খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ রাষ্ট্রপতির বৈঠকে যত সিদ্ধান্ত হয়েছে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সোমবার (৫ আগস্ট) বঙ্গভবনে অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির ভবনের প্রেস উইংয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সভায় নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

সভায় কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহীত হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়। এ ছাড়াও অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খল পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ও সুহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয় এবং সেনাবাহিনীকে লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।একই সঙ্গে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগন খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটককৃত সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও সভায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

আসুন দেশকে বাঁচাতে একযোগে কাজ করি

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আসুন দেশকে বাঁচাতে একযোগে কাজ করি। পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।

সোমবার (৫ আগস্ট) রাত ১১টা ২২ মিনিটে দেশের সকল গণমাধ্যমে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি বলেন, দেশে চলমান অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা ও লুটতরাজ বন্ধে উদ্যোগ নিতে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের জানমাল রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকেও নির্দেশ দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে অতিদ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী অনতিবিলম্বে সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে।এছাড়া ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আটক হওয়া ছাত্রদের মুক্তি দেওয়া হবে। যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিচার করা হবে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সকল কলকারখানা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসন সহ সকলকে আহ্বান জানাই। অফিস-আদালতও চলবে। এছাড়া ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন: সেনাপ্রধান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ সোমবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৪টায় জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, আমরা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ইন্টেরিম গভর্মেন্ট ফরম (অন্তর্বর্তী সরকার) করবো।

আমরা দ্রুত মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব।সেনাবাহিনী প্রধান আরো বলেছেন, রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল চলছে। সব হত্যার বিচার হবে। সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখেন।

দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখেন। আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখেন, একসাথে কাজ করি। দয় করে সাহায্য করেন।

৩ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

সরকারি বেসরকারি আধাসরকরি স্বায়ত্ত্বশাসিত সব প্রতিষ্ঠানে আগামী সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

রোববার বিকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সব বিভাগীয় সদর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচি ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় অনেক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ সন্ধ্যা থেকে সার্বক্ষণিক কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সারা দেশে আবার কারফিউ জারি

দেশে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফের কারফিউ জারি করেছে সরকার।

আজ (রোববার) থেকে শুরু হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অসহযোগ কর্মসূচি। এ আন্দোলনে প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে অসহযোগের মধ্যেই নতুন করে লংমার্চের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি আগামীকাল (সোমবার) সারা দেশে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা-সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে গত ১৯ জুলাই রাতে সারাদেশে কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সহিংসতা দমনে সরকার অভিযান চালালে গত ২২ জুলাই থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। ক্রমে বাড়ে কারফিউ শিথিলের সময়। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩ ঘণ্টা করে কারফিউ শিথিল ছিল।

 

অসহযোগ আন্দোলন: সারা দেশে সহিংসতায় ১৪ পুলিশসহ নিহত ৯৭, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ

দেশের বিভিন্ন জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ৯৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ ২২, লক্ষ্মীপুর ৮, ফেনী ৮, নরসিংদী ৬, রাজধানী ঢাকায় ১১, শেরপুর ও সিলেটে ৫ জন করে, বগুড়া, মাগুরা, রংপুর, কিশোরগঞ্জে ৪ জন করে; পাবনা, কুমিল্লা ও মুন্সীগঞ্জে ৩ জন করে এবং জয়পুরহাট, কক্সবাজার, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সাভার, ভোলা, হবিগঞ্জ ও বরিশালে ১ জন করে নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা

সিরাজগঞ্জে আন্দোলনকারীরা ১৩ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে। আজ রোববার এক দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ঢুকে তাদের পিটিয়ে হত্যা করে।

এর আগে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কমপক্ষে ১১ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।

 

মাগুরায় আন্দোলনকারী-আ.লীগের সংঘর্ষ, নিহত ৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলন ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত মাগুরা। আজ রোববার সকাল ১০টার পর থেকে দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মেহেদী হাসান রাব্বী নামে একজনসহ ৪ জন মারা গেছেন। রাব্বী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক। অপর তিনজন শিক্ষার্থী হলেন ফরহাদ হোসেন ও সুমন শেখ, আহাদ মোল্লা। গুরুতর আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

ছাত্রদল নেতা রাব্বীর বাড়ি শহরের বৈরনাতুল গ্রামে। শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের বাড়ী শ্রীপুরের রায়নগরে। সে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সুমন শেখের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়ন এবং আহাদ মোল্লার বাড়ি একই উপজেলায়।

