসহ দেশে মোট ৫৪২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসা আরো ২৬ জনসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬৮।

 হাসপাতাল, চিকিৎসক ও নিহতের স্বজন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা মেডিক্যালে নতুন ২৬ লাশগত রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে আসা সাত পুলিশ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন সুজন চন্দ্র দে (৪২)। তাঁকে পিটিয়ে হত্য করা হয়। যাত্রাবাড়ী থেকে তাঁর লাশ মর্গে নেওয়া হয়। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী এলাকার পুলিশ সদস্য ফিরোজ হোসেনের (৪২) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

তাঁর পিতার নাম আব্দুল জলিল শেখ। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে। সাভার আশুলিয়া থেকে পুলিশ সদস্য রাজু আহমেদের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে পুলিশ সদস্য রেজাউল করিম (৪৮), উত্তরা থেকে গুলিবিদ্ধ পুলিশ সদস্য শহিদুল আলম (৪৮), উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ সদস্য রাসেল (৪৪), মিরপুর থেকে পুলিশ সদস্য রুবেল (২২) এবং যাত্রাবাড়ী থেকে পুলিশ সদস্য আব্দুল মজিদের (৪৬) মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়।
দুই র‌্যাব সদস্যের মধ্যে পুলিশ ইন্সপেক্টর হাসমত আলী (৪০) ও র‌্যাব সদস্য বিজিবির জেসিও আনোয়ারের (৪১) মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়।

একজন ডিবি সদস্য হলেন উত্তরা ডিবির ইন্সপেক্টর রাসেল (৩৮), একজন আনসার সদস্য হলেন যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ আবু জাফর (৪৩)।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছেন পারভেজ মিয়া (৩০)। তাঁর বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে। তিনি শনির আখড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। যাত্রাবাড়ী থেকে সুমন ইসলাম (৩০), উত্তরা থেকে মো. আবু হাসনাত রনি (২৪), উত্তরা থেকে গুলিবিদ্ধ খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার (৪৯), উত্তরা থেকে হাফেজ মো. মাহমুদুল হাসান (২৬), মতিঝিল থেকে রাব্বি (২১), গুলশান থেকে আসিফ (১৬), কামরাঙ্গীর চর থেকে নুর আলম (২১), বংশাল থেকে শাওন (২২), হাতিরঝিল থেকে বাপ্পি আহমেদের (৩৫) লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে একজন (২২), যাত্রাবাড়ী থেকে একজন (৩০), হাতিরঝিল থেকে একজন (৩৫), উত্তরা থেকে একজন (৩২) রয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এসব ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল ২৬৮ জন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বেহাত হওয়ার আশঙ্কা সংস্কৃতিকর্মীদের

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বেহাত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। আজ বুধবার শাহবাগে দেশের ৩১টি সংগঠনের মোর্চা ‘প্রতিরোধী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন’ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। সেখানেই আন্দোলন, ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান, স্বৈরাচারের পতন ও পরবর্তী অবস্থা তুলে ধরে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে একটি গোষ্ঠী। বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ফসল অন্য কারও ঘরে যেন না যায়—এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বিবর্তনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্প্রতি সমাবেশে বক্তব্য দেন শহীদ আসাদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান মিলন, পেশাজীবী নেতা ডা. হারুনুর রশিদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, শ্রমিকনেতা আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, লেখক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি জামশেদ আনোয়ার তপন। সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, সংস্কৃতি চর্চার মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশের শুরুতেই স্বৈরাচারী শাসনকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে যারা নিহত হয়েছেন তাঁদের দেশের জাতীয় বীর আখ্যা দিয়ে তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সমাবেশে সম্মিলিত কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘কারার ওই লৌহ কপাট’, ‘শান্তির গান গেয়ে আমরা নতুন দিনের পথে পা বাড়াব’, ‘দুনিয়ার যত গরিবকে আজ জাগিয়ে দাও’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমারই এই বসুন্ধরা’, ‘মশাল জ্বালো উদয় পথের যাত্রী’, ‘লড়াইয়ে আনব নতুন ভোর’ ইত্যাদি সংগীত। আবৃত্তি করেন তিরন্দাজ নাট্যদলের দলপ্রধান দীপক সুমন। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতার পঙ্‌ক্তি ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে পুরোনো শকুন’–এর জায়গায় তিনি বলেন, জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে আরেক নতুন শকুন। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কামরুজ্জামান ভূঁইয়া।

