রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সোমবার (৫ আগস্ট) বঙ্গভবনে অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির ভবনের প্রেস উইংয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সভায় নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
আসুন দেশকে বাঁচাতে একযোগে কাজ করি
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আসুন দেশকে বাঁচাতে একযোগে কাজ করি। পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন: সেনাপ্রধান
৩ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা
সরকারি বেসরকারি আধাসরকরি স্বায়ত্ত্বশাসিত সব প্রতিষ্ঠানে আগামী সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
রোববার বিকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সব বিভাগীয় সদর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সরকারের পদত্যাগ দাবিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচি ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় অনেক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ সন্ধ্যা থেকে সার্বক্ষণিক কারফিউ জারি করা হয়েছে।
সারা দেশে আবার কারফিউ জারি
দেশে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফের কারফিউ জারি করেছে সরকার।
আজ (রোববার) থেকে শুরু হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অসহযোগ কর্মসূচি। এ আন্দোলনে প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা যায়।
এদিকে অসহযোগের মধ্যেই নতুন করে লংমার্চের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি আগামীকাল (সোমবার) সারা দেশে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা-সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে গত ১৯ জুলাই রাতে সারাদেশে কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
সহিংসতা দমনে সরকার অভিযান চালালে গত ২২ জুলাই থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। ক্রমে বাড়ে কারফিউ শিথিলের সময়। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩ ঘণ্টা করে কারফিউ শিথিল ছিল।
অসহযোগ আন্দোলন: সারা দেশে সহিংসতায় ১৪ পুলিশসহ নিহত ৯৭, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ
সারা দেশে গ্রেপ্তার ১১ হাজার ছাড়াল
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযানে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত) ২৭টি জেলায় ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, ১৭ জুলাই থেকে দেশের মহানগর, জেলা ও থানা-পুলিশ সূত্র থেকে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য সংগ্রহ করছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১১ হাজার ১১২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ৭২১টি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মামলা হয়েছে ৬টি।এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার থানায় গতকাল পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২৬টি। এসব থানার অধীনে গ্রেপ্তার হন ২৮৭ জন।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে রাজধানীতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৩৯। ঢাকা নগরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মামলা হয়েছে তিনটি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৭৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার থানায় গতকাল পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২৬টি। এসব থানার অধীনে গ্রেপ্তার হন ২৮৭ জন।দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং দল দুটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরে গত বৃহস্পতিবার রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জেলায় গ্রেপ্তার নেই। এ নিয়ে মহানগর ও জেলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯৯২। চট্টগ্রাম নগর ও জেলার মোট ৩৪টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩৮ হাজার ২০০।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে গ্রেপ্তার তুলনামূলক বেশি হচ্ছে রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়ায়। রাজশাহী মহানগর ও জেলা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৮টি মামলা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এখানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুটি মামলা হয়েছে। এখানে নতুন করে গ্রেপ্তারও হয়েছেন আটজন। এ নিয়ে এখানে মোট গ্রেপ্তার ১৭৭ জন ও মোট মামলা ১৭টি।
খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এখানে মোট ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ নিয়ে এখানে ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এ ছাড়া যশোরে নতুন করে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদিকে হবিগঞ্জে নতুন করে ৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর এখানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩।কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন ঘিরে গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন থেকে আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং দল দুটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করা বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনাও আছে। তবে পুলিশ দাবি করছে, হামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন আর তাঁদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলন এখন রাষ্ট্রদ্রোহী শক্তি জামায়াত–বিএনপির হাতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
প্রধানমন্ত্রী আমাদের হাতে অস্ত্র দিন, আমরা যুদ্ধে নামব: সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধারা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের হাতে অস্ত্র দিন। আমরা আবারও ১৯৭১ সালের মতো জামায়াত-শিবির রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চাই। রোববার থেকে দেশের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মাঠে থাকবে।
সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পাশাপাশি, জামায়াত-শিবির রাজাকার ও আল বদর বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছি। সেই সময় আবার এসে গেছে। আবারও এই দেশে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়াতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজন হয়েছে। আমরা আবারও হাতে অস্ত্র নিয়ে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সেনা প্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল (অব.) হারুনুর রশীদ (বীর প্রতীক) বলেন, আমরা এদেশকে জামাত শিবির মুক্ত করতে আবারও মাঠে নেমেছি। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নাই। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে যো কোনো প্রয়োজনে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে আবারও ঝাপিয়ে পড়বো।
মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার এর সভাপতি বাহার উদ্দিন রেজা (বীর প্রতীক), সাধারণ সম্পাদক আবু শহীদ বিল্লাহ বকুল, শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, নাজির আহমেদ চৌধূরী মাকসুদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংগঠনের সভাপতি হুমায়ন কবির, শরিফ উদ্দিন জয়, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন, কাওসার আহমেদ ভূইয়াসহ আরও অনেকে।
ঢাকা জেলা ও মহানগর, গাজীপুর ও নরসিংদীতে কারফিউ অব্যাহত থাকবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপি সবসময় ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিল।
