গাজীপুর কালিয়াকৈরের সাব-রেজিস্ট্রারের টাকার পাহাড়: ব্যাংক হিসাবসহ ১১ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

টাঙ্গাইল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নূর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসবের বাইরে তার আর কোনো সম্পদ আছে কি-না তা জানতে চাওয়া হবে।’ এ ছাড়া অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা তিনি।

সাব রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদারের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ঘাটান্দি এলাকায়। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই টাঙ্গাইল জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), টাঙ্গাইল।

তথ্যমতে-নূরুল আমিন তালুকদারের চারটি ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ এক হাজার ১১১ টাকা, স্ত্রী নূরুন্নাহারের ১০টি ব্যাংক হিসাবে চার কোটি চার লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের চারটি ব্যাংক হিসাবে এক কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকা, সর্বমোট পাঁচ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া স্ত্রী নূরুন্নাহার খানমের ৭৫ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। যার মূল্য তিন কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ৯৪০ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের নামে দুইটি ফ্ল্যাট যার মূল্য ৭৭ লাখ এবং একটি প্রাইভেটকার (টয়োটা) গাড়ি ২৯ লাখসহ মোট এক কোটি ছয় লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে কথা বলতে সাব-রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।

নতুন বাজেটে বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এই বাজেটে কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

এলইডি ও এনার্জি সেভিং বাল্ব

বিদ্যুত্ বিল সাশ্রয়ে দেশে বেড়েছে এলইডি বাল্বের ব্যবহার। নতুন বাজেটে এলইডি বাল্ব এবং এনার্জি সেভিং বাল্ব উত্পাদনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে এলইডি বাল্বের দাম বাড়তে পারে।তামাক পণ্য

সিগারেট উত্পাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য স্তর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে জর্দা ও গুলের।

তবে অপরিবর্তিত থাকবে বিড়ির দাম।মুঠোফোন ও ইন্টারনেট

বর্তমানে টকটাইম ও ইন্টারনেট সেবার ওপর আরও ৫ শতাংশ ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মুঠোফোনে কথা বলা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে খরচ বাড়বে।

পানির ফিল্টার

দেশে উত্পাদন হওয়ায় পানির ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।তাই গৃহস্থালিতে ব্যবহূত পানির ফিল্টারের দাম বাড়তে পারে।

কাজুবাদাম

দেশে কাজুবাদাম চাষকে সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসাবে খোসা ছাড়ানো কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে।

এসি

গরমে আরাম পেতে অনেকে এয়ারকন্ডিশন বা এসি কিনছে। আগামী বাজেটে এসিকে বিলাসী পণ্য বিবেচনা করে দেশে এসি উত্পাদনে ব্যবহূত কমেপ্রসার ও সব ধরনের উপকরণের শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে।তাই এসির দাম বাড়তে পারে।

ফ্রিজ

আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ফ্রিজ উত্পাদনে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। যা আর বৃদ্ধি করা হবে না। ফলে নতুন অর্থবছরে ৫ শতাংশ ভ্যাটের হার বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

গাড়ি

বিলাসবহুল গাড়িতে শুল্ক ফাঁকি রোধে হাইব্রিড ও নন হাইব্রিড টাইপের গাড়ি ছাড় করতে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত যোগ করা হয়েছে। ফলে বিলাসবহুল গাড়ির দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকস

কোমল পানীয়, কার্বোনেটেড বেভারেজ, এনার্জি ড্রিংকস, আমসত্ত্বের ওপর ভ্যাট ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্বোনেটেড বেভারেজের ওপর ন্যূনতম কর আরও ২ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।

সিএনজি-এলপিজিতে কনভার্সন

গাড়ি সিএনজি-এলপিজিতে কনভার্সনের ব্যবহূত কিট, সিলিন্ডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এ কারণে গাড়ি কনভার্সন খরচ বাড়তে পারে।

জেনারেটর

জেনারেটর সংযোজন ও উত্পাদনে ব্যবহূত উপকরণ বা যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। তাই দেশের বাজারে জেনারেটরের দাম বাড়তে পারে।

মূলধনি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ

অর্ধশত মূলধনি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের রেয়াতি সুবিধা (শূন্য শুল্কে আমদানি) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ কারণে দেশে ব্যবহার্য অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৬ জুন) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩তম বাজেট পড়া শুরু করেন অর্থমন্ত্রী৷ এটি বর্তমান সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদের প্রথম বাজেট, টানা ১৬তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২১তম বাজেট৷ আর অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট।

