ক্ষমতাচ্যুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন শেখ হাসিনা, সতর্ক করলেন অন্তর্বর্তী সরকারকে

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেওয়ার ছয় দিন পর নীরবতা ভাঙলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে কোনো বিদেশি শক্তির হাতে ‘ব্যবহৃত’ না হওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেন তিনি। 

গণবিক্ষোভে সহিংসতায় কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির ধারাবাহিকতায় সরকার পতনের পেছনে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ভারত সরকারের ঘোষণার কয়েক দিনের মাথায় এই অভিযোগ তুললেন শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ করেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে।

শেখ হাসিনার বার্তা উদ্ধৃত করে দ্য প্রিন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সেন্টমার্টিন ও বঙ্গোপসাগর ছেড়ে দিতাম, তাহলে আমি ক্ষমতায় থাকতে পারতাম।’

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের টানাপড়েন চলছিল বেশ অনেক দিন ধরেই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, বিমানঘাঁটি করতে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে সহজে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রলোভন দিয়েছিলেন এক ‘শ্বেতাঙ্গ’ ব্যক্তি।

কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা ‘ব্যবহৃত’ না হওয়ার জন্য নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘লাশের মিছিল যাতে দেখতে না হয়, সে জন্য আমি পদত্যাগ করেছি। তাঁরা আপনাদের (শিক্ষার্থীদের) লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। আমি তা হতে দিইনি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, তিনি দেশে থাকলে হয়তো আরও প্রাণহানি হতো। আরও অনেক সম্পদহানি হতো।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি শিগগির ফিরব, ইনশা আল্লাহ। পরাজয় আমার, কিন্তু জয়ী হয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। আমি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। আপনাদের সমর্থন নিয়ে আমি এসেছিলাম, আপনারা ছিলেন আমার শক্তি। আপনারা যখন আমাকে চাননি, তখন আমি নিজে থেকে সরে গেছি, পদত্যাগ করেছি। আমার যেসব কর্মী সেখানে আছেন, তাঁরা কেউ মনোবল হারাবেন না। আওয়ামী লীগ বারবারই উঠে দাঁড়িয়েছে।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে যাওয়ার পর একাধিকবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দেখা হয়েছে শেখ হাসিনার। ভারতীয় নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক কর্তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর।

তবে আজ রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য তিনি আমেরিকাকে সরাসরি দায়ী করেছেন।

দেশত্যাগ করার আগে যে বক্তব্য তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে দিতে চেয়েছিলেন, তাতেও এর উল্লেখ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হাসিনা জানিয়েছেন, আমেরিকার কথামতো বঙ্গোপসাগরে একক আধিপত্যর জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তাঁদের ছেড়ে না দেওয়ার মাশুল হিসেবে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছেন, তাঁদের ওপর মৌলবাদীরা যেন ভর না করে।

শেখ হাসিনা আশাপ্রকাশ করেছেন, তিনি আবার নিজের দেশে ফিরে যাবেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আবারও দাঁড়াবে। তাঁর দলের বহু নেতাকে হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার খবরে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, হাসিনা ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, গত মে মাসে আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহসচিব ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফরের সঙ্গে এই ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। এই অভিযোগও তাঁরা করছেন যে, লু চিনবিরোধী কিছু পদক্ষেপ নিতে হাসিনার ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন। যতক্ষণ না তাঁর পরবর্তী আশ্রয়ের ঠিকানা নির্ধারিত হয়, হাসিনা নয়াদিল্লিতেই থাকবেন। ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভারতে থাকতে হতে পারে। তবে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আইনি সুযোগ না থাকায় ভিসার মাধ্যমে তিনি দিল্লিতে থাকবেন।

ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৬ 

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ রোববার রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

