টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ফ্রান্স

কাতার বিশ্বকাপটি মরক্কোর জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করে দেয় আশরাফ হাকিমিরা।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা খচিত পর্তুগালকে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় মরক্কো। তাদের সেই স্বপ্নের যাত্রা থামিয়ে দেয় ফরাসিরা।

বুধবার সেমিফাইনালে বিশ্বকাপের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নেয় মরক্কো। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ভক্ত-সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন আশরাফ হাকিমিরা।

মরক্কোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ২২তম আসরের ফাইনালে ফ্রান্স। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে গত আসরের শিরোপাজয়ী দল ফ্রান্স।

বুধবার দিবাগত রাত ১টায় কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স-মরক্কো। খেলার শুরুতেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাঁ পায়ের দারুণ শটে ম্যাচের ৫ মিনিটে দলকে (১-০) এগিয়ে নেন হার্নান্দেজ। তার গোলে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত প্রতিপক্ষ ফুটবলারের কাছ থেকে গোল হজম করল মরক্কো।

গোল খেয়ে পিছিয়ে পরলেলেও দারুণ খেলে যায় মরক্কো। ১১ মিনিটে ডি বক্সের বাইর থেকে উনাহির দূরপাল্লার শট বা পাশে ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক হুগো লরিস।

১৮ মিনিটে আবারো গোলের সুযোগ পায় মরক্কো। বৌফালের পাস থেকে ডি বক্সে বল পেলেও বা পায়ের দুর্বল শটে গোল করতে ব্যর্থ হন জিয়েচ৷

৩৬ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার এটাকে মরক্কোর রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দেয় এমবাপ্পে। তার গতির কাছে পরাস্ত হন মরক্কোর ডিফেন্ডার।

কিন্তু ফোফানার পাস থেকে দারুণভাবে একা বল পেয়ে গোলবারের বাইরে শট নেন জিরুড।

৪১ নিনিটে গ্রিজম্যানের কর্নার থেকে ভারানের ডান পায়ের শট আবারো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় মরক্কো। কিন্তু এল ইয়ামিকের ওভার হেড কিক গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়, ফলে গোলবঞ্চিত হয় মরক্কো।

প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল পরিশোধে আরো আক্রমণাত্মক খেলে মরক্কো। ৫৫ নিনিটে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দেন মরক্কোর ফুটবলাররা। বৌফাল, এল নাসিরের দুই প্রচেষ্টা রুখে দেন ভারান ও থিও হার্নান্দেজ।

খেলার ৮০ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার এটাক থেকে এমবাপ্পের একক নৈপুণ্যে ডিবক্সের ভেতর শট নিলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল যায় কোলো মুয়ানির কাছে৷ এমন সুযোগ আর তিনি মিস করেননি৷ বদলি হিসেবে নামার ২ মিনিটের ভেতরেই ফ্রান্সের জার্সি গায়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মরক্কো। ৯২ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে মরক্কোর উনাহির শট চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে।

শেষ দিকে আরো কয়েকবার ফ্রান্স আক্রমণভাগে বল নিয়ে ঢুকলেও ফিনিশিংটাই করতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কোকে।

আজ আর্জেন্টিনার সমর্থক ব্রাজিলও!

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল, মাঠের লড়াইয়ে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু মাঠের বাইরে সবাই ঐক্যবদ্ধ, একটাই পরিচয়-তারা লাতিন আমেরিকান। তাইতো আসছে সেমি-ফাইনালের আগে মেসিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাল ব্রাজিল ফুটবল।
চলতি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াই দেখার আশায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। ব্রাজিল আগেভাগে বিদায় নেওয়ায় সেটা আর হচ্ছে না। তাদের ছিটকে দেওয়া ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। আজ রাতে লুসাইল স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে কাতার বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে ম্যাচটি। আগের দিন স্পোর্টস সেন্টাল ব্রাজিলে দেশটির ফুটবল সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফের্নান্দো সার্নে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানান, ‘আমাদের একতা বজায় রাখতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, আমরা সবাই আর্জেন্টাইন। আমি আশা করি, তারা বিশ্ব সেরার ট্রফি দক্ষিণ আমেরিকায় নিয়ে আসবে।’
বিশ্বকাপ শুরুর পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও একইরকম কথা বলেছিলেন, যদি তারা বিদায় নেন তাহলে ব্রাজিলকে সমর্থন দেবে।

 

