ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রথমার্ধে কোন দলই জোরালো আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি, রক্ষন ধরে রেখে আক্রমণে যাবার চেষ্টা করেছে দু,দলই।তবে ফলাফল আনতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইয়ামালের নিখুঁত পাসে নিকো উইলিয়ামস ইংলিশ গোল রক্ষক পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়ে জালে বল পাঠায়। তাতে ১-০ লিড পায় স্পেন।

গোল খেয়ে জেগে ওঠে ইংলিশ শিবির। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে বেলিংহামের বাড়িয়ে দেয়া বলে ডি বক্সের বাইরে পায় কোল পালমার। তার তীব্র শট স্পেনের জাল খুঁজে পায়। স্কোর লাইন ১-১ সমতা।

তবে ৮৬ মিনিটে আবারো জেগে ওঠে স্পেনীয়ার্ড়রা। আলবারো মোরাতার বদলে নেমেছিলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কুকুরিল্লার বাড়ানো তীব্র গতির বলে পা বাড়িয়ে দেন ওইয়ারসাবাল। জালে জড়ায় বল, আর ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু তিনবারের চেষ্টায়ও বল জাল খুঁজে পায়নি। প্রথমবার ঠেকান স্পেনের গোল কিপার। ডেকলান রাইসের হেড গোলরক্ষক উনাই সিমন ঝাঁপিয়ে ফেরানোর পর, ফিরতি হেড করেন মার্ক গেয়ি; কিন্তু গোললাইন থেকে মাথা দিয়েই ফিরিয়ে দেন ওলমো। সুযোগ ছিল তারপরও, কিন্তু রাইসের ফিরতি হেড হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।

আর শেষ হয়ে যায় ইংলিশদের স্বপ্ন।

 সেই ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আরেকটি ট্রফির অপেক্ষায় থাকা দলটি টানা দ্বিতীয়বার ইউরোর রানার্সআপ হলো।

আর স্পেনীয়রা চারবার ইউরো শিরোপা জিতে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে নাম লেখালো সবচেয়ে বেশি ইউরো জয়ের রেকর্ডের পাতায়।

গুলির পর কেমন আছেন ট্রাম্প

নির্বাচনী প্রচারকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ জুলাই) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি চালানো হয়। বাটলার কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বন্দুকধারী ও আরেকজন নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হামলার বর্ণনা দিয়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি জানান, গুলিতে আমার ডান কানের ওপরের অংশে ফুটো হয়ে গেছে। ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘হঠাৎ আমি শব্দ শুনি, সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি অঘটন ঘটেছে। আর তখনই অনুভব করি গুলি আমার চামড়া ফুটো করে দিয়েছে। অনেক রক্ত পড়তে থাকে, আমি তখন বুঝতে পারি কী ঘটেছে।’

এ ছাড়া রিপাবলিকান এই প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রচারে গুলিতে হতাহতের পরিবারের প্রতি সমবেধনা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন,  ‘এটা অবিশ্বাস্য যে আমাদের দেশে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারী সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। হামলাকারী নিহত হয়েছেন।’

পোস্টের শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন!’ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর দ্রুত পাশে থাকা এক গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রাম্পকে। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তার প্রচার শিবির জানিয়ছে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সুস্থ আছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কোটা আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী, অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা : ডিবিপ্রধান

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিতে পারে, ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করারও চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, কেউ যদি আদালতের আদেশ না মানে, আন্দোলনের নামে জান-মালের ক্ষতি করে, সড়ক অবরোধ করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে যৌক্তিক কাজ সেটাই করা হবে।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিবিপ্রধান বলেন, কোটা শুধু বাংলাদেশে নয় অনেক দেশেই প্রচলন রয়েছে। কোটার বিরোধীতা করে কিছু লোক, কিছু শিক্ষার্থী রাস্তায় আন্দোলন করছে। এরই মধ্যে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট সবার ভরসাস্থল। আদালতের নির্দেশনা সাবার মেনে চলা উচিত।

কিন্তু কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসে না যেয়ে তারা বিভিন্ন সড়কে বসে সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অনেক জায়গায় গাড়িতে তারা হাত দিচ্ছে এবং একটি মামলাও রুজু হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না; তাহলে আমাদের করার কি আছে? আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো। কারণ আন্দোলনরতরা যদি জান-মালের ক্ষতি করে, সড়ক অবরোধ করে এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টি করে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে যৌক্তিক কাজ সেটাই করা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে কি না, ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে কি না এসব নিয়ে ডিবির টিম ও পুলিশ কাজ করছে। কেউ যদি হাইকোর্টের নির্দেশনা না মেনে আন্দোলনের নামে সড়কে নেমে অবরোধ করে গাড়িতে হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তবে আমরা ধরে নিতে পারি অনুপ্রবেশকারীরাই এসব কাজ করছে।

এদিকে, চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, যানবাহনে গতিরোধ ও মারধরের ঘটনায় শাহবাগ থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আসামি হিসেবে ‘অজ্ঞাতপরিচয় অনেক’ উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ১১ জুলাই কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে বিকেল ৪টার সময় স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে বেআইনি জনতায় আবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা শাহবাগ মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন ও পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সাধারণ জখম করেন।’

‘পরে তারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরিয়ে আনতে যার। এ সময় বিএসএমএমইউয়ের পাশে নিরাপদ স্থানে রাখা এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যাননের চারদিকে ঘেরাও করে অনেক সংখ্যক আন্দোলনকারীরা উঠে উদ্দাম নৃত্য শুরু করেন। তারা ওয়াটার ক্যানন চালককে গাড়ি থেকে জোর করে বের করার চেষ্টা ও গতিরোধ করেন। এর ফলে এপিসি ২৫ এর সামনের দুইটি এসএস স্ট্যান্ড, বনাটের উপরে বাম পাশে রেডিও অ্যান্টেনা এবং ডান পাশের পেছনের চাকার মার্টগার্ড চলি এবং ওয়াটার ক্যাননের বাম পাশের লুকিং গ্লাস ভেঙে অনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ছাত্রদের অন্যান্য সিনিয়র স্যাররা বুঝিয়ে শুনিয়ে এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যানন থেকে নামিয়ে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পানির বোতল, টেপটেনিস বল ও ইটের টুকরা ছুড়ে মারেন। এতে অনেক পুলিশ সমস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।’

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব সিনিরয় কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বারডেম হাসপাতালের গেটের ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশ সদস্যদের আহত করেন। তারা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন। ছাত্ররা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা এবং শাহবাগ থানায় ছাত্রদের ধরে নিয়ে গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশকে মারতে তেড়ে আসেন ও পুলিশকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে শাহবাগ মোড় ত্যাগ করেন।’

বিবাদীরা বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি কাজে বাধা দেন। তারা স্বেচ্ছায় আঘাত করেন, গতিরোধ, দাঙ্গা দমনকারী কর্তব্যরতদের প্রতি আক্রমণ ও বাধা দিয়ে ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি দেখান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মৃত্যু পৌনে ২ লাখের বেশি: গবেষণা

ল্যানসেটের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সশস্ত্র সংঘাতের সহিংসতার প্রত্যক্ষ ক্ষতির বাইরেও পরোক্ষ স্বাস্থ্যগত প্রভাব আছে। এমনকি যদি সংঘাত অবিলম্বে শেষ হয়ে যায়, তার পরও প্রজনন, সংক্রামক এবং অসংক্রামক রোগের মতো কারণগুলো থেকে আগামী কয়েক মাস ও বছরগুলোতে অনেক মানুষ পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করবেন।’

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘এই সংঘর্ষের তীব্রতা বিবেচনা করে মোট মৃতের সংখ্যা বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা অবকাঠামো ধ্বংস; খাদ্য, পানি এবং আশ্রয়ের তীব্র ঘাটতি; নিরাপদ স্থানে পালাতে স্থানীয়দের অক্ষমতা; জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার তহবিলের ঘাটতি ইত্যাদি গাজা উপত্যকায় এখনো সক্রিয় মানবিক সংকটগুলোর একটি।’

ব্রিটিশ জার্নালটিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সংঘাতে এ ধরনের পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যক্ষ মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে ৩ থেকে ১৫ গুণ। এখন পর্যন্ত পাওয়া যাওয়া ৩৭ হাজার ৩৯৬ জনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে অনুমান করা হয়, প্রতি একজনের প্রত্যক্ষ মৃত্যুর বিপরীতে চারজন পরোক্ষভাবে মারা গেছে। সেই হিসাব অনুসারে, গাজার বর্তমান সংঘাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ বা তার বেশি মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে।’

প্রতিবেদন অনুসারে, ‘মৃত্যুর এই পরিমাণ ২০২২ সালে গাজার যে পরিমাণ জনসংখ্যা ছিল—২৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৯ জন—তার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগে, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি—যখন ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার—প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যদি দ্রুতই একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫৮ হাজার ২৬০। অবশ্য যদি কোনো ধরনের মহামারি এবং যুদ্ধের গতি বৃদ্ধির মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে চলতি বছরের ৬ আগস্ট নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮৭ হাজার ২৬০।’