শ্রমিকনেতা আবদুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, ‘স্বৈরাচারী হাসিনা আমাদের অতীত ও ভবিষ্যৎ সব কেড়ে নিয়েছিল। তার পিয়ন চার শ কোটি টাকার মালিক। নেতাদের বাসায় বস্তাভরা টাকা পাওয়া গেছে। সব লুটেরাদের বিচার হতে হবে। হাসিনাকে যারা নিরাপদে বেরিয়ে যেতে দিয়েছে, তাদের বিচার হতে হবে। আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই। কিন্তু গণতন্ত্র আর ভোটের নামে আরেকবার স্বৈরাচারকে চাই না।’

সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রতিবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হলো—বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গণসংস্কৃতি কেন্দ্র, সংহতি সংস্কৃতি সংসদ, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, রাজু বিতর্ক অঙ্গন, চায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ভাগ্যকুল পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, প্রগতি লেখক সংঘ, গণসংস্কৃতি পরিষদ স্বদেশ চিন্তা সংকল্প, বাংলাদেশ থিয়েটার, তিরন্দাজ, রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ, এই বাংলায়, ঢাকা ড্রামা, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, বিবর্তন নাট্যগোষ্ঠী, বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশন, ধাবমান সাহিত্য আন্দোলন, থিয়েটার ৫২, সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ, শহীদ আসাদ পরিষদ, মাদল, বটতলা-এ পারফরমেন্স স্পেস, সমাজ সি ফোরাম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

সহিংসতা সকলেরই শত্রু, শান্ত থাকুন, দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর চলমান সহিংসতা ও সম্পদ ধ্বংস পরিহার করে সবাইকে শান্ত থেকে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছাত্রনেতাদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত করার পর দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি এই আহ্বান জানান। আজ বুধবার ইউনূস সেন্টারের ওয়েবসাইটে তাঁর বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়।

দেশবাসীর উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি সাহসী ছাত্রদের অভিনন্দন জানাই, যারা আমাদের দ্বিতীয় বিজয় দিবসকে বাস্তবে রূপ দিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। অভিনন্দন জানাই দেশের আপামর জনসাধারণকে—যারা ছাত্রদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের এই নতুন বিজয়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করি। আমাদের কোনো প্রকার ভুলের কারণে, আমাদের এই বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমি সকলকে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে এবং সব ধরনের সহিংসতা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি এবং ছাত্র ও দলমতনির্বিশেষে সকলকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করছি।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রিয় এই সুন্দর ও বিপুল সম্ভাবনাপূর্ণ দেশটিকে আমাদের নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা এবং একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের প্রধান কাজ। একটি নতুন পৃথিবী বিনির্মাণে আমাদের তরুণেরা প্রস্তুত। অকারণ সহিংসতা করে এই সুযোগ আমরা হারাতে পারি না। সহিংসতা আমাদের সকলেরই শত্রু। অনুগ্রহ করে শত্রু সৃষ্টি করবেন না। সকলে শান্ত থাকুন এবং দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুন।’

তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে নিজে শান্ত থাকুন এবং আপনার আশপাশের সকলকে শান্ত থাকতে সহায়তা করুন।’

২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কার্যক্রম শুরু, থানায় থানায় নাগরিক কমিটি: নতুন আইজিপি

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে পুলিশের কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন নতুন মহাপরিদর্শক ময়নুল ইসলাম। এ ছাড়া, সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থানায় থানায় নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। আজ বুধবার বেলা ৩টার দিকে আইজিপি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি বলেন, ‘অতি উৎসাহী কিছু কর্মকর্তার জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কতিপয় উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তা মানবাধিকার নীতিমালা পালন করেননি, অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাদের জন্যই চলমান এই সহিংসতা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।’

ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটে যাওয়া এই সহিংসতার প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হবে, এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি। পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারেনি পুলিশ। এ জন্য আমি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

পুলিশের নতুন এই মহাপরিদর্শক (আইজি) বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের সব জেলা, রেঞ্জ, পুলিশ লাইনস, মহানগরে থানা কার্যক্রম শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিক কমিটি গঠন করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এই আন্দোলনে গত দুই-তিন দিন সমাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে, রাস্তায় দায়িত্ব পালন করেছে—সে জন্য তাদের পুলিশের তরফ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় তিনি অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘পুলিশ সংস্কার করা হবে। এরপর পুলিশ হবে জনবান্ধব পুলিশ।’