নতুন বাজেটে কমছে যেসব পণ্যের দাম

বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাজেটে বেশ কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে।

গুঁড়াদুধ
প্যাকেটজাত গুঁড়াদুধ আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এতে আমদানীকৃত গুঁড়াদুধের দাম কমতে পারে।চকোলেট
চকোলেট আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। এ কারণে সব বয়সীদের পছন্দের চকোলেটের দাম কমতে পারে।

উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ
এয়ারক্রাফটের ইঞ্জিন ও প্রপেলার আমদানি পর্যায়ে কমতে পারে মূসক।

ফলে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে কমতে পারে খরচ। 

৩০টি নিত্যপণ্য
নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০টি পণ্য ও খাদ্যশস্য সরবরাহের ওপর উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, মোটর, ছোলা, চাল, গম, আলু, মসুর, ভোজ্য তেল, চিনি, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, ময়দা, আটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, খেজুর, তেজপাতা, পাট, তুলা, সুতা এবং সব ধরনের ফলসহ ৩০টি পণ্য। ফলে কমতে পারে এসব পণ্যের দাম।

ল্যাপটপ
ল্যাপটপ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হলেও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে ৩১ শতাংশের পরিবর্তে ২০.৫০ শুল্ক-কর দিতে হবে বিধায় ল্যাপটপের দাম কমতে পারে।

কার্পেট
কার্পেট তৈরির প্রধান কাঁচামাল পলিপ্রপাইলিন ইয়ার্ন আমদানির শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দেশে তৈরি কার্পেটের দাম কমতে পারে।

রড, বার ও অ্যাঙ্গেল
পাশাপাশি রড, বার ও অ্যাঙ্গেল তৈরির কাঁচামাল ম্যাঙ্গানিজ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এতে লোহাজাতীয় পণ্যের দাম কমতে পারে।সুইস-সকেট
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সুইস-সকেটের দাম কমতে পারে। কারণ দেশে  উৎপাদিত সুইস-সকেট, হোল্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানো হচ্ছে।

ইলেকট্রিক মোটর
ইলেকট্রিক মোটর উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে ইলেকট্রিক মোটরের দাম কমতে পারে। এ ছাড়া দেশে তৈরি মোটরসাইকেলের সিকেডি ইঞ্জিনের পার্টস আমদানির শুল্ক কমানো হচ্ছে। এ কারণে দেশে তৈরি মোটরসাইকেলের দাম কমতে পারে।

কিডনি ডায়ালিসিস
কিডনি ডায়ালিসিসে ব্যবহৃত ফিল্টার ও সার্কিট আমদানির শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। এ কারণে ডায়ালিসিস খরচ কমতে পারে।

ডেঙ্গু কিট
ডেঙ্গু কিটের আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ায় কমতে পারে এই স্বাস্থ্র্য উপকরণটির দাম।

ক্যান্সার চিকিৎসা খরচ
ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সুলভ করতে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার আওতায় নতুন কিছু কাঁচামাল যোগ হচ্ছে। ফলে আশা করা যাচ্ছে ক্যান্সারের চিকিৎসা খরচ কমে আসবে।

লোকসভা ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল: বিজেপি ২৪০, কংগ্রেসের ৯৯

অনলাইন ডেস্ক

লোকসভা নির্বাচনে মঙ্গলবার (৪ জুন) রাত আড়াইটা পর্যন্ত প্রাপ্ত ৫৪১ টি আসনের ফলাফলে কংগ্রেস ৯৯টি আসনে জিতেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসনটি হলো উত্তর প্রদেশের আমেথি। এটি ছিল বিজেপির ঘাঁটি। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে রাহুল গান্ধী হেরেছিলেন এ আসনে। বর্তমানে আরও ৮টি আসনে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের জুনে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সকে (এনডিএ) ঠেকাতে গঠিত হয় এই জোট। ইন্ডিয়া জোট এখন পর্যন্ত মোট ২৩১টি আসনে জিতেছে। যদিও ২৯৫টি আসনে প্রথমে এগিয়ে থাকার দাবি করা হয়েছিল।