এদিকে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন চলছে ৯ মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে হামাসসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোদ্ধা গোষ্ঠীর আক্রমণে অন্তত ৬৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী এ সংখ্যা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, গাজায় গতকাল রোববার বিকেলের আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনটি স্থানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ৫৫ জনসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৩ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও অন্তত ৮৭ হাজার ৮২৮ জন।

আগামী ১৪ জুলাই সোমবার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া

কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দুই দল আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া। প্রথম সেমিফাইনালে কানাডাকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী উরুগুয়েকে বিদায় করে আজেন্টিনার প্রতিপক্ষ হয়েছে কলম্বিয়া। আগামী ১৪ জুলাই সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কোপার ফাইনালে মুখোমুখি হবে তারা।
ফাইনালের আগে দেখে নেওয়া যাক পরিসংখ্যানে কোন দল এগিয়ে।দুই ফাইনালিস্টের মধ্যে সব দিক থেকে এগিয়ে থাকবে মেসির আর্জেন্টিনা। তবে সাম্প্রতিক  পারফরম্যান্স বিবেচনায় কলম্বিয়াও ছেড়ে কথা বলছে না। ২৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত তারা।
কাতার বিশ্বকাপের পর আর হারেনি হামেস রদ্রিগেজের দল। অন্যদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১০ ম্যাচে অপরাজিত। সবশেষ ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে উরুগুয়ের কাছে হেরেছিল মেসিরা।২৩ বছর পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে কলম্বিয়া।
শেষবার ২০০২ সালে ফাইনালে মেক্সিকোকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। অন্যদিকে শেষ আট কোপা আমেরিকায় ছয়বার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে শিরোপা জিতেছে একটি।এবারের ফাইনালে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে আর্জেন্টিনা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে চাইবে। অন্যদিকে ১৯৯১ সালের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে চাইবে কলম্বিয়া।

সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন করতে পারবে, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায়ের কার্যকরী ও নির্দেশনা অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। এ রায় পাওয়ার বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

কোটা নিয়ে ২০১৩ সালে দেওয়া আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি অফিস আদেশ তুলে রায়ে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ছাড়া জেলা, নারী, প্রতিবন্দ্বী, আদিবাসী, জাতিগত সংখ্যালঘু বা ক্ষুদ্র ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও কোটা পদ্ধতি বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের এই আদেশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে কোটা পুনর্বহাল করতে বলেছেন হাইকোর্ট।
তবে রায়ে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সরকার কোটার অনুপাত বা শতাংশ কমাতে-বাড়াতে পারবে। কোটা পূরণ না হলে মেধা তালিকা থেকে কোটা পূরণের কথা বলা হয়েছে রায়ে।

রায় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান জামান বলেন,  “এক পৃষ্ঠার রায়টি পেয়েছি।
এটি পূর্ণাঙ্গ রায় না। এই এক পৃষ্ঠার রায়ে কার্যকরী ও নির্দশনা (অপারেটিভ পোরশন) অংশ রয়েছে।”এই রায় দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করবে কিনা, জানতে চাইলে এ আইন কর্মকর্তা বলেন, “পূর্ণাঙ্গ রায় পেলেই লিভ টু আপিল করা হবে।”

২০১৮ সলে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষণ করা হতো।

এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ছিল ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ কোটা। এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ছয় বছর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানের আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশিরা। সে সময় এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন নুরুল হক নুরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।এ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ২ জুন একটি কমিটি করে সরকার। সব কাজ শেষে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো কোটা না রেখে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করতে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ জমা দেয় কমিটি।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর ৩ অক্টোবর তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হলে সেখানে কোটা বাতিলের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। পরদিন ৪ অক্টোবর কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করেন জনপ্রশাসন সচিব।পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হল। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

২০২১ সালে কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন। রিটে প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ওই বছর ৭ ডিসেম্বর রুল জারি করেন।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা পরিপত্র কেন সেচ্ছাচারী ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। মন্ত্রীপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সে রুলে চূড়ান্ত শুনানির পর গত ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষনা ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন উচ্চ আদালত। এ রায়ের কার্যকরী ও নির্দেশনা অংশ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। এক পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি খিজির হায়াত। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সহমত ব্যক্ত করেছেন।

এ রায়ের পর ফের কোটাবিরোধী আন্দোলনে নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চারকিপ্রত্যাশীরা। এদিকে এ রায় স্থগিত চেয়ে সরকার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। কিন্তু চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ না করে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সে ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। শুনানির পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভটু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন। রাষ্ট্রপক্ষের এই লিভটু আপিল করার অপেক্ষার মধ্যে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। সে আবেদনে শুনানির পর কোটা পদ্ধতি সংক্রান্ত বিষয়বস্থুর (২০১৮ সালে জারি করা কোটা বাতিলের পরিপত্র)  ওপর স্থিথাবস্থা দেন সর্বোচ্চ আদালত।

ইউরো : ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন

ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোর ফাইনালে উঠেছে স্পেন। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক জার্মানিকে হারিয়েই বিশেষ কিছুর আভাস দিয়েছিল স্পেন। সেরা চারে থেকে এবার দূর্দান্তভাবে সেরা দুইয়ে উঠলো দলটি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাতে মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন ম্যাচের নয় মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ২১ মিনিটে সমতায় ফেরা, আবার চার মিনিটের ব্যবধানে লিড নেয় স্পেন। শেষ পর্যন্ত এই স্কোর নিয়েই মাঠ ছাড়ে দল দুটি, তবে একদল হাঁসি নিয়ে আরেকদল অশ্রুসিক্ত নয়নে।

এদিন ম্যাচের নবম মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের বাড়ানো দারুণ এক ক্রসে হেড দিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ফ্রান্সের রাঁদাল কোলো মুয়ানি।

এরপর ফ্রান্সকে চেপে ধরে ১২ মিনিট পরই সমতায় ফেরে স্পেন। অসাধারণ লামিন ইয়ামালের সিগনেচার শটে গোল আদায় করেন লামিন। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোনের লং পাস মাঝমাঠে থেকে ধরে লামিনকে সামনে পাস বাড়ান আলভারো মোরাতা। বক্সের বাইরে ফ্রান্সের একগাদা খেলোয়াড় সামনে রেখে মাঝামাঝি অবস্থান থেকে গোলে শট নেন তিনি। বাঁকানো সেই শট জাদুর মতে বাঁ পোস্ট ছুঁয়ে এবং ওপরের পোস্টের কোণা দিয়ে ঠিকানায় পৌঁছে যায়।

এর চার মিনিট পরই দানি অলমোর দুর্দান্ত এক শটে ম্যাচে এগিয়ে যায় স্পেন। হেসুস নাভাসের বক্সে মধ্যে দেওয়া ক্রস ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা ফিরিয়ে দিলে তা বক্সের সামান্য বাইরে পেয়ে যান অলমো। সেখান থেকে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনিকে দারুণ এক ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে ডান পাশ দিয়ে বক্সে ঢুকে ৬ গজ বক্সের বাইরে ডান পাশ থেকে দূরের পোস্টে জোরালো শট নেন দানি অলমো। শটটি ক্লিয়ার করার আগেই জুল কুন্দের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। শুরুতে তা কুন্দের আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণনা করা হলেও পরে শটটির গতি ও অলমোর কীর্তি বিবেচনায় দানির নামের পাশেই গোলটি যুক্ত করে ভিএআর।

প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করে ওয়াসা কর্মকর্তার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ব্যবস্থা নেবেন মেয়র তাপস

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক খননকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। একটা সংস্থা কীভাবে এ কাজ করতে পারে! এটা খুবই ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক।’

আজ মঙ্গলবার আজিমপুর আধুনিক নগর মার্কেটের উদ্বোধন ও দোকানের চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র ও চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মেয়র।

ঢাকা ওয়াসার যে কর্মকর্তা স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানাব। আশা করব মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

দোকান বরাদ্দ বিষয়ে মেয়র বলেন, এটি আগে তুলা মার্কেট নামে পরিচিত ছিল। মাত্র ১৫ জন দোকানি জরাজীর্ণ অবস্থায় এখানে ব্যবসা করতেন। আমরা যখন এ মার্কেট নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি অনেকে শঙ্কিত ছিলেন। কারণ আগে দেখা যেত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিগ্রস্তই থেকে যায়। এক মেয়র যায়, আরেক মেয়র আসে। ১৩, ১৫ এমনকি ১৮ বছরও পেরিয়ে যায়, কিন্তু মার্কেট নির্মাণ সম্পন্ন হয় না। স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা ছিল তাঁরা ফিরে আসতে পারবেন কিনা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। আমরা শুধু ক্ষতিগ্রস্তই না, ১১৭ জনের জন্য রুটি–রুজির ব্যবস্থা করেছি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা–৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. সোলাইমান সেলিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিগত দুই বছর সরকার চাল আমদানি করেনি, এবারো চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

 আমদানি নয়; ভবিষ্যতে আমরা রপ্তানি করব বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, বিগত দুই বছর সরকার চাল আমদানি করেনি। এবারো চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।রোববার দুপুরে সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি প্রণোদনা সরকারের পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ অবিহিত করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি প্রণোদনা দিয়ে-ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের পাশে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কৃষিকে প্রযুক্তি বান্ধব করতে নিরলস করে যাচ্ছেন। যে প্রণোদনা আজ বিতরণ করা হচ্ছে সেটা সঠিক ব্যবহার হলে বেশি জমিতে চাষাবাদ হবে আর উৎপাদন ও বৃদ্ধি পাবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত চিন্তাধারায় অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলাতে কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি হয়েছে। অধিক জনসংখ্যার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের জন্য আশীর্বাদ। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক পতিত জমিতেও এখন চাষাবাদ হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু কৃষকের উৎপাদন খরচের খবর কেউ নিচ্ছে না। দাম বাড়লে ভোক্তার সমস্যা আর পণ্যের দাম কমলে কৃষকের সমস্যা।

উৎপাদন খরচ না উঠলে কৃষক উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে চাল আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

এর আগে তিনি সাপাহার উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন করেন এবং স্টল পরিদর্শন করেন।

সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নঈমুদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা খাতুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রেজা সারোয়ার, উপজেলা কৃষি অফিসার শাপলা খাতুন এবং শিরন্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন।

পরে খাদ্যমন্ত্রী কৃষকদের মাঝে সরকারি আমন প্রণোদনা বিতরণ করেন এবং ক্ষুদ নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তি চেক ও বাইসাইকেল বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে খরিপ/২০২৪-২৫ মৌসুমে আমন প্রণোদনা হিসাবে ১২১০ জন কৃষকের প্রত্যেকে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার সহায়তা বিতরণ করা হয়।

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে খাল পুনরুদ্ধারের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত

বেদখল খাল উচ্ছেদের পর আবার দখল হয়ে যায়। খাল পুনরুদ্ধার অভিযানে পরিপূর্ণভাবে সফলতা পেতে হলে প্রয়োজন সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কারণ, খাল দখল ও দূষণের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সবাই প্রভাবশালী। অনেকেই রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট। ফলে খাল থেকে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও ক্ষমতাধরেরা ছাড় পেয়ে যান।

আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরের বিআইপি সম্মেলনকক্ষে ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে খাল পুনরুদ্ধারের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সংলাপে আলোচকেরা এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা)।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘ঢাকার খালগুলো উদ্ধারের বিষয় এসেছে। কারণ, এগুলো দখল হয়ে গেছে। যারা খাল দখলকারী, তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, সরকারের হাত অত দূর পৌঁছাতে পারছে না। আজকে খাল উদ্ধার করলে কালকে আবার দখল হয়ে যাবে।’

রামচন্দ্রপুর খালের জায়গায় সম্প্রতি সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রসঙ্গ এনে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘রামচন্দ্রপুর খালে দেখলাম আরেক ঘটনা। সেখানে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও অনেক দখলদার রয়ে গেছে। খালের মধ্যে রামের বোন সীতার বাড়িও আছে। তিনি আবার গানও করেন। সীতা নাকি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমোদনও নিয়েছেন। এটা খুঁজে বের করেন, নইলে সাদিক অ্যাগ্রো উচ্ছেদে খুশি হয়ে কোনো লাভ হবে না।’

সভায় আলোচকেরা জানান, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশন খালগুলো বুঝে নেওয়ার চার বছর পার হলেও রাজধানীর জলাবদ্ধতার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বর্ষায় স্বল্প বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি নগর-পরিল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘শুধু খালের মালিকানা বদল ঢাকা শহরের খালগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে না। রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনমনীয় দৃঢ়তা থাকলে খালগুলোকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খালগুলো পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করি। আমরা লক্ষ করি, শ্যামপুর খালের একটি অংশ ১০০ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে আমরা পেয়েছি ৮ ফুটের একটি নালা। এ রকম চিত্র কিন্তু প্রায় সব জায়গায়।’

মেয়র জানান, জিরানী, মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খাল নিয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সিএস, আরএস, এসএ নকশা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং পানি আইন অনুযায়ী এই ৪ খাল দখলমুক্ত করা হবে। আগামী মাস থেকে ব্যাপকভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে ঢাকা সিটিতে আমরা ১৬১টি জলাবদ্ধ স্থান শনাক্ত করেছি। যেসব জায়গায় বৃষ্টির পর আধা ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকে। তবে ১৩৬ স্থানে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি জায়গাগুলোর কাজ চলমান। তবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে আরও কয়েকটি জায়গায় নতুন করে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

ডুরার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, ডুরার সভাপতি ওবায়দুর মাসুম প্রমুখ।