বোমায় নিহতের আগে যা লিখে গেলেন ফিলিস্তিনি কবি হিবা

বোমা হামলায় মারা গেছেন ফিলিস্তিনি ঔপন্যাসিক ও কবি হিবা আবু নাদা। চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ২০ অক্টোবর গাজার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত নিজ বাসভবনেই নিহত হয়েছেন তিনি। ‘দার দিওয়ান’ হিবা আবু নাদার আলোচিত একটি বইয়ের নাম। এই বইটির ইংরেজি নামের বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘মৃতের জন্য অক্সিজেন নয়’।

মাত্র ৩২ বছর বয়সেই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রভাবশালী কবি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে পেয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের সম্মানজনক শারজা পুরস্কার। তবে মৃত্যুর পরই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আরও বেশি প্রভাব সৃষ্টি করেছেন হিবা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাঁকে নিয়ে চলছে শোকের মাতম। অনেকেই তাঁর লেখা কবিতা পোস্ট করছেন। মৃত্যুর পর তাঁর ভাইরাল হওয়া একটি কবিতার লাইনগুলো এমন—

‘আমরা এখন সপ্তম স্বর্গে
সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন এক শহর।
রক্তাক্ত কাপড়ে এখানে চিৎকার করছে রোগী আর চিকিৎসকেরা।
শিক্ষকেরা শিশুদের ওপর আর রাগছে না,
পরিবারগুলোরও নেই কোনো দুঃখ, নেই ব্যথা।
ক্যামেরায় স্বর্গের ফটো তুলছে রিপোর্টাররা।
আর কবিরা, যারা অমর প্রেমের গান গায়—
সবাই গাজার বাসিন্দা।
স্বর্গে আরেক গাজা বানাচ্ছে তারা
যে গাজায় নেই কোনো নিষেধাজ্ঞা।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাক্স-এ হিবা আবু নাদা তাঁর সর্বশেষ টুইট করেছিলেন ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরদিন গত ৮ অক্টোবর রাতে। গাজায় ইসরায়েলের তীব্র বোমা হামলার সেই রাতে নিজের মাতৃভাষার অক্ষরে হিবা লিখেছিলেন—‘গাজার রাত রকেটের আভা ছাড়া অন্ধকার, বোমার আওয়াজ ছাড়া শান্ত, প্রার্থনার শান্তি ছাড়া ভয়ংকর, শহীদদের নূর ছাড়া কালো। শুভ রাত্রি, গাজা।’

নেতানিয়াহুর ছেলে কোথায়—প্রশ্ন ইসরায়েলি সেনাদের

গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা হিসেবে নাম লিখিয়েছে ইসরায়েলের প্রায় চার লাখ তরুণ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে কেন আমেরিকায় অবস্থান করছে—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তরুণ যোদ্ধাদের মধ্যে।

ভারতীয় এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাড়ি জমিয়েছেন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর। যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই সম্প্রতি ৩২ বছর বয়সী ইয়াইরের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে—মায়ামির সমুদ্র সৈকতে দারুণ সময় উপভোগ করছেন নেতানিয়াহুর পুত্র। এই ছবিই এখন ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে ইসরায়েলিদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন—দেশের মানুষেরা যখন হামাসের সঙ্গে লড়াই করতে বাড়ি ছেড়েছে, ইয়াইর তখন মায়ামিতে জীবনকে উপভোগ করছেন।

এই বিষয়ে ইসরায়েলের উত্তর অংশে সম্মুখ যোদ্ধাদের একজনের সঙ্গে কথা বলেছিল দ্য টাইমস। স্বেচ্ছাসেবী ওই যোদ্ধা বলেন, ‘আমি যখন সম্মুখ যুদ্ধে; ইয়াইর তখন মায়ামির বেলাভূমিতে তার জীবনকে উপভোগ করছে। আমরাই কাজ ছেড়ে, পরিবার ও সন্তানদের ছেড়ে দেশ ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়ে এসেছি। এই পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তারা কিন্তু আসেনি।’

গাজা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানে দায়িত্ব পালনরত আরেক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘যে রাজ্য থেকে আমি এসেছি সেখানে আমার চাকরি ছিল, আমার পরিবার আছে। জটিল এই সময়ে আমার দেশ ও মানুষদের বাদ দিয়ে সেখানে থেকে যাওয়ার মতো কোনো উপায় ছিল না আমার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কোথায়? তিনি ইসরায়েলে নেই কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে আদর্শ সময়। আমাদের প্রত্যেকের এখন এখানেই অবস্থান করা উচিত, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ছেলেরও।’