লংমার্চ টু ঢাকা 

ছাত্র-জনতার ঢাকা অভিমুখে যাত্রার যে ডাক দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেটির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্টের পরিবর্তে আগামীকাল সোমবার (৫ আগস্ট) এগিয়ে আনা হয়েছে।

নরসিংদীতে নিহত ৬

নরসিংদীতে আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী।

সিলেটে নিহত ৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচির সমর্থনে সিলেটের গোলাপগঞ্জে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে বিজিবি, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহতের খবর আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশে ফের অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করেছে সরকার। সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ কারফিউ শুরু হবে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে নিহত ৪

কিশোরগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও সগযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ত্রিমুখী সংঘর্ষের সময় জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় একজন নারীসহ অন্তত চারজন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে অঞ্জনা বেগম (৩৫) নামে এক নারীসহ দুইজন দগ্ধ হয়ে এবং একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আর একজন মারা গেছেন হার্টঅ্যাটাকে।

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর ও রায়গঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ৮

সিরাজগঞ্জে সরকার পতনের দাবিতে একদফা আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থী–জনতা এবং আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলায় মারা গেছেন অন্তত পাঁচজন, সিরাজগঞ্জ শহরে মারা গেছেন তিনজন। রায়গঞ্জে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান তাঁর উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরে আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে নিহত ৮

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যকার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ ও অন্যান্য কারণে আহত হয়েছেন আরও অন্তত শতাধিক। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গুলি ছুড়েছে।

আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদরের চকবাজার, বাগবাড়ি ও উত্তর ত্রিমোহিনী এলাকায় জমায়েত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে আজ সারা দেশের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জমায়েত ছিল। অবধারিতভাবেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ফেনীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আ.লীগের হামলা, নিহত ৮ 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচির সমর্থনে ফেনীতে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসিফ ইকবাল আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ৪

বগুড়ায় অসহযোগ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শহরের সাতমাথা এলাকা। সংঘর্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন।

রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থী নিহত

রাজধানীর জিগাতলায় সংঘর্ষের ঘটনায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ সিদ্দিকি।

আজ রোববার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও এমপি ইকবালুর রহিমের বাড়িতে আগুন

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও তাঁর ভাই দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেল ও ছররা গুলিতে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের হাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল দীপ্ত টিভির দিনাজপুর প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ ও ক্যামেরা পারসন আবু বক্কর সিদ্দিক মারধরের শিকার হয়েছেন।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি 

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সব বিভাগীয় সদর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে সান্ধ্য আইন বলবৎ করা হলো।

গুলি না করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ
সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ ও জনসভায় অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আন্দোলনে গুলি না করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে আজ এই পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের বেঞ্চ।

জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা রণক্ষেত্র
পেশাজীবীদের সমাবেশ পণ্ড করার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। এর পরই জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর এখন প্রেসক্লাবের সামনে অর্ধশতাধিক পুলিশ অবস্থান করছে।

অসহযোগ আন্দোলনে সংঘর্ষে রংপুরে নিহত ৪
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চলমান অসহযোগ আন্দোলনে রংপুরে সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মাসুম (৩০)। তিনিও মহানগর যুবলীগের কর্মী। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বকর সিদ্দিক। এ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করল প্রশাসন।

মিরপুর–১০ গোল চত্বরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ
মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও পুলিশের দখলে। আর মিরপুর–১১, পল্লবী, বিআরটিএ, গার্লস আইডিয়ালের সড়ক আন্দোলনকারীদের দখলে। মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বরের দিকে এগোচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করছে পুলিশ। আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের মাঝখানে রয়েছে সেনাবাহিনী।

মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও পুলিশের দখলে। আর মিরপুর–১১, পল্লবী, বিআরটিএ, গার্লস আইডিয়ালের সড়ক আন্দোলনকারীদের দখলে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সুনামগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ–পুলিশের সংঘর্ষ চলছে
সুনামগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালীবাড়ি পয়েন্টে প্রথমে শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা তাড়িয়ে দেয়। পরে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ফুল দিতে যায়।  ফুল দিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।  এ সময় ছাত্রলীগও পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার দিকে এগিয়ে আসে। তখন দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।  নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

মুন্সীগঞ্জে আন্দোলনকারী-আ. লীগ সংঘর্ষে নিহত ৩

মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

আজ রোববার সকাল পৌনে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. আবু হেনা জামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে দুজন মৃত ছিল।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ থানারপুল এলাকায় অবস্থান নিলেও এখনো উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুর হাসান জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

মোবাইল ইন্টারনেটের ফোরজি সেবা বন্ধ
আবারও বন্ধ করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেটের ফোরজি পরিষেবা। টেলিযোগাযোগ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে সবগুলো মোবাইল অপারেটরকে ফোরজি পরিষেবা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হলেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সচল আছে। তবে সেটাও বন্ধের নির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


মাগুরায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা এক দফা দাবির অসহযোগ ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত মাগুরা। আজ রোববার সকাল ১০টার পর থেকে দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাব্বি নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি মাগুরা জেলা ছাত্রদলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির আজকের পত্রিকাকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিহতের ডাকনাম রাব্বী। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। এখনো ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে চলে গেছেন।’

নিহত রাব্বির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, নিহত মেহেদি হাসান রাব্বি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় পারনান্দুয়ালী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভায়নার মোড়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

 

সারা দেশে গ্রেপ্তার ১১ হাজার ছাড়াল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযানে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত) ২৭টি জেলায় ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, ১৭ জুলাই থেকে দেশের মহানগর, জেলা ও থানা-পুলিশ সূত্র থেকে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য সংগ্রহ করছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১১ হাজার ১১২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ৭২১টি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মামলা হয়েছে ৬টি।এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার থানায় গতকাল পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২৬টি। এসব থানার অধীনে গ্রেপ্তার হন ২৮৭ জন।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে রাজধানীতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৩৯। ঢাকা নগরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মামলা হয়েছে তিনটি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৭৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার থানায় গতকাল পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২৬টি। এসব থানার অধীনে গ্রেপ্তার হন ২৮৭ জন।দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং দল দুটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরে গত বৃহস্পতিবার রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জেলায় গ্রেপ্তার নেই। এ নিয়ে মহানগর ও জেলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৯৯২। চট্টগ্রাম নগর ও জেলার মোট ৩৪টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩৮ হাজার ২০০।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে গ্রেপ্তার তুলনামূলক বেশি হচ্ছে রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়ায়। রাজশাহী মহানগর ও জেলা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৮টি মামলা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এখানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুটি মামলা হয়েছে। এখানে নতুন করে গ্রেপ্তারও হয়েছেন আটজন। এ নিয়ে এখানে মোট গ্রেপ্তার ১৭৭ জন ও মোট মামলা ১৭টি।

খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এখানে মোট ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ নিয়ে এখানে ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এ ছাড়া যশোরে নতুন করে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদিকে হবিগঞ্জে নতুন করে ৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর এখানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩।কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন ঘিরে গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন থেকে আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং দল দুটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করা বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনাও আছে। তবে পুলিশ দাবি করছে, হামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন আর তাঁদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলন এখন রাষ্ট্রদ্রোহী শক্তি জামায়াত–বিএনপির হাতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

আজ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

চলমান পরিস্থিতিতে আপনিসহ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিনা? এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন পদত্যাগ করতে রাজি আছি। প্রয়োজন হলে, যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, আমরা সেটা করব। আমরা সব সময় দেশের জন্য কাজ করি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ছাত্র আটক হয়েছেন, তাদের ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে, যেমন যাত্রাবাড়ীতে মেরে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিল যে ছেলেটি, এসব ক্ষেত্রে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাকি সবগুলোকে আমরা জামিনে ছেড়ে দিচ্ছি।’

‘আমরা কোটা আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিয়েছি। পরবর্তীতে তারা যা যা দাবি করেছিল, পুলিশকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। মনে হয়, এখন সময় এসেছে আমাদের প্রিয় ছাত্রদের, যেহেতু তাদের আর কোনো দাবির অবশিষ্ট নেই, তাদের আন্দোলন থেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে চলে যাবেন। এখন আন্দোলন যে জায়গায় গিয়েছে, এটা কখনোই তাদের কাম্য ছিল না বলে আমরা মনে করি, ’ যোগ করেন আসাদুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক দলের কাছে, যারা সব সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজে ব্যস্ত থাকত, জামায়াত–বিএনপি, ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিল, শুরু থেকেই তারা চেষ্টা করছিল, আজকে তাদেরই ইশের মধ্যে তারা পড়ে গেছে বলে আমরা মনে করি। ছাত্ররা যাতে লেখাপড়ায় ফিরে যান, আমরা সেই আহ্বান জানাচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এরপরও যদি তাদের কিছু বলার থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দরজা সব সময় খোলা আছে। সেটা তিনি ঘোষণাও দিয়েছেন। তাদের কিছু বলার থাকলে তারা বলতে পারেন।’

