ইসরাইলকে রাফায় হামলা বন্ধের আদেশ আইসিজের

ফিলিস্তিনের রাফায় দখলদার ইসরাইলের চলমান হামলা বন্ধের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। শুক্রবার হেগ ভিত্তিক জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইসরাইলকে এ নির্দেশ দেন। খবর আল-জাজিরার

রাফায় ইসরাইলের হামলা বন্ধের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের দারস্থ হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি দাবি করে, গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। সেখানে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার দাবি করে দেশটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদন আমলে নিয়ে আজ রাফায় হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আইসিজের বিচারকরা।

আদালতের বিচারকরা বলেছেন, ইসরাইল গাজার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যেসব প্রতিশ্রতি দিয়েছে এবং রাফা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে সেটিতে তারা সন্তুষ্ট নন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আজ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে— সেটি দেওয়া হয়েছে মূলত যেন গাজার সাধারণ মানুষের অবস্থার আর অবনতি না ঘটে।

এছাড়া জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এ আদালত এবারই প্রথমবারের মতো দখলদার ইসরাইলকে এমন নির্দেশ দিয়েছে; যেটির মাধ্যমে তাদের সামরিক পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে।

পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতে ধর্ষকদের ডি এন এ পরীক্ষা

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
টঙ্গীতে একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষনের শিকার এক কিশোরী কন্য সস্তানের মা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতের জন্য নবজাতক ও ধর্ষন মামলায় জেলে থাকা অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ (২৮) ও ও লিটন মিয়া (১৭) ডি এন এ পরীক্ষার নমুনা দেওয়া হয়। বিয়য় টি গতকার শুক্রবার স্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী পশ্চিম থানার এস আই সজল হোসেন।
মামলার সুত্রে জানা যায়, টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় ২১জুন ২০০৩ইং মামুনুর রশিদ কর্তৃক ধর্ষিত হয় অভিযুক্ত ভুক্তভোগী। পরে ভয়ভিতী দেখিয়ে বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন সময়ে একই মাদ্রাসায় ভুক্ত ভোগীকে ধর্ষন করে অভিযুক্ত। সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর ভুক্তভোগীকে ধর্ষন করেন তিনি।
অপর দিকে বগুড়া জেলার শওরদীঘির পশ্চিম পাড়ার লিটন মিয়া একই বাড়িতে বসবাসের সুযোগে প্রায় ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দিত ও রাস্তা ঘাটে উত্যক্ত করত। গত ১৬ জুনে ২০০৩ইং পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতিতে লিটন মিয়া ভুক্ত ভোগীকে ধর্ষন করে। এরপর ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন সময়ে একই বাসায় ধর্ষন করেন তিনি।
একাধিকবার ধর্ষনের শিকার হয়ে কিশোরী অন্ত:স্তÍতা হয়ে পড়ে। বিষয়টি তার মা জানতে পেরে ২৬ নভেম্বর ২০০৩ইং টঙ্গী পশ্চিম থানায় দুইটি পৃথক অভিযোগ দেন। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ ও লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর জেল হাজতে এবং ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে পুলিশ। পরীক্ষায় জানা যায়, কিশোরীর গর্ভে ২৪ সপ্তাহ বয়সী একটি সস্তান রয়েছে। পরে এ বছরের ১৯এপ্রিল টঙ্গীর একটি হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে ভুক্তভোগী কন্যসন্তানের মা হন।
বর্তমানে অভিযুক্তরা জেলহাজতে থাকায় এবং পিতৃপরিচয় অস্বীকার করায় নবজাতক সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে ধোয়াশার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর প্রসবকৃত কন্যসন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিতের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সজল হোসেন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এর পর গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃত মামুনুর রশিদ ও লিটন মিয়া ও নবজাতককে মালিবাগ সি আই ডি ভবনে নমুনা দেন বলে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ।
কিশোরীর মা বলেন, আমি আমার মেয়ের ধর্ষনের বিচার চাই । কিশোরীর বাবা বলেন, নবজাতকের বাবা যে হবেন তাকে সে নিয়ে যাবে। আমি আমার মেয়ের জীবন যারা নষ্ট করেছে তাদের বিচার চাই।
এ ব্যপারে টঙ্গী থানার অফিসার ইন চার্জ সাখাওয়াত হোসেন বলেন,পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতের জন্য অভিযুক্তদ্বয় ও নবজাতকের ডি এন এর নমুনা পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে।ফলাফল নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

‘সাবেক আইজিপি বা সেনাপ্রধান, দোষী হলে কাউকেই বাঁচাতে যাবে না সরকার’

বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সেখানে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে আমরা তাঁকে প্রটেক্ট করতে যাব না। এমনকি তিনি সাবেক আইজিপি (বেনজীর আহমেদ) বা সেনাপ্রধান (আজিজ আহমেদ) হলেও।’ 

দুদকের মামলায় গতকাল পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশনা দেন আদালত। আর সম্প্রতি সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি দেখতে হবে। কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক—অপরাধ করতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকার সৎসাহস দেখিয়েছে কি না। শেখ হাসিনা সরকারের সেই সৎসাহস আছে। কেউ পার পাবে না। বিচার বিভাগ, দুদক স্বাধীন। সেখানে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে আমরা তাকে প্রটেক্ট করতে যাব না। সেখানে কোনো সাবেক আইজিপি বা কোনো সাবেক সেনাপ্রধান যেই হোক না কেন, সরকারের কাউকে প্রোটেকশন দেওয়ার বিষয় নেই।’

আবরার হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্তদের সবাই ছাত্রলীগের উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার তাদের প্রোটেকশন দিতে যায়নি। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে যাদের ফাঁসি হয়েছিল, তাদেরও সরকার প্রোটেকশন দিতে যায়নি। কথা হচ্ছে, ব্যক্তি অপরাধ করতে পারে এবং সরকার তাদের প্রোটেকশন দিচ্ছে কি না। শেখ হাসিনা সরকারের এখানে জিরো টলারেন্স। অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে।’

এদিকে, গত মঙ্গলবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মানু মজুমদার। শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনা হয়। সেখানে তাঁকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মানু মজুমদারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খুবই প্রচারবিমুখ ছিলেন। কখনো তাঁকে ক্যামেরার সামনে মুখ দেখানো, চেহারা দেখানো এবং এর জন্য আমাদের কিছু কিছু লোকের যে প্রবণতা সেটা মানু মজুমদারের মধ্যে কখনো দেখিনি। তিনি আমাদের সংসদ সদস্য ছিলেন। গত সংসদে তিনি ছিলেন।’

আওয়ামী লীগের প্রয়াত এই নেতা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যে প্রতিরোধ যোদ্ধা নামে একটি সংগঠন জন্ম নিয়েছিল, তিনি সেটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সুদীর্ঘ ১৩ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। আমার সঙ্গে জেলেও দেখা হয়েছিল।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

ইসরায়েলের রাফাহে অভিযান বন্ধের ইস্যুতে আইসিজের রায় আজ

অনলাইন ডেস্ক
গাজা উপত্যকার রাফাহে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধের আদেশ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার রায় দেবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) বা বিশ্ব আদালত। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে এ আদালতের কাছে মামলা করেছিল দেশটি। সেই বৃহত্তর মামলার অংশ হিসেবেই দেশটি পরে রাফাহে অভিযান বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা চেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে খবরটি দিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা গত সপ্তাহে বিশ্ব আদালতের কাছে এ ইস্যুতে জরুরি ব্যবস্থা আরোপের আবেদন করে বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার জন্য দক্ষিণ গাজা শহরে ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।

বিশ্ব আদালতের রায় চূড়ান্ত এবং তা মানার জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাধ্য থাকলেও অতীতে এর রায়কে উপেক্ষা করার উদাহরণ আছে। রায় মানতে বাধ্য করার কোনো প্রয়োগ ক্ষমতা নেই বিশ্ব আদালতের।

ইসরায়েল বরাবরই গণহত্যার অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইসরায়েলি সরকারের এক মুখপাত্র গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো শক্তিই ইসরায়েলকে তার নাগরিকদের রক্ষা করা এবং গাজায় হামাসকে ধ্বংস করতে বাধা দিতে পারবে না।’

১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা অভিযোগের নিন্দা করেছে ইসরায়েল। তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানায়। তবে আইসিজে ইসরায়েলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব আদালতের এক আদেশে ইসরায়েলকে গণহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। তবে সামরিক অভিযান বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়নি।

এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা রাফাহে অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় সেখানে বাড়তি জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করে আদালতের কাছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আরেকটি আদেশ চাওয়া হয়েছে, যাতে ইসরায়েল গাজায় জাতিসংঘ এবং মানবিক সহায়তা সরবরাহকারী সংস্থা, সাংবাদিক এবং তদন্তকারীদের অবাধে প্রবেশাধিকার দেয়।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সংস্থা যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো রায় দেয় তবে তা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর আরও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েল ও হামাসের পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান। তাঁরা হলেন—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট, গাজা উপত্যকার হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনাওয়ার, আল ক্বাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ দাইফ এবং হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করে। হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হামাসকে নির্মূল করতে রাফাহে অভিযান প্রয়োজন বলে যুক্তি দেখিয়েছেন।

