৩০ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দখলে শীতলক্ষ্যার তীর: ড. মজিবর রহমান

 প্রতিবেদক, ঢাকা

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ‘৩০টি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী মিলে শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের সব দখল করে রেখেছে। সরকার যদি রাস্তার জমি উদ্ধার করতে পারে তাহলে নদী কেন উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয় না? মিডিয়াগুলো যারা দখল করে আছে, তাদের অনেকেই নদী দখল করে রেখেছে। সরকারি দলের অনেক এমপি ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে জড়িত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নদী দূষণ রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’- শীর্ষক মত বিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. মজিবর বলেন, আমাদের জন্মই হয়েছে ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা’ স্লোগান দিয়ে। নদীকে কেন্দ্র করেই আমাদের বেড়ে ওঠা। নদী একটা জীবন্ত সত্তা। তাকে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। এখনই অ্যাকশন নিতে হবে।’

সভায় রাজধানীর চারপাশের তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, বালু নদীসহ বিভিন্ন নদীর দূষণের চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয়রা। নদী দূষণ প্রতিরোধ এবং বেদখলের লক্ষ্যে মতামত তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা। এ সময় বলা হয় নদী দূষণের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটছে কলকারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির দপ্তর সম্পাদক মোস্তফা আলমগীর রতন বলেন, ‘গণমাধ্যম কোনো বিষয় নিয়ে উদ্যোগ নিলে রাষ্ট্রেরও তা বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা নেই। তাই গণমাধ্যমের কর্মী ও মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘নদীর নিয়ে আরও গবেষণার উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা না থাকলে সাংবাদিকেরা তথ্য কোথায় পাবেন? নদী দূষণ শুধু ক্ষমাহীন অবহেলা নয়, ক্ষেত্রবিশেষে সংশোধন অযোগ্য অবহেলা।’

ডেইলি স্টারের প্রধান প্রতিবেদক পিনাকী রায় বলেন, মিডিয়া পরিবেশ ও নদী রক্ষায় তার কাজ করছে, কিন্তু যথাযথ ফলাফল আসছে না। কারণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের কাজগুলো করছে না। নদীর জন্য অনেক টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশ নদীর পাড়, ল্যান্ডিং স্টেশনসহ অন্যান্য স্থাপনা তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীর পানি দূষণ বা দখল নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, সুন্দরবন আমাদের বড় বড় ঝড় থেকে রক্ষা করেছে কিন্তু এখন অনেকে দখলের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে আগুন লাগাচ্ছে। নদীগুলোতে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। বিষের কারণে সেই এলাকায় অনেক বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে।

ওয়াটারকিপার্স এর কোডিনেটর শরীফ জামিল বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়নকারী এবং পর্যবেক্ষণের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ও দুর্বল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ফলে দূষণকারীরা সহজেই জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারে।

স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত

অনলাইন ডেক্স

একটি সরকারি বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্লোভাকিয়ার হ্যান্ডলোভা শহরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ফিকোকে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হেলিকপ্টারে করে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বানস্কা বাইস্ট্রিকার প্রধান ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্লোভাক প্রধানমন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, ‘ফিকোকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার জীবন হুমকির মধ্যে। পরের কয়েক ঘণ্টা গভীর পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি।’

স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টিএএসআর জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ফিকোকে রাজধানী ব্রাতিস্লাভা থেকে হ্যান্ডলোভায় যেতে হয়েছিল। ব্রাতিস্লাভা থেকে হ্যান্ডলোভা প্রায় দুই ঘণ্টার পথ।

৫৯ বছর বয়সী ফিকোর ওপর হামলাকে ‘নিষ্ঠুর এবং বেপরোয়া’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট জুজানা কাপুতোভা। ফেসবুকে তিনি এই হামলার নিন্দা লিখেছেন, ‘আমি বিস্মিত। আমি রবার্তো ফিকোকে এই সংকটময় অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করার জন্য সমস্ত শক্তি কামনা করছি।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে পুতিনকে সমর্থন করা ফিকো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

ইউরোপীয় নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে ফিকোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন টুইট করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর ওপর জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের সমাজে এই ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। প্রধানমন্ত্রী ফিকো ও তাঁর পরিবারের পাশে আছি।’

ফিকোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী অরবান লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর বিরুদ্ধে জঘন্য হামলায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা তার সুস্থতা ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি! ঈশ্বর তাকে এবং তার দেশের মঙ্গল করুন!’

চিকিৎসক না হয়েও দিতেন ব্যবস্থাপত্র, গুনতে হলো জরিমানা

টাঙ্গাইলে চিকিৎসক না হয়েও রোগী দেখতেন এক ওষুধ দোকানি। রোগীকে দিতেন ব্যবস্থাপত্র। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

ঘটনাটি ঘটে আজ বুধবার সদর উপজেলার সুরুজ বাজারে।

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা-অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই ফার্মেসির মালিক মো. বজলুর রশিদ চিকিৎসক সেজে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া, ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্সের হালনাগাদ না থাকা এবং মূল্যবিহীন ওষুধ (ফিজিশিয়ান স্যাম্পল) সংরক্ষণ করে রাখার দায়ে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সে আর কোনো রোগীকে সেবা দেবে না জানিয়ে মুচলেকা দিয়েছে।’

অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রসিদ সংরক্ষণ, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মূল্যবিহীন ওষুধ, কসমেটিকস বিক্রয় না করতে অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া সচেতনতা সৃষ্টি করতে লিফলেট ও প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়।

রাফাহে অভিযান থামাতে ৯ শতাধিক ইসরায়েলি সেনার বাবা–মায়ের চিঠি

অনলাইন ডেস্ক 

গাজায় যুদ্ধরত নয়শোর বেশি ইসরায়েলি সেনার বাবা-মা রাফাহে অভিযান থামানোর অনুরোধ জানিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে লেখা এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাফাহ তাদের সন্তানদের জন্য একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’ এবং সেখানে অভিযান বন্ধ করা হোক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে খবরটি দিয়েছে।

গত ২ মে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন যে কারও কাছে এটা স্পষ্ট যে, রাফাহে আগ্রাসনের বিষয়ে কয়েক মাস আগে থেকেই সতর্কতা ও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাই এখন প্রতিপক্ষ বাহিনী সক্রিয়ভাবে আমাদের সৈন্যদের আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভিকে সম্বোধন করে লেখা চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের ছেলেরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত। আর এখন আপনি তাদের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পাঠাতে চান? এটাকে অদূরদর্শিতা ছাড়া কিছুই মনে হচ্ছে না।’

এই চিঠিতে শুরুর দিকে প্রায় ৬০০ সৈন্যের বাবা-মা স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও ৩০০ সৈন্যের বাবা-মা এতে স্বাক্ষর করেছেন।

গত সপ্তাহে পূর্ব ও মধ্য রাফাহ খালি করে দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইসরায়েল। এরপর প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দা রাফাহ ত্যাগ করেছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাফাহে এসে আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় ১৩ লাখ ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাফাহে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ বন্ধ করার জন্য মার্কিন চাপকে তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন।

রাফাহে যেকোনো লড়াই জটিল ও কঠিন হতে পারে। হামাস সেখানে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে কয়েক মাস সময় নিয়েছে এবং শহরের নিচে হামাসের সুড়ঙ্গের নেটওয়ার্কও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সৈন্যের মা আনাত বলেন, ‘রাফাহ একটি মৃত্যু ফাঁদ। আমাদের সৈন্যদের হত্যার জন্য জায়গা প্রস্তুত করতে হামাস অনেক সময় পেয়েছে। আমরা তাই প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। আমাদের আশঙ্কাকেই এখন সত্যি হতে দেখছি কারণ, একটি এলাকা থেকে সৈন্যদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে—হামাস যাতে দ্রুত সেই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।’

আনাত আরও বলেন, ‘যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোতে আমরা পুরো অভিযানকেই সমর্থন দিয়েছি। গাজায় যুদ্ধ করা ছাড়া হামাসের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু গত মাসগুলোতে আমরা বুঝতে পারছি যে, তাদের (আইডিএফ) কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।’

ইসরায়েলি এক কমান্ডারের মা ইদিত বলেন, ‘কয়েক মিনিট আগে আমার ছেলে আমাকে মেসেজ দিয়েছে। সে জানিয়েছে, তারা রাফাহে যাচ্ছে। এটা শুনে ভয় পাচ্ছি। আমরা হামাসকে নির্মূলের জন্য অভিযানের বিরুদ্ধে নই। তবে রাফাহে প্রবেশ করা এই মিশনের জন্য যৌক্তিক নয়।’

ইদিত বলেছিলেন যে, তার ছেলে রাফাহে প্রবেশ করতে চায়নি। তবে সে তা করবে কারণ, সে সেনাবাহিনীর প্রতি অনুগত।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সৈন্যদের বাবা-মার চিঠির জবাব দেয়নি। তবে গতকাল রোববার জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়ালে স্মৃতি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে আইডিএফ প্রধান হারজি হালেভি বলেছিলেন যে, তিনি নিহত সেনাদের পরিবারের উত্তর দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ।

হালেভি বলেন, ‘আমি সেই কমান্ডার যে আপনার ছেলে-মেয়েদের সেই যুদ্ধে পাঠিয়েছে যেখান থেকে তারা ফিরে আসেনি। আমি প্রতিদিন নিজের সঙ্গে এই হারিয়ে ফেলা মানুষদের স্মৃতি বয়ে বেড়াই এবং যেসব প্রশ্ন আপনাদের ঘুমোতে দেয় না, সেসব তীক্ষ্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমি দায়বদ্ধ।’

কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে এমভি আবদুল্লাহ

সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির এক মাস পর দেশে পৌঁছাল বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। দীর্ঘ যাত্রা শেষে সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে জাহাজটি। বিষয়টি জানিয়েছেন জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।

কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, এমভি আবদুল্লাহ বর্তমানে কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে। জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত নাবিকদের লাইটার জাহাজে মঙ্গলবার সরাসরি সদরঘাট কেএসআরএম জেটিতে নিয়ে আসা হবে। সেখানেই তাদের বরণ করা হবে।

তিনি বলেন, নাবিকদের জেটিতে বরণ করার জন্য কেএসআরএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। নাবিকদের স্বজনদের কেউ কেউ এ সময় জেটিতে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানা গেছে। তারা নাবিকদের বরণ করে নেবেন।

জাহাজটির পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের দায়িত্ব নেবে নতুন একটি নাবিক দল। বর্তমান নাবিকরা দীর্ঘ ভ্রমণ ও জিম্মিদশার ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য ছুটিতে যাবেন। তবে তারা মঙ্গলবারই ছুটি পাচ্ছেন কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর থেকে নানা শঙ্কায় ছিলেন জিম্মি নাবিকদের স্বজনরা। দীর্ঘদিন পর তাদের অপেক্ষার প্রহর ফুরাল।

শিপিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের নাবিকরা সুস্থ আছেন। কুতুবদিয়ায় আসার পর নাবিক ও ক্রু সদস্যদের একটি নতুন ব্যাচ জাহাজটিতে পাঠানো হবে। জাহাজে বর্তমানে যে ২৩ জন ক্রু আছেন তাদের আগামীকাল মঙ্গলবার একটি লাইটার জাহাজে করে কেএসআরএম লাইটার জেটি সদরঘাটে আনা হবে। সেখানে তাদের বরণ করবেন স্বজনরা। সেখান থেকে তারা নিজ নিজ বাড়িতে যাবেন।

এমভি আব্দুল্লাহ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা ৫৬ হাজার টন চুনাপাথর নিয়ে এসেছে। কার্গোর কিছু অংশ কুতুবদিয়ায় খালাস করা হবে এবং বাকি পণ্য খালাসের জন্য জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, এমভি আবদুল্লাহ ৫০ হাজার টন কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে গত ৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হয়। ১৯ মার্চ আবদুল্লাহ আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছার কথা ছিল।

মাপুতু থেকে রওনা হওয়ার চার দিন পর গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল।

সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার দীর্ঘ ৩৩ দিন পর গত ১৩ এপ্রিল ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ মুক্ত হয়। মুক্ত হওয়ার আট দিনের মাথায় গত ২১ এপ্রিল বিকালে নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ দুবাই পৌঁছে। জাহাজটি দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরের জেটিতে ভিড়ে ২২ এপ্রিল। এরপর ওই বন্দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা খালাসের পর নতুন ট্রিপের পণ্য (পাথর) লোড করতে ইউএইর মিনা সাকার বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় জাহাজ। সেখানে ৫৬ হাজার টন চুনা পাথর নিয়ে এমভি আবদুল্লাহ গত ৩০ এপ্রিল দুবাই মিনা সাকার বন্দর থেকে দেশের পথে রওনা হয়।

 

এসএসসিতে দেশ সেরা নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস

রাজধানীর নামি-দামি স্কুলকে পেছনে ফেলে এবারো ধারাবাহিক সাফল্য অব্যাহত রেখেছেন নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। এসএসসিতে শতভাগ পাশসহ ৯৯.৬৬% জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফল অর্জন করেছে স্কুলটি।

শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর আনন্দে-উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে দেশ সেরার স্থান দখল করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৯৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৯৪ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাকি একজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৪.৯৪ পেয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশসহ ২৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ২৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৬৬ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালে ২৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

২০২০ সালে ২১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২০০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০১৯ সালে সালে ১৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশসহ ১৬৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০১৮ সালে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশসহ ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল এবং ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া কারিমা জামান রিনভী জানায়, আমি স্কুলের হোস্টেলে থাকি নাই। কিন্তু কখনো মনে হয়নি আমি বাসায় রয়েছি। সর্বদা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, গাইড শিক্ষকসহ সবাই তদারকির মধ্যে রেখেছে। আমার মা ও বাবা অনেক কষ্ট করেছেন।

জিপিএ-৫ পাওয়া সাদিয়া নওরীন প্রভা জানায়, এ ফলাফলের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে।

জিপিএ-৫ পাওয়া আবিদ নূর জানায়, স্যারদের কঠোর নজরদারিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনে হয়েছে আমার নয় শিক্ষকদের পরীক্ষা। প্রতিটা বিষয়ে যেখানে সমস্যা সেখানেই হাতেকলমে ধরে দিয়েছেন তারা। কৃতজ্ঞতা স্যারদের জন্য।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরাবরই দেশ সেরা ফলাফল করছে। এবারো প্রায় শতভাগ পাসসহ দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। সারা দেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি আমরা দেশসেরা অবস্থানে আছি। মূলত নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হোক; যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।

তিনি আরও বলেন, আজকের এ সাফল্য শুধু এই প্রতিষ্ঠানের একার না। এই সাফল্য পুরো নরসিংদীবাসীর। এরই লক্ষ্যে আমার পরিচালনাধীন মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন শুধু আমাদের পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, জেলার প্রায় ৩১৫টি স্কুল ও কলেজে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা। স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিক নির্দেশনায় আমরা একঝাঁক তরুণ শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা দানের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা নরসিংদীতে তার এবং তার স্ত্রী মিসেস নাসিমা বেগমের নামে যৌথভাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল এন্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ১৭৩ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্কুলটি কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।

ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য করার পক্ষে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাবে আজ শুক্রবার সংস্থাটির সাধারণ পরিষদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ভোটে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিল সাধারণ পরিষদ।

বিবিসি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য করার প্রস্তাব পাস হওয়ার পর এবার বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সাধারণ পরিষদ। কারণ কোনো দেশকে জাতিসংঘের সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদ নিতে পারে।

সাধারণ পরিষদের ভোটে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৪৩টি দেশ। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ৯টি দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ২৫টি দেশ।

ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র এতে ভেটো দেবে। এর আগে গত এপ্রিলেও জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে আটকে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার সাধারণ পরিষদে ভোটের আগে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, স্বাধীনতা চাই। এই ভোট ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের পক্ষে একটি ভোট, এটি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। এটি শান্তির জন্য বিনিয়োগ।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান জোসেপ বোরেল বৃহস্পতিবার একটি স্প্যানিশ সম্প্রচার মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ২১ মে স্পেন এমন স্বীকৃতি দেবে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া এবং মাল্টাও একই পথে হাঁটবে।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ইস্যুটি কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাথাব্যথার কারণ। ১৯৮৮ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল।

বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় না। ইসরায়েলের বর্তমান সরকার পশ্চিম তীর এবং গাজায় একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে। এ ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো—এই ধরনের রাষ্ট্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

টঙ্গী থেকে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত শাটল বাস চালু

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই বাস সার্ভিস দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পরবর্তীতে টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ফার্মগেট পর্যন্ত এই সার্ভিস চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) জেনারেল ম্যানেজার মেজর নিজাম উদ্দিন, বিআরটিসির জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর ম্যানেজার অ্যান্ড অপারেশন মো. কামরুজ্জামান, গাজীপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) রাকিবুল হাসান শুভ, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক প্রমুখ।
উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য রাসেল বলেন, বিআরটিসির এই সার্ভিস রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ির মেট্রো রেলস্টেশন পর্যন্ত চালু ছিল। এতে গাজীপুর ও টঙ্গীবাসী মেট্রোরেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এই বাস সার্ভিস সেবার নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
সংসদ সদস্য রাসেল আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মেট্রোরেল সেবাটি উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুরের শিববাড়ি পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছি।

গাজীপুরে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ২০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গাজীপুরের হায়দারাবাদ গ্রামে আহসান উল্লাহ মাস্টারের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হায়দারাবাদ এলাকায় নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণসভায় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আতাউল্লা মন্ডল। এছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলালীগ সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন অর্জন ও কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন ।পরবর্তীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে আমন্ত্রিত অতিথিরা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীস্থ নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দলীয় এক জনসভায় প্রকাশ্যে দিবালোকে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের ২০ বছরেও খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চান।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হামাস, যা বলছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস। সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় হামাস তিনটি পর্যায়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিন পর্যায়ের প্রতিটি ৪২ দিন স্থায়ী হবে।

হামাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামাস আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মুজাহিদ ভাই ইসমাইল হানিয়েহ কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এবং মিসরীয় গোয়েন্দা মন্ত্রী আব্বাস কামেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। হামাসের অবস্থান সম্পর্কে তিনি তাঁদের অবহিত করেছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সংক্রান্ত তাঁদের প্রস্তাবে হামাস সম্মত হয়েছে।

নেটজারিম করিডোর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে শুরু হবে। এই করিডরের মাধ্যমে ইসরায়েল উত্তর এবং দক্ষিণ গাজাকে বিভক্ত করেছে।

দ্বিতীয় ধাপে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর তৃতীয় ধাপে গাজা অবরোধের অবসান রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপাতত মন্তব্য করবে না। তাঁরা পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন।

মিলার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি যে, হামাস একটি বিবৃতি জারি করেছে। আমরা এখন সেই বিবৃতি পর্যালোচনা করছি এবং আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে এটি নিয়ে আলোচনা করছি।’

হামাস মার্কিন–অনুমোদিত প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে নাকি প্রস্তাবের ভিন্ন সংস্করণে রাজি হয়েছে তা বলতে অস্বীকৃতি জানান মিলার।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, (সিআইএ) পরিচালক বার্নস এই অঞ্চলে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। আমরা আগামী কয়েক ঘণ্টায় আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে এটি নিয়ে আলোচনা করব।’ তবে যুদ্ধবিরতিই মার্কিন প্রশাসনের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এদিকে ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেনগাভির হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামাস ‘গেম’ খেলছে। এর একটিই জবাব, ‘রাফাহ দখল।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, ‘সামরিক চাপ বাড়ানো এবং হামাসের সম্পূর্ণ পরাজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা।’

বেনগাভির ইসরায়েলি সরকারের সেসব শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন যিনি নেতানিয়াহুর মতোই ‘হামাসকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত গাজায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, হামাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বল এখন ইসরায়েলের কোর্ট।

হামাসের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গাজার রাস্তায় ফিলিস্তিনিরা নেমে পড়েছেন। তাঁরা উল্লাস করছেন। এখন এ ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষা।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা টিম এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে হামাসের সম্মত হওয়ার বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জেনেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।