গুলিবিদ্ধরা হলেন— শফিউল্লাহ, আবদুল্লাহ আল মামুন, আব্দুর রহমান, বাকিবিল্লাহ। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। তাঁরা বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফলে গত পাঁচ আগস্ট সরকার পতনের পর ৬ আগস্ট এস আলমের নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের ব্যাংক থেকে বের করে দেন বিক্ষুব্ধ ব্যাংকাররা। এরপর গত ৭ ও ৮ আগস্ট ব্যাংকারদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় এস আলমের নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের এসএভিপি ড. শওকত আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) জানতে পারি, এস আলমের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যাংকের যাঁরা আছেন, তাঁরা একত্রিত হয়ে ব্যাংকটিকে লুটপাট করেছেন। তাঁরা তাঁদের লোকদের ব্যাংকে বসাবে। তাঁরা যেন ব্যাংকে ঢুকতে না পারে, তাই ব্যাংকের সামনে আমরা অবস্থান নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে এস আলমের লোকজন সিটি সেন্টারে অবস্থান নেন। তাঁরা মিছিলসহ প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চান। তখন ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাঁদের প্রতিহত করতে গেলে এস আলমের লোকজন তাঁদের উদ্দেশে গুলি চালান। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।’

এর আগে কর্মকর্তারা ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে এস আলমের নিয়োগ করা ব্যক্তিদের বের করে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আলী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকিজ উদ্দিন, মিফতাহ উদ্দিনসহ এস আলমের নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের ব্যাংক থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আহত ১০, অস্ত্র ছিনতাই

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রতিবাদে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সেনাসদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন।

বেলা ৩টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে গোপীনাথপুর, জালালাবাদ ও নিজাম কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের সেনাবাহিনী রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তাঁরা। এ সময় তাঁরা সেনাবাহিনীর ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে।

একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করলে স্থানীয় জনতা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি ও কয়েকটি পরিবহন ভাঙচুর করে এবং সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় চারজন সেনাসদস্যসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। এ সময় ছিনিয়ে নেওয়া হয় সেনাবাহিনীর একটি স্টেনগান ও গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন। পরে এক পুলিশ সদস্য সেটি উদ্ধার করে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চুর কাছে জমা রাখেন। সেনাবাহিনীকে খবর দিলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার শরিফপাড়া পেট্রলপাম্পের সামনে থেকে কর্নেল সাফায়েতের কাছে অস্ত্রটি হস্তান্তর করা হয়।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

একই দাবিতে একই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয় সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ও বিজয়পাশা বাসস্ট্যান্ডে। এ ছাড়া বিক্ষোভ করেছেন কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর ও মুকসুদপুর উপজেলার পুরোনো মুকসুদপুর এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

গোপালগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর মো. আকিকুর রহমান রুশাদ মোবাইল ফোনে একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চু বলেন, ‘বিক্ষোভের সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি অস্ত্র রেখে দেয় তারা। বিষয়টি জানতে পেরে সেখান থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কাফনের কাপড় বেঁধে শপথ

সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে শপথ গ্রহণ করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী।

শনিবার (১০ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্বরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান নেতা-কর্মীদের শপথবাক্য পাঠ করান।এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহাবুদ্দিন আজম, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান হাওলাদার, গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম অহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিয়ার রহমান হাজরা, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল দত্ত, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেব দুলাল বসু পল্টু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান দিপু, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাজরা, সহসভাপতি নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি খায়রুল রাজ্জাক খসরু, সাধারণ সম্পাদক বাবলু হাজরা, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান মুনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার সব ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, বৈঠা নিয়ে নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসেন।

সকাল ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল থাকার কথা থাকলেও সকাল ৯টার মধ্যে উপজেলা পরিষদ মাঠসহ এর আশপাশের এলাকা নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়ক।সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির সামনে এসে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান নেতা-কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান।এ সময় নেতা-কর্মীদের শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যতদিন দেশে ফিরে না আসবেন, ততদিন আমাদের এই সংগ্রাম চলবে। আমরা রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকব।তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কেউ মনোবল হারাবেন না। আমাদের প্রিয় নেত্রী খুব শিগগিরই দেশে ফিরে এসে এই দলের হাল ধরবেন।

২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। 

এরপর আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এদিকে অপর প্রজ্ঞাপনে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন মর্মে জানানো হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা প্রয়াত সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। আর মা প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ । সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। দেশের বাইরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াদাম কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করেন। সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তার আগে ১৯৮৪ সালে জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন।

এ দিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ ছয় বিচারপতি। আজ তাঁরা রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র লিখে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

প্রধান বিচারপতি ছাড়া বাকিরা হলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। তবে আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিষয়ে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি।

আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পদত্যাগপত্র আজই মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়। প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে। পরে রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন আশফাকুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জানতে পেরেছি বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি করা হবে। তবে এখনো এই বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।’

এর আগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তার পদত্যাগ পত্রে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ভবন এবং রেকর্ডসমূহ রক্ষা, কোর্ট প্রাঙ্গন রক্ষা, বিচারপতিদের বাড়ি–ঘর, জাজেজ টাওয়ার রক্ষা, বিচারপতিগণকে শারীরিক হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং জেলা জজ কোর্টগুলো ও রেকর্ড রুম সমূহ রক্ষার স্বার্থে আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো।’

ড. আসিফ নজরুল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ পত্র আইন মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এটি যথাযথ পদক্ষেপের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব। আশা করবো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ পত্রই পেয়েছি। অন্যদের বিষয়ে আপডেট নেই। এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে এবং দেশের সম্পদ নষ্ট না করতে আহ্বান জানান তিনি।

রাজারবাগে হট্টগোল, আইজিপিকে ভুয়া বললেন পুলিশ সদস্যরা

১১ দফা দাবিতে অনড় পুলিশ সদস্যরা। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজারবাগে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলামের মতবিনিময় সভায় হট্টগোল করেছেন তাঁরা। 

রাজারবাগে পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় এক কনস্টেবল এই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের গুলি করতে বলে সিনিয়র অফিসাররা সব জায়গা থেকে পালিয়ে যান। তাঁরা পালিয়ে যাওয়ার আগে যদি আমাদের বলতেন, তোমরাও সরে যাও, তাহলে আমাদের সহকর্মীরা জীবন বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু অফিসাররা কোনো নির্দেশনা দেননি। এই ঘটনায় একজন সিনিয়র অফিসারও মারা যাননি। মারা গেছে সব আমার ভাই। কেন? এর উত্তর কে দেবে?

পুলিশে জনগণের আস্থা নেই কেন?’ 
মঞ্চের আশপাশে এ রকম একের পর এক বক্তব্য দিতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় আইজিপি চুপ করে তাঁদের বক্তব্য শোনেন। অডিটরিয়ামে হলভর্তি পুলিশ সদস্যরা বক্তব্যের সময় হাততালি দিয়ে সহমত জানান।

মতবিনিময় সভায় প্রথমে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের, তবে ব্যস্ততার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে তিনিও আসেননি। বিকেল ৫টার দিকে মতবিনিময় সভায় আসেন আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন র‍্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুর রহমান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মো. মাঈনুল হাসান।

সভার শুরুর আগেই অডিটরিয়ামে দুই থেকে আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য প্রবেশ করেন। হল কানায় কানায় ভরে যায়। আইজিপি প্রবেশের পর কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। এরপর নিহতদের জন্য দোয়া ও তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রথমেই র‍্যাবের মহাপরিচালককে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকেন উপস্থাপক। তবে এ সময় একজন নারী পুলিশ সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে এখানে আসতে হবে। এ সময় সবাই একযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপর র‍্যাবের মহাপরিচালক বক্তব্য না দিয়ে বসে পড়েন। অডিটরিয়ামে তখন পুলিশ সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন।

এক পুলিশ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এখানে আসলেন না? তাঁরা এসে কথা বলুক। আমাদের দাবির কথা শুনুক।’

একপর্যায়ে আইজিপি ঘোষণা দেন, তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে আজ শনি অথবা কাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করা হবে। এরপর দাবিদাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারকে নগদ টাকা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে। কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা ও পদোন্নতিতে বৈষম্য থাকবে না। বরখাস্ত পুলিশ সদস্যদের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ১১ দফা দাবিতে অনড় থাকেন। মতবিনিময় সভা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

এদিকে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আইজিপি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বের হয়ে যাওয়ার সময় বরখাস্তকৃত ও চাকরিচ্যুতরা তাঁর গাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন।

৩৬১ থানায় কার্যক্রম শুরু
জীবনের নিরাপত্তাসহ ১১ দফা দাবিতে অনড় অবস্থানের কথা জানালেও সারা দেশে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩৬১ থানা কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট থাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ২৯টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাতের মধ্যে আরও কয়েকটি থানা কার্যক্রমে যাবে।