আন্দোলন মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের ভুল আন্দোলন, আমরা সব সময় বলে এসেছি। কারণ তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। কাজেই তাদের অসহযোগ আন্দোলন তুলে নেওয়া উচিত।’

ছাত্র আন্দোলন উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সরকারকে হটাও এক দফা আন্দোলন এ নিয়ে কী ভাবছে সরকার? অসহযোগ আন্দোলন নস্যাৎ করতে আপনাদের কী পরিকল্পনা—এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নস্যাৎ করতে চাই না। আন্দোলন যদি এ দেশের জনগণ যুক্ত হয়, হবে। সেগুলো আমরা নস্যাৎ করতে চাই না।’

তাহলে আন্দোলনকারীরা কোনো আক্রমণের শিকার হবে না, নিশ্চিত—এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন আপনাকে যদি কেউ মার দেয়, আপনি তাকে মার দেবেন না? আপনি কি বসে থাকবেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আত্মরক্ষার অধিকার দেওয়া আছে। আপনাকেও অধিকার দেওয়া আছে। আপনাকে যদি কেউ হামলা করে, তাহলে প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় আত্মরক্ষা করতে পারেন। এটা আইনগত অধিকার।’

আন্দোলনকারীদের সরকার পতনের একদফা দাবি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা এখন আর কোটা আন্দোলনে নেই, ছাত্রদের আন্দোলনে নেই। এটা এখন রাজনৈতিক আন্দোলনে চলে গেছে। কাজেই ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যারা চেষ্টা করেছেন, তারাই এই কাজগুলো করেছেন।’

দেশের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামীতে করণীয় সম্পর্কে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত চলে বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রী আমাদের হাতে অস্ত্র দিন, আমরা যুদ্ধে নামব: সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধারা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের হাতে অস্ত্র দিন। আমরা আবারও ১৯৭১ সালের মতো জামায়াত-শিবির রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চাই। রোববার থেকে দেশের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মাঠে থাকবে।

শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজ গেট এলাকায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানরা ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পাশাপাশি, জামায়াত-শিবির রাজাকার ও আল বদর বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছি। সেই সময় আবার এসে গেছে। আবারও এই দেশে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়াতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজন হয়েছে। আমরা আবারও হাতে অস্ত্র নিয়ে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সেনা প্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল (অব.) হারুনুর রশীদ (বীর প্রতীক) বলেন, আমরা এদেশকে জামাত শিবির মুক্ত করতে আবারও মাঠে নেমেছি। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নাই। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে যো কোনো প্রয়োজনে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে আবারও ঝাপিয়ে পড়বো।

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার এর সভাপতি বাহার উদ্দিন রেজা (বীর প্রতীক), সাধারণ সম্পাদক আবু শহীদ বিল্লাহ বকুল, শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, নাজির আহমেদ চৌধূরী মাকসুদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংগঠনের সভাপতি হুমায়ন কবির, শরিফ উদ্দিন জয়, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন, কাওসার আহমেদ ভূইয়াসহ আরও অনেকে।

 

ঢাকা জেলা ও মহানগর, গাজীপুর ও নরসিংদীতে কারফিউ অব্যাহত থাকবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়াণগঞ্জ ও নরসিংদীতে আগামীকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। শনিবার (৩ আগস্ট) রাতে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান তিনি। এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপি সবসময় ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিল।

শুরু থেকেই তারা দেশকে অকার্যকর করতে চেয়েছিল। যে কারণে ছাত্রদের কাছে আহ্বান, তারা যাতে লেখাপড়ায় ফিরে যান। কারণ তাদের সব দাবি পূরণ করা হয়েছে। এরপরেও যদি তাদের কোনো দাবি থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরজা সবসময় খোলা আছে।
’মন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলে দিই, আমাদের শোকের মাস চলছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস। মাসটিকে শোকের মাস হিসেবে পালন করি। বঙ্গবন্ধু শাহাদতবরণ করার পর থেকে এটা চলছে।
’আন্দোলনকারীরা কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যদি এ রকম কোনো সিচুয়েশন আসে, প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন… আমরা সবসময় দেশের জন্য কাজ করি, আমরা সেটা (পদত্যাগ) করব।’