জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা।

 

 

ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।

এবারের নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এবারের নির্বাচন হবে দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। তিনি জনগণের শক্তির ওপর ভর করে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ দুই যুগ পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে পেরে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীও বিশ্বাস করে বাংলাদেশই তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে।” তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না মেধা ও যোগ্যতাই হবে মূল ভিত্তি।

 

জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।  কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণ সরকারিভাবে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। নারীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

 

 

স্থানীয় উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে, বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দ্রুততম সময়ে চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চিনিকল এবং তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এলাকায় মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে।

 

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে মানুষ তাদের কেড়ে নেওয়া অধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, দলীয় দাসত্ব নয়, বরং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করুন।

সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরগাঁও জেলা আজ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

দুদিন স্থগিত থাকার পর কাল রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন।

এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহিনোর্ঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংগ্রাম পরিষদ। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত শনিবার থেকে আট ঘণ্টা করে তিনদিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল সংগঠনটি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে লাগাতার কর্মবিরতি দুদিনের জন্য স্থগিত করেন সংগঠনটির নেতারা।

আন্দোলন স্থগিত করার পরপরই আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুদ্ধ হন।

সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা বিবেচনা করে আমরা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য বন্দর চিঠি দেয়। এই পদক্ষেপ নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান ( রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এক. এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেয়ার ঘোষণা দিতে হবে সরকারকে। দুই. বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা তিন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, চার, তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।

সংবা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের নেতা মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, হারুন, ইমাম হোসেন খোকেন, শরীফ হোসেন ভুট্টো।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে আমদানি–রপ্তানি পণ্যের ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। তবে কনটেইনার পরিবহনের কার্যত একমাত্র বন্দর চট্টগ্রাম। এই বন্দর দিয়ে কনটেইনারের ৯৯ শতাংশ পরিবহন হয়। বন্দর বন্ধ হলে কনটেইনারে রপ্তানি প্রায় পুরো বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনারে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল খালাসও বন্ধ হয়ে পড়ে।

ক্ষুব্ধ বিএনপি, বড় আন্দোলনের ইঙ্গিত

 

নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, পরিকল্পিত ভোটার মাইগ্রেশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করার ছক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি জড়িত। তবে এসব অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশনের অবস্থানে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি।

রোববার নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন,
“আমরা যে তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি, তাতে স্পষ্ট—ঢাকাসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে ব্যাপক ভোটার মাইগ্রেশন ঘটানো হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের জবাব হতাশাজনক।”

এ সময় রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম খাঁনের অভিযোগ, একটি হোল্ডিং নম্বরে ২০ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত ভোটার দেখানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ভোটার মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে হোল্ডিং নম্বরই নেই। তাদের দাবি, এই অনিয়ম চলতে থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিএনপি আরও অভিযোগ করে, জামায়াতের পক্ষ থেকে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতারা।

এছাড়া সারাদেশে জামায়াত নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে প্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। অথচ এসব গুরুতর অভিযোগের পরও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা।

নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন,
“শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠ পর্যায়েও নির্বাচন কমিশনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এতে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—এই নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না।”

হঠাৎ করে নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে এমন জোরালো অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি কি এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বড় কোনো কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে? যার প্রভাব পড়তে পারে ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির ওপরও।

সব মিলিয়ে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন, জামায়াত এবং বিএনপিকে কেন্দ্র করে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গাজীপুর ২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা

সোমবার  টঙ্গী ৫৬ নং ওয়ার্ডে সাবেক ৫৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ও জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১’কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, মোঃ নিউটন খান এর উদ্যোগে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা আয়োজন করা হয় ।উক্ত অনুষ্ঠানে
উপস্থিত থাকেন – টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির  সহ-সভাপতি  মোঃ রমজান হোসেন বিল্লাল, গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও টঙ্গী পূর্ব থানার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ হেলাল খান, মোঃ দেলোয়ার হোসেন ৫৬ নং ওয়ার্ডের সহ সভাপতি, মোঃ মুরাদ সরকার ৫৬ নং ওয়ার্ডের সহ সভাপতি, মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী,সহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবক দল, সকল পর্যায়ে নেতৃবৃন্দরা,
এ সময় তারা বিএনপি’র প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় দোকান,বিভিন্ন বাসা বাড়িতে মা-বোনদের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালায়।

গত ১০ দিনে ভূমধ্যসাগর পার হতে গিয়ে কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন অথবা মারা গেছেন

ভূমধ্যসাগর পার হতে গিয়ে গত ১০ দিনে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক জাহাজডুবির ঘটনায় কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন অথবা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। খবর বিডিনিউজের।

সোমবার এক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এক বিবৃতিতে বলেছে, চূড়ান্ত সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক বেশি হতে পারে, যা কঠোরভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এই রুটটি এখন বিশ্বের অভিবাসন করিডোরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স থেকে রওনা হওয়া একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের মধ্যে এক বছর বয়সী দুই যমজ শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয় ইতালির ল্যাম্পেডুজা দ্বীপে। ওই যজম শিশু দুটির গিনিয়ান মা বেঁচে গেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশু দুটি হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। একই কারণে একজন পুরুষেরও মৃত্যু হয়েছে বলে আইওএমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

আইওএম জানায়, এই নৌকার বেঁচে যাওয়া আরোহীরা জানিয়েছেন স্ফ্যাক্স থেকে তাদের সঙ্গে আরেকটি নৌকা রওনা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর আসেনি আর তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তাও অজানা রয়ে গেছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় হ্যারির কারণে ভূমধ্যসাগর উত্তাল হয়ে আছে, এরমধ্যে গত ১০ দিনে বেশ কয়েকটি নৌকা নিরুদ্দেশ হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে, এতে কয়েকশ মানুষের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানোর প্রচেষ্টাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কড়া নির্দেশ ভারতের

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করতে হবে।

মূলত যে সমস্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে অর্থ প্রদান করেছে, সেই জমিগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমানার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের বিলম্বকে আদালত উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, যা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছিল, কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি হস্তান্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে।

এই প্রেক্ষিতে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে না। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের মতো দাপ্তরিক অজুহাত দেখিয়ে এই অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারকে অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকায় এখনো রাজ্য মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতিরা মনে করেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনো আইনি জটিলতা যেন এই নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে রাজ্যকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পটিতে নতুন করে গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যেখানে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতির বিষয়ে রাজ্যকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশের ফলে বিএসএফ এখন তাদের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে, যা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক বড় পরিবর্তন আনবে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছিল।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

মাদুরো-স্টাইলে’ ট্রাম্পকে বন্দি করার হুমকি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের গন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। একদিকে ইরানি উপকূলে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি, অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি। এই স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

ইরানের জ্যেষ্ঠ নীতি-নির্ধারক ও প্রভাবশালী তাত্ত্বিক হাসান রহিমপুর আজগাদি সম্প্রতি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তেহরানে চলমান বিক্ষোভ এবং সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের উস্কানিদাতা অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরানের উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বন্দি করা।

আজগাদি উদাহরণ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত বা বন্দি করার চেষ্টা চালিয়েছিল, ইরানের উচিত ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম ‘মাদুরো-স্টাইল’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা। ইরানের রাজনৈতিক মহলে এ ধরনের মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের পাল্টা হস্তক্ষেপ এবং ট্রাম্পের প্রতি চরম ব্যক্তিগত হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার মার্কিন বিমানবাহী একটি বিশাল রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এসে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ইরানকে সরাসরি ভয় দেখানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিদেশি রণতরীর উপস্থিতি তাদের প্রতিরক্ষা নীতি বা কূটনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। ইরান কোনোদিন যুদ্ধকে স্বাগত জানায়নি এবং ভবিষ্যতেও যুদ্ধ চায় না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কূটনীতি আমাদের একমাত্র ঢাল। বিদেশিরা যদি মনে করে যুদ্ধজাহাজ এনে আমাদের দেশ রক্ষার মনোবল ভেঙে দেবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক বলেন, গত জুন মাসের ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ইরানের যে শক্তিমত্তা বিশ্ব দেখেছিল, বর্তমান প্রস্তুতি তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি সামান্যতম আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান যে জবাব দেবে তা হবে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক এবং চূড়ান্ত। শত্রু যদি মনে করে তারা সহজে জয়ী হবে, তবে তাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে বিশ্বনেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাশিয়া সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং তা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দিতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এর আগে দাবি করেছিলেন যে, ইরান চুক্তি করতে চায় এবং তেহরান থেকে তাকে বহুবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বয়ানে চুক্তির পরিবর্তে সামরিক মোকাবিলার সুরই বেশি জোরালো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক যেভাবে তিক্ততার চরমে পৌঁছেছে, তাতে যে কোনো সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে। মাদুরোর সাথে ট্রাম্পের তুলনা এবং তাকে বন্দি করার হুমকি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের চরম আস্ফালনের বহিঃপ্রকাশ।

মধ্যপ্রাচ্যের এই বারুদে ঠাসা পরিস্থিতিতে ইরান তার জনগণের সমর্থন এবং সামরিক সক্ষমতাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইরানের এই ‘মাদুরো-স্টাইল’ হুমকির বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেয়।

এএন

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেননি, তবুও সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, বর্তমানে তারা কোনো নতুন গণ-নির্দেশনা জারি না করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল শক্তিবৃদ্ধির আওতায় রয়েছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং একাধিক যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন। এছাড়া অঞ্চলজুড়ে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগেই নিশ্চিত করেছিলেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে ট্রাম্প বারবার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) অনুমান করছে যে, ইরানে অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যদিও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে ইরান এই সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের মার্কিন হামলাকে তারা একটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান এখন ‘ট্রিগারে আঙুল’ দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো উসকানির পূর্ণাঙ্গ ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, হামলার পরিধি সীমিত বা ব্যাপক যাই হোক না কেন, তাদের প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত কঠোর। এই দ্বিমুখী অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বিধ্বংসী যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার এই স্নায়ুযুদ্ধ যদি শেষ পর্যন্ত সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।

বর্তমানে দুই দেশই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার মিত্র দেশগুলো এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ এবং চ্যানেল ১২

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের শিশুকে হত্যার পর স্ত্রীর আত্মহত্যা

বাগেরহাটে ছাত্রলীগ নেতার ৯ মাসের শিশু সন্তান ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর এবং মেঝে থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আত্মহত্যাকারী কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২২) বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। হত্যার শিকার শিশু নাজিম হোসেন ওই দম্পতির একমাত্র সন্তান। বছর পাঁচেক আগে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের সাথে তার বিয়ে হয়। জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে রয়েছেন।

নিহত স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বর্ণালী প্রথমে তার শিশুসন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন।

শুভ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্বর্ণালী তার স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকেই প্রথমে ৯ মাসের শিশু সন্তান বালতিতে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন।

 

নিহত স্বর্নালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে। আমরা কাউকে দোষ দিতে চাই না। ময়নাতদন্ত ছাড়া মেয়ে ও নাতনির মরদেহ নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেয়।

 

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিহতের পরিবার, শ্বশুর বাড়ির লোক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী নিজের সন্তানকে হত্যার পরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। মূলত ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।