ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে: গভর্নর

এস আলমের মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির বেশির ভাগ শেয়ার এস আলমের হাতে থাকায় আপাতত ব্যাংকটিতে ছোট একটি বোর্ড গঠন করে দেওয়া হবে। বোর্ডে সব সদস্যরাই থাকবেন স্বতন্ত্র পরিচালক। পরবর্তীতে শেয়ার কেনার মাধ্যমে পরিচালকদের হাতে মালিকানা স্থানান্তর করা হবে।

আজ বুধবার এক সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই একটি ছোট্ট বোর্ড গঠন করে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু বর্তমানে অধিকাংশ শেয়ার এস আলমের দখলে রয়েছে, তাই স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে আপাতত ব্যাংক থেকে টিকিয়ে রাখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আগের পরিচালকরা ২ শতাংশ করে শেয়ার কিনে আসার পর, তাদের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে।’

জানা গেছে, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলে নেয় এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে নামে-বেনামে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির শেয়ারের ৮২ শতাংশের মালিকানা রয়েছে এস আলমের হাতে। এরই মধ্যে এস আলমের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিএসইসি।

নিহতদের কোটি টাকা ক্ষতিপূরণসহ ৩০ দাবি এনডিপির

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়াসহ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৩০ দফা দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান কে. এম. আবু তাহের এসব দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কে. এম. আবু তাহের বলেন, দেশি-বিদেশি গভীর ষড়যন্ত্রে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে স্থায়ীভাবে দেশ শাসনের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের লেজুড়বৃত্তি রাষ্ট্রে পরিণত করেন। দেশের মানুষের ওপর পরিবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেন। দেশের মানুষের প্রতি তাঁর কোনো ভালোবাসা ও জবাবদিহি না থাকায় শত শত ছাত্র-জনতার মৃত্যুর পরও হাজার হাজার মৃত্যুর বিনিময় হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন।

এ সময় তিনি আন্দোলনে শহীদদের পরিবার প্রতি এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আহতদের বিনা মূল্যে সু-চিকিৎসা এবং ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি প্রদানের দাবিও জানান।

তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনাসহ দোষী ব্যক্তিদের বিচার করতে হবে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং সাগর-রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়াও তিনি দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ; গণহত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা; সরকারি ক্রয়ে ইনডেমনিটি বাতিল; বিদ্যুৎ উৎপাদনের কুইক রেন্টাল চুক্তিসমূহ বাতিল; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য হ্রাস; ব্যাংক খাত পুনর্গঠন; ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক জনসমক্ষে প্রকাশ; বিডিআর বিদ্রোহের বিচার; হেফাজতে ইসলামীর সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের বিচার; মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস প্রকাশ; বিশেষ কমিশন গঠন করে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানান।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন; বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে দায়েরকৃত মামলাসমূহ প্রত্যাহার; বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি ঘটনা তদন্ত ও রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ এবং ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনাসমূহ তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

এনডিপির মহাসচিব আবদুল্লাহ-আল-হারুনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

রাতেও ঘেরাও রেল মন্ত্রণালয়, অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে রাজধানীর রেল ভবনে অবস্থিত রেলপথ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে রেখেছেন গেইট কিপাররা। রবিবার (১৮ আগস্ট) সকালে এই অবস্থান কর্মসূচী শুরু হয়। রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে রেখেছিল কর্মচারীরা। এতে করে রেল ভবনে অবস্থিত সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা আটকা পড়েছেন।
 জানা যায়, রেলে এক হাজার ৫০৫ জন অস্থায়ী গেট কিপার কর্মরত রয়েছেন। তারা চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে গেটকিপার নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।আটকে পরা অবস্থায় রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলনে, ‘আন্দোলনরত গেইট কিপারদের সঙ্গে আলচনা হচ্ছে। তাঁদের দাবি-দাওয়া যত দ্রুত সম্ভব পূরণ করে দেওয়া হবে।