সাদাপোশাকে কাজ করছেন দায়িত্বে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যরা। চালু হওয়া থানাগুলোতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সাধারণ ডায়েরিও হয়েছে। থানাগুলোর নিরাপত্তায় সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনী।

নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করা পুলিশের অধস্তন সদস্যদের কাজে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বাহিনীর নতুন মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলাম। কিন্তু আইজিপির এই আদেশ মানেনি পুলিশের অধিকাংশ ইউনিট। সারা দেশে ৬৫২টি থানা রয়েছে। আর ডিএমপিতে আছে ৫০টি।

ছাত্র-জনতার বিপুল গণ-আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে থানাসহ পুলিশের স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা হতে থাকে। নির্বিচারে আক্রমণ হতে থাকে থানায়; ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয় অনেক থানায়। এসব হামলায় বহুসংখ্যক পুলিশ হতাহত হলে অন্যরা নিরাপদে সরে যেতে থাকেন। গা ঢাকা দেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে দেশের পুলিশি ব্যবস্থা।

এরপর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন পুলিশের অধস্তনরা। পুলিশ সদস্যদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনীতিবিদদের তাঁবেদারি করার কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুলিশ। এমনকি নিজেদের স্বার্থ রক্ষাতে সরকারকে বাঁচাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর হুকুম দেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকলে সাধারণ মানুষ সরকার ছেড়ে পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করতে থাকে। তাই তাঁরা পুলিশে সংস্কার চায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিএমপি এলাকায় থানায় হামলা হয়নি বা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর যেসব থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, সেসব থানায় পুলিশ সদস্যরা এলেও সেখানে পুলিশের বসার মতো অবস্থা ছিল না। তাই ডিএমপির ২১ থানায় এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে ডিএমপির তেজগাঁও থানার কার্যক্রম শুরু হয়। থানার নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাসদস্যরা কাজ করছেন, সঙ্গে দেখা গেছে আনসার সদস্যদের। থানার কার্যক্রম শুরুর আগে তেজগাঁও থানা-পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করে সেনাবাহিনী।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘জনগণকে বলব, আমাদের আস্থায় নেওয়ার জন্য। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটা অস্বীকার করব না যে আমাদের ভুল বা ব্যর্থতার জন্য আজকের এই অবস্থা। এগুলো ওভারকাম করে আগামী দিনে সত্যিকারে মানুষের প্রয়োজনে যাতে এই বাহিনী থাকতে পারে, আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে এই সেবাগুলো অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।’

গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে গুলশান থানায় হামলা হয়নি। আজ (গতকাল) থেকে তাঁদের থানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে সাদাপোশাকে বেশির ভাগ থানাসহ আদালতের প্রসিকিউশন কার্যক্রম সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। তবে থানাগুলোতে এখনো যোগদান করেননি অনেক পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া যেসব থানা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সেগুলোর কার্যক্রম এখনো বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা দু-একটি বাদে সব থানার কার্যক্রম শুরু করেছি। যেসব থানা বন্ধ আছে, সেগুলোও চালুর চেষ্টা করছি। তবে আপাতত থানাগুলোতে সীমিত আকারে কার্যক্রম চলছে। আমরা নাগরিকদের সব ধরনের সেবাদানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে অন্য মহানগর পুলিশসহ বেশ কয়েকটি জেলাতে পুলিশি কার্যক্রম শুরু হয়।’

ভারতেই থাকবেন শেখ হাসিনা

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নিয়েছেন শেখ হাসিনা। শুরুতেই ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি (শেখ হাসিনা) তার গন্তব্য নির্ধারণ করবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সহযোগী সংস্থা নিউজ-১৮ আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতেই থাকছেন শেখ হাসিনা। তবে দেশটিতে শরণার্থী বা সাহায্যপ্রার্থীর আইন না থাকায় তিনি ভারতের ভিসা ব্যবহার করে ভারতে অবস্থান করবেন।

নিউজ-১৮ জানিয়েছে—বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান করতে যাচ্ছেন। এর আগে জানানো হয়েছিল শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে  সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, “বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপদে কোনো দেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আমাদের আশ্রয় বা শরণার্থী আইন নেই এবং আমরা কেস-টু-কেস ভিত্তিতে থাকার অনুমতি দিই…তার থাকার ভিসা হবে।