আজ ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর এনডিএ ২৯২টি আসনে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ২৯৪টি। গণনা শুরু হওয়ার পর (পোস্টাল ব্যালট দিয়ে শুরু) ক্ষমতাসীন জোটটি দ্রুত ২৭২টি আসনের অর্ধেকেই এগিয়ে ছিল।

রাত আড়াইটা পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি একাই জিতেছে ২৪০টি আসনে। অবশ্য দলের লক্ষ্য ছিল ৩৭০ আসন।

এ ছাড়া সমাজবাদী পার্টি ৩৭টি জিতেছে। আর সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ২৯ টিতে।

এখনো যে ২টি আসনে ফল ঘোষণা বাকি, সে দুটিতে এগিয়ে আছে তামিলনাডুতে এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং মহারাষ্ট্রের এনসিপি (এসপি)।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বিজেপির ৪০০ সিটের লক্ষ্য ছোঁয়ার আশা পূরণ হচ্ছে না—এটি স্পষ্ট। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট সে পথে বাধা হয়ে রইল।

সিনেমার পর্দা থেকে সংসদের পথে বলিউড ‘কুইন’ কঙ্গনা

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, মান্ডি আসনে জয় পেয়েছেন কঙ্গনা। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আজকের এই দিনটা আমার জন্য বিশেষ দিন। প্রার্থী হিসেবে এটা আমার প্রথম নির্বাচন ছিল। যেহেতু রাজনীতিতে প্রথম, সেহেতু নানা অনিশ্চয়তা ছিল। এটা আমার প্রথম জয়ও। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার দলীয় কর্মীদের। নেতা জয়রাম ঠাকুরজিকে। যিনি প্রথম থেকে আমার পাশে ছিলেন। আমাদের সব বিধায়কদেরও ধন্যবাদ। তবে মাথানত করে ধন্যবাদ জানাই মান্ডির সমস্ত মানুষকে। মান্ডিকন্যা, মান্ডির বোন কঙ্গনাকে এত ভালেবাসা দিয়েছে। মান্ডির সেনা হিসেবে মান্ডিকে রক্ষা করব, বিকাশ করব।’

মান্ডি আসনে কঙ্গনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ‘রাজাসাহেব’ হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসের বিক্রমাদিত্য সিং। মান্ডির প্রয়াত রাজা বীরভদ্র সিংয়ের পুত্র তিনি। বীরভদ্র সিং হিমাচলের রাজনীতিতে কিংবদন্তি পুরুষ ছিলেন। বহুবার তিনি এই রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যের জন্যই বিক্রমাদিত্যর বয়স মাত্র ৩৩ বছর হলেও রাজনীতিতে কঙ্গনার চেয়ে তিনি অনেকাংশে এগিয়ে ছিলেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল, নির্বাচনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হবেন বলিউড অভিনেত্রী। তবে ভোটের ফলাফল বলছে, বেশ সহজেই জয় পেয়ে গেছেন তিনি। বিক্রমাদিত্যের চেয়ে তিনি প্রায় ৭৫ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন।

সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় কঙ্গনা ঘোষণা করেছিলেন, বিজয়ী হলে তিনি আর সিনেমায় অভিনয় করবেন না। বিজয়ের পর এবার দেখার পালা সংসদ আর রাজনীতির মাঠে কেমন ভূমিকা রাখেন তিনি।

রেফারের পর বিলের জন্য আটকে রাখা শিশুর হাসপাতালেই মৃত্যু

মানিকগঞ্জের ঘিওরে হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করা দেড় বছর বয়সী এক শিশুকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে ওই হাসপাতাল ঘিরে বিক্ষোভ করেন শিশুটির স্বজনেরা।

শিশুটির পরিবারের দাবি, মাত্র তিন হাজার টাকা বিলের জন্য শিশুসহ তাঁদের আটকে রাখা হয়, তাতে বিনা চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে বলে জানিয়েছে।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তরা (গিলন্ড) এলাকায় মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

শিশু রেজওয়ান পার্শ্ববর্তী শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের ফলসাটিয়া গ্রামের সোহেল গাজীর ছেলে।

এদিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যুর খবরে স্বজনেরা হাসপাতাল ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বজনেরা জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দেড় বছরের শিশু রেজওয়ানকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁরা। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে আজ (রোববার) সকাল ৮টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইমারজেন্সি মুহূর্তে তিন হাজার টাকা বিলের জন্য রেজওয়ান ও তার স্বজনদের আটকে রাখে। এ অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে শিশু রেজওয়ান মারা যায়।

