আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ মে। হত্যাকান্ডের ২০ বছরেও খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চান। ২০০৪ সালে ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের দিন দুপুরে সন্ত্রসীদের গুলিতে নিহত হন তিনি।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুর এবং টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ, দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হবে। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।
সকালে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের গ্রামের বাড়ি হায়দরাবাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
অপরদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি থাকবেন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মো. আজমত উল্লা খান। বিশেষ বক্তা মো. আতাউল্যাহ মন্ডল ও মো. ওয়াজ উদ্দিন মিয়া।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (গাজীপুর-২ গাজীপুর সদর-টঙ্গী) আসন হতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুবার সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দু’দফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- (বিলস)-এর চেয়ারম্যান। তিনি শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বিলোপের পর চেয়ারম্যান সমিতির আহবায়ক হিসেবে উপজেলা পরিষদের পক্ষে মামলা করেন এবং দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হন ও কারাভোগ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রæতবিচার আইনে এ হত্যা মামলার রায় হয়।

এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ভুয়া কাবিননামায় বিধবাকে বিয়ে ও ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর আলী খন্দকারের বিরুদ্ধে ভুয়া কাজি ও কাবিননামায় এক বিধবাকে (৩৩) বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ উঠেছে।  একই সঙ্গে ওই বিধবার ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ওই নারী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আকবর আলীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আকবর আলী খন্দকারের বাড়ি রংপুর জেলায়। ২০০৫ সালে তিনি পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী নারী এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে সদর উপজেলার বালিকটেক ফেরিঘাট এলাকার ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আমিনুর ইসলাম ওই নারীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নেন। কিন্তু করোনার অজুহাতে অনেক ঘোরাঘুরির পরও আমিনুর ইসলাম ধারের টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। এরই মধ্যে ২০২১ সালে তাঁর স্বামী মারা যান। তখন ভুক্তভোগী নারী খালাতো বোনের পূর্ব পরিচিত সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর আলীকে বিষয়টি অবগত করেন।

এরপর আকবর আলী ওই নারীর লিখিত অভিযোগ ছাড়াই আমিনুর ইসলামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা তুলে দেন। আমিনুর ইসলামের সামর্থ্য না থাকায় সমঝোতার মাধ্যমে ওই নারী বাকি এক লাখ টাকা মওকুফ করে দেন। এরপর মামলা সংক্রান্ত অজুহাতে আকবর আলী ওই নারীর সঙ্গে প্রায়ই মোবাইল ফোনে কথা বলতেন এবং বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। এভাবে আকবর আলী খন্দকারের সঙ্গে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

একপর্যায়ে আকবর আলী মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ওই নারীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা ধার চান। তখন ওই নারী নিজের কাছে থাকা এক লাখ টাকা এবং বিদেশে থাকা বড় বোনের কাছ থেকে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আকবর আলীকে ধার দেন। এর মধ্যে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আকবর আলী ওই নারীর বাড়িতে তিন দিন এবং ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর শহরের একটি হোটেলে একদিন অবস্থান করেন। এরপর ভুক্তভোগী নারী বিয়ের চাপ দিলে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে আকবর আলী বয়স্ক এক ব্যক্তিকে কাজি সাজিয়ে ওই নারীর বাড়িতে যান। সেখানে পাঁচ লাখ টাকা দেন-মোহরের মাধ্যমে ভুয়া কাবিননামায় সই নিয়ে কথিত বিয়ে সারেন।

এ সময় আকবর আলী ওই নারীকে বলেন, সরকারি চাকরি করার কারণে দুজনের বিয়ের বিষয়টি আপাতত গোপন রাখতে হবে। বিয়ের খবর জানাজানি হলে তাঁর চাকরি থাকবে না। সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে তুলে নেওয়া হবে। এরপর জরুরি কথা আছে জানিয়ে ওই মাসের ৩০ নভেম্বর আকবর মোবাইল ফোনে ওই নারীকে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ (বিজয় মেলার মাঠ) আসতে বলেন। আকবর আলী সেখানে ওই নারীকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে জানিয়ে দেন—তিনি তাঁর স্ত্রী নন, তাঁর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। এরপর থেকে যেন কোনো যোগাযোগ করা না হয়। পরে ওই নারী পরিবারের লোকজনদের বিষয়টি জানিয়ে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আকবর আলী খন্দকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার এক মাস পেরোলেও পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ওই নারী গত ২৮ জানুয়ারি জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আকবরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দায়ের করার পর আকবর আলী ভুক্তভোগী নারীকে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই নারী টাকা না নিয়ে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা পেতে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নিজের বিয়ের কথা গোপন রেখে, আমাকে বিয়ের আগে আকবর আলী আমার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করায় তিনবার এবং সিটি ড্রিম অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারের আবাসিক হোটেলে নিয়ে একবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরবর্তীতে ভুয়া কাজি দিয়ে, ভুয়া কাবিননামায় বানিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর করে বিয়ে করেন। এখন বলছেন তুমি আমার স্ত্রী না। আমি স্ত্রী হিসেবে আকবর আলীর কাছ থেকে স্বীকৃতি চাই।

ওই নারী বলেন, ‘অভিযোগ-মামলা করার পর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। আমি আকবর আলী খন্দকারের কাছ থেকে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও মর্যাদা চাই।’

ওই নারীর করা মামলায় বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। মামলার বিষয়টি সদর থানার সাবেক কর্মকর্তা বলতে পারবেন।’ তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বর্তমানে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় দায়িত্বরত ওসি আব্দুর রউফ সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে ওই সময়ে একটি অভিযোগ পাই। তখন এএসআই আকবর আলী খন্দকারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়েছে বলে থানায় রিপোর্ট দেন আকবর আলী।’

এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর আলী খন্দকার বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয় বরাবর ওই নারীর করা অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। সেখানকার (এসপি অফিসের) তদন্ত ওই নারীর পছন্দ না হওয়ায় লিগ্যাল এইড অফিসে গেছেন। লিগ্যাল এইড অফিসে কোনো প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারায় মুখে মুখে বলছেন। এখন গেছেন আদালতে, আদালতের পরে হয়তো তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। একেক জায়গায় এক রকমের অভিযোগ দিচ্ছেন। এই ধরনের ঘটনার কোনো ধরনের সত্যতা নাই।’ তবে একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে জানান তিনি।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান  বলেন, বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই নারী পুলিশ সুপার বরাবর যে অভিযোগ করেছেন তাঁর তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ থেকে ২ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইসরায়েলবিরোধী আন্দোলন এরই মধ্যে তীব্র রূপ নিয়েছে। ক্যাম্পাসগুলোতে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা একত্র করে এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কোন ক্যাম্পাস থেকে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন সংবাদ সংস্থাটি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর, কেবল কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে কয়েক শ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েক দফায়।

নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন বেশ শক্ত রূপ নিয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্দোলন চলছে।

এপির প্রতিবেদন অনুসারে, আন্দোলন দমনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তা নিয়েছে। মার্কিন পুলিশ আন্দোলন দমনে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, সাঁজোয়া যান ও স্টান গ্রেনেডের মতো অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এমনকি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি বিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার সংগঠনগুলোর বিরোধিতা উপেক্ষা করে গত বুধবার বিলটি পাস হয়। নিম্নকক্ষে ৩২০-৯১ ভোটে পাস হওয়া বিলটি এখন অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশ কিছুদিন ধরে যে বিক্ষোভ চলছে, দৃশ্যত তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিলটি পাস করা হয়েছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। নির্বিচারে চালানো ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে স্কুল, শরণার্থীশিবির কিংবা হাসপাতাল কিছুই বাদ যায়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে ৩৪ হাজার ৫৯৬ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সময়ে আহত হয়েছে আরও ৭৭ হাজার ৮১৬ জন।

সমালোচকেরা বলছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) নৃশংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা দমনে ইহুদিবিদ্বেষের এই সংজ্ঞাকে ব্যবহার করা হতে পারে। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে ইসরায়েল ও ইহুদিবাদের সমালোচনাকে গুলিয়ে ফেলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

নাইজারে ঘাঁটি ছাড়ছে মার্কিন সেনারা, ঢুকছে রুশ বাহিনী

 

গত বছর পর্যন্তও নাইজার সরকারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমনে নাইজার সরকারকে সহায়তা করেছে। কিন্তু জান্তা সরকার দেশটির ক্ষমতা দখলের পর তাঁরা নাইজারে অবস্থিত ১ হাজার মার্কিন সেনাকে দেশ ছাড়তে বলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রুশ সেনারা ঘাঁটিতে ঢুকলেও তাঁরা সেখানে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কোনো ধরনের মিথস্ক্রিয়ায় আসেনি। তাঁরা নাইজারের রাজধানী নিয়ামের ডিওরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন সেনাদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় একটি পৃথক হ্যাঙ্গারে (বিমান রাখার জায়গা) অবস্থান করছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা এত কাছাকাছি অবস্থানে এল। এ ছাড়া মার্কিন সেনাদের এলাকায় রাশিয়ার সেনাদের প্রবেশের বিষয়টি নাইজারে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামোগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনারা নাইজার ত্যাগের পর সেগুলোর কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়, তবে হয়তো খাপ খাইয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনারা খুব কাছাকাছি অবস্থান করলেও মার্কিন সেনা বা অবকাঠামোর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা খুব একটা নেই। তিনি হনলুলুতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘রাশিয়ানরা একটি পৃথক কম্পাউন্ডে অবস্থান করছে এবং মার্কিন সেনা বা সরঞ্জামে তাদের কোনো প্রবেশাধিকার নেই।’

লয়েড অস্টিন আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই আমাদের সেনাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমার দৃষ্টিনিবদ্ধ রাখি…কিন্তু এখানে এই পরিস্থিতিতে আমাদের সেনাদের নিরাপত্তার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো হুমকি আমি দেখছি না।’ এ বিষয়ে নাইজার বা রাশিয়ার সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোকে আফ্রিকা থেকে একপ্রকার তাড়িয়েই দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সেনা অভ্যুত্থানের পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। বিপরীতে রাশিয়া আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর—নাইজার, বুরকিনা ফাসো, শাদ ও মালির সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

ইসরায়েল-হামাস নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যা আছে

গাজায় একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে জিম্মি ও বন্দিবিনিময় নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলাপ চলছে। তিন দফায় একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চালাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। সাম্প্রতিক চুক্তির একটি খসড়া লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিনের হাতে এসেছে।

মূলত তিনটি ধাপে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। খসড়া প্রস্তাবে কেবল বন্দী বা জিম্মি বিনিময়ের কথাই উল্লেখ করা হয়নি, গাজাসহ এই অঞ্চলে একটি শান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

আল-মায়েদিনের প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার পূর্বাংশে সরে যাবে এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের দখল করা সীমান্তে উঠে যাবে। এই সময়ে দৈনিক অন্তত আট ঘণ্টা ইসরায়েলি যুদ্ধ বা পরিবহন কোনো বিমানই গাজার আকাশসীমায় আসবে না। আর যেদিন যেদিন বন্দী-জিম্মি বিনিময় হবে, সে দিন গাজায় অন্তত ১০ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান উড়বে না।

যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা মধ্যাঞ্চল দিয়ে চলে যাওয়া সালাহউদ্দিন স্ট্রিটের সমান্তরালে থাকা আল-রশিদ স্ট্রিট থেকে সরে গিয়ে আরও পূর্ব দিকে উঠে যাবে। একই সময়ে গাজায় মানবিক ত্রাণসহায়তা চালু এবং বেসামরিক গাজাবাসীকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরা শুরু করবে।

প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির ২২ দিনের মধ্যে হামাসের হাতে জিম্মি এক-তৃতীয়াংশ ইসরায়েলিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং এই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী সেন্ট্রাল গাজা থেকে সরে গিয়ে গাজা-ইসরায়েল বিভক্তকারী সীমানায় চলে যাবে। এই সময়েও বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী নিজ বাড়িতে ফিরতে থাকবে। এ ছাড়া, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপেই গাজায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও জ্বালানি প্রবেশ করতে থাকবে।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাস এখন পর্যন্ত জীবিত থাকা ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। একজন জিম্মির বিপরীতে ২০ জন করে ইসরায়েলে বন্দী ফিলিস্তিনি নারী বা শিশু মুক্তি পাবে এবং এই মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েল আর কখনোই গ্রেপ্তার করবে না, সেই নিশ্চয়তাও দিতে হবে।

তবে হামাসের হাতে জিম্মি প্রত্যেক ইসরায়েলি নারী সেনার বিপরীতে ইসরায়েলকে ৪০ জন করে ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিতে হবে। খসড়া প্রস্তাব অনুসারে, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে তিনজন জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং প্রতি তিন দিন পরপর হামাস তিনজন করে মুক্তি দেবে।

এ ছাড়া, যুদ্ধবিরতির ১৪তম দিনে যুদ্ধাহত হামাস সেনাসহ অন্য সশস্ত্র সদস্যদের রাফাহ হয়ে মিসরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে উন্নত চিকিৎসার জন্য। প্রথম ধাপের ১৬তম দিনে হামাস ও ইসরায়েল পরোক্ষ আলোচনা শুরু করবে যাতে এই অঞ্চলকে শান্ত রাখা যায়। প্রথম ধাপের প্রতিটি পর্যায়ে জাতিসংঘ ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংগঠনসহ সবাই গাজা উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণসহায়তা নিশ্চিত করবে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুসারে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেই গাজার বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনরায় গড়ে তুলতে কার্যক্রম শুরু হবে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বয়কারী কমিটি গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স ফোর্সকে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে। এ ছাড়া, বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আবাস গড়ার কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়।

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বিস্তৃত হবে ৪২ দিন। সেখানে উভয় পক্ষই একটি স্থায়ী স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সাধারণ ভিত্তিকে একমত হবে। তবে এই ধাপে মূলত, স্থিতাবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিধ্বস্ত গাজা গড়ে তোলার তুলনামূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আয়োজন নিশ্চিত করা হবে।

তৃতীয় ধাপও বিস্তৃত হবে ৪২ দিন। এই ধাপে উভয় পক্ষের হাতে থাকা নিহত যোদ্ধা বা সেনাদের মরদেহ বিনিময় করা হবে। গাজা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োগ শুরু করা হবে। এই সময় থেকেই ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো (হামাসসহ অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো) গাজায় কোনো সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা থেকে বিরত থাকবে।

অধিকন্তু, ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য কোনো সরঞ্জাম, কাঁচামাল বা অন্যান্য উপাদান আমদানি করবে না। আল-মায়েদিনের প্রাপ্ত নথি অনুসারে, কাতার, মিসর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির গ্যারান্টার।

স্কুল-মাদরাসা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার ক্লাশ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে সোমবার এ আদেশ দেন।

আজকের আদেশে আদালত বলেছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) রয়েছে সেগুলোতে যথারীতি পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। এছাড়া যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার দিন ধার্য করা থাকে সেক্ষেত্রে সিডিউল অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

স্কুল-কলেজ কোথায় কখন বন্ধ থাকবে জানালেন মন্ত্রী

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর এবং গরমের কারণে এক সপ্তাহের ছুটি মিলিয়ে এক মাস ৩ দিন পর খুলেছে দেশের স্কুলগুলো। তবে তাপপ্রবাহ এখনও চলমান থাকায় স্কুল খোলা নিয়ে আপত্তি দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা তাপদাহে স্কুল বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

রাজধানীর আগারগাঁও ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোববার সকালে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

কোনো নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রার জন্য সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিপক্ষে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি মনে করেন তাপমাত্রা এখনও অসহনীয় হয়ে উঠেনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো জেলায় যদি তা অসহনীয় পর্যায়ে যায়, সেখানে বিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা করে সেই জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন। নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য সারাদেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা যায় না।

নওফেল বলেন, আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০–এর পর্যায়ে আছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বাংলাদেশে নতুন নয়। সুতরাং পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০-এর ওপরে যাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত নয়। ঢাকা শহরের তাপমাত্রা বিবেচনা করে সারা দেশের বিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। জনপ্রিয়তার আলোকে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বাস্তবতার নিরিখে নিতে হবে। ঢাকা শহরের তাপমাত্রা সারা দেশের তাপমাত্রা নয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু হলেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার আলোচনা কেন? সবকিছু খোলা থাকবে আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, এ প্রত্যাশা যথাযথ নয়। মন্ত্রী জানান, তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে চান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কয়েকটি জেলায় সেখানে যদি অসহনীয় পর্যায়ে যায়, বিদ্যালয় সেখানে নিজস্ব পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কোনো জেলায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি বা তারও বেশি বা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ হলে করণীয় বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেটি তারাও সমন্বয় করেন। এলাকাভিত্তিক যদি ৪২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা যায়, তাহলে সেখানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন, তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা করে সেই জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন এবং সময়সীমাও পরিবর্তন করতে পারেন। এটা অঞ্চল ভেদে।

মাধ্যমিকের ক্লাশ শনিবারেও বন্ধ না রাখার ঘোষণার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কিছু হলেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার আলোচনা কেন? সবকিছু খোলা থাকবে আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, এ প্রত্যাশা যথাযথ নয়। তাঁরা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে চান।

 

অগ্রণী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা কারাগারে

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক কাশিনাথপুর শাখায় প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ কর্মকর্তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে তাঁদের নিয়ে থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

সেই জিডির ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাঁদের তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।ওসি আরো বলেন, আর্থিক অনিয়ম হওয়ায় এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে দুদক।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) অগ্রণী ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় অফিস থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিদর্শন টিম সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর শাখায় যায়। সেখানে টাকার হিসাবের সময় ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৮ টাকা আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে ওই শাখার ব্যবস্থাপক (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) হারুন বিন সালাম, ক্যাশ অফিসার সুব্রত চক্রবর্তী ও সিনিয়র অফিসার আবু জাফরকে অভিযুক্ত করে সাঁথিয়া থানায় অভিযোগ দেন তাঁরা। পরে পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে তাঁদের তিনজনকে আটক করে।

পরিদর্শনে আসা অগ্রণী ব্যাংকের রাজশাহী সার্কেলের জেনারেল ম্যানেজার আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ওই ব্যাংকে গিয়ে টাকার বড় রকমের অনিয়ম পেয়েছি। তাঁরা তিনজন টাকার হিসাব দিতে পারেননি।

তাই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পুরো ঘটনা অধিকতর তদন্ত করে দেখবে কীভাবে কী কারণে এত টাকার ঘাপলা হয়েছে। এর পেছনে আর কেউ আছে কি না।’

২৮ এপ্রিল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি

আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বর্তমান তাপমাত্রা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নয়। এ ছাড়া দেশে সব অঞ্চলের তাপমাত্রাও এ মুহূর্তে সমান নয়।

সারা দেশে আবার তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা বা ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার সকালে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এটি আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

২৮ এপ্রিল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সব রকমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরের কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) বন্ধ থাকবে।

এদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৪ মে থেকে শনিবারও শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ২০ এপ্রিল তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই ছুটির ফলে ২৮ এপ্রিল খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ছুটি শেষে গত ২১ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। ওই দিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান তাপপ্রবাহে শিশুশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় ২১ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুকল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

ইসরাইলি স্থাপনায় আবার হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরাইলের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে। খবর ইরনা নিউজের।

হিজবুল্লাহর দাবি, সকালের দিকে কাতিউশা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উত্তর ফিলিস্তিনের শোমেরা নামের একটি এলাকায় ইসরাইলের সামরিক স্থাপনা নিশানা করে এ হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার প্রতিবাদ এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলার পাল্টা জবাব দিতে এ হামলা করে হিজবুল্লাহ।

হিজবুল্লাহ পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দখলকৃত ফিলিস্তিনের আল-রাহিব নামে ইসরাইলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বুধবার সকাল ১০টার দিকে হামলা চালিয়েছেন হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা।

এদিকে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উত্তর ইসরাইলের গালালির আভিভিম এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের সেখানে একটি ভবনে আগুন ধরে যায়।