শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের শপথ

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনতে শপথ নিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতা-কর্মীরা শপথ বাক্য পাঠ করেন।

শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান। নেতারা সমবেত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি শপথ করছি যে, যত দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে না আনব তত দিন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।
আরও শপথ করছি যে, তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া সকল প্রকার অন্যায়ের প্রতিশোধ নিব। আজ থেকে আমাদের আন্দোলন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। আমি এই শপথ বাক্য বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ছুঁয়ে করছি। আমাদের এই শপথ মহান রব্বুল আলামীন কবুল করুক। আমিন, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

শপথ অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহাব উদ্দিন আজম, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গোপালগঞ্জ থেকে মিছিল সহকারে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে সুরা ফাতেহা পাঠ করে নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু ও ৭৫ এর ১৫ আগস্টে বুলেটে নিহত রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।

এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান লিটন, দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাজিউদ্দিন খান, নজরুল ইসলাম, নাজমুল হাসান নাজিম, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক সিকদার, গোপালগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক আলীমুজ্জামান বিটু, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল।

আরও উপস্থিত ছিলেন—টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম তৌফিক, জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজাসহ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতি লীগ, মৎস্যজীবী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীরা।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাহাব উদ্দিন আজম বলেন, ‘এই পরিস্থিতি আমাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত প্রতিবাদ প্রতিরোধ অব্যাহত রাখব। প্রত্যেককে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলতে হবে। তারপরও যদি কেউ গ্রেপ্তার হয়। আমিও যদি গ্রেপ্তার হই। আপনারা বসে থাকবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে শক্তি নিয়ে আপনারা এখন চলছেন, এর চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে রাজপথে নামবেন। কারণ গোপালগঞ্জের মানুষ মুজিব প্রেমী মানুষ, গোপালগঞ্জের মানুষ মুজিব পাগল মানুষ। তাই বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, ‘সোমবার আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পর থেকে আমরা রাজ পথে আছি। গোপালগঞ্জবাসীকে সাহস জোগাচ্ছি। এখন পর্যন্ত রাজপথে থাকতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আমাদের ওপর কোনো প্রকার চাপ নেই। পরে কি হবে জানি না।’

হামাসের নতুন প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক শাখার নতুন প্রধান নিযুক্ত হয়েছেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার। গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ সিনওয়ারের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

হামাসের রাজনৈতিক শাখা তথা পলিটব্যুরোর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ইয়াহিয়া সিনওয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় হামাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি গাজায় হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ‘ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস কমান্ডার ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে রাজনৈতিক শাখার প্রধান নিযুক্ত করেছে। তিনি শহীদ কমান্ডার ইসমাইল হানিয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আল্লাহ তাঁকে (হানিয়াকে) ক্ষমা করুক।’

হামাসের প্রয়াত প্রধান ইসমাইল হানিয়া গত ৩১ জুলাই ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে এক গুপ্তহত্যায় নিহত হন। ধারণা করা হয়, ইসরায়েল তাঁকে হত্যা করেছে। কিন্তু ইসরায়েল এ বিষয়ে এখনো কিছু বলেনি। হানিয়া তেহরানে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।

হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিনওয়ার আগের দায়িত্বও পালন করবেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাঁকে আ প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, তিনি গাজায়ই রয়েছেন। মাঝে একবার ইসরায়েলি বাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছিল, সিনওয়ার গাজায় হামাসের টানেলের ভেতরে আছেন।

৬১ বছর বয়সী সিনওয়ারকে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধরা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয় ও আহত হয় আরও কয়েক হাজার। এ ছাড়া প্রায় আড়াই শ লোককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

হামাসের সেই হামলার জবাবে ওই দিন থেকেই গাজায় তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ।