ভারত সরকার সর্বদলীয় বৈঠকে বলেছে, তারা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদকে তার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং সরকার এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার আগে তাকে সুস্থ হওয়ার জন্য সময় দিচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগেই ইন্দিরা গান্ধীর সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। কারণ বাবা শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পুরো পরিবার ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে অস্থিরতার সময় নিহত হন। সুতরাং এই মুহূর্তে তাকে পরিত্যাগ করা সহজ সিদ্ধান্ত হবে না, বিশেষ করে দিল্লির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিবেচনা করলে।

চার দফা দাবিতে শাহবাগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিক্ষোভ, ৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ 

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও চার দফা দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভ করেন তাঁরা। 

আগামীকাল শনিবার বেলা ৩টায় আবারও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভ চলাকালে শাহবাগ মোড় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। যান চলাচল বন্ধ থাকায় জনসাধারণের ভোগান্তিতে পড়েন। এ সময় অনেকেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে চলতে দেখা যায়।

আন্দোলনকারীদের ৪ দফা দাবি হলো—সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে; সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে; সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল প্রকার হামলা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের জন্য ১০ শতাংশ সংসদীয় আসন বরাদ্দ করতে হবে।

বিক্ষোভ চলাকালে সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শান্তি রঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে যাওয়ার জন্য বর্ডারে গিয়ে বসে আছে। আমাদের বাড়ি–ঘরে হামলা করা হচ্ছে, মন্দিরে হামলা করা হচ্ছে। আমাদের দেখার কেউ নেই। আজ থেকে আমরা মন্দির পাহারা চাই না, যেভাবে মসজিদ পাহারা দিতে হয় না। আমাদের নিরাপত্তা চাই।’

আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা শাহবাগ মোড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী দীপঙ্কর শীল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের অস্তিত্বের লড়াই চলবে।’

বিক্ষোভ চলাকালে একপাশে ‘মনের দেয়াল’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে জনসাধারণ ‘সাদা কাগজে’ লিখে তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন। মনের দেয়ালের কাগজে ‘ধর্ম শিক্ষার প্রয়োজন নাই, মানবতার শিক্ষায় শিক্ষিত হই’, ‘দেশ তখনই স্বাধীন হবে, যখন জাতি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে’, ‘আমরা এখন কুশিক্ষায় শিক্ষিত’, ‘রাষ্ট্র আমার নিরাপত্তা দেবে, আমার মন্দির রক্ষা করবে, আমার মা কাঁদবে না’, ‘এই কী স্বাধীনতা?’, ‘হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হোক, এই স্বাধীনতা আমরা চাই না’ ইত্যাদি বক্তব্য লিখতে দেখা যায়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে জড়ো হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সেখানে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদসহ সনাতনীদের বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী ও সনাতনীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মবিরতিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে রাজারবাগ যাচ্ছেন ড. ইউনূস

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাঁদের অভিযোগ শুনতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁরা ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে, দাবিগুলো বিবেচনা করবেন বলে জানা গেছে।

আজ শুক্রবার রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জেলায় কিছু কিছু থানায় পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

অধস্তন পুলিশ সদস্যদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

রাজনৈতিকভাবে যাতে পুলিশকে ব্যবহার করা না যায় এ কারণে কমিশন গঠন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচার করতে হবে, পুলিশ কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের অধীনে কাজ করবে না, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশের জনগণের সেবা তথা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবে, সারা দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করানো যাবে না, অধস্তন কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ বা মৌখিক আদেশ পালন করতে পারবেন না, অধস্তন কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মতো পন্থা অবলম্বন করতে হবে, বার্ষিক নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন করতে হবে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতো অধস্তন কর্মচারীদের সোর্স মানি দিতে হবে, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে ১০ তারিখের মধ্যে টিএ এবং ডিএ বিল পরিশোধ করতে হবে, নতুন বেতন স্কেল প্রণয়ন করতে হবে, ঝুঁকিভাতা বাড়াতে হবে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেকটি পুলিশ লাইনস, থানা, ফাঁড়ি, গার্ড, ক্যাম্পের নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে।