গাজীপুর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ: মনজুরুল করিম রনি

গাজীপুর-২ (সদর- টঙ্গী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনজুরুল করিম রনি বলেছেন, আমরা গাজীপুর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। আজ টঙ্গী থেকে প্রচারণা শুরু করলাম। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আমরা কেন্দ্রে যাব, আর ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরব। মনে রাখতে হবে, আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের হাতেই নিরাপদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ মাঠে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রনি বলেন, যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই ধানের শীষ, ৯১ সালের জোয়ার উঠেছে। তবে কাউকে দুর্বল মনে করলে চলবে না। আজ থেকে কেউ ঘরে বসে থাকবেন না।সবাইকে মাঠে কাজ করতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, আমার নেত্রী কি পরিমাণ নির্যাতিত হয়েছেন আপনারা জানেন। সব অন্যায়ের জবাব ১২ তারিখ দিয়ে দেব আমরা। ধানের শীষ বিজয়ী হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল গাজীপুর পর্যন্ত আসবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার, বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারসহ প্রমুখ।

বিশ্বে তুরস্ক অন্যতম কেন্দ্রীয় শক্তিতে পরিণত হবে: এরদোয়ান

তুর্কি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কনফেডারেশনের সপ্তম বিশেষ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, সিরিয়ার মতোই আমরা এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে ত্যাগ ও প্রচেষ্টার সুফল আমরা পেতে শুরু করবো।

তিনি বলেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগোচ্ছে, যা আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি। বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের সমালোচনার যথার্থতা আজ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এরদোয়ান আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আপনারাও দাভোসের আলোচনা লক্ষ্য করছেন। বহু বছর ধরে সত্য কথা বলার সাহস দেখানোর কারণে যারা আমাদের নিরন্তর সমালোচনা করেছে, আজ তারাই আমাদের মতো কথা বলছে। তারা বৈশ্বিক অবিচার ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিকৃতির কথা বলছে।

তিনি বলেন, তুরস্কের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্য উজ্জ্বল। নতুন নতুন দরজা খুলবে, নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রত্যাশার বাইরেও নানা সম্ভাবনা সামনে আসবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এক সম্পূর্ণ নতুন যাত্রায় আছি, যেখানে আমাদের কীর্তিগাথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়বে, আমাদের সাফল্য বন্ধু ও শত্রু—উভয়ের কাছেই আলোচিত হবে, এবং শেষ পর্যন্ত একটি মহান ও শক্তিশালী তুরস্ক আত্মপ্রকাশ করবে।

এরদোয়ান বলেন, কিছু মানুষের এখনো মেনে নিতে কষ্ট হলেও বাস্তবতা হলো—আজকের তুরস্ক নিজেই প্রযুক্তি উৎপাদন করছে, নকশা করছে, উন্নয়ন করছে এবং তা বিশ্বে রপ্তানি করছে।

তিনি জানান, প্রতিরক্ষা খাতে তুরস্কের প্রকৌশলগত সাফল্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা পাচ্ছে। আমাদের বিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন (ইউএভি), যুদ্ধ ড্রোন (ইউসিএভি), নৌ-প্ল্যাটফর্মসহ আরও অনেক কিছু অর্ডারের চাপে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

টঙ্গীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে হাতবোমা ও বিপুল মাদকসহ আটক ৩৫

গাজীপুরের টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানে হাতবোমা ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩৫ জনকে আটক করেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী বাজার এলাকার বিখ্যাত মাদক স্পট হাজীর মাজার বস্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব টাস্কফোর্সের সদস্যরা।
জানা যায়, শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্বে টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় ৩৫ জনকে আটক করে, পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি হাতবোমা, ৩৪৭ পিস ইয়াবা, প্রায় ১ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে টাস্কফোর্সের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভবিষ্যতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে এ কর্মকর্তা জানান।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহীন খান জানান, শুক্রবার ভোররাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের সদস্যরা হাজীর মাজার বস্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজের ভাইবোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে গোপনে ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার (১৪ হাজার ১৬০টি) শেয়ার আত্মসাৎ করার মামলায় মো. লতিফুর রহমানের মেয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমানের আদালতে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করে বুধবার দুপুর ২টায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া বাকি দুইজন হলেন— লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান ও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হোসাইন।

এর আগে, ১১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। চার্জশিটে সিমিন রহমান ছাড়া আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন, ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারি ও লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান। এর মধ্য সামসুদ্দিন পাটোয়ারি মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন যে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ের অ্যাজেন্ডা ছিল (১) পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন (২) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন (৩) লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন।

এ মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়।

এ মিটিংয়ের বিষয়ে বাদী দাবি করেন, এ ধরনের বোর্ড মিটিং ২০২০ সালের ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ২০২০ সালের ১৩ জুনের বোর্ড মিটিং ও রেজল্যুশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিশ বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আরজেএসসিতে জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও আরজেএসসির নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে।

শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা, অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সামনে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় উক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

এছাড়া, ২০২০ সালে ভাইবোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশিরভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন।

এজন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প অ্যাফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশিরভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরে (আরজেএসসি) দাখিল করেন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের দায়ের করা অ্যাফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এ স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।

এর আগে, ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের অন্য মেয়ে শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

 

আজ প্রতীক বরাদ্দ, কাল থেকে প্রচারণা শুরু

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সাতজন শীর্ষ নেতাকে নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক চিঠির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর নিরাপত্তা আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত নির্দেশনা পাঠায়।

নির্বাচন কমিশনের এ নির্দেশনার মাধ্যমে যেসব নেতা নিরাপত্তা পাবেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এএন

পবিত্র রমজানের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে আগামী ১৯ বা ২০ ফেব্রুয়ারি। তবে রমজান শুরুর সময় ১৯ ফেব্রুয়ারি ধরে ঢাকার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের এই সময়সূচি প্রকাশ করে।
জানা যায়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবের নেতৃত্বে দেশের শীর্ষ মুফতিয়ানে কেরাম এ সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে।সময়সূচি অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম রমজানে ঢাকায় সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১২ মিনিট ও ইফতারির সময় ৫টা ৫৮ মিনিট।তবে দূরত্ব অনুযায়ী, ঢাকার সময়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ মিনিট পর্যন্ত যোগ করে ও ৯ মিনিট পর্যন্ত বিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সেহরি ও ইফতার করবেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানা গেছে।

 

দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হবে ।

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে তাদের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ : জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্র দায়মুক্তির মনোভাব নিয়ে আচরণ করছে এবং তারা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে নিজেদের ক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। বিবিসি রেডিও ফোর টুডে’র প্রোগ্রামে এমন কথাই বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের স্পষ্ট বিশ্বাস হচ্ছে এই যে, সমস্যার বহুপক্ষীয় সমাধান অবান্তর। যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও ক্ষমতা প্রয়োগ। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে খুবই কমই। কয়েকসপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর হামলার মধ্য দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আটক হওয়া এবং সমপ্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রেক্ষপটে জাতিসংঘ মহাসচিব এই মন্তব্য করলেন। গুতেরেস বলেন, তিনি মনে করেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিমালা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে আছে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমতার নীতিও। খবর বিডিনিউজের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতেও জাতিসংঘের কড়া সমালোচনা করেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সংস্থাটির অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তিনি নিজে কখনওই শেষ না হওয়া সাতটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, যেখানে জাতিসংঘ এর কোনওটিই অবসানে এমনকি সহায়তা করারও চেষ্টা করেনি। ট্রাম্প আরও বলেন, পরে আমি বুঝেছি, আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জাতিসংঘ সেখানে ছিল না।

ট্রাম্পের এমন সমালোচনার মুখে মহাসচিব গুতেরেস স্বীকার করেন যে, জাতিসংঘ তাদের সনদে বর্ণিত আন্তর্জাতিক আইন সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে মেনে চলতে বাধ্য করতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের বড় বড় সংঘাত সমাধানে জাতিসংঘ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, জাতিসংঘের প্রভাব খাটানোর কোনও ক্ষমতা নেই; এই ক্ষমতা বড় শক্তির দেশগুলোর হাতেই বেশি।

অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তার পায়ে গুলি, এরপর পিটিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন র‍্যাব সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব। হামলাকারীরা প্রথমে তার সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পায়ে গুলি করে। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে লাঠি, রড ও কাঠ দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন মোতালেব। এ ঘটনায় র‍্যাবের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল আরিফ ও নায়েক ইমাম এবং একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে

র‍্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র‍্যাবের একটি দল জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব নিহত হন।

র‍্যাব-৭-এর একটি সূত্র গণমাধ্যমকে  জানায়, সশস্ত্র এক আসামি জঙ্গল সলিমপুরের একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে লুকিয়ে আছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সদস্যের একটি দল সেখানে যায়। চার সদস্য ভেতরে প্রবেশ করার পর ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী চারদিক থেকে ঘিরে তাদের ওপর হামলা চালায়।

সূত্র আরও জানায়, তাদের চার সদস্য ভেতরে প্রবেশ করার পরই ২০-২৫ জন লোক চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। অত্যন্ত নৃশংসভাবে পেটালে তারা লুটিয়ে পড়েন। এর মধ্যে নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব ঘটনাস্থলেই মারা যান।

হামলার পর র‍্যাবের অন্য সদস্যরা এলাকায় প্রবেশ করে আহতদের উদ্ধার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সলিমপুর-লিংক রোডসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় নিরীহ মানুষ উপস্থিত থাকতে পারে—এই আশঙ্কায় সদস্যরা গুলি চালাননি। পরিকল্পিতভাবে চালানো এ হামলায় সন্ত্রাসীরা সরাসরি প্রাণঘাতী আক্রমণ করে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

নিহত নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে একটি অস্থিতিশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে। এর আগেও প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আদালতে চার্জশিট দাখিল লতিফুর কন্যার বিরুদ্ধে

নিজের ভাইবোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে গোপনে ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে সিমিন রহমান হাতিয়ে নিয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার। ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে এ বিষয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন। গতকাল আদালতে চার্জশিট উপস্থাপন করা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ এ বিষয়ে শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হুসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চার্জশিটে সিমিন রহমান ছাড়া আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারি এবং লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১৩ জুন বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল (১) পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন (২) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন (৩) লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন। এ মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তাঁর বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। এ মিটিংয়ের বিষয়ে বাদী দাবি করেন, এ ধরনের বোর্ড মিটিং ২০২০ সালের ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ২০২০ সালের ১৩ জুনের বোর্ড মিটিং ও রেজল্যুশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ইমেল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিস বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া RJSC-তে জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র RJSC-তে জমা দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও RJSC-এর নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই RJSC-তে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা, অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে RJSC-এর প্রতিনিধির সামনে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় উক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি; যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ভাইবোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন।

এজন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দাখিল করেন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের দায়ের করা এফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এ স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।

এর আগে ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের অন্য মেয়ে শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালজালিয়াতির অভিযোগ করা হয়।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল।

বৃহস্পতিবার বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সূচি প্রকাশ করা হয়।

সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ মে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও গত বছর এবং এ বছর তার ব্যত্যয় ঘটেছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশাবলী

১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন নিতে হবে।

২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে।

৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা আরম্ভের কমপক্ষে তিনদিন আগে সংগ্রহ করবে।

৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়সমূহ জাতীয় শিক্ষক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এর নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাতে হবে।

৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।

১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।

১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবে না।

১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় এবং শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।