আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে-মায়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে যারা ব্যাহত করতে যাবে, ষড়যন্ত্র করতে যাবে, আর বিনা ভোটে ক্ষমতায় যেতে চাইবে, তাদের মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিএনপিসহ বিরোধী দলের উদ্দেশে মায়া বলেন, আপনারা ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন আর আমরা বসে থাকব- এটা হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে হতে দেব না। আমাদের একটিই কাজ, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব পরিষদ ‘বিজয়ের ৫২ বছর ও আমাদের উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

পরিষদের সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম মৃধার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, মানুষ দফায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আজ প্রমাণিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে ক্ষমতায় বসাতে হবে। তার কারণ গ্রামগঞ্জ ও সারা দেশে আজ একটাই আওয়াজ, ‘বারবার দরকার, শেখ হাসিনার সরকার’। এটা সঠিক সময়ের সঠিক স্লোগান।

 

9 Shares

জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাময়িক বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দলে ফেরা নিয়ে যে ধন্দের সৃষ্টি হয়েছিল অবশেষে সেটির অবসান ঘটল।  আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত শনিবার আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গে অভিযুক্ত নেতাদের ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই নগরবাসী বিশেষ করে জাহাঙ্গীর সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস শুরু হয়। জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে—এমন খবরে তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিবির তার দলে ফেরার বিষয়টি গুজব ও মিথ্যা বলে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি ছিল, সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা এলও জাহাঙ্গীরকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকেও বিষয়টি এতদিন পরিষ্কার করা হয়নি।  এ নিয়ে নগরবাসীও সংশয়ে ছিলেন।

অবশেষে কেন্দ্রের  নেতারা এই বিষয়ে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যারা অতীতের ভুল স্বীকার করে দলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তাদের সবাইকে সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে নেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেসরকারি একটি টেলিভিশনের একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, যে ভুলে তারা সাজা পেয়েছেন, তার পুনরাবৃত্তি তারা ঘটাবেন না, এই শর্তেই তারা ক্ষমা পেয়েছেন। আগামীতে তারা সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। বলা যাবে যে, তুমি শর্ত ভঙ্গ করেছ।

জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাহাঙ্গীর তো অ্যাপ্লাই (আবেদন) করেছেন। তারটা মওকুফ করা হয়েছে। যারাই আবেদন করেছেন তাদেরকেই ক্ষমা করা হয়েছে। একশর মতো ছিল। অনেকে কলহে-বিবাদে জড়িয়েছে, শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এগুলো ক্ষমা করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশের খবর আসায় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। গত কয়েকদিন ধরে জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যাবর্তনের খবর টক অব দ্য গাজীপুর। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গত কয়েকদিন ধরে জাহাঙ্গীরের বাসায় ভিড় করছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের দলে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল  বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই। আর ক্ষমা তো মহত্তের লক্ষ্মণ।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বলেন, এটা (জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার) আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত। আমার এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আমি দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করব। তৃণমূলকে শক্তিশালী করে সংগঠনের গতি বাড়াতে কাজ করব। আমি স্থানীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনে আধুনিক গাজীপুর গড়ার কাজে হাত দেব। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আমরা সম্মিলিতভাবে শক্তিশালী করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে যা যা করার সবই আন্তরিকতার সঙ্গে করব।

তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গাজীপুর মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের সবাইকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরকে আধুনিক বাসযোগ্য আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তুলব।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয। ২৫ নভেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও দলে ফিরতে কেন্দ্রে আবেদন করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। যার ফলশ্রুতিতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

 শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে অবশেষে জয় পেল আর্জেন্টিনা। ২৩ ও ৩৬ মিনিটে মেসি ও ডি মারিয়ার গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত (২-০) গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের অপেক্ষায় ছিল আর্জেন্টাইনরা।

এরপর মাত্র দুই মিনিটে ২ গোল করে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়ার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে গোল করে (১০৮ মিনিটে) আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে (১১৮ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে ফের সমতায় (৩-৩) ফেরান এমবাপ্পে।

১২০ মিনিটের খেলা ৩-৩ ড্র হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে তৃতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

এটা ছিল ফ্রান্সের চতুর্থবার বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ১৯৯৮ সালের পর ২০১৮ সালে শিরোপা জিতে নেয় ফরাসিরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পেদের।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এ নিয়ে ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাতিন আমেরিকান দলটি।

রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয় ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটাল আর্জেন্টাইনরা।

এর আগে ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয় সন্তুষ্ট থাকে আর্জেন্টিনা।

রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে খেলার ২৩ মিনিটে ডি মারিয়াকে ডি বক্সের মধ্যে ফ্রান্সের ফুটবলার উসমান দেম্বেল ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। চলতি আসরে এটি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ষষ্ঠ গোল।

৩৬তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইনজুরি থেকে ফেরা ডি মারিয়া। তার করা গোলেও মেসির অবদান রয়েছে।

মাঝমাঠে মেসি ছোট্ট এক সুন্দর টোকায় পাস বাড়ান ডান দিকে, বল ধরে হুলিয়ান আলভারেস এগিয়ে গিয়ে সামনে বাড়ান মাক আলিস্তেরকে। তার পাস বক্সের বাঁ দিকে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শট নেন ডি মারিয়া। ঝাঁপিয়ে পড়া ফ্রান্সের লরিসকে ফাঁকি দিয়ে বল খুঁজে নেয় ঠিকানা।

৭৮ মিনিটে কুলো মুয়ানিকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ওতামেন্দি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে বিশ্বকাপে নিজের ৬ষ্ঠ গোলটি করেন এমবাপ্পে।

এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার গোল করেন এমবাপ্পে। ৮১ মিনিটে দুর্দান্ত ভঙ্গিতে গোল করে দলকে ২-২ এ সমতায় ফেরান এই পিএসজি তারকা।

২ গোল করে ৭৯ মিনিট এগিয়ে থেকেও দুই মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা ২ গোল দারুণভাবে খেলায় সমতায় ফেরে ফ্রান্স।

এরপর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৮তম মিনিটে ডান দিক থেকে লাউতারো মার্তিনেসের বুলেট গতির কোনাকুনি শট কোনোমতে ফেরান উগো লরিস, তবে বল হাতে রাখতে পারেননি তিনি। গোলমুখে বল পেয়ে ডান পায়ের টোকায় দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান মেসি।

 

টঙ্গীতে বিকল্প মডেল হাই স্কুলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

  গাজীপুরের টঙ্গীতে বিকল্প মডেল হাই স্কুলের সমাপনি পরিক্ষায় কৃতকার্জ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এরশাদনগর এলাকায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিকল্প মডেল হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফারুক আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। প্রধান  আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষক আবদুল আজিজ টিপু। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ৪৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ,সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নাসরিন আক্তার শিরিন, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী সদস্য ও দৈনিক নওরোজ পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক মনসুর আহম্মেদ। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ জিতবে কে?

দোহার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে আজ রাত ৯টায় কাতার বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনা। লড়াইটা ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকারও। ২০০২ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত চার আসরে ইউরোপের দলগুলোই ঘুরেফিরে বিশ্বকাপ জিতেছে।

দুই ফাইনালিস্টের সামনেই এবার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। ফ্রান্স নামবে তৃতীয় দল হিসাবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে। আর আর্জেন্টিনা নামবে বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়ে। সেই ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর পেরিয়ে গেছে আটটি আসর। শিরোপা আর জেতা হয়নি তাদের।

সেই আক্ষেপ ও মেসির আজন্ম হাহাকার ঘোচাতে প্রয়োজন শুধু একটি জয়। তার বাঁ পায়ের জাদুতে লেখা হয়েছে শয়ে শয়ে গল্প। সমকাল ছাপিয়ে সর্বকালের সেরার প্রশ্নে শুধু একটি জায়গায় আটকে যান মেসি। বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা রয়ে গেছে অধরা। সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে ৩৫ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন মহাতারকা এবার জাদুকরী পারফরম্যান্সের পসরা মেলে ধরেছেন কাতারে। ফাইনালের আগে করেছেন পাঁচ গোল, করিয়েছেন তিনটি।

ট্রফির পাশাপাশি গোল্ডেন বল ও বুটেরও হাতছানি তার সামনে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটও দমাতে পারছে না মেসিকে। বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে চান তিনি শিরোপা জিতেই, ‘এটা আমার সেরা বিশ্বকাপ হবে কি না জানি না। তবে শিরোপা জিততে যা যা করা দরকার, সবই করব। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আর্জেন্টিনার এই দলটা দুর্দান্ত।’

আলভারেজ, মার্তিনেজ, দি পলরা যেন পণ করেছেন, ‘মেসি’ নামের রূপকথার শেষটা কিছুতেই বিয়োগান্তক হতে দেবেন না। আসলে বিশ্বজুড়েই রব উঠেছে, ট্রফিটা এবার মেসির প্রাপ্য। তবে আবেগ একপাশে সরিয়ে রাখলে জোর গলায় কেউ বলতে পারবেন না যে, ট্রফিটা ফ্রান্সের প্রাপ্য নয়। চোটজর্জর দল নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তাদের ফাইনালে উঠে আসার গল্পটাও কম রোমাঞ্চকর নয়।

পিএসজি সতীর্থ মেসির মতো এমবাপ্পেও করেছেন পাঁচ গোল। আড়ালের নায়ক জিরুর গোল চারটি। প্লেমেকারের ভ‚মিকায় নীরবে আলো ছড়াচ্ছেন গ্রিজমান। এতদূর এসে তাই শূন্য হাতে ফিরতে নারাজ ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে, ‘অবশ্যই বিশ্বকাপ মেসির প্রাপ্য। এই একটি ট্রফিই শুধু তার অধরা। তবে ফ্রান্সেরও প্রাপ্য বিশ্বকাপ। আমরা আমাদের দেশকে গর্বিত করতে এখানে এসেছি। আশা করি, আমরাই প্রাপ্যটা বুঝে পাব।’

ফাইনালের আগে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমকে ভাবিয়ে তুলেছে, দলে ফ্লুর সংক্রমণ। অন্তত দলের পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন ভাইরাসে। কাল সংবাদ সম্মেলনে দেশম জানালেন, ‘সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা না হলেই ভালো হতো। এখন আমাদের চেষ্টা সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিয়েই ফাইনালে নামা।’

আজ মহান বিজয় দিবস

আজ মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখ-ের নাম জানান দেওয়ার দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সাল থেকে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬

ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসাবে বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তির দিন আজ।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। যুগ যুগ ধরে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি চোখে আনন্দাশ্রু আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় সামনে। বাঙালি যেন খুঁজে পায় তার আপন সত্তাকে।

৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিকনির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। পাকিস্তানিরাও বসে থাকেনি। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিতে একাত্তরের ২৫ মার্চ ঘুমন্ত জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মুক্তিপাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে দ্রুতই অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে, আরও শানিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শত্রু হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। নয় মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে ডিসেম্বরে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সূচিত হলো মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ ধর্ষিত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।

জাতীয় পর্যায়ে আজ ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তববক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিদেশি কূটনীতিক এবং সাধারণ মানুষ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ‘বিজয়ের আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিগত ৫১ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন তা জাতির পিতা এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে, ইনশাল্লাহ।’

বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রয়েছে নানা আয়োজন।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্য রয়েছে- সূর্যোদয় ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এর মধ্য আজ সকাল সাড়ে ৬টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে বিজয় শোভাযাত্রা এবং ১৮ ডিসেম্বর আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচির মধ্য রয়েছে- আজ সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দের দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ। দুপুরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

টঙ্গীতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ১২ দিনব্যাপী বিজয় মেলা শুরু

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
“শব্দে ও সংকেতে বর্ণিল প্রতিবিম্ব রেখে যাই “-এ ¯েøাাগানকে সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে টঙ্গীতে ১২ দিনব্যাপী বিজয় মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গী সরকারী কলেজ মাঠে এ বিজয় মেলার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, টঙ্গীর সভাপতি এড. শওকত আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আতিকের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ” মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যয় ও ত্যাগ ” শীর্ষক বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক মঞ্জুরুল হক ও বিজয় মেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক শেকানুল ইসলাম শাহী।
বিজয় মেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক শেকানুল ইসলাম শাহী জানান, বাঙালি সংস্কৃতির প্রসার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নের লক্ষে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিজয় মঞ্চে প্রতিদিন বিষয় ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে ও পরে জোটভুক্ত সংগঠনগুলো নাটক, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। বিজয় মেলা উপলক্ষে টংগীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও শিল্পীদের মাঝে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত অভ্যর্থনা উপ-কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান ওবায়দুল কাদের। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

এর আগে আজ বিকেলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরীও গণমাধ্যমকে একই কথা জানান। তিনি জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে মেট্রোরেলের উদ্বোধন করবেন।

জানা গেছে, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলমান। এরমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করা হবে ২৮ ডিসেম্বর। আগারগাঁও থেকে যাত্রী পরিবহনে মেট্রো স্টেশন এলাকায় বিআরটিসির ডিপো তৈরির কাজ চলছে। যাত্রীদের চাপ সামাল দেবে বিআরটিসির বাস সার্ভিস।

পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে: ‌ফারদিনের বাবা

বুয়েটছাত্র ফারদিন নূর পরশকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন তিনি।

ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলেরা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। সব ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে চলতে পারা আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। ঘটনার দিন বুয়েটের উদ্দেশে বের হওয়ার আগে সে চুল কেটেছিল এবং শেভও করেছিল। আত্মহত্যার আগে কি কেউ চুল কাটে বা শেভ করে?

ফারদিনের বাবা বলেন, ‘আমি ফারদিনের লাশ দেখেছি, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যই শুরু থেকে নানা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বিভ্রান্ত করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইদের আমি অনুরোধ করে বলছি- আপনারা আমার সঙ্গে সুলতানা কামাল ব্রিজে চলেন আমি ব্রিজ থেকে লাফ দেব। সেখান থেকে পড়লে কতটা আঘাত লাগে আপনারা দেখবেন।’

বুয়েট প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ তিনি বলেন, ‘বুয়েটের ভিসি এবং প্রশাসন কি জানতেন, ফারদিন আত্মহত্যা করেছে যে কারণে তিনি আমার পরিবারকে সান্ত্বনা পর্যন্ত দেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সঙ্গে দেখাও করেননি। আমার ছেলে বুয়েটে ভর্তি না হলে এমন পরিণতি হত না।’

ডিবির তদন্তের বিষয়ে নারাজি দেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফারদিনের বাবা বলেন, ‘এরপরও কি আর না রাজি দিতে হবে?’

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ফারদিনকে কেউ হত্যা করেনি। তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও দেখা হয়।

গত ৪ নভেম্বর রাত থেকে নিখোঁজ হন ফারদিন নূর পরশ। এর তিনদিন পর ৭ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

মরদেহ উদ্ধারের দুদিন পর ১০ নভেম্বর ফারদিনের বান্ধবী ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী আমাতুল্লাহ বুশরাসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে রামপুরা থানায় মামলা করেন ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন। সে মামলায় বুশরাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধারের পর র‌্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তখন আলোচনায় আসে মাদক কারবারিদের সঙ্গে ফারদিনের সম্পর্ক ছিল। র‌্যাব দাবি করে, ফারদিনকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তিতে মাদক কারবারিরা খুন করেছে। তখন ডিবি পুলিশ দাবি করে ফারদিন চনপাড়ায় যাননি।

২৩৯ আরোহী নিয়ে বোয়িং ৭৭৭ ধ্বংস করেছিলেন চালকেরাই!

আট বছরেরও বেশি আগে ২৩৯ জনকে নিয়ে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিল মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, বোয়িং ৭৭৭ বিমানটিকে ধ্বংস করেছিলেন তার চালকেরাই। ওই বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে যে নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা পরীক্ষার পর তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বোয়িং ৭৭৭ বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার নাম করলে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ প্রসঙ্গ উঠে আসে। ওই এয়ারলাইন্সের ইতিহাসেও এটি অন্যতম বড় দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়।
২০১৪ সালে ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। আকাশে ওড়ার প্রায় ৩৮ মিনিট পর সেটির সাথে যোগাযোগ করেছিল এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)। ওই সময় বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগরের উপর দিয়ে উড়ছিল। এর কয়েক সেকেন্ড পর বিমানটির সাথে এটিসি-র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঘণ্টাখানেক পর যদিও মালয়েশিয়া সেনাবাহিনীর রাডারে ধরা পড়েছিল বিমানটি। তবে ওই সময় তা পরিকল্পিত পথে এগোচ্ছিল না। বরং তা পরিকল্পিত পথ থেকে পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মালয় উপদ্বীপ এবং আন্দামান সাগর অতিক্রম করছিল বিমানটি।

সেনাবাহিনীর রাডার ছেড়ে সরে যাওয়ার পর চিরতরে গায়েব হয়ে যায় ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। বিমানে তখন ছিলেন ২২৭ জন যাত্রী এবং চালক মিলিয়ে ১২ কর্মী।

বিমানটির খোঁজে দক্ষিণ চীন সাগর এবং আন্দামান সাগরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়া সরকার। তবে ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর কিছু অংশ পাওয়া গেলেও বিমানটির ধ্বংসাবশেষের বেশির ভাগ মেলেনি। অসামরিক বিমান পরিবহণের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়সাপেক্ষ এই অভিযানকে কার্যত ব্যর্থই বলা চলে।

উপগ্রহের মাধ্যমে বিমানের স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থার পরীক্ষায় ইঙ্গিত, বিমানটি হয়তো ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে ভেঙে পড়েছিল। যদিও এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে যুক্তিগ্রাহ্য তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসেনি।

আট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নয়া দাবি উঠছে। ২৫ দিন আগে মাদাগাস্কারের এক মৎস্যজীবীর ঘরে ওই বিমানের একটি ল্যান্ডিং গিয়ার ডোর পাওয়া গেছে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাগরের পানিতে পড়ে যাওয়ার সময় বোয়িং ৭৭৭ বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ার নিচু করা ছিল। তা থেকেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হয়তো ইচ্ছা করেই বিমানটিতে দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার রিচার্ড গডফ্রের মতোই ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর ধ্বংসাবশেষ সন্ধানী আমেরিকার ব্লেইন গিবসনের দাবি, বিমানটিকে ইচ্ছা করে ধ্বংস করেছিলেন এর চালকেরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ওই বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটি পরীক্ষার পর সর্বপ্রথম ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বিমানটিকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০১৭ সালে মাদাগাস্কারের উপকূলে ওই ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটি দেখতে পেয়েছিলেন টাটালি নামে এক মৎস্যজীবী। ‘ফার্নান্দো’ নামে উপকূলীয় ঝড়ে মাদাগাস্কারের সমুদ্র উপকূলে ভেসে এসেছিল ওই ডোরটি।

ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটি যে মালয়েশীয় বিমানের অংশ, তা নিয়ে কোনো ধারণাই ছিল না টাটালির। বছর পাঁচেক ধরে সেটিকে জামাকাপড় পরিষ্কার করার বোর্ড হিসাবে ব্যবহার করছিলেন মৎস্যজীবীর স্ত্রী।