শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার

সৌদি আরবের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার এবারের রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। আর বুধবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

আজ সোমবার সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে গালফ নিউজ।

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে মুসলিমদের সংযমের মাস হিসেবে চিহ্নিত রমজানের সমাপ্তি ঘটে। এ হিসাবে আজ চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। বুধবার শুরু হবে শাওয়াল মাস। আর শাওয়ালের প্রথম দিনই ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করে মুসলিম সম্প্রদায়।

সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও ঈদ উদ্‌যাপিত হয়। তবে গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে কাতার, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ একই দিনে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করলেও এক দিন পর  ঈদ উদ্‌যাপন করেছিল ওমান।

সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়। এবার রমজানও শুরু হয়েছিল সৌদি আরবের এক দিন পরে। বাংলাদেশে ঈদ কবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে। মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেলে বুধবার দেশে ঈদ উদ্‌যাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ বাংলাদেশেও রমজান মাস ৩০ পূর্ণ করবে।

গাজীপুরে পৈতৃক সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান ওয়ারিশরা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণখান এলাকার ভূমিদস্যু আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে রানার হাত থেকে ভোগদখলীয় পৈতৃক সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী ওয়ারিশরা। বুধবার দুপুরে গাজীপুর সিটি প্রেস ক্লাবে উত্তরাধিকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সাহিদা আক্তার নামের এক ভুক্তিভোগী প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। এ সময় ১২ জন ওয়ারিশ উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- সখিনা বেগম, রেখা বেগম, আরজুদা বেগম, সাহিদা আক্তার, নাবালক মাহফুজ মিয়া, সোনাবান, লতিফা বেগম, ফয়সাল হোসেন, নুরুন্নাহার বেগম, ওসমান গনি, জান্নাতুল ফেরদৌস ও নাসির মোল্লা।

লিখিত বক্তব্যে সাহিদা আক্তার বলেন, আমাদের বাবা-চাচা দুধু মিয়া ও লাবু মিয়া আরএস রেকর্ডের ৯০ শতক জমি রেখে মারা গেলে আমরা ভোগদখলীয় হয়ে দক্ষিণখান মৌজার ওই জমি (নামজারি নং ১৭৬৩৭/২১-২২ নথি মূলে ৪৯০২) জোত সৃজন (জমা খারিজ) করি। ওই সম্পত্তি রানা জাল-জালিয়াতি করে রেলওয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এএফকন-এর কাছে ভাড়া দেয়। আমরা জানতে পারলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের মধ্যস্থতায় জমি ফিরে পাই। ফলে আমরা ওই সম্পত্তিতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণসহ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে গাজীপুর সিটির হোল্ডিং নাম্বার পাই।

সাহিদা বলেন, পরে জেলা জজ আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও সহকারী কমিশনার ভূমির বরাবরে আস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে রানা। তার প্রেক্ষিতে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন আদালত। এরপরও রানা কয়েকবার আমাদের জমির নির্মাণসামগ্রী লুট করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে স্থানীয় গাজীপুর মেট্রো সদর থানায় নিয়মিত মামলা হয়। আমরা ভোগদখলীয় পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পাশাপাশি আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করছি।

আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ মানছে না ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ভূখণ্ড গাজার বাসিন্দাদের কাছে শিগগির খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলকে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। তবে এই নির্দেশনা না মেনে গাজার রাফাহে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এমন সময়ে আইসিজে থেকে এই নতুন আদেশ এল, যখন গাজায় হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। গতকাল শুক্রবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বাহিনীর হামলায় ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ৭ অক্টোবর থেকে ৩২ হাজার ৬২৩ জন নিহত হলো। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে আইসিজে বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। সেখানে দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ছে। আদেশে বিচারকেরা বলেছেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, গাজার ফিলিস্তিনিরা আর দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতেই কেবল নেই, বরং ইতিমধ্যে সেখানে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে।’

ইসরায়েলি বাহিনী রাষ্ট্রীয় মদদে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে অভিযোগ করে এর আগে আইসিজেতে মামলা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই মামলার আওতায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল দেশটি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেন আইসিজে।

গত জানুয়ারিতে আইসিজে অন্তর্বর্তী আদেশে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, গণহত্যা কনভেনশনের আওতায় পড়তে পারে, এমন যেকোনো ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং দেশটির সেনারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো গণহত্যামূলক কাজ না করে তা নিশ্চিত করতে।

গত বৃহস্পতিবারের নতুন আদেশে আদালত জানুয়ারির পদক্ষেপের বিষয়গুলো আবারও উল্লেখ করেছেন। এবারের আদেশে আদালত বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজাজুড়ে ফিলিস্তিনিদের জন্য খাবার, পানি ও বিদ্যুতের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসাসেবাসহ মৌলিক পরিষেবা এবং মানবিক সহায়তার নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিচারকেরা আরও বলেছেন, সীমান্ত ক্রসিংয়ের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং যতক্ষণ প্রয়োজন সেগুলো খোলা রাখার মাধ্যমে এই কাজ করা যেতে পারে। আদেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানিয়ে ইসরায়েলকে এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আইসিজের এই বার্তা আসার আগে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি জানান, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবার মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে পরিণত হচ্ছে। কয়েক মাস আগে দুর্ভিক্ষের সতর্কতা দেওয়ার পর নতুন পরিসংখ্যানের আলোকে অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষের নজির পেয়েছে সংস্থাটি।

তবে আইসিজের আদেশ বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে বন্দী ইসরায়েলি জিম্মি মুক্ত করা প্রসঙ্গে তাঁদের স্বজনদের নেতানিয়াহু বলেন, ‘একমাত্র সামরিক চাপই তাঁদের মুক্তি নিশ্চিত করবে।’

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল ও খান ইউনিস জয় করেছি। এবার দক্ষিণের রাফাহ এলাকায় স্থল অভিযান শুরু হচ্ছে।’

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালির ইতিহাসে গৌরবময় একদিন।  ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। একাত্তরের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় বিভিন্ন সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পাশাপাশি যেকোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সময় বাস্তবতা ও নিরাপত্তা জনিত কারণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার এই ঘোষণা নথি সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তৎকালীন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ঘোষণাটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বেশ কয়েকজন শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মূল্যবান দলিলটি সেখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে এভাবে- ‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছেন, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।’ শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে একটি ভূখণ্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট আজ পরিণত হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটে। সেদিনের ১২৯ ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশটিতে বর্তমান মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৯শ’ ৬১ মার্কিন ডলার।

 

গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস

বহু অপেক্ষার পর অবশেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয় শুধুমাত্র ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া।

সোমবার (২৫ মার্চ) পাস হওয়া এই প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হামাসের হাত থাকা জিম্মিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির শর্ত রাখা হয়েছে।

এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাব অবশ্যই বাস্তবায়ন হতে হবে। যদি কোনো পক্ষ এই যুদ্ধবিরতি ও এর শর্তগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা হবে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল।

এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়নি। সেদিন মস্কোর অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি ইসরায়েলের ওপর কোনো চাপ তৈরি করছে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১১ দেশ। বিপক্ষে দেয় তিন দেশ। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে একটি দেশ।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছিলেন, এই খসড়াটি অত্যন্ত রাজনীতিকরণ করা হয়েছে ও এতে রাফায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কার্যকর সবুজ সংকেত রয়েছে।

গত ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন ৭৪ হাজারেরও বেশি।

সূত্র: আল জাজিরা।

টঙ্গীতে র‌্যাবের অভিষান বিপুল পরিমাণ অবৈধ মোবাইল সীম ও ভিওআইপি সরঞ্জামাদি উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অবৈধ ভিওআইপি’র বিরুদ্ধে র‌্যাব-১সদস্যরা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)র সহযোগিতায় অভিযান চালিয়েছে। এসময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ মোবাইল সীম ও ভিওআইপি সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার সকালে অগ্রণী টাওয়ারের নিচতলায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র‌্যাব। এর আগে শনিবার থেকে টঙ্গির মধুমিতা রুটের অগ্রণী টাওয়ারের ১২ তলা ও পাশের অন্যান্য কয়েকটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম ও তার সহযোগী হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুরো অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে কী ভূমিকা নেয়া যায় এটা বুঝতে আমরা সরজমিনে এসেছি। এই এই অপরাধমূলক কার্যক্রমে যারা জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর বাইরে যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করব।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, অবৈধ ভিওআইপির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ঘটনায় সাড়ে ১১ হাজার মোবাইল সিম ও অন্যান্য ভিওআইপি সেটাপসহ তাজুল ইসলাম ও হারুন নামে দুই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এর সাথে আরও যারা জড়িত থাকবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম-দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন ‍নতুন পদ্ধতিতে

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হবে না। তবে ধারাবাহিক মূল্যায়ন চলবে।

রাজধানীর সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ।

গত বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথম বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন এই শিক্ষাক্রম শুরু হয়। আর গত জানুয়ারি শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে ওই তিন শ্রেণি ছাড়াও নতুন করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চালু হয়েছে এই শিক্ষাক্রম। পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে (উচ্চমাধ্যমিক) বাস্তবায়িত হবে নতুন শিক্ষাক্রম। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিখনকালীন)।

সাধারণত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় বছরে তিনটি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতো।

যেহেতু এ বছর প্রাথমিকের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে, তাই সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা ছিল তৃতীয় পর্যন্ত আগের মতো প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষা হবে কিনা। জবাবে সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, মূল কথা হলো তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক—এটি আর থাকবে না। মূল্যায়নের পদ্ধতি ভিন্ন হবে, যেহেতু ধারাবাহিক মূল্যায়ন। মূল্যায়ন হবে, কিন্তু আগের মতো গতানুগতিক না। ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে।

এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত উপস্থিত ছিলেন।

 

সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে ভারতের মাদার তেরেসা সম্মাননা পেলেন সৈয়দ আতিক

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদানসহ সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে টংগীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী সাইদ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আতিক এবার ভারতের মাদার তেরেসা সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড -২০২৪ এ ভূষিত হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ সোসাইটি গত ৯ মার্চ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এ সম্মাননা প্রদান করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারত সরকারের সাংসদ শ্রী রেবতী ত্রিপুরা।
শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের ২১ জন সফল ব্যক্তিকে এ মাদার তেরেসা সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।
সৈয়দ আতিক শিক্ষা উদ্যোক্তা ছাড়াও সাংবাদিক, লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত একজন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব।
উল্লেখ্য, সৈয়দ আতিক ইতিপূর্বে শিক্ষা খাতে বিশেষ অবদানের জন্য গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা “জাতীয় শিক্ষা পদক-২০১৪” লাভ করেন।

সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে ১৭ নাবিকসহ জাহাজ উদ্ধার করল ভারতীয় নৌবাহিনী

বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি রুয়েনকে ১৭ নাবিকসহ উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। এই জাহাজ জিম্মি করে রাখা ৩৫ সোমালি জলদস্যুও আত্মসমর্পণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে ভারতের নৌবাহিনী এ তথ্য জানায়।

গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই পোস্টে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় রণতরি আইএনএস কোলকাতার সফল অভিযানে সাবেক এমভি রুয়েনকে জিম্মি করে থাকা ৩৫ জলদস্যুকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছে। এর ফলে সন্ধ্যা নাগাদ কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই জলদস্যুদের কবল থেকে ১৭ নাবিকসহ জাহাজটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ভারতীয় উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল (২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার) দূরে জলদস্যুর কবলে থাকা জাহাজ রুয়েনের গতি রোধ করে আইএনএস কোলকাতা। এ কাজে আরেক রণতরি আইএনএস সুভদ্রা, হ্যাল আরপিএ, পি৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং মেরিন কমান্ডো বাহিনী মার্কোসের প্রহর (১৮ জন) দল সি-১৭ এয়ারক্রাফ্ট থেকে অবতরণ করে এই অভিযানে সহায়তা করে।

অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকের উপস্থিতির জন্য জাহাজটিতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে বলেও এক্স পোস্টে জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরে এমভি রুয়েন ছিনতাই হয়। এই জাহাজ থেকেই জলদস্যুরা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে ইইউ নেভি বলছে।

মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি রুয়েনকে ১৭ নাবিকসহ উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী গত মঙ্গলবার ২৩ নাবিকসহ ভারতীয় মহাসাগর থেকে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে নিজেদের দখলে নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তারা জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

ভুল নীতির কারণে বেড়েছে বিদ্যুতে ব্যয়, দায় চেপেছে জনগণের ওপর

চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকা, সরকারের উচ্চ মূল্যে কেনা ও প্রতিযোগিতার অভাবে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সমঝোতা ছাড়া দরপত্রের মাধ্যমে চুক্তি হলে কম দামে বিদ্যুৎ পেত সরকার। এসব ভুল নীতির কারণে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভর্তুকি বেড়েছে। এর দায় চাপানো হয়েছে জনগণের ওপর। বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানোয় এর প্রভাবে ঘটেছে মূল্যস্ফীতি। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়।

এসব কথা বলা হয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা প্রতিবেদনে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, এর প্রভাব, বিকল্প উপায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। অযৌক্তিক ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সমন্বয় করা গেলে মূল্য এভাবে বাড়ানোর দরকার হতো না। সেদিকে না গিয়ে সরকার ধাপে ধাপে  আরও মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছে। সেটা হলে ভোক্তার জন্য আরও বড় নাভিশ্বাস তৈরি করবে।

মোয়াজ্জেম বলেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জায়গাগুলো আস্তে আস্তে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে আসছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ক্যাপাসিটি চার্জের পাশাপাশি বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে– উচ্চ মূল্যের বিদ্যুৎ কেনা, এলএনজি ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে ঝোঁক এবং বিদ্যুৎ কেনায় প্রতিযোগিতার অভাব। বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।

সিপিডিরি গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা যে হারে বেড়েছে, গ্রাহক সে হারে বাড়েনি। ২০১৫-১৬ সালে উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে ১৩ শতাংশ, গ্রাহক বেড়েছে ৯.৫১ শতাংশ। ২০১৮-১৯ সালে বিদ্যুতের নতুন উৎপাদন সক্ষমতা  ১৮.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে গ্রাহক বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৭২ শতাংশ। ২০২১-২২-এ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে  ১৬.০৪ শতাংশ, বিপরীতে গ্রাহক বেড়েছে ৬.৩৫ শতাংশ।
অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয় সরকারকে। এতে বেড়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়। ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াও জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির কারণেও খরচ বেড়েছে। ২০২০ সালেও ৫৪ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্যাস ব্যবহারে উৎপাদন হতো, তা এখন কমে হয়েছে ৪৫.৬ শতাংশ। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হয়েছে, যা ব্যয়বহুল। পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির ব্যবহারের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে সিপিডিরি গবেষণায় বলা হয়েছে।

২০১৯-২০ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ছিল ৫.৯১ টাকা। ২০২২-২৩-এ তা বেড়ে হয়েছে ১১.৩৩ টাকা। ২০২০-২১-এ বিদ্যুতে ভর্তুকি ছিল ৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। ২০২২-২৩  অর্থবছরে ভর্তুকি বেড়ে হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক মোয়াজ্জেম বলেন, সর্বশেষ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি পরিবারে মাসিক ব্যয় গড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র শিল্পে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, ব্যবসা ও অফিসে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ,  শিল্পে ১০ শতাংশ এবং সেচে ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও এর সঙ্গে বেড়েছে।

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিভিন্ন পর্যায়ের ভোক্তার ওপর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি অভিঘাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনেও এই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকি সমন্বয়ের বিকল্প প্রস্তাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চারটি কৌশলের মাধ্যমে সরকার ভর্তুকি সমন্বয় করতে পারে। প্রথমত, নতুন যে বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, সেগুলোতে ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পে’, পুরোনোগুলোর চুক্তি শেষ হওয়ার পরে সেগুলো সব নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পে– এভাবে চুক্তি করতে হবে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির খুব কম অংশ ভোক্তার ওপরে দেওয়া যেতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে বদলাতে হবে। এই চারটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে যদি সরকার তার পরিকল্পনা ঘোষণা করে, তাহলে ২০২৯ সালের মধ্যে সরকারকে আর ভর্তুকি দিতে হবে না।

from samakal