বছরের পর বছর ইসরায়েলি অবরোধের শিকার গাজার মোট জনসংখ্যা ২৪ লাখের কাছাকাছি। চলমান গাজা যুদ্ধে তাঁদের প্রায় সবাই এক বা একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উপত্যকাটিতে এখন নজিরবিহীন মানবিক সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশকে অবশ্যই গণতন্ত্রের মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে: ব্লিঙ্কেন

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই গণতন্ত্রের মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যানাপলিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। 

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে এ কথা বললেন, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। গত সোমবার মাসব্যাপী তীব্র ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর নেতৃত্বশূন্য হওয়ায় ড. ইউনূসকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাদের গণতান্ত্রিক নীতিকে সম্মান করতে হবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি। পেনি ওং সম্প্রতি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি সব পক্ষকে সহিংসতা এড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

মেরিল্যান্ডের আনাপোলিসে ইউএস নেভাল একাডেমিতে ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ওয়াং বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে সহিসংতা বন্ধের এবং সর্বজনীন অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানাই এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাই।

সরকারবিহীন দেশে সর্বত্র অরাজকতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতার রেশ এখনো কাটেনি। বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে গতকালও পড়ে ছিল লাশ। এই অবস্থায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দরকার পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা। কিন্তু মানুষের জানমালের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশ-প্রশাসন যেন কোথাও নেই।

বরং নিজেদের নিরাপত্তাসহ ৯ দফার দাবিতে গতকাল কর্মবিরতি শুরু করেছেন নন-ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তারা। ক্যাডার কর্মকর্তারাও কোথাও নেই। আর প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরাও গতকাল অফিস করেননি। ফলে পুলিশ-প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে দেশজুড়ে নিরাপত্তাহীনতায় মানুষ।

সরকার পতনের পর সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীতে আরও ৩৫ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিন শতাধিক। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে ১৫ জেলায় সহিংসতায় আরও ৫০ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে সরকার পতনের এক দিন পরও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কার্যালয়ে হামলা ও লুট অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে মন্ত্রিসভা ও সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় দেশ কীভাবে চলছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও তিনি সরকারপ্রধান নন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিই সরকারপ্রধান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত সোমবার তিন বাহিনীর প্রধানসহ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আবার আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। তবে পুলিশসংশ্লিষ্ট কোনো অফিস বা দপ্তর খোলা পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গতকাল প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে আসেন। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা এলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন সচিবসহ বেশির ভাগ সচিবকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সচিবালয়ে দেখা যায়নি।

সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অফিসে আগুন লেগেছে, এমন খবর শুনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই সচিবালয় ছাড়তে শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দু-একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে থাকার আহ্বান জানালেও বেশির ভাগই বেরিয়ে যান।

মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হওয়ায় সচিবালয়ে ছিলেন না কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী। হাতে গোনা দু-তিনজন সচিব সচিবালয়ে গেলেও বেলা ১টার আগেই বেরিয়ে যান। সচিবালয়ের মূল ফটক ছাড়া সব ফটকই বন্ধ ছিল। মূল ফটকে কয়েকজন সেনাসদস্যকে পাহারা দিতে দেখা যায়। মন্ত্রী-সচিবদের কয়েকজন গানম্যানের সচিবালয়ে দেখা মিললেও তাঁরা ছিলেন সাদাপোশাকে। ইতিমধ্যে সচিবালয়ে বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে টাঙানো বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবি-ব্যানার নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন যুগ্ম সচিব  জানান, সচিবালয়ে সাধারণত নিরাপত্তা দেয় পুলিশ। কিন্তু আজ কোনো পুলিশ দায়িত্বে নেই। সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য আছেন, তাও অনেক কম। এ কারণেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা) শাহে এলিদ মাইনুল আমিন। তিনি  বলেন, ‘সবাই অজানা কারণে চলে যাচ্ছেন। তাঁদের কে ছুটি দিয়েছেন? দলে দলে লোকজন চলে যাচ্ছেন! কেন যাচ্ছেন কিছুই বলতে পারছি না।’

রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম। হাতে একটি পানির বোতল। রবিউলের সঙ্গে আরও ৮-১০ জন শিক্ষার্থী এই চৌরাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। শুধু কাকরাইল মোড়েই না, রাজধানীর প্রতিটি রাস্তার মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পুলিশ হত্যার বিচার, নিরাপত্তা প্রদানসহ ৯ দফার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন নন-ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তারা। আর পুলিশ অধিদপ্তরসহ পুলিশ প্রশাসনের ক্যাডার কর্মকর্তারাও হঠাৎ উধাও হয়েছেন। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের কেপিআইভুক্ত সরকারি স্থাপনাসমূহ।

হামলা-আগুনের পর রাজধানীর বেশির ভাগ থানায় গতকাল ছিলেন না কোনো পুলিশ সদস্য। ঢাকার বাইরে অনেক জেলা থেকে খবর পাওয়া যায়, থানায় কোনো পুলিশ সদস্য নেই। অরক্ষিত পড়ে আছে থানা।

থানায় থানায় যখন এই অবস্থা, তখন দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, অভ্যর্থনা কক্ষে কোনো লোকজন নেই। প্রধান ফটকের ভেতর পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দুজন নিরাপত্তাকর্মী ফটক পাহারা দিচ্ছেন। ভেতরে দেখা গেছে আট-নয়জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বসে রয়েছেন। আইজিপির অফিস ভবনের বেশ কিছু জানালার কাচ ভাঙা।

 

শেখ হাসিনা এখনো কোথাও আশ্রয় চাননি: জয়

ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্থায়ীভাবে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হাসিনা এখান যুক্তরাজ্যে যাবেন ও সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেবেন। তবে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দাবি, শেখ হাসিনা এখনো কোথাও আশ্রয় চাননি।
বুধবার (৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
তিনি আরো জানান, তার মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না।তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবার এখন একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছে। তবে আমরা কোথায় একত্র হবো তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।জয় বলেন, আমি ওয়াশিংটনে আছি, আমার খালা লন্ডনে, আমার বোন দিল্লিতে।
তিনি (হাসিনা) হয়তো এই জায়গাগুলোর মধ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।এদিকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অনাগ্রহ ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হাসিনার ভিসা বাতিলের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তরে সজীব ওয়াজেদ বলেন, এটি ভুল। তিনি (শেখ হাসিনা) এখন পর্যন্ত কোথাও আশ্রয়ের জন্য অনুরোধ করেননি। তাই যুক্তরাজ্যের সাড়া না দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।
আর ভিসা বাতিল করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা হয়নি।ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এরপর ছোট বোন শেখ রেহেনাকে নিয়ে সামরিক হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান তিনি।আপাতত তাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তায় রয়েছেন শেখ হাসিনা।
এখন তার নিরাপত্তার বিষয়টি তারাই দেখছেন। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তৈরিতে তাকে আরো কিছুদিন সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।এদিকে, যুক্তরাজ্যের অনীহা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার আবেদন করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিদেশি দূতাবাসে আশ্রয় চাচ্ছেন

তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করলেও চরম বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা। অনেকে সুযোগ বুঝে দেশ ছাড়তে পারলেও আটকেপড়া অনেক এমপি-মন্ত্রী ও অসংখ্য নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তাদের অনেকে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন।

৫ আগস্ট সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরপরই কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী দেশ ছাড়তে না পেরে দেশেই গা ঢাকা দেন। এমনকি, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চরম অবস্থায় পৌঁছার আগেই গত শনিবার বিকেলে গা ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে কথা বললেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ মুহূর্তেও মিডিয়ায় কথা কম বলতে দেখা যায় তাকে। গত শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেষবারের মতো কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত রোববার তিনি সচিবালয়ে বা সেতু ভবনে যাননি।

একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের গত রোববার রাতেই দেশত্যাগ করেছেন। তবে সঠিক কোথায় গেছেন তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে না পারছেন না। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের বর্তমানে সিঙ্গাপুর রয়েছেন। অন্য একটি সূত্র বলছে, ওবায়দুল কাদের বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনা পদত্যাগ ও দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও এর আগে সোমবার সকাল থেকেই সরকার ও দলের প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীরা আড়ালে চলে যান। সাংবাদিকরা অনেকেই মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। প্রায় সবার মুঠোফোন বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, পরিস্থিতি খারাপরে দিকে যাচ্ছে আচঁ করতে পেরে সকালের দিকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এর আগে হাসিনা সরকারের ক্ষমতাধর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বিমানযোগে দেশ ছাড়েন। তবে তারা কে কোন দেশে গেছেন তা জানা যায়নি।

জানা গেছে, কয়েকজন মন্ত্রী ১ জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর পরপরই বিদেশ গিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলন বেগবান হওয়ার প্রেক্ষাপটে তারা দেশে ফিরতে আগ্রহবোধ করেননি। পরে বৈরী পরিস্থিতি আন্দাজ করে তারা আর দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গত রোববারও অফিস করার চেষ্টা করেছেন। তিনি রোববার দুপুর আড়াইটায় প্রেসব্রিফিং করবেন বলে তার তথ্য অফিসার সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সাংবাদিকরা অপেক্ষ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর অফিসে আসেননি।

জানা গেছে, রোববার রাতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের পরিবারের সদস্যরা ইকে ৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই চলে গেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এমপি-মন্ত্রীদের অনেকে শেষ মুহূর্তে শত চেষ্টা করেও আর দেশ ছাড়তে পারেননি। রোববার ও সোমবার দু’দিন টিকেটের জন্য তারা বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিফল হন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বিদেশ পাঠাতে পারলেও নিজে আর যেতে পারেননি।

এদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আত্মগোপনে চলে যান। সোমবার বিকেল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার বনানীর বাসায় অবস্থান করছিলেন। সরকারের পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না।

এর আগে, রোববার এমপি-মন্ত্রী ও সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অনেকে বিশেষ প্রটোকল চেয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে চিঠি দেয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এভসেক-এর সহকারী পরিচালক নাছিমা শাহীনের সই করা তালিকা অনুযায়ী দেশ ছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের মধ্যে পূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির (বিজি ৩৯৮), সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী (বিজি ৫৮৪), স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম (বিজি ৩৮৮), সাবেক হুইপ নুর-ই আলম চৌধুরী (বিজি ৩৮৮), কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ (বিজি ৩৮৮) ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (ইকে ৫৮৭), এমপি নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী ও তার পরিবার (ইকে ৫৮৫), উত্তরা এলাকার সাবেক এমপি হাবিব হাসান (বিজি ৫৮৪) এবং জেপি প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (এসকিউ ৪৭৪) নম্বর ফ্লাইটযোগে দেশ ছাড়েন।

জানা গেছে, রোববার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, ভিআইপি ও সিআইপির। শেষ পর্যন্ত কারা কারা বিদেশ যেতে পেরেছেন তা এখনও জানা যায়নি।

ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত

শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গভবনে মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাকি সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হবে।এদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার জন্য বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান ও বিমান বাহিনীর প্রধান।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন।

সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও দেশত্যাগ করেন।শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ভাষণে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।

এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বঙ্গভবনে ১৩ ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে দুই অধ্যাপক

বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১৩  সদস্যের একটি টিম বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রয়েছেন।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা রাষ্ট্রপতির

জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট  পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন।

সংসদ ভেঙে দেওয়ার আলটিমেটাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

আজ বিকেল ৩টার মধ্যে সংসদ ভাঙা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরেও ফ্যাসিস্ট হাসিনার সংসদ বিলুপ্ত করা হয়নি। আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টার মধ্যে সংসদ ভাঙা না হলে আগামীকাল কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিপ্লবী ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার বিকেলে এসব তথ্য জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এরপর একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।