পেশায় পডকাস্টার ইয়াইর নেতানিয়াহুর তৃতীয় স্ত্রী সারার গর্ভে জন্ম নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য ইয়াইর প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেন। ‘ইসরায়েল থেকে সব মুসলিমের চলে যাওয়া উচিত’—এমন মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৮ সালে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ব্লক করেছিল ফেসবুক। আরেক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘মানুষরূপী এই সব দানবদের সঙ্গে কখনোই শান্তি স্থাপন হবে না; ১৯৬৪ সাল থেকে যারা নিজেদের ফিলিস্তিনি বলে আসছে।’

ইসরায়েলে বিনা কারণে হামলা করেনি হামাস: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘হামাসের হামলাগুলো বিনা কারণে ঘটেনি।’ তিনি যোগ করেন, ৫৬ বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

আরব আমিরাতভিত্তিক দ্য ন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়ে এসব মন্তব্য করেছেন গুতেরেস।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উদ্দেশে গুতেরেস মত দেন, ফিলিস্তিনিদের অভিযোগগুলো যেমন হামাসের আক্রমণের বৈধতা দিতে পারে না, তেমনি হামাসের আক্রমণের জন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকেও বৈধতা দেওয়া যায় না।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বেসামরিক নাগরিকদের সম্মান ও সুরক্ষার মৌলিক নীতিগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

ফিলিস্তিনিদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘তাদের ভূমিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসতি দ্বারা গ্রাস করা হচ্ছে এবং সহিংসতায় জর্জরিত তারা, তাদের অর্থনীতি স্তব্ধ, মানুষেরা বাস্তুচ্যুত এবং তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের দুর্দশার রাজনৈতিক সমাধানের আশাও লোপ পেয়েছে।’

গাজায় বর্তমানে যে পরিমাণে সাহায্য পাঠানো হচ্ছে, তাকে ‘প্রয়োজনের সমুদ্রে এক বিন্দু জল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, গাজায় খুব দ্রুত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হোক।’

গুতেরেস জানান, গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের যে স্পষ্ট লঙ্ঘন হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি গভীরভাবে অবগত আছেন। তিনি দুই পক্ষের প্রতিই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।

আঙ্কারাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান এরদোগান মিত্রের

ইসরাইল-ফিলিস্তিন চলমান যুদ্ধে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন একেপার্টির শক্তিশালী মিত্র ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির নেতা ডেভলেট বাহচেলি।

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইল যদি অবরুদ্ধ গাজার ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে এ যুদ্ধে আঙ্কারার হস্তক্ষেপ করা উচিৎ।

রোববার (২২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির নেতা ডেভলেট বাহচেলি বলেন, গাজাকে রক্ষা করা আমাদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার। ঐতিহাসিক, মানবিক ও ধর্মীয় কারণেও গাজায় রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসা উচিৎ। তাই গাজা রক্ষার স্বার্থে আঙ্কারাকে অবিলম্বে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা চার হাজার অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে ঘোষণা করে। এর প্রতিরোধে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল।

এক বিবৃতিতে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ বলেন, গত শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলে পাঁচ হাজার রকেট বর্ষণের মাধ্যমে ‘অপারেশন আল-আকসা স্ট্রম’ শুরু হয়েছে। এ সময় ইসরাইল গাজা থেকে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে।

বস্তুত, ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম এত বড় মাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে।

সূত্র : আলজাজিরা

গাজায় ইসরাইলের হামলায় নিহত ৫০০০,ইসরাইলের ২ সামরিক ঘাঁটিতে হামাসের ড্রোন হামলা

দখলদার ইসরাইলের দু’টি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) দলটির সশস্ত্র শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড এক টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আল-কাসসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, ইসরাইলের হাতজারিম ঘাঁটিতে অবস্থিত বিমান বাহিনীকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে হামাস। একইসাথে তসলিম সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সিনাই বিভাগের সদর দফতরেও তারা হামলা চালায়।

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রেডিও গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী নির ওজ ও এইন হাবেসোর দক্ষিণে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন অনুপ্রবেশের সতর্কতা নিশ্চিত করেছে।

রেডিওতে বলা হয়েছে, গাজা সিটি থেকে আক্রমণের মধ্যে সাইরেন শোনা গিয়েছিল।

অপরদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রামাল্লার নিকটবর্তী জালাজোন শরণার্থী শিবিরে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় শতাধিক ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনকে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমতীরে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১২ শতাধিক ফিলিস্তিনি গ্রেফতার হয়েছে। আর চলমান ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিন নিহত হয়েছে ৫০০০  অধিক।

সূত্র : আলজাজিরা

গাজায় নতুন সরকারের ফন্দি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গাজায় জাতিসংঘ ও আরব সরকারগুলোর সমর্থনে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের কথা ভাবছে। শনিবার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সরকারের আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, পরিকল্পনাগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের স্থল অভিযানের সফলতাসহ ভবিষ্যতের ঘটনাবলির ওপর নির্ভর করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কার্যকরভাবে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে, এর জন্য আঞ্চলিক আরবদেশগুলোর অংশগ্রহণেরও প্রয়োজন হবে, যা সুরক্ষিত করা কঠিন হতে পারে। আরবদেশগুলোকে সঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে মন্তব্য করে সিআইএর একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক উইলিয়াম উশার ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ‘আরবদেশগুলো কিভাবে ঝুঁকি গ্রহণ করবে এবং একে অপরের সঙ্গে কাজ করবে তাতে একটি বড় পরিবর্তন প্রয়োজন।’ ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে আকস্মিক আক্রমণ শুরুর পর দুই পক্ষের হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটিকে ‘চূর্ণ ও ধ্বংস’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের তিন ধাপের রূপরেখা দিয়েছেন। তার মতে, প্রথমটিতে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এরপর গাজায় প্রতিরোধের জায়গাগুলো নির্মূল করার জন্য কম তীব্রতার লড়াই হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের দায়িত্ব প্রত্যাহার এবং একটি নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।একই সময়ে ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড বৃহস্পতিবার পরামর্শ দিয়েছেন, সংঘাত শেষ হওয়ার পর গাজার জন্য সর্বোত্তম সমাধান হবে এটিকে পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়া, যা ২০০৭ সালে হামাস কর্তৃক ছিটমহল থেকে উৎখাত হয়েছিল। এদিকে ব্লুমবার্গ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার কিছু ইউরোপীয় মিত্র হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির জন্য আরো সময় পেতে স্থল অভিযান স্থগিত করতে ইসরাইলকে চাপ দিচ্ছে। সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে হামাস প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করেছে। একই দিনে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, হামাস দুই আমেরিকান জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। ওয়াশিংটনও স্থল অভিযানের পরিকল্পনার ওপর অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছে এই আশঙ্কায় যে গাজায় সর্বাত্মক আক্রমণ একটি বৃহত্তর সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত লেবাননভিত্তিক ইসলামী সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে জড়িয়ে ফেলতে পারে। আরটি।

গাজায় ঢুকে সামরিক যান রেখে পালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা,হামাসের হামলায় নিহত ১আহত ৩

গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস একটি ইসরাইলি স্থল অভিযান রুখে দেয়ার দাবি করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও স্বীকার করেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি অভিযানকালে হামাসের নিক্ষেপ করা ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তাদের এক সৈন্য নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছে।

হামাসের কাসসাম ব্রিগেডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করে ইসরাইলি বাহিনীকে ইসরাইলের ভেতরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এক ইসরালি সৈন্য নিহত হয়েছে। আর তিনজন আহত হয়েছে। এদের একজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। অপর দুজনের আঘাত সামান্য।

ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, গাজার খান ইউনিস এলাকায় হামাস বন্দীদের অবস্থান শনাক্ত এবং ‘সন্ত্রাসী অবকাঠানো’ ধ্বংস করার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছিল।

টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ইসরাইলিদের লাশের সন্ধানে সামরিক বাহিনীর অনুসন্ধানের অংশ ছিল এই অভিযান। একইসাথে তারা আসন্ন স্থল অভিযানের জন্য এলাকাটি পরিষ্কার করতে গিয়েছিল।

এতে আরো বলা হয় যে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, একটি ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র একটি ইসরাইলি ট্যাংক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং যানে আঘাত হানে। সৈন্যরা সন্ত্রাসী এলাকায় গোলা নিক্ষেপ করে জবাব দেয়। হামাস এই হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
নিহত সৈন্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আল জাজিরার তারেক আবু আজজুম গাজার খান ইউনিস থেকে জানান, ইসরাইল কয়েক দিন ধরে যে স্থল হামলার কথা বলে আসছিল, এটি ছিল তারই অংশবিশেষ।

তিনি বলেন, গাজায় প্রবেশের এসব চেষ্টা ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা প্রতিহত করছে। তারা সম্ভব যেকোনো উপায়ে ইসরাইলিদের প্রতিহত করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি ‘সত্যিই নাটকীয়।’ তিনি আরো বলেন, গাজার ভেতরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই ‘অনিশ্চয়তাপূর্ণ।’

আল জাজিরার মোহাম্মদ জামজুম অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেম থেকে বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ইসরাইলি সৈন্য নিহত হওয়াটাকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘খুবই কঠোরভাবে’ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভেতরে হামাস অপ্রত্যাশিত অভিযান চালালে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এর পর থেকেই গাজার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তারা কয়েক দিন ধরেই স্থল হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

সূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল

ইসরাইরাইলি হামলায় হারাতে হলো গোটা পরিবার

 ইসরাইলি হামলায় পরিবার হারিয়ে এবং বরাতজোরে নিজে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন গাজার বাসিন্দা জামাল আর-দুরার। তার কাহিনী মঙ্গলবার উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার নানা সংবাদমাধ্যমে।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের রকেট হানা এবং সীমান্ত পেরিয়ে হামলার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে গাজায় চলছে ইসরাইলি সেনার হানা। বিমান থেকে টন টন বোমা ফেলার পাশাপাশি, ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকের আবাসভূমি ৩৬৫ বর্গকিলোমিটারের জনপদে চলছে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ। সেই হামলাতেই দুই ভাই, ভ্রাতৃবধূ এবং ভাইঝিকে হারিয়েছেন প্রৌঢ় জামাল।
২০০০ সালে গাজায় ইসরাইলি সেনার এমন হামলাই প্রাণ কেড়েছিল জামালের ১১ বছরের ছেলে মহম্মদ আল-দুরা এবং আরও কয়েক জন পরিজনের। হামাসসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি সংগঠনের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (সম্পূর্ণ অভ্যুত্থান)-র ‘জবাব’ দিতে গাজা, জেরুজালেম এবং পশ্চিম জনবসতিতে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করেছিল ইসরাইল পাশাপাশি, স্থলপথেও চলেছিল হামলা। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরাও রেহাই পাননি।-
সে সময় ইসরাইলি সেনার গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল জামালের পুত্রের। ইসরাইলি সেনার গুলিবর্ষণের মুখে পুত্রের প্রাণ বাঁচানোর জন্য জামালের সেই নিষ্ফল প্রচেষ্টার ছবি সে সময় ফিলিস্তিনি জনতার কাছে ‘দ্বিতীয় ইন্তিফাদা’র প্রতীক হয়ে গিয়েছিল।
ছবিতে দেখা গিয়েছিল, গুলি থেকে বাঁচতে পুত্রকে পাশে নিয়ে একটি কংক্রিটের ট্যাঙ্কের আড়াল খুঁজছেন জামাল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই ইসরাইলি গুলিতে বাবার কোলেই ঢলে পড়েছিল মহম্মদ আল-দুরা।
এ বার অবশ্য সেই চেষ্টাটুকুরও সুযোগ পাননি তিনি। আকাশ থেকে নেমে এসেছিল ‘মৃত্যুদূত’। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনীর ছোড়া গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র। মঙ্গলবার গাজার আল আকসা মসজিদ চত্বরে আশ্রয় নেওয়া জামাল বলেন, ‘শুধু আমার দুই ভাই, ভ্রাতৃবধূ আর ভাইঝি নয়, ক্ষেপণাস্ত্রে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে আমাদের পুরো পাড়ার অনেকগুলো পরিবার। মৃত্যু হয়েছে বহু শিশুর।’ ঘটনাচক্রে সে সময় বাড়িতে ছিলেন না তিনি। মঙ্গলবার যুদ্ধের একাদশ দিনে গাজায় নিহত সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিকের সংখ্যা ৩,০০০ পেরিয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর জানাচ্ছে নিহতদের এক তৃতীয়াংশই শিশু।- ইয়াহু নিউজ

গাজায় অন্ধ আইসিসি

 দফায় দফায় বিমান হামলা আর পদাতিক বাহিনীর আর্টিলারি শেলে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের ছোট্ট জেনপদ গাজা। ২৩ লাখ মানুষের অবরুদ্ধ বসতি। পৃথিবীর ইতহাসের সবচেয়ে বড় ‘উন্মুক্ত কারাগার’।  সেই বন্দীশালাতেই নিরীহ-নিরস্ত্র-কয়েদিদের উপর ফুঁসে উঠেছে ইসরাইলের দানব বাহিনী। স্বাধীন ভূখন্ডের দাবিতে বন্দী গাজা এখন মৃত্যুপুরী।

প্রতিদিন শত শত মানুষের মৃত্যুতেও পিপাসা মিটছে না মধ্যপ্রাচ্যের ভূখন্ডগ্রাসী এ ভয়ংকর হায়নার। গত ১৩ দিনে ৩ হাজার ৭৮৫ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল বাহিনী। এর মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জনই শিশু! নারী ১ হাজার, বয়স্ক ১২০ জন। আজও হামলা হবে। আরও মরবে। রাত পোহাতে পোহাতে হয়ত দ্বিগুন হবে এ সংখ্যা।

বিষ্ময়টা এখানেই! গাজায় এত মৃত্যুতেও চোখ খুলছে না আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)।  মাত্র ১৩ দিনে  নৃশংস হামলা চালিয়েও এখনও যুদ্ধাপরাধি নয় ইসরাইল! লোমহর্ষক এ হত্যাযজ্ঞে পুরো পৃথিবী কাঁদছে- অথচ এখনও একটি  লাশও দেখতে পাচ্ছে না আইসিসি। বধির হয়ে গেছে বাতাসে ভেসে বেড়ানো অসহায় মানুষ গুলোর গগনবিদারি চিৎকারও কানে ঢুকছে না আইসিসিরি! গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় নি আইসিসি।  রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সময় বেশ সোচ্চার ছিলেন আইসিসি’র প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান। গর্জে উঠেছিলেন একেবারে। আক্রমণের মাত্র চার দিনের মাথায় ঘোষনা দিয়েছিলেন ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করবে আইসিসি। তার কয়েকমাস পরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিল আইসিসি। রাশিয়া জোরপূর্বক  ইউক্রেনের শিশুদের অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ এনছিল তার বিরুদ্ধে। পুতিনের কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভার জন্যও ওয়ারেন্ট জারি করে। রাশিয়ার এই ঘৃন্য অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছিল তদন্তকারীরা । রাশিয়ার বেলায় আইসিসি এমন কঠিন পদক্ষেপ নিলেও ইসরাইলের বেলায় সংস্থাটির অবস্থান নমনীয়।

জেনেভা – ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, ইসরাইলের সেনাবাহিনী গাজার নির্দোষ শিশুদের হত্যা করছে। গত ৭ই অক্টোবর হামলার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ শিশুকে হত্যা করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনায়লের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেছেন, ইসরাইলের বিমান হামলায় প্রায় ১,৩০০ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৬০০ জন। গাজায় নারী-শিশু হত্যা, বেসামরিক ভবন আর হাসপাতালে ইসরাইলের হামলা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এরপরও চুপ আইসিসি। অথচ মানবতা বাঁচিয়ে রাখার সব আন্তর্জাতিক আইনের সীমাও ছাড়িয়ে গেছে ইসরাইল।

আন্তর্জাতিক আইনগুলোতে যুদ্ধরত পক্ষগুলো চাইলেই শত্রুপক্ষের যে কারও ওপর হামলা চালাতে ও হত্যা করতে পারে না। যদি কোনো হামলায় বেসামরিক মানুষের জীবনের ক্ষতি সামরিক অর্জনের চেয়ে বেশি হয় তাহলে সেটাকে আইনের লঙ্ঘন বিবেচনা করা হবে।

যুদ্ধকালে জেনেভা কনভেনশন কার্যকর থাকে। এই আইনে যুদ্ধের নিয়মকানুন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জেনেভা কনভেনশনে সাক্ষরকারী দেশ ইসরাইল। তাই এইদেশটিও আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য। জেনেভা কনভেনশনের ৪ ধারায় পরিস্কার ভাবে লেখা আছে, হাসপাতালে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচ্য।

হেগ কনভেশনের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, হাসপাতাল ও যেসব ভবনে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে অবরোধ ও বোমাবর্ষণের সময় সেসব ভবন এড়িয়ে যেতে হবে, রক্ষা করতে হবে। ইসরাইল এই কনভেনশনের অনুমোদন না করলেও আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইন অনুযায়ী, এই দেশটিও বিধান মেনে চলতে বাধ্য। তবে ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের বিষয়ে করিম খান মুখ খুলেছেন গত সপ্তাহে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আইসিসির এখতিয়ার রয়েছে।

 

উত্তর ইসরায়েলে মুহুর্মুহু রকেট ছুড়ল লেবাননের হিজবুল্লাহ

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা এলাকায় এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের কিরিয়াত শমোনা এলাকায় টানা রকেট নিক্ষেপ করেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। ওই এলাকায় অন্তত ৯টি রকেট ধেয়ে এসেছে। লেবানন থেকে ছোড়া এসব রকেটের মধ্যে চারটিকে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম। তবে একটি রকেট কিরিয়াত শমোনা এলাকার উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে। এতে কোনও হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এ ছাড়াও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের মেটুলা, মালকিয়া এবং মানারা শহরে আরও কয়েকটি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। তবে এসব শহরে হিজবুল্লাহর হামলায় কোনও হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা জানায়নি আইডিএফ।