বিএনপির ১০ দফায় গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে বিএনপি। এর মধ্যে সরকারের পদত্যাগ, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীর মুক্তি ও সাজা বাতিল, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সন্ত্রাস দমন আইন বাতিলের দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে বিএনপি। তবে এসব দাবি ও হুশিয়ারিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতেই বিএনপি এসব করছে বলে ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে সরকারি দলের এমন অবস্থানই জানা গেছে।
এ অবস্থায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াতে পারে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে
আগামী দিনগুলোতে রাজনীতির অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে। তবে সংঘাতের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা কম।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘তারা তাদের কথা বলেছে। এটা নিয়ে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখার কী আছে? তারা দীর্ঘদিন ধরেই এসব কথা বলে যাচ্ছে। তারা বলে যেতে থাকুক। অপোজিশনে থেকে তারা তাদের কথা বলবে, আর আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। এটাই তো গণতন্ত্রের রীতি। আমাদের ময়মনসিংহের ফুলফুরের শামসু ভাই (গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বাবা) বলতেন, ‘বিএনপিরে যা খুশি তাই বলতে দেন। তা না হলে আমরা আন্দোলন করমু কি দিয়া?’ সুতরাং কর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য টনিক মার্কা বক্তব্য বিএনপিকে দিতে হচ্ছে, দিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা জঙ্গিবাদের দল। কারণ, জঙ্গি দমনের জন্য যে আইন করেছে সরকার, তা বাদ দেওয়ার কথা বলেছে তাদের পঞ্চম দফায়। অন্য সব দাবি দিয়েও জনগণের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে বলে আমি মনে করি। এর আগে তো তারা ক্ষমতায় ছিল। তারা এসব কেন বাস্তবায়ন করেনি? আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কবর রচনা করেছেন খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া।’ তিনি বলেন, খালেদা জিয়া একগুঁয়েমি করেছিলেন। তারেক রহমানের যেনতেন আচরণে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে এক কোটি একুশ লাখ ভুয়া ভোটার করা হয়েছিল, (নির্বাচন কমিশনে) দেড় শ জন ছাত্রদলের ক্যাডারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের বয়স বৃদ্ধি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইয়াজউদ্দীনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল। এসব করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কবর রচনা করেছিলেন তারা। সুতরাং এসব কিছুর পর এ দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না।

বিএনপির দাবিগুলোর বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের বিপরীত অবস্থান কি রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে?Ñ এ প্রশ্নে কারও কারও উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার  বলেন, ‘আমি আশাবাদী রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে না। আমার ধারণা, ২০১৪ সালের মতো আরেকটি সংঘাতময় পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার ক্ষমতা এই জাতির নেই। আমার মনে হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলÑ দুই দিক থেকেই এমন শুভবুদ্ধির উদয় হবে। ক্ষমতাসীনরা যেমন যথেচ্ছ আচরণ করতে পারবেন না, তেমনি বিরোধী দলগুলোও ইচ্ছামতো দাবি উত্থাপন করবেন এবং আশা করবেন দাবি পূরণ হবেÑ সেটা হতে পারে না। এমন হলে দুই পক্ষের বাড়াবাড়িতে জাতির যে ক্ষতি, তা বাড়তেই থাকবে। ফলে দুই পক্ষই অধিকার ও দায়িত্বশীলতাÑ এই দুটো বুঝে কাজ করবে। কারণ, আমি মনে করি আমাদের রাজনীতিবিদদের সে পরিপক্বতা আছে।’
শান্তনু মজুমদার আরও বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের মুখের কথায় কোনো আপত্তি নেই। রাজনীতিতে ভাষা প্রয়োগ কখনো বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে; কিন্তু সহিংসতা অন্য জিনিস। আমি মনে করি, কথার খেলা চলুক, কথার কাটাকাটি হোক, কথার মারপ্যাঁচ চলুকÑ কিন্তু কোনোভাবেই যেন সহিংসতার দিকে পা না বাড়ান তারাÑ এটাই চাওয়া। আমি আশাবাদী, এ চাওয়া পূর্ণ হবে।’

বিএনপির ১০ দফার বিষয়ে শান্তনু মজুমদার বলেন, বিএনপির ১০ দফা মূলত এক দফা। সেটা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল। বাকিগুলো বলার জন্য বলা।

ইংল্যান্ডের বিদায়, সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফ্রান্স ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে ইংল্যান্ডের সামনে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ আগে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারলেন না হ্যারি কেইন। পেনাল্টি শটে পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় ইংলিশদের। পরে ২-১ ব্যবধানে জিতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

কাতার বিশ্বকাপে শনিবার আল বায়াত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল।

এদিন ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ করে ইংল্যান্ড। তবে ফিল ফোডেনের জোরাল শট রক্ষণে প্রতিহত হয়।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। আঁতোয়া গ্রিজমানে পাসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ১-০ ব্যবধানে লিড এনে দেন অহেলিয়া চুয়ামেনি।

২৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সে ঢোকার মুখে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে হ্যারি কেইন পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে তারা, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি, ভিএআরেও তেমন কিছু ধরা পড়েনি। তিন মিনিট পর কেইনের জোরাল শট একজনের গায়ে লেগে লক্ষ্যেই ছিল, ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন হুগো লরিস।

বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ডে। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে সমতা পায় দলটি। দুই মিনিট আগে বুকায়ো শাকাকে চুয়ামেনি ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাাঁশি বাজান। সেখান থেকে গোল করেন কেইন।

কিন্তু অলিভার জিরুদের গোলে ফের এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে গ্রিজমানের ক্রসে দারুণ এক হেডে গোল করেন এই স্ট্রাইকার।

তবে সমতায় ফেরার ফের সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পেনাল্টি মিস করে ইংল্যান্ডের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেন সেই কেইন। ম্যাসন মাউন্টকে হার্নান্দেজ ফেলে দিলে রেফারি ভিএআর চেক করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে এবার স্পট কিক থেকে পোস্টের ওপর দিয়ে বল মারেন কেইন।

এরপর দুদল আরও কয়েকটি প্রচেষ্টা চালায়। তবে ২-১ গোলের জয় নিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে তারা মরক্কোর বিপক্ষে খেলবে।

 

কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ইতিহাস

কাতার বিশ্বকাপে একের পর এক ইতিহাস গড়েই যাচ্ছে মরক্কো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। যেখানে শুধু নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ব মঞ্চের সেমিফাইনালেই ওঠেনি, প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবেও শেষ চারে জায়গা করে নিল মরক্কো। এর আগে ক্যামেরুন (১৯৯০), সেনেগাল (২০০২) ও ঘানা (২০১০) আফ্রিকার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। এরইসঙ্গে আসর থেকে বিদায় নিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

শনিবার আল থুমামা স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। যেখানে এদিনও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে একাদশে রাখেননি পর্তুগাল কোচ সান্তোস। যদিও ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় দলটি। কিন্তু ব্রুনো ফের্নান্দেসের ফ্রি-কিকে হোয়াও ফেলিক্সের জোরাল হেড রুখে দেন মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো।

সপ্তম মিনিটে হাকিম জিয়াশের কর্নারে ইউসেফ এন-নেসিরির হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। যদিও রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজান।

ম্যাচের ২৬তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পান এন-নেসিরি। তবে জিয়াশের ফ্রি-কিকে তার হেড লক্ষ্যে থাকেনি। এর চার মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে ফেলিক্সের জোরাল শটে বল মরক্কোর জাওয়াদ ইয়ামিকের গায়ে লেগে ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে যায়।

ম্যাচের ৪২তম মিনিটে এক প্রতি আক্রমণে এগিয়ে যায় মরক্কো। ডি-বক্সের বাইরে বাঁদিক থেকে ইয়াহিয়া আতি-আল্লাহর লম্বা ক্রসে দারুণভাবে হেডের মাধ্যমে গোল করেন ইউসেফ এন-নেসিরি। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মরক্কোর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে তিন গোল করলেন।

যদিও বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফিরতে পারত পর্তুগাল। ডান দিক থেকে ফের্নান্দেসের ভলি ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় পর্তুগাল। যেখানে ৫২তম মিনিটে মাঠে নামেন রোনালদো। নেমেই বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণ একটি ক্রসও করেন। তবে সেটি থামিয়ে দেন বোনো।

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে গনসালো রামোসের হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৬৪ মিনিটে ডি–বক্সের বাইরে থেকে ফার্নান্দেজের শট যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। এরপর ৬৮তম মিনিটে ফার্নান্দেজের ক্রসে রোনালদো মাথা ছোঁয়াতে পারলে সমতায় ফিরতে পারতো পর্তুগাল।

খেলার ৮৩ মিনিটে বুলেট গতির এক শট নেন ফেলিক্স। কিন্তু সেই শট দারুণভাবে থামিয়ে দেন বোনো। যোগ করা সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মরক্কো। ওয়ালিদ শেদিরা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তবে ১০ জনের মরক্কোকে ৬ মিনিট পেয়েও আর কাজে লাগাতে পারেনি পর্তুগাল। ফলে পরাজয় বরণ করেই মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে। শেষ হয়ে যায় রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা।

facebook sharing button

ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। সেলেসাওদের কাঁদিয়ে আসরটির সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ক্রোয়েটরা। এদিন ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকে। তবে অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের রেকর্ড গোলে লিড নেয় ব্রাজিল। জয়ের পথেই ছিল তিতের শিষ্যরা। তবে ১১৬ মিনিটে ব্রুনো পেতকোভিচের গোলে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরলে আশা বাঁচে ক্রোয়িশিয়ার। একেই বলে ঘুরে দাঁড়ানো। পরে টাইব্রেকারে জয়ের আনন্দ করে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ৪ শটে গোল করেন যথাক্রমে নিকোলা ভ্লাসিচ, লোভরো মাজের, লুকা মদ্রিচ ও মিসলাভ ওরসিচ। তবে ব্রাজিলের প্রথম শটটি করা রদ্রিগোকে রুখে দেন ক্রোয়েট গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। কাসিমিরো ও পেদ্রো পরের দুটি শটে গোল করলেও চতুর্থ শটে মারকুইনোসর বল গিয়ে পোস্টে বাধা পড়ে। এরই সঙ্গে উল্লাসে মাসে ক্রোয়েশিয়া।

শুক্রবার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। রাত ৯টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

প্রথমার্ধে বলের পজিশন দুদলের প্রায় সমান ছিল। তবে আক্রমণে ব্রাজিলই এগিয়ে ছিল। সেলেসাওরা ৫টি শট করে, যার ৩টি ছিল গোলমুখে। অন্যদিকে ক্রোয়েটরা ৩টি শট করলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি কোনো বল।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ব্রাজিল সুযোগ পায়। তবে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট সহজেই রুখে দেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকভিচ। ১৩তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া। