ইসরায়েল-ইউক্রেনকে সহায়তার বিল আটকে গেল মার্কিন সিনেটে

সরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে অতিরিক্ত ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বিল উত্থাপন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হয়ে গেলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে গিয়ে আটকে গেছে। সিনেটে বাইডেনের দল ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকলেও বিলটি পাস হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার জো বাইডেন উত্থাপিত বিলটি আটকে দেয় সিনেট। বাইডেন উত্থাপিত এই সহায়তা বিলের অধিকাংশ অর্থই ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল। সিনেটে বিলটি পাসের জন্য ৬০ জন সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা হয়নি।

বিলটির পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট পড়ে যথাক্রমে ৪৯ ও ৫১টি। স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। স্যান্ডার্স স্বতন্ত্র হলেও তিনি ডেমোক্রেটিক ককাসে যুক্ত। আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি এই বিলে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে থাকবেন না। এই অবস্থায় এই সহায়তা প্যাকেজের ভবিষ্যৎ ধোঁয়াটে হয়ে গেছে।

বার্নি স্যান্ডার্স এই অতিরিক্ত সহায়তা বিলের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমি এই প্যাকেজের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি না যে—কট্টর ডানপন্থী নেতানিয়াহু সরকারকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অমানবিক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া উচিত।’

এক বিবৃতিতে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘৭ অক্টোবর তাদের ওপর হামলাকারী হামাস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের হত্যা করার আইনগত বা নৈতিক অধিকার তাদের নেই।’

আমাদের মুক্ত করেছে হামাস, ইসরায়েল নয়: নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতে বন্দীদের ক্ষোভ

গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হাতে বন্দি স্বজনদের উদ্ধার করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়লেন সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা। তারা নেতানিয়াহুকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে একজনকে বলতে শোনা যায়— আপনার ক্যারিয়ার রক্ষার জন্য আমার সন্তানকে বলি দিতে প্রস্তুত নই।

হারজলিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পরে মিডিয়ায় বলেন, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। আর নেতানিয়াহু তাদের দাবি পূরণে সরাসরি কোনো আশ্বাস দেননি। তিনি মোটামুটিভাবে আগে থেকে লেখা উত্তর দিয়েছেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তারা বলেন, একপর্যায়ে তাদের অনেকে নেতানিয়াহুকে পদত্যাগ করতে বলেন।
ফাঁস হওয়া একটি উদ্ধৃতিতে নেতানিয়াহুকে বৈঠকে বলতে শোনা যায়— কাউকে ঠিক এখনই ফিরিয়ে আনার কোনো সম্ভাবনা নেই। সত্যিই যদি কেউ বলতে পারে যে, কোনো বিকল্প আছে, তবে কে তা প্রত্যাখ্যান করবে?

তার এই বক্তব্যে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। এমনকি অনেকে মাঝপথেই বৈঠক শেষ করে চলে যান।

কান পাবলিক ব্রডকাস্ট এমন তথ্যও দেয় যে, নেতানিয়াহু সমবেতদের বলেছেন— হামাস এমন সব দাবি উত্থাপন করেছে, যা এমনকি আপনাদের পক্ষেও গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে উপস্থিত লোকজন এতে শান্ত হয়নি। তারা নেতানিয়াহুকে মিথ্যা কথা বলার জন্য অভিযুক্ত করেন।

রায়েলের চ্যানেল থার্টিকে ড্যান মিরান বলেন, ‘সেখানে কী কথা হয়েছে, তার বিস্তারিত আমি বলব না। কিন্তু সেখানকার সবই ছিল এলোমেলো ও কুৎসিত। তারা কেবল বলেছে, আমরা এটা করেছি, সেটা করেছি। কিন্তু সিনওয়ার (হামাস নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ার) আমাদের মুক্তি দিয়েছে, তারা (ইসরায়েল সরকার) নয়। তারাই নাকি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে—এমন কথায় আমি ক্ষুব্ধ হয়েছি। তারা একটা কিছুও নিয়ন্ত্রণ করেনি।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার আবার যুদ্ধ শুরুর আগে এক সপ্তাহের বিরতির মধ্যে ১০৫ জন বেসামরিক নাগরিক মুক্তি পায় হামাসের তরফ থেকে। এদের মধ্যে ইসরাইলি ছিল ৮১ জন, থাই ২৩ জন, ফিলিপিনো ছিল একজন। ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় এখনো ১৩৮ জন বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জন নারী।

চ্যানেল১২ এক বন্দির মায়ের বক্তব্য প্রচার করেছে। তাতে ওই মা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, আপনার বা এখানকার উল্লেখযোগ্য কারও ক্যারিয়ারের জন্য আমার ছেলেকে বলি দিতে আমি প্রস্তুত নই। একেবারেই নই। আমার ছেলে দেশের জন্য মরতে স্বেচ্ছাসেবক ছিল না। সে ছিল বেসামরিক নাগরিক। সে তার বাড়িতে নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল।… আমাকে প্রতিশ্রুতি দিন যে আমার ছেলেকে এবং অন্য বন্দিদের জীবিত উদ্ধার করে আনবেন।

এর জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী তা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

ইসরাইলি সেনা হাদার গোল্ডিনের (২০১৪ সাল থেকে তার লাশ হামাসের কাছে রয়েছে) বাবা সিমচা গোল্ডিন চিৎকার করে মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আর কত হাদার গোল্ডিন আর রন আরাদ সেখানে থাকবে?

গত সপ্তাহে হামাসের বন্দিদশা থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত আভিভা সেইগাল বৈঠকে কথা বলেন। তার স্বামী, মার্কিন নাগরিক, এখনো বন্দি রয়েছে গাজায়। তিনি বলেন, আমাদের ওপর বিমান থেকে ফেলা বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। আর এ সময় আমাদের আটককারী হামাসের সদস্যরা স্রেফ ঘুমিয়ে ছিল। আপনাদের বিমান হামলার তোয়াক্কা তারা করে না।

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার বিচার ফের শুরু

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলার বিচারকাজ আবার শুরু হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

২০১৯ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ঘুষ লেনদেন ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলো কেস–১০০০, কেস–২০০০ ও কেস–৪০০০ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এর বিচারকাজ চলছিল। তবে গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর বিচারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির বিচারবিষয়ক মন্ত্রী।

কেস–১০০০ মামলায় নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারার বিরুদ্ধে মদ, সিগারেটসহ বিভিন্ন ধরনের উপহার নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হলিউডের প্রখ্যাত প্রযোজক আরনন মিলচ্যান ও অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবের জেমস প্যাকারের কাছ থেকে উপহারগুলো নিয়েছিলেন তিনি।

ইসরাইলের আদালতে ঘুষ আদান–প্রদানের মামলার সত্যতা পাওয়া গেলে নেতানিয়াহুর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। আর প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাগারে থাকতে হতে পারে তার।

ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় নেতানিয়াহু। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতেই রাজনৈতিক বিরোধী ও গণমাধ্যম এগুলো করছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী এবং এমপিরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জর মুখে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১০০ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী এবং এমপিরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জর মুখে। অন্য সময়ে নির্বাচনে প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী বর্তমান এমপিদের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু এবার প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন, সব ওসি এবং এক বছরের বেশী সময় থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বদলির আদেশ দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, জেলা প্রশাসকরা কঠোর নজরদারীতে আছেন। ইতিমধ্যে দুইজন জেলা প্রশাসককে বদলী করেছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে নির্বাচনে সহজ বিজয় পেতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা যে বাগান সাজিয়েছিলেন, সেই বাগান তছনছ হয়ে গেছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের টিকেট না পেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তারাও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা। তাদের সাথেও প্রশাসন এবং পুলিশের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। মন্ত্রী এবং এমপিদের অনেকেই গত ৫ বছরে এলাকায় নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছে। কারো কারো সাথে এলাকার যোগাযোগও কম ছিলো। এবার যখন তারা নির্বাচনের মাঠে নামছেন, তখন তারা এলাকায় জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পরছেন। সাধারণ মানুষও নতুন মুখ চায়। যারা এতোদিন কথা দিয়ে কথা রাখেনি, ভোটের মাধ্যমে তার প্রতিশোধ নিতে চায়। এই নির্বাচন সেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বহু স্থানেই আনুষ্ঠানিক প্রচারের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে জোয়ার এসেছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, নিজের জনপ্রিয়তা এবং যোগ্যতাতেই প্রার্থীদের জয়ী হয়ে আসতে হবে। তাই বিএনপি-জামায়াত না এলেও ঝুঁকির মধ্যে আছেন অন্তত ১০০ বর্তমান এমপি। এরকম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে আছে গত দুটি নির্বাচনে যারা ভোট ছাড়া এমপি হয়েছেন তারা। এলাকায় বিতর্কিত হয়েও যারা আবার টিকেট পেয়েছেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একদিনে নিহত ৪৭

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিস ও রাফাহ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪৭ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া গাজা উপত্যকার নুসিরাত শরণার্থীশিবিরের একাধিক বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় শিশু, নারীসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে। গাজার উত্তরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১০টি মৃতদেহ।

এসব খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি এবং কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা। রাফাহ ও খান ইউনিসে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে আজ রোববার সকালে।

আল জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেছেন, শনিবার দিবাগত রাত থেকে চলমান বিমান হামলায় খান ইউনিসের পূর্ব দিকের বেশির ভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে, বাসিন্দাদের শহরের পশ্চিম দিকে বা রাফাহ শহরে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকি শুনে রাফাহ শহরের দিকে ছুটে গিয়ে বেসামরিক মানুষ ইসরায়েলি বিমান হামলার মুখে পড়েছে। এতে প্রমাণিত, গাজায় কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।

তিনি আরও বলেন, খান ইউনিসের এলাকায় শত শত বাসিন্দা এখনো আটকা পড়ে আছে। তাদের যাওয়ার জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। কারণ, শহরের অন্যান্য অংশে বা আরও দক্ষিণে যাওয়ার প্রধান রাস্তাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার রাতে নুসিরাত শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর হামলায় হতাহতদের গাজার মধ্য প্রদেশের আল-আওদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াফা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান শরণার্থীশিবিরে আসার ও জাকাউট পরিবারের বাসভবনে বোমাবর্ষণ করেছে, যার ফলে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন বেসামরিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজার উত্তরে ইসরায়েলি হামলায় ৫০টি বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১০টি মৃতদেহ বের করেছে।

এদিকে গাজায় চলমান সহিংসতায় নিহত দুই ইসরায়েলি সেনার পরিচয় জানিয়েছে আইডিএফ। তাদের নাম দেওয়া হয়েছিল স্টাফ সার্জেন্ট আশচালউ সামা এবং সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস বা ব্র্যান্ডেস। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, সামা ১৪ নভেম্বর আহত হন এবং শনিবার মারা যান। গতকাল শনিবার যুদ্ধে নিহত হন ব্র্যান্ডেস।

গাজায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়তে পারে: বাইডেন

গাজায় চলমান রয়েছে চারদিনের যুদ্ধবিরতি। আর এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) তিনি এ আশাবাদ প্রকাশ করেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নানটুকেট দ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছেন বাইডেন। সেখানেই আয়োজন করা হয়েছিল এই সংবাদ সম্মেলনের।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায় গাজায় চার দিনের যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছে। আমি সকালই ওই অঞ্চলের অনেক নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি এবং আশা করছি, এই বিরতির মেয়াদ আরো বাড়বে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঠিক কতদিন বাড়বে তা আমি জানি না। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আরব বিশ্ব যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, এই যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ হ্রাস করতে যেভাবে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করছে, তাতে আশা করা যায় যে শিগগিরই সেখানে যাবতীয় সংঘাতের অবসান আমরা ঘটাতে পারব।’

সূত্র-দ্য গার্ডিয়ান

নোবেলের সাথে তার কোনপ্রকার বিয়ে হয়নি-আরশি

ফারজান আরশি  বুধবার নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

ফেসবুককে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে নোবেলের বিরুদ্ধে তাকে জোর করে মাদক সেবন করানোর অভিযোগ এনে ফারজান বলেন, নোবেল জোর করে নেশা করিয়ে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলা তুলে। নোবেলের সাথে তার কোনপ্রকার বিয়ে হয়নি এবং কোন সম্পর্কও নেই। এ বিষয়ে ডেমরা থানায় জিডিও করেছেন তিনি।

বুধবার বিকেলে ফেসবুকে ফারজান আরশি জানান, ‘আমি এখন এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি যে আমার সবকিছু স্বাভাবিক নেই। আমি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছি তারপরও আপনাদের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করছি সবকিছু ক্লিয়ার করার জন্য। আমি খুলনায় বিভিন্ন ব্লগ করে থাকি, সেজন্য একটি ভিডিও কন্টেন্ট বানানোর উদ্দেশ্যে নোবেলের বাড়ি গোপালগঞ্জ যাই। আমার সঙ্গে আমার এক বান্ধবী ও ছিলো। ওখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অনঅন্যরকম হয়ে যায়। নোবেল তার মায়ের সামনেই আমার গলায় ছুরি ধরে এবং আমার ফোনটি কেড়ে নেয় এবং জোর করে আমাকে ঢাকায় তার বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে বিভিন্ন ড্রাগ জোড় ধরে সেবন করায় এবং মারধর করে। আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ডেমরা থানায় আমাকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে একটা জিডি করায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে আমার বাবা এবং কাজিন উদ্ধার করতে গেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি নোবেলের কথা মত ভয়ে পুলিশকেও মিথ্যে বলি তখন আমার শরীরে ড্রাগ পুশ করাছিলো। পরে গোপালগঞ্জ থেকে আমার পরিবার আমাকে উদ্ধার করে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি প্রসঙ্গে ফারজান বলেন, ‘নোবেল জোর করে নেশা করিয়ে আমাকে দিয়ে উক্ত ছবিগুলা তুলেছে। নোবেলের সাথে আমার কোনপ্রকার বিয়ে হয়নি এবং কোন সম্পর্ক ও নেই। আমি পরিবেশ এবং পরিস্থিতির স্বীকার।’

সব শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবার খুব ভয়ভীতির মধ্যে আছি। আমি কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা চাচ্ছি। আমি একটি মেয়ে আমি আমার পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই।’

জিডির বিষয়ে ঢাকা মহানগর ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার মধুসূদন দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেশ ক’দিন আগে ফারজান আরশির বাবা থানায় এসে মৌখিভাবে জানান তার মেয়েকে গায়ক নোবেল জোর করে তুলে এনেছেন। তবে তিনি লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। পরে ফারজানা আরশি এসে জানান, তার বয়স ২২ বছর তাকে নোবেল জোর করে তুলে আনেনি। তিনি স্বেচ্ছায় নোবেলের সঙ্গে এসেছে। কিন্তু উভয় পক্ষের কেউ আমাদের কাছে লিখিত কিছু জানাননি।

পরে ফারজান আরশির আজকের স্ট্যাটাসে নোবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্র ধরে কোনো ব্যবস্থা পুলিশ নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অবশ্যই আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে ২৫ জিম্মি ফিরল ইসরায়েলে, মুক্তি পাচ্ছেন ৩৯ ফিলিস্তিনিও

হামাসের জিম্মি করা একদল বন্দীর বিনিময়ে মোট ৩৯ ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিচ্ছে ইসরায়েল। আজ শুক্রবার ইসরায়েলি কারাগার থেকে তাঁদের মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কাতারের মধ্যস্থতায় চার দিনের যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস।

এরই মধ্যে ১৫০ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তির শর্ত অনুযায়ী আজ ২৫ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের মধ্যে ১২ জন থাইল্যান্ডের নাগরিক, বাকিরা ইসরায়েলের। ইসরায়েল জানিয়েছে, এই জিম্মিদের সবাই দেশে ফিরেছেন।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়া থেকে হত্যাচেষ্টা পর্যন্ত নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, রেড ক্রসের বাস পশ্চিম তীরের ওফের কারাগারে পৌঁছে গেছে, যেখানে ২৪ নারী ও ১৫ শিশুকে মুক্তি দেওয়া হবে। তাঁদের পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি সামরিক চেকপয়েন্টে স্থানান্তরিত করা হবে এবং এরপর বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে বলে ইসরায়েলের কারা পরিষেবা থেকে জানানো হয়।

৩০০ নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দীদের মধ্যে থেকে এ ৩৯ জন বন্দীদের বাছাই করা হয়েছে। এ তালিকার চার ভাগের এক ভাগ বন্দীদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। বেশির ভাগকেই রিমান্ডে আটকে রাখা হয়েছে এবং বিচারকার্য শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। এ তালিকার বেশির ভাগই শিশু, অর্থাৎ ৪০ শতাংশেরই বয়স ১৮–এর নিচে। এর মধ্যে এক কিশোরী ও ৩২ জন নারীও রয়েছেন।

৩৯ বন্দীর পরিবার তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নিকটবর্তী চেকপয়েন্টে সমবেত হতে শুরু করেছেন।

রামাল্লাহর কাছে বেইতুনিয়া চেকপয়েন্টে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র টিয়ার গ্যাসের গন্ধ। চেকপয়েন্টে জড়ো হতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। এর আগে জড়ো হওয়া মানুষের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে ইসরায়েলি সেনারা।

সমবেত হওয়া কয়েকজন তরুণ সেনাদের লক্ষ্য করে পাল্টা পাথর ও টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার ছুড়ে মারে।

চেকপয়েন্টে এখন অস্বস্তিকর স্তব্ধতা বিরাজ করছে। সময়ের সঙ্গে ভিড় বাড়ছে এবং তাঁরা ফের চেক পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ভিড়ের মধ্যে থাকা মোহাম্মদ খাতিব বিবিসিকে বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য একটি আশার আলো। হতে পারে এ যুদ্ধবিরতি চলমান থাকবে ও মানুষ হত্যা থেমে যাবে। হামাস বাহিনী জিম্মি করা ছাড়াই এটা ঘটলে আমরা খুশি হতাম, কিন্তু এ ছাড়া ইসরায়েল এ মানুষদের মুক্তি দিত না।’

সাবেক টঙ্গী পৌর কমিশনার আবুল হোসেনের মৃত্যু

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
সাবেক টঙ্গী পৌরসভার কমিশনার মো. আবুল হোসেন (৬৫) শুক্রবার রাত ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপতাালে চিকিৎসাধীনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ মেয়ে, ১ ভাইসহ বহু আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার সকাল ১০টায় টঙ্গী পাইলট স্কুল এÐ গার্লস কলেজ মাঠে মরহুমের জানাযা নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
মরহুম আবুল হোসেন সাবেক টঙ্গী পৌরসভার চার বার নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, সাবেক টঙ্গী পৌর মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন সরকার, মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মো. শহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

‘যুদ্ধবিরতি সন্নিকটে’ বলে জানাল হামাস

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় এখনো চলছে ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলা। পাশাপাশি চলছে স্থল অভিযানও। এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৩ হাজার ৩ শতাধিক মানুষ। এই অবস্থায় হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সন্নিকটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার পৃথক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজ মঙ্গলবার। পরে তিনি তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধবিরতির খুব সন্নিকটে।’ রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতেও তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল তাতে হামাস সায় দিয়েছে।

ইসমাইল হানিয়ার ওই বিবৃতিতে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে হামাসের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, মূলত এই যুদ্ধবিরতি কত দিন স্থায়ী হবে, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে গাজায় কী পরিমাণ এবং কীভাবে সহায়তা পাঠানো হবে একই সঙ্গে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্ত করার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

হামাস কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রাশিক বলেছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই মূলত নারী ও শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করবে কাতার। উল্লেখ্য, হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্ত পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে দেশটির ২৪০ জন নাগরিককে জিম্মি করে আনে।

আল-রাশিক জানিয়েছেন, জিম্মি মুক্তির বাইরেও যুদ্ধবিরতির সময়সীমা, গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া, আহত গাজাবাসীকে চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই আলোচনা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখনো অনেকটাই অনড়।

আল-রাশিক জানান, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে গাজা এবং ফিলিস্তিনের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। কারণ, ফিলিস্তিনের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীই এই যুদ্ধবিরতির শর্তের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।