এমপি আনোয়ারুল আজিমকে পরিকল্পিতভাবে খুন, বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ৩: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


ভারতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের মধ্যে তিন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আজ বুধবার এসব তথ্য জানান।

ভারতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনার কলকাতায় খুন হয়েছে। ভারত যাওয়ার ১০ দিন পর আজ বুধবার নিউ টাউন এলাকার এক ফ্ল্যাটে তাঁর খুন হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র বলছে, নিউ টাউনের এক অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে তাকে খুন করা হয়। সেখানে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তাঁরা কেউ সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলছেন না।

আনোয়ারুল আজিম আনারের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর  বলেন, আজ সকালে কলকাতার নিউটাউন এলাকার অ্যাপার্টমেন্ট সঞ্জিভা গার্ডেনে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এর ১৫ মে তিনি নিখোঁজ হন, তার ফোনও বন্ধ ছিল। পুলিশ আজ সকালে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গত সোমবার ভারতকে কূটনৈতিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁর খোঁজ পেতে পরিবার ও ঢাকা মহানগর পুলিশও (ডিএমপি) ভারতের পুলিশের অপেক্ষায় ছি

এমপি আনোয়ারুল আজিমের ভাতিজা সাইমন ইতিমধ্যে ভারতে গেছেন। এমপির বড় মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ও ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ভিসার জন্য ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করেছেন।

ডিএমপির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গত সোমবার  বলেন, আনোয়ারুল আজিম ১৫ মে কলকাতার একটি আবাসিক হোটেল থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠেছিলেন। এরপর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা করছে কলকাতার পুলিশ। গাড়িটির সন্ধান মিললে তাঁকেও হয়তো পাওয়া যাবে। এমপি হয়তো কোনো ফাঁদে পড়েছেন।  

ঝিনাইদহ-৪ আসনের টানা তিনবারের এমপি আনোয়ারুল আজিম চিকিৎসা করাতে ও বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ১২ মে দর্শনা স্থলবন্দর দিয়ে কলকাতায় যান। ১৫ মে থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বিষয়টি তাঁর মেয়ে ডরিন ভারতে এমপির বন্ধু গোপাল বিশ্বাসকে জানান। গোপাল এ বিষয়ে কলকাতার বরাহনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

ভারতে নিখোঁজ এমপি আনোয়ারুল আজিম কলকাতায় খুন

ভারতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনার কলকাতায় খুন হয়েছে। ভারত যাওয়ার ১০ দিন পর আজ বুধবার নিউ টাউন এলাকার এক ফ্ল্যাটে তাঁর খুন হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র বলছে, নিউ টাউনের এক অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে তাকে খুন করা হয়। সেখানে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তাঁরা কেউ সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলছেন না।

আনোয়ারুল আজিম আনারের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর  বলেন, আজ সকালে কলকাতার নিউটাউন এলাকার অ্যাপার্টমেন্ট সঞ্জিভা গার্ডেনে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এর ১৫ মে তিনি নিখোঁজ হন, তার ফোনও বন্ধ ছিল। পুলিশ আজ সকালে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গত সোমবার ভারতকে কূটনৈতিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁর খোঁজ পেতে পরিবার ও ঢাকা মহানগর পুলিশও (ডিএমপি) ভারতের পুলিশের অপেক্ষায় ছি

এমপি আনোয়ারুল আজিমের ভাতিজা সাইমন ইতিমধ্যে ভারতে গেছেন। এমপির বড় মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ও ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ভিসার জন্য ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করেছেন।

ডিএমপির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গত সোমবার  বলেন, আনোয়ারুল আজিম ১৫ মে কলকাতার একটি আবাসিক হোটেল থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠেছিলেন। এরপর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা করছে কলকাতার পুলিশ। গাড়িটির সন্ধান মিললে তাঁকেও হয়তো পাওয়া যাবে। এমপি হয়তো কোনো ফাঁদে পড়েছেন।  

ঝিনাইদহ-৪ আসনের টানা তিনবারের এমপি আনোয়ারুল আজিম চিকিৎসা করাতে ও বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ১২ মে দর্শনা স্থলবন্দর দিয়ে কলকাতায় যান। ১৫ মে থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বিষয়টি তাঁর মেয়ে ডরিন ভারতে এমপির বন্ধু গোপাল বিশ্বাসকে জানান। গোপাল এ বিষয়ে কলকাতার বরাহনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের সন্ধান মিলেছে: ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির সন্ধান পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান টিমগুলো বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির সন্ধান পেয়েছে। তবে ওই হেলিকপ্টারের আরোহী প্রেসিডেন্ট রাইসি ও অন্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।রোববার (১৯ মে) সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইরানের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে পাহাড়ি এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অবতরণের সময় আছড়ে পড়ে হেলিকপ্টারটি।

ওই হেলিকপ্টারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর মালেক রহমাতি, তাবরিজের জুমার নামাজের খতিব হোজ্জাতোলেস্লাম আল হাশেম এবং আরও কয়েকজন আরোহী ছিলেন।

ভারত ও চীন যুক্ত হলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সম্ভব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট গুরুতর আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংকটের মূল আরও অনেক গভীরে প্রোথিত হতে পারে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা জরুরি। এটাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সম্ভব।

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ওভারসীস করেসপন্ডেন্টস বাংলাদেশ (ওকাব) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’—শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত ও চীনের ভূমিকা অত্যন্ত মুখ্য। তাদেরকে যদি আমরা এই বিষয়ে আরও বেশি করে যুক্ত করতে পারি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে গেছি৷ আমরা গাম্বিয়া ও ওআইসির মাধ্যমে আইসিজেতে মামলা করেছি। সেই মামলায় এখন পর্যন্ত যে আউটকাম এসেছে, সেটি আমাদের পক্ষে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত এই মামলার ইতিবাচক ফলাফল আসবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আইসিজের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক চাপ মিয়ানমারের ওপর পড়বে। আমরা ক্রমাগতভাবে চেষ্টা করেছি, আন্তর্জাতিকভাবে যেসব দেশের প্রভাব মিয়ানমারের ওপর আছে, তাদের এই বিষয়ে যুক্ত করার। কয়দিন আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। তার সঙ্গেও রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চলতি বছর উগান্ডায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওই বৈঠক থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়ানোর জন্য হলেও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু করতে চায়। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাখাইন প্রদেশে এখন যে পরিস্থিতি, সেখানকার সেনাবাহিনী পালিয়ে আমাদের এখানে আসছে। এই পরিস্থিতিতে তো আমরা রোহিঙ্গাদের সেখানে ঠেলে দিতে পারি না।’

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন— উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে বলেছে। ক্যাম্পে তারা কিছু কাজ করছে। কিন্তু তাদের পুরোপুরি জীবিকা নির্বাহের নিশ্চয়তা আমরা কীভাবে দেব? রোহিঙ্গাদের জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা সমাধান নয়। একমাত্র সমাধান হচ্ছে সব অধিকারসহ তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর রোহিঙ্গাদের ফান্ডিং অনেক কমে গিয়েছিল। আগে মাথাপিছু ১২ ডলার ছিল। যা গত বছর ৮ ডলারে নেমে যায়। এ বছর ১০ ডলারের বেশি হতে পারে। গত বছর ইউক্রেন-রাশিয়া ও গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ফান্ডিং কমে গিয়েছিল। এ বছর আমাদের চেষ্টায় ফান্ডিং মাথাপিছু ১০ ডলারের ওপরে যাবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওকাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গারা মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সন্ত্রাসী তৎপরতা, পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অনেকে মানব পাচারকারীদের শিকার হচ্ছেন এবং ক্যাম্প থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ভ্রমণের চেষ্টা করছে। এমনকি তারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও এনআইডি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনকে বাধাগ্রস্ত করছে। রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংখ্যা দিক থেকে বাঙালিরাই এখন উখিয়ায় সংখ্যালঘু। সেখান থেকে  তারা শুধু টেকনাফ কক্সবাজার নয় সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, শুরুর দিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক যে সমর্থন ছিল তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, গাজা-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বব্যাপী অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে মানবিক দিক ও প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জোরারোপ করেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখনো বিশ্বব্যাপী একটি বড় সমস্যা। এই সংকটের আরও অনেক গভীরে যেতে হবে। যত দিন যাবে এই সমস্যার গভীরতা আরও বাড়বে৷ তাই শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সমাধানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একযোগে উদ্যোগী হতে হবে।

ওকাবের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ডিক্যাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব প্রমুখ।