উপদেষ্টা মহাদয় ও সচিব মহাদয় বিষয়টি অবগত আছেন।’ 

আন্দোলনরত গেইট কিপাররা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের আওতায় তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চক্রান্ত চলছে। প্রায় ৯ মাস বেতন ভাতা পাচ্ছেন না।

আগের সরকারের সময়ও আন্দোলন করেছি। কিন্তু শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী, সচিব ও ডিজিরা।আজ দুপুরে রেল ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল ফটক আটকে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। বাইরে থেকে কাউকে ভবনের ভেতর প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। ভেতর থেকেও কোনো কর্মকর্তাকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

মূল ফটকের সামনে তাঁরা পাহারা দিচ্ছেন। কয়েকজনকে সেখানে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।অস্থায়ী গেইট কিপাররা জানান, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে সাত হাজার অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ যারা ইতিমধ্যে ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে রেলওয়েতে কাজ করছেন তাঁদের কাউকে স্থায়ী করা হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

চাকরি ফেরত পেতে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান কর্মসূচি, আইজিপি অবরুদ্ধ

চাকরি ফিরে পেতে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা। এর ফলে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আজ দুপুর ১২টা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনের দুই গেটের সামনে অবস্থান নেন গত ১৫ বছরের বিভিন্ন সময়ে চাকরি হারানো কয়েক শ পুলিশ সদস্য।

আজ রোববার বিকেলে সরেজমিন পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক শ পুলিশ সদস্য পুলিশ সদর দপ্তরের সামনের দুই গেটে অবস্থান করছেন। দুপুর ১২টার দিকে আমারণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন তাঁরা।

এ সময় চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা। আন্দোলন চলাকালে কোনো কর্মকর্তার গাড়ি ভেতরে প্রবেশ ও বাইরে আসতে দেখা যায়নি।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কনস্টেবল মো. জাহিদ হাসান  বলেন, ‘আমরা দুই দফায় তালিকা তৈরি করে বর্তমান আইজিপিকে দিয়েছি। সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন গত বৃহস্পতিবার আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’

চাকরিচ্যুত উপপরিদর্শক জাকির হোসেন  বলেন, ‘আমরা প্রায় ৬০০-৭০০ চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য আমরণ অনশনে নেমেছি। বর্তমান আইজিপি যতক্ষণ না আমাদের আশ্বস্ত করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে জবির ১৪ সমন্বয়কের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা 

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক কমিটির ১৪ জন শিক্ষার্থী অপর সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শনিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লড়াকু বীর ইকরামুল হক সাজিদ দীর্ঘ যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার পর শহীদ হন। আমরা তাঁর মহান আত্মত্যাগকে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে স্মরণ করছি আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, তানভিন, ফাহাদসহ সকল শহীদদের। যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি কাঙ্ক্ষিত বিজয়। আমরা সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা এই আত্মত্যাগকে অঙ্কুরে বিনষ্ট হতে দেবেন না।

কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার‌ই ধারাবাহিকতায় আমরা বুঝতে পারি, শুধু কোটার সংস্কারই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র সংস্কার। দেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকারত্বের যে সংকট, তাঁর প্রেক্ষিতে আমরা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটা পদ্ধতিতে সামান্যতম সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু এই সামান্য চাওয়া পূরণ করতে শত শত জীবন দিতে হলো, হাজারো মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করল। হাসিনা রেজিম এই সামান্য চাওয়া দমন করতে গুলি ছুড়ল স্নাইপার ও হেলিকপ্টার থেকে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিল, কারফিউ জারি করল ও রাস্তায় সেনাবাহিনী নামিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত কোটা আন্দোলন পরিণত হলো ছাত্র-জনতার অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে। হয় হাসিনা নয় ছাত্র-জনতা। দেশের মানুষের মধ্যে এক গণ-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো— এই দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য। অবশেষে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিশাল আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালায়। আমরা হলাম জুলাই অভ্যুত্থানের সাক্ষী।

সারা দেশে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর নেতৃত্বে যে সংগ্রাম সংগঠিত হলো তার অংশীদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এই সংগ্রামে ১৫ জুলাই আমাদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়, ১৬ জুলাই সন্ত্রাসীদের দ্বারা অনিক-ফেরদৌসসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়, ১৯ জুলাই আটক হয় আমাদের সহযোদ্ধা নুর নবী, ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হওয়া সাজিদ সবশেষ শহীদি পরিচয় বরণ করে নেয়। গুলিতে অনিকের খাদ্যনালী ছিঁড়েছে, নুর নবীকে ডিবি হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, লক্ষ্মীবাজারে শিক্ষার্থীদের ওপর ছোড়া হয়েছে লাইভ বুলেট। আমরা যেন এসব গল্প ভুলে না যাই।

এই সকল নিপীড়ন প্রতিরোধ করতে যে রক্তক্ষয় হয়েছে তার যথার্থ মূল্যায়ন হবে আন্দোলনের যে গণ-আকাঙ্ক্ষা তার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। গত ১৬ বছরে সৃষ্ট ত্রাসের রাজত্বকে ধূলিসাৎ করে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের মধ্য দিয়ে একমাত্র এর মূল্যায়ন সম্ভব। যে ফ্যাসিস্টের হুকুমে এত প্রাণ ঝরে গেল, তার বিচার নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব এখনো বাকি। এর মধ্যেই সারা দেশে একটা সূক্ষ্ম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা এখনো রাস্তায়, দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর। দেশ স্থিতিশীল হতে আমাদের আরও ধৈর্য ধরতে হবে। এ সময় এমন কিছু করা উচিত হবে না যা আমাদের আন্দোলনের স্পিরিটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এ রকম সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি, সারা দেশে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ অথবা ‘আন্দোলনের সমন্বয়ক’ পরিচয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও এর ব্যতিক্রম নয়। ৫ আগস্টের পর থেকেই অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যার দায় এসে পড়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ওপর। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে এমন অনেক কাজ করা হয়েছে, যার সঙ্গে আন্দোলনকারী ‘সমন্বয়ক‘ হিসেবে পরিচিত অনেকেরই কোনো প্রকারের সম্পৃক্ততা নেই। আমরা এই সকল কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করছি। কিছু ঘটনা আমরা উল্লেখ করছি—

বিজয় অর্জনের পর এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ২৭ জন সমন্বয়কদের অধিকাংশের উপস্থিতিতে কোনো প্রকার সভায় বসা সম্ভব হয়নি। যখনই বসার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটা নানাভাবে এড়িয়ে গিয়েছে মাসুদ রানা ও নূর নবী। অথচ কোনোপ্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই একের পর এক কর্মসূচি আর দাবি এই ব্যানার থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নূর নবীর স্বেচ্ছাচারিতা অনেক বেশি লক্ষণীয়। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ‘আমি যা বলব তা-ই হবে’ এমন বচনভঙ্গি অনেককেই মনঃক্ষুণ্ন করেছে।

মতবিনিময় সভার নামে গত ১১ আগস্ট যে ‘মব ট্রায়াল’ এর আয়োজন করা হয়েছে আমরা তা সমর্থন করি না। ‘গোপন নথি গায়েব করা হচ্ছে’ বলে যেভাবে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রদ্ধেয় নাসির উদ্দীন আহমদ স্যারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। এরপর যখন আমরা সকলে একমত হই, তিনজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শিক্ষকেরা নথিগুলো যাচাই করবে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু বকর, নূর নবীর নির্দেশে ভিসি ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। অথচ, আপনাদের মনে আছে সেই নথিগুলোর মধ্যে নাসির স্যারের ‘জয়েনিং লেটার’ ছিল যাতে দ্রুত ভিসির স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। তাহলে, নূর নবী-আবু বকরদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে এ রকম হঠকারী পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কী?

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রেজিমের পক্ষ নিয়ে যেই প্রশাসন আমাদের আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, সেই প্রশাসনের পদত্যাগ ছিল ছাত্রদের দাবি। তার প্রেক্ষিতে ভিসি, রেজিস্ট্রারসহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ করে। কিন্তু সন্দেহের উদ্রেক হয় তখনই, যখন ট্রেজারারের পদত্যাগের প্রশ্নে এই সমন্বয়কেরা ভিন্ন সুরে কথা বলে। তাঁরা ট্রেজারারকে বহাল তবিয়ত রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়। এমনকি কনফারেন্স রুমে সকল ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপারসনদের উপস্থিতিতে গুটিকয়েক সমন্বয়কেরা ট্রেজারারের গুণকীর্তন শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু বকর এবং ১৪ ব্যাচের রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্যগুলো লক্ষ্য করলে সকলে বুঝতে পারবেন, তাঁরা বিভিন্ন কৌশলে কতিপয় শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে নানা ধরনের চাটুকারিতার আশ্রয় নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

সমন্বয়কদের মধ্যে কোনোরকমে আলোচনা ছাড়াই মব ট্রায়ালের মাধ্যমে একটা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার নজির সারা দেশে আর কোনো ইউনিটে নেই। সমন্বয়কদের আবার উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রয়োজন পড়ল কেন? আর কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই উপদেষ্টা পরিষদ? মুন্না, জসীম, শাহিন আলম শানসহ যেসব ব্যক্তিবর্গ উপদেষ্টা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন, আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। ১১ জুলাইয়ের কথা মনে আছে তো? সেদিন কুমিল্লায় গুলি ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি হামলা চলে। ওই দিন প্রক্টরিয়াল বডির সামান্য হুমকির মুখে এই ব্যক্তিরাই মিছিল স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তারপর জুনিয়র শিক্ষার্থীরা তাঁদের নেতৃত্ব অমান্য করে ক্যাম্পাসের গেট ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যায়। ফলে এই সুযোগসন্ধানী শক্তির উপদেষ্টা পরিষদ আমরা কখনোই সমর্থন করিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও অন্যতম সমন্বয়ক মাসুদ রানার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও স্বেচ্ছাচারিতা লক্ষ্য করা যায়। তাঁকে এমন কথা বলতে শোনা গেছে, ‘জকসু নির্বাচনে আমি ভিপি পদে দাঁড়াব। সমন্বয়কদের মধ্যে যাদের শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে। ওরা থাকলে আমি ভোট পাব? আমি ১০-১২ দিনের মধ্যেই এই সমন্বয়ক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি দিয়ে ওদের বের করে দেব।’ সমন্বয়কদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ছাত্রলীগের অনুগতদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন ও নতুন কমিটি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত মাসুদ রানার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে কি না আমরা সেই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি।

দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জবির ‘হল উদ্ধার আন্দোলন’ একটা আত্মঘাতী কর্মসূচি বলেই আমরা মনে করি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়। অথচ নূর নবীর পরিচালনায় সমন্বয়কদের একাংশ, আবু বকর, রিয়াজসহ বিতর্কিত উপদেষ্টা পরিষদ মিলে এই অযৌক্তিক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে এর পেছনে কিছু শিক্ষকের দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ আমাদের সবার সামনে উন্মোচিত হয়। এ ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়েও এসব ব্যক্তি ও কিছু শিক্ষকদের দুরভিসন্ধি কারওরই চোখ এড়ায়নি। এই সকল ঘটনার পরও এই মানুষগুলোর ওপর আস্থা রাখা যায় কীভাবে?

গত ১৫ আগস্ট রাতে ক্যাম্পাসে সমন্বয়ক নূর নবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলে। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে একজন ছাত্রলীগ কর্মীকে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়েছে। একই সঙ্গে সেই ছাত্রলীগ কর্মীকেও বেধড়ক পেটানো হয়। আমরা বলতে চাই, এই আচরণের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের গত ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডের কোনো পার্থক্য আছে কি? যেখানে সারা দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহ্বান করা হয়েছে কোনো প্রকারের সহিংসতায় না জড়াতে, সেখানে একজন সমন্বয়কের এমন আচরণ কোনোভাবেই আন্দোলনের স্পিরিটের সঙ্গে যায় না বলে আমরা মনে করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহিন আলম শান বর্তমানে বেশ সক্রিয়ভাবে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছেন। এই শাহিন আলম শান আন্দোলন চলাকালে আমাদের মাঝপথে রেখে চলে গিয়েছিল এবং নূর নবীর আটকের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সে নূর নবীর প্রতি শিবির সন্দেহ পোষণ করে অনাস্থা জানায়। নূর নবী জেল থেকে বেরিয়ে অভিযোগ তুলেছিল, শাহিন আলম শানই ডিবির কাছে আমাদের সকল ম্যাসেজ ও তথ্য ফাঁস করে। শাহিন আলম শান আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল মুহূর্তে আন্দোলন ছেড়ে চলে যায়। এমনকি বিজয় অর্জনের পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে জায়গা না পেয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ’ নামক ভুঁইফোড় প্ল্যাটফর্ম খুলে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে। এত কিছুর পর কী করে শিক্ষার্থীরা তাঁর ওপর আস্থা রাখবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদ ভূঁইয়াকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মামলা-মোকদ্দমা, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার-সালিস করতে দেখা গেছে। আমরা এ ধরনের অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড সমর্থন করি না। আমরা মনে করি, দেশ গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশাসন‌ই সকল দায়িত্ব নেবে, এগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের এখতিয়ার বহির্ভূত। বরং এসব কর্মকাণ্ডে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

সমন্বয়কদের কোনো প্রকার পরামর্শ ছাড়াই ডিসি অফিসে বসে আবু বকরের মধ্যস্থতায় একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই লিয়াজোঁ কমিটির প্রয়োজনীয়তা কী? ডিসি অফিসে এ রকম লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের নজির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানারে অন্য কোথাও নেই। গঠনকৃত এই লিয়াজোঁ কমিটির উদ্দেশ্য ও স্বার্থ কী? আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সুবিধাভোগ ছাড়া ফলপ্রসূ কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদন সম্ভব নয়।

এই ঘটনাগুলো সবাইকে ভালো করে লক্ষ্য করার অনুরোধ করছি। ৫ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোনো কর্মসূচি কি আদৌ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে গ্রহণ করা হয়েছে না কি শুধু কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থে এবং প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে করা হয়েছে সেই প্রশ্ন উত্থাপন করতে সকলকে আহ্বান করছি।

সবশেষে বলতে চাই, মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ হোক, এটা আমরা কখনো চাইনি। ১৬ বছরের ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙে সবাই যখন ক্যাম্পাসে স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে পারছি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংকট দূরীকরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। যে সকল ঘটনা এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাধা হয়ে এসেছে তা সকলের সামনে আমরা উত্থাপন করছি। বিচার করার দায়িত্ব সকলের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বাপর সকল বৈষম্যের, নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।

এ বিষয়ে সমন্বয়ক কিশোর সাম্য আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করা হয়েছে, আমরা মনে করি, এই প্ল্যাটফর্ম এসব সমর্থন করে না। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্ল্যাটফর্মটি গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। তাই আমরা মনে করছি, এই সময়ে এসে এই প্ল্যাটফর্মের আর প্রয়োজনীয়তা থাকছে না। আমরা আসলে কি ঘটেছে, ঘটছে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহির জায়গা থাকে। আর আমরা এই প্ল্যাটফর্মে থাকছি না এটা ক্লিয়ার। কারণ এখানে এখন পেশিশক্তির ব্যবহার হচ্ছে যে পেশিশক্তির বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছিলাম।

কুরস্কে প্রবেশ করা ২ হাজার ৮৬০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত : রাশিয়া

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল কুরস্কে প্রবেশ করা ইউক্রেনের ২ হাজার ৮৬০ সেনা নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ধ্বংস করা হয়েছে ৪১টি ট্যাংক ও ৪০টি সাঁজোয়া যান। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ২৩টি ইনফ্রেন্টারি ফাইটিং যান, ২১৩টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ১০২টি গাড়ি, চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সিস্টেম, ছয়টি মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম, দুটি পরিবহন ও লোডিং গাড়ি, ২২টি ফিল্ড আর্টিলারি গান ও তিনটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার কুরস্কের সুদঝা নামের একটি শহর দখল করার কথা জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার স্রিসকি জানান, গত সপ্তাহে আকস্মিক অভিযান শুরুর পর তারা কুরস্কের ৩৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫০ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল ও ৮২টি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তারা।

স্রিসকি আরো জানান, সুদঝা শহরে সেনাবাহিনীর একটি প্রশাসনিক অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যেন সেখানে আইন ও শাসন বিরাজমান থাকে এবং সাধারণ মানুষ তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পায়।

সুদঝা শহরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্যাস টার্মিনাল। এখান থেকে রাশিয়ার গ্যাস ইউক্রেন হয়ে ইউরোপে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, এই গ্যাস টার্মিনালটি দখল করার পরিকল্পনা ঠিক করেছে ইউক্রেনীয় সেনারা। তবে আজ রাশিয়া জানাল কুরস্কে ইউক্রেনীয় বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

আগস্টের শুরুতে রাশিয়ার কুরস্কে হঠাৎ করে হামলা চালায় ইউক্রেনের সেনারা। এ সময় অঞ্চলটিতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে দেশটির কয়েক হাজার সেনা।

সূত্র : তাস নিউজ

স্বরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনকে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেনকে। তাকে দেওয়া হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

এদিকে নতুন শপথ নেওয়া  লে. জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দেওয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নতুন উপদেষ্টাদের মধ্যে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে পরিকল্পনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আলী ইমাম মজুমদারকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে শপথ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন চার উপদেষ্টা।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।এর আগে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। গত সোমবার রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদলসহ শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সারা দেশে নিহত ৬৫০: জাতিসংঘ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত গণমাধ্যম ও অন্যান্য সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, সরকার পতনের পর ৫ থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে বিক্ষোভের নতুন ধাক্কায় ২৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত জুনের মাঝামাঝি সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে প্রথমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে জুলাইয়ে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

আন্দোলনে সহিংসতায় অন্তত ৩২ শিশুসহ কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাজারো মানুষ আহত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক, গুম, নির্যাতন ও অসদাচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কঠোর বিধিনিষেধের মতো গুরুতর অভিযোগ।

মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের করা এই প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এ বিষয়ে উদ্বেগের প্রাথমিক পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। গত জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি ওএইচসিএইচআর। ওএইচসিএইচআর বলছে, ওই সময়ে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকা এবং যোগাযোগে বিধিনিষেধের কারণে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভুক্তভোগীদের কার্যকর সহায়তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও এসব সুপারিশ করা হবে বলে জানায় ওএইচসিএইচআর। মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তন মাথায় রেখে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসরায়েলে হামলা না চালাতে পশ্চিমাদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল ইরান

তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে হামলা না চালাতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ। কিন্তু এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

কিন্তু জবাবে পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, পাল্টা জবাব দেওয়াটাই অপরাধ বন্ধ করার পথ এবং এই জবাব দেওয়া ইরানের ‘আইনগত অধিকার’।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। স্বীকৃত অধিকার প্রয়োগের জন্য ইরানের কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।

ইসরায়েল হামাস নেতা হানিয়াকে হত্যার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরানে হামলার হুমকির মুখে তাঁরা সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছে।

ওদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কমান্ডার নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গোষ্ঠীও ইসরায়েলে হামলা করে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ইরান ও এর মিত্রদের ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এমন হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করে তারা।

পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে ইসরায়েলে তাঁদের হামলার হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২০২১ সালের মার্চের পর ইরানকে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি এমন ফোনকল এটিই ছিল প্রথম।

ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, স্টারমার ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে বলেন, ‘ভুল হিসাব-নিকাশের মারাত্মক ঝুঁকি আছে। এখন সময় শান্ত থাকার এবং সতর্কভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করার।’

ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য ইরানকে আহ্বান জানিয়ে স্টারমার বলেন, ‘যুদ্ধে কারও স্বার্থ রক্ষা হবে না।’

ইরনা জানায়, পেজেশকিয়ান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনের কারণেই ইসরায়েল নৃশংসতা চালিয়েছে এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

যুদ্ধে কোনো দেশেরই স্বার্থ রক্ষা হয় না, সে কথা স্বীকার করে নিলেও পেজেশকিয়ান বলেন, ‘একজন আগ্রাসীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জবাব দেওয়াটা সব দেশের আইনি অধিকার এবং এভাবেই আগ্রাসন ও অপরাধ বন্ধ করা যেতে পারে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পরে আলাদাভাবে লন্ডন, প্যারিস ও বার্লিনের সংযত থাকার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মারধরের পর আটক নারীসহ ৩০ জন সেনা হেফাজতে 

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসার আশপাশ থেকে আন্দোলনকারীদের আটকে রাখা ব্যক্তিদের নিয়ে গেছে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিউ মডেল কলেজে আটক থাকা অন্তত ৩০ জন নারী-পুরুষকে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের দিকে আসার পথে ভিডিও চিত্র ধারণ ও ছবি তোলা ব্যক্তিদের মোবাইল তল্লাশি করতে থাকে একদল আন্দোলনকারী। এ ছাড়া সকাল ৮টার পর থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শতাধিক লোকজনকে আওয়ামী লীগ সন্দেহে মারধর করে তারা। কিল-ঘুষি ছাড়াও লাঠি, পানির পাইপ দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। পরে নারীসহ অনেককেই পার্শ্ববর্তী নিউ মডেল কলেজে আটকে রাখা হয়।

একাধিক ভুক্তভোগী আজকের পত্রিকাকে বলেন, যাদের মোবাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ছবি কিংবা ভিডিও চিত্র পাওয়া গেছে, তাদের অনেককেই ছাত্ররা মারধর করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে সেনাবাহিনীর ৪টি এবং বিজিবির একটি গাড়ি নিউ মডেল কলজের সামনে এসে থামে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমেই হুইসিল বাজিয়ে কলেজের সামনে থাকা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন।

পরে কয়েকজন সেনা সদস্য কলেজের ভেতরে ঢুকে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে গাড়িতে তোলেন। এর মধ্যে একটি গাড়িতে ৯ জন নারী এবং দুটো গাড়িতে ২০ জনের বেশি পুরুষকে তোলা হয়। ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাদের নিয়ে পান্থপথের দিকে চলে যায় গাড়িগুলো।

এ সময় আন্দোলনকারীরা সন্দেহভাজন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে-‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দেন। সে সময় ১০ জনের মতো সেনা সদস্য নিউ মডেল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের সামনে মাইকে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুর রাজ্জাককে ঘোষণা দিতে শোনা যায়, ‘সকালে আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারীরা ৩২ সামনে এসে ঝামেলা করার চেষ্টা করেছিল। ছাত্র জনতা তাদের প্রতিহত করেছে। এখন যাদের ধরবেন, উপযুক্ত প্রমাণ না পেলে কিছুই করবেন না। দুষ্কৃতকারীদের নিউ মডেল কলেজে আটকে রাখবেন।’