তাঁরা আরও জানান, এ ঘটনা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

শিশু রেজওয়ানের বাবা সোহেল গাজী  বলেন, ‘রেজওয়ানকে ভর্তির পর ভালো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অবস্থা খারাপ দেখে ৮টার দিকে ঢাকায় রেফার করে দেন এখানকার ডাক্তার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই মুহূর্তে রেজওয়ানের মা ও দাদি হাসপাতালে ছিল। তাদের কাছে কোনো টাকা ছিল না। তিন হাজার টাকা বিলের জন্য, তিন ঘণ্টার বেশি আটকে রাখার কারণে রেজওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। আমার বুক খালি করছে, আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সোহেল গাজী জানান, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির সেলসম্যান হিসেবে মানিকগঞ্জেই চাকরি করেন। রাতে সন্তানকে ভর্তি করে বাড়ি ফিরে ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। হাসপাতাল থেকে সকালে স্বজনেরা তাঁর মোবাইল নম্বরে কল দিলেও তিনি বুঝতে পারেননি। পরে বাড়ি থেকে রান্না করে খাবার নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারেন।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘গত রাত ২টার দিকে রেজওয়ান নামের শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির তীব্র মাত্রায় নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এ অবস্থায় শিশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল। তার স্বজনেরা তাকে নিতে দেরি করায় শিশুটির মৃত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জুনিয়র অ্যাডমিন অফিসার ইফাজ আহাম্মদকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করেছে। সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে মৌখিক অভিযোগ করেছে তার স্বজনেরা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের ৩ ধাপের প্রস্তাব, হামাসের ইতিবাচক সাড়া

অনলাইন ডেস্ক

বাইডেন বলেন, প্রস্তাবের প্রথম ধাপে বলা হয়েছে—ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার সব জনবহুল এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। হামাসের হাতে বন্দী বয়স্ক ও নারীসহ কিছুসংখ্যক জিম্মিকে ইসরায়েলি কারাগারে শত শত বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকেরা গাজায় তাঁদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। গাজায় প্রতিদিন মানবিক সহায়তা নিয়ে ৬০০ ট্রাক প্রবেশ করবে।

এই পর্যায়ে হামাস এবং ইসরায়েল একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে। যদি এই আলোচনা ছয় সপ্তাহ সময়সীমার মধ্যে শেষ না হয়, তাহলে পরিকল্পনার প্রথম পর্ব বা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়বে।

দ্বিতীয় ধাপে বাইডেন বলেছেন, হামাসের হাতে বন্দী পুরুষ সেনাসহ অবশিষ্ট সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। বিনিময়ে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সূচনা ঘটবে।

যুদ্ধবিরতির তৃতীয় ধাপে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের জন্য নেওয়া হবে বৃহৎ পরিকল্পনা। তখনো হামাসের হাতে কোনো জিম্মি থেকে গেলে তাদের মুক্তি এবং পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই ধাপে।

জো বাইডেন বলেছেন, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার এবং পরের দিন শুরু হওয়ার সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘তারা (ইসরায়েল) গাজা দখল করতে চায়। এ কারণেই তারা সেখানে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং জিম্মিদের মুক্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি জানি, যে পরিকল্পনা আমি প্রস্তাব করছি তাতে ইসরায়েলি নেতৃত্বের একটি অংশ ব্যাপকভাবে আপত্তি জানাবে। কিন্তু তার পরও আমি ইসরায়েলের নেতৃত্বকে এই পরিকল্পনা সমর্থনের উদাত্ত আহ্বান জানাব।’

বাইডেনের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস।

স্বাধীনতাকামী এই সশস্ত্র সংগঠন বলেছে যে, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, গাজা পুনর্গঠন, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন এবং ইসরায়েলের ‘প্রকৃত’ বন্দী বিনিময় চুক্তির ভিত্তিতে যেকোনো প্রস্তাবের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে যোগ দিতে প্রস্তুত।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে যে, নেতানিয়াহু তাঁর আলোচনাকারী দলকে চুক্তিটি উপস্থাপন করার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না। যুদ্ধের লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আমাদের সব জিম্মির প্রত্যাবর্তন এবং হামাসের ধ্বংস।’

স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে সিঙ্গাপুরে বেনজীর

২৬ মে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে এ পাঁচজনের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে তাঁদের নামে থাকা শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশও দেওয়া হয়। চলমান এই পরিস্থিতি তৈরির আগেই ৪ মে সপরিবারে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সদ্য অবসরে যাওয়া পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, ৪ মে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনের একটি ফ্লাইটে তিন মেয়ে ও স্ত্রীসহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান তিনি। স্ত্রী জীশান মির্জার চিকিৎসাজনিত কারণে তাঁরা সেদেশেই অবস্থান করছেন।

এদিকে সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জা ও তিন মেয়েকে তলব করেছে দুদক। গত মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে তাঁদের তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দুদক উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে, আগামী ৬ জুন বেনজীর আহমেদকে এবং ৯ জুন তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জাসহ সন্তানদের দুদকে হাজির হতে বলা হয়।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অনুসন্ধানের শুরুতে বেনজীর পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এসব সম্পদের বিষয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের আয়কর নথি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কীভাবে তাঁরা এসব সম্পদ গড়েছেন, এর ব্যাখ্যা দরকার। সে কারণে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করছে অনুসন্ধানী দল। আগামী ৬ জুন বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুসন্ধানী দলের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।

দুদকের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, শুধু দেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সম্পদ রয়েছে—এমন খবরে বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশ তিনটিতে বেনজীরের কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা জানতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে ওই সব দেশে তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে মৃত্যু ১৬ জনের, পৌনে ২ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে দেশের ৭ জেলায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় ও এর আশপাশের ১৯টি জেলায় প্রায় পৌনে ২ লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৩৩৮টি এবং আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮টি ঘরবাড়ি।

দুর্যোগসংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে খুলনা জেলায়। এই জেলায় ২০ হাজার ৭৬২টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। বাগেরহাটে বিধ্বস্ত হয়েছে ১০ হাজার ঘরবাড়ি। বাকিগুলো বিভিন্ন জেলায়।

দুর্যোগসংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এই ঝড়ে দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতির মুখে পড়ে উপকূল ও আশপাশের ১৯ জেলা। এগুলো হলো সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও যশোর। এর মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম ও পিরোজপুরে।

গত রোববার রাতে বাংলাদেশে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এই ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপকূলের ছয় জেলার ১৫টি উপজেলায় ৬৯ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া মাছ চাষের অবকাঠামো পুকুর, ঘের ও স্লুইসগেট ধ্বংস হয়েছে তিন হাজার ৬৩৫টি। নৌযান, ট্রলার ও জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৪১টি। সবকিছু মিলিয়ে যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৬৯৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এছাড়া ৫টি ছাগল, ৩টি ভেড়া, চার হাজার ৫৫০টি মুরগি এবং ৪৭টি হাঁস মারা গেছে।

 

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন আহমাদিনেজাদ

ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। আগামী ২৮ জুন দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম রাইসি নিহত হওয়ার পর দেশটি গত সপ্তাহে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ইরানের গণমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমাদিনেজাদ সমর্থক পরিচালিত ‘দোলাত বাহার’ টেলিগ্রাম চ্যানেলে শনিবার সমর্থকদের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। আহমাদিনেজাদ বলেছেন, শুধু ইরানে নয়, গোটা বিশ্বেই দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং আমি আশাবাদী যে আমরা শিগগিরই একটি দারুণ পরিবর্তন দেখতে পাব।
সংসদে আহমাদিনেজাদ সমর্থকরা ইতোমধ্যেই আহমাদিনেজাদের সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা দাবি করেছেন, আহমাদিনেজাদই ইরানের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।ইরানের পার্লামেন্টে তাবরিজ অঞ্চলের প্রতিনিধি আহমাদ আলীরেজা বেইগি বলেছেন, যদি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন, তাহলে তিনি বিজয়ী হবেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গার্ডিয়ান কাউন্সিলকে অবশ্যই আহমাদিনেজাদের প্রার্থিতার অনুমোদন দিতে হবে। তিনি যদি প্রার্থী হন এবং এই প্রার্থিতাও যদি বাতিল করা হয় তাহলে সেটার পরিণতি খুব খারাপ হবে।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এর আগে তিনি রাজধানী তেহরানের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৭ এবং ২০২১ সালে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গার্ডিয়ান কাউন্সিল তার প্রার্থীতার অনুমোদন দেয়নি।