কোটালীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, সহসভাপতি মুজিবুর রহমান হাওলাদার, গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম অহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিয়ার রহমান হাজরা, ইউপি চেয়ারম্যান মাজাহারুল আলম পান্না, যজ্ঞেশ্বর বৈদ্য অনুপ, তুষার মধু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান দিপু, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাজরা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী খায়রুল রাজ্জাক খসরু, সাধারণ সম্পাদক বাবলু হাজরা, যুবলীগ নেতা দুলাল শেখ, শেখ কাইয়ুম হোনে, তাইজুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি স্বপন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক শামিম দাড়িয়াসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ‘প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আমরা বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে আমরা দিনের কর্মসূচি শুরু করলাম।’

শিক্ষার্থী আন্দোলনে হত্যার তদন্ত শিগগিরই শুরু করবে জাতিসংঘ

জাতিসংঘের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের হত্যার তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। শিগগিরই সংস্থাটির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক।

বুধবার (১৪ আগস্ট) তাদের মধ্যে এ ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

 প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রেস বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা তদন্তে শিগগিরই জাতিসংঘ কাজ শুরু করবে বলে প্রধান উপদেষ্টাকে ফোনালাপে জানিয়েছেন সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান। তদন্তকাজ শুরু করতে একটি বিশেষজ্ঞ দল অচিরেই বাংলাদেশ সফর করবে।

বাংলাদেশের ছাত্রদের বিপ্লবে জাতিসংঘের সমর্থন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানোয় ফোনালাপে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. মুহম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানকে বলেন, ‘তার প্রশাসনের মূলভিত্তি হবে মানবাধিকার এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার রয়েছে।’

বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং দেশ পুনর্গঠনে জাতিসংঘের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রফেসর মুহম্মদ ইউনূস।

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থানরত রোকেয়া প্রাচীর ওপর হামলা

আজ সকাল থেকেই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। তবে কোটা সংস্কারের জের ধরে বাড়িটি সরকার পতনের দিন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পোড়াবাড়ির  একটা অংশে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেওয়ার কথা সকালে জানান এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে লেখেন, ‘আছি ধানমণ্ডি ৩২।

হোক সকল হত্যার সকল নৈরাজ্যের বিচার। বিচার হোক বাঙালির ইতিহাস হত্যার। আছি। আমরাও বিচার চাই।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে স্মরণ করব স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস। আছি পুড়ে যাওয়া ৩২-এ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
’আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতির জনকের মৃত্য দিবস উপলক্ষে তিনি সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন আয়োজন করেন বলে জানা গেছে।তবে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় তিনিসহ উপস্থিত সবার ওপরে হামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাচী নিজেই। তিনি  বলেন, ‘সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আমাদের ওপরে অতর্কিত হামলা হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম।

হঠাৎ আমাদের ঘিরে ধরে বেধড়ক পেটানো হয়।’তাকে টার্গেট করে পেটানো হয়েছে, এমন অভিযোগ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘যারা পিটিয়েছে তারা আমাকে টার্গেট করে এসেছে। প্রত্যেককে আমার শিক্ষিত মনে হয়েছে। তারা খুব শুদ্ধ ভাষায় কথা বলেছে। তাদের কথাবার্তা শুনেই বুঝেছি তারা দুষ্কৃতকারী নন।’

এর আগে রবিবার রাতে ১৫ আগস্ট শান্তিপূর্ণভাবে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে ফুল দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জন্য দোয়াও চেয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনার নামে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতেও এ আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীর প্রতি।

বাংলাদেশে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মোদিকে আহ্বান জানালেন কংগ্রেস এমএলএ

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হামলা হচ্ছে, এমন আশঙ্কা করছেন রিজওয়ান আরশাদ নামে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের এক কংগ্রেস বিধায়ক। শুধু তাই নয়, আশঙ্কা সত্যি হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর মতো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, কংগ্রেসের বিধায়ক রিজওয়ান আরশাদ কর্ণাটকের শিবাজিনগরের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মোদিকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেখানে হিন্দুদের ওপর নৃশংসতার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং ভিডিও দেখে গভীরভাবে ব্যথিত ভারতের একজন উদ্বিগ্ন নাগরিক হিসাবে আমি আজ আপনাকে লিখছি।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিবেদনগুলো সত্য হলে তা মোকাবিলায় একটি ‘সক্রিয় অবস্থান’ গ্রহণ করা অপরিহার্য বলেও চিঠিতে মত দেন আরশাদ। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য অবিলম্বে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গেও জড়িত হতে মোদিকে পরামর্শ দেন তিনি।

কংগ্রেস বিধায়ক লিখেছেন, ‘ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডানপন্থী প্রভাবশালী এবং হ্যান্ডেলগুলি এমন খবর প্রচার করছে যেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করছি। এগুলো সত্যি হলে ভারত সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

ভারতের জনগণ সব সময় ন্যায়বিচার, শান্তি এবং মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ায় দাবি করে মোদির উদ্দেশে আরশাদ লিখেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১৯৭১ সালে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর মতো সামরিক পদক্ষেপ নিতে আপনার দ্বিধা করা উচিত নয়। আমি আপনাকে এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের আমাদের হিন্দু ভাই ও বোনদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনার সম্মানিত অফিস ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপনার (মোদি) নেতৃত্বে ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উদ্বেগই নয়, ভারতেও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে। যারা দক্ষিণপন্থীদের দ্বারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হয়েছে।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক দুই মন্ত্রীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মুদিদোকানদার আবু সায়েদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী আল ফারাবী এই তারিখ ধার্য করেন।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মোহাম্মদপুর থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। মোহাম্মদপুর থানা মামলাটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে আবার আদালতে এজাহার পাঠিয়ে দেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী আল ফারাবী ওই এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন।

মামলার বাদীর আইনজীবী মো. মামুন মিয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল–সংক্রান্ত তারিখ ধার্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজধানীর একজন ব্যবসায়ী এস এম আমীর হামজা শিতল বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল–মামুন, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদ ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা পুলিশ কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য ও তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাত নামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তাঁর বিরুদ্ধে এটি প্রথম মামলা।

মামলার বাদী একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে একজন নিরীহ নাগরিক হত্যার বিচার চেয়ে এই মামলা করেছেন বলে আরজিতে উল্লেখ করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সমাবেশ করে। ওই সব শান্তপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালায়। বহু ছাত্র–জনতা নিহত ও আহত হন।

গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বছিলায় ৪০ ফুট এলাকায় ছাত্র–জনতা শান্তপূর্ণ মিছিল–সমাবেশ করছিল। সেখানেও পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয় মুদিদোকানদার আবু সায়েদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, নিহত সায়েদকে তাঁর গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নতুন বস্তি প্রধান হাটে নিয়ে দাফন করা হয়। তাঁর মা, স্ত্রী, ছেলেসন্তান সেখানেই থাকেন। এ কারণে তাঁরা ঢাকায় এসে মামলা করতে অপারগ। এ জন্য বিবেকের তাড়নায় বাদী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই মামলা করলেন।

বাদী মামলার অভিযোগে আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান কামালের নির্দেশে পুলিশের আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধীনস্থ পুলিশদের নির্দেশ দিয়ে মিছিলে গুলি চালায়। পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কাজেই বিচার হওয়া প্রয়োজন।

হত্যা মামলায় সালমান ও আনিসুল ১০ দিনের রিমান্ডে

সন্ধ্যার আগে দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় দায়ের করা হকার শাহজাহান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

রিমান্ডের আবেদন শুনানির সময় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মো. মাইনুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আগের রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে সেই মামলাটি দায়ের করেছেন মোসাম্মৎ আয়শা বেগম। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বিক্রমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিভিন্ন সহিংসতা ঘটে। সেদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার মিরপুর রোডের টেসাস ট্রেনিং কলেজের সামনে গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত  হয়ে বাদীর ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান আলী পড়ে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা শাহজাহানকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহান নিউমার্কেট এলাকার বনানী সিনেমা হলের পাশের দোকানে কাজ করতেন। হকার শাহজাহানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জামায়াত, শিবির ও বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা
নিহত হকার শাহজাহানের মা নিউমার্কেট থানায় যে মামলা দায়ের করেছেন সেই মামলায় উল্লেখ আছে, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জামাত শিবির ও বিএনপি কর্মীরা তাঁর ছেলেকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সাবেক আইনমন্ত্রীকে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সাবেক দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাকে আদালতে হাজির করা নিয়ে দুপুরের পর থেকেই কড় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত ৫ আগস্টের পর এই প্রথম ঢাকার আদালত এলাকায় কড়া  উপস্থিতি দেখা যায়। দুজনকে যখন আদালতে হাজির করা হয় তখন তাঁদের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ ছিল।

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মোহাম্মদপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এ আদেশ দেন। হত্যার মামলাটি রেকর্ড করতে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই দিন সকালে আদালতে এস এম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি এই মামলার আবেদন করেন।

মুদি দোকানদার আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর ১২টার দিকে আদালত মামলার বাদী এস এম আমীর হামজার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদেশ দেন আদালত।মামলায় আরো যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছে, তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি হারুন-অর-রশীদ ও অতিরিক্ত যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার।

গত ১৯ জুলাই বিকেল ৪টায় মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা ৪০ ফিট চৌরাস্তায় আবু সায়েদ কোটা আন্দোলনের সমর্থনে চলমান মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি : ফখরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে  বিএনপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলেননি। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি জানান, নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা সরকারকে সময় দিচ্ছেন।

সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা  ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনায় বৈঠক করে বিএনপির প্রতিনিধি দল।

বিএনপির প্রতিনিধি দল যমুনায় থাকতেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলিনি। আগেও বলেছি, এটার জন্য কিছু সময় লাগবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে। আমরা তাদের অবশ্যই সেই সময় দিচ্ছি।
আমরা তাদের সব বিষয়গুলোকে সমর্থন দিচ্ছি।আমরা একটা কথা খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি, বর্তমানে দেশে যে অস্থিরতার চেষ্টা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা, সাম্প্রদায়িকতার ধোয়া তোলা হচ্ছে, এগুলোতে জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয়। জনগণ যাতে পূর্বের মত ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে, জনগণের নিরাপত্তাকে অক্ষুণ্ন রেখে সরকারকে সহায়তা করে। পুরোপুরিভাবে সেভাবে সহায়তা করছি।

সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা একে একে যমুনায় প্রবেশ করতে শুরু করেন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যমুনায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।

দেশে ফিরে আসেন : শেখ হাসিনাকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে বলছি, আপনি দেশে ফিরে আসেন। আপনার নাগরিকত্ব তো চলে যায়নি।’
আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম একটি বড় দল। এ দলে অনেক ভালো মানুষ আছে, তাদের অনেককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি।

অথচ তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আপনারা দল গোছান, আপনারা তো নিষিদ্ধ না।আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এম সাখাওয়াত হোসেন রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘দয়া করে আপনারা দেশকে অরাজকতার মধ্যে ঠেলবেন না, ইনক্লুডিং সদ্য বিদায় হওয়া পার্টি (আওয়ামী লীগ)।

আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনাদের সাহায্য করব।‌ আপনারা পার্টি গোছান উইথ নিউ ফেইস (নতুন মুখ নিয়ে), উইথ নিউ অঙ্গীকার।’শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘গণ্ডগোল পাকায়েন না। এসব করে কোনো লাভ হবে না।

এরশাদ জেলে গিয়েছিলেন, তবে তার দল তো এখনো টিকে আছে।’ দেশকে অরাজকতার দিকে না ঠেলে দিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহার করছে, তারা না বুঝে এই শব্দ ব্যবহার করছে।’ এ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটির বিষয়ে কেবিনেটে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

সচিবদের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠকে এলো যেসব সিদ্ধান্ত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তার অধীন ২৫ মন্ত্রণালয়ের জ্যৈষ্ঠ সচিব ও সচিবরা। বৈঠক শেষে ব্রিফ করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

বৈঠক শেষে আজ সোমবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সচিব জানান, সব মন্ত্রণালয়ের কাজ দ্রুত চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ জন্য সাত দিন সময় দিয়ে এখন থেকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সচিব বলেন, গত কয়েক বছর যারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের দাবিগুলো শুনে শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরগুলোকে দ্রুত ফাংশনাল করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে আগে মন্ত্রী ছিলেন সেসব মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে স্থবির হয়ে না যায়, সচিবরা সেসব কাজ নিজ উদ্যোগে যাতে শুরু করেন তা নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সার, বিদ্যুৎ, কৃষি, জ্বালানি, বন্দর, খাদ্যসহ জরুরি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সাত দিনের মধ্যে তালিকা করে কাজ শুরু করতে হবে এবং তালিকাগুলো প্রধান উপদেষ্টাকে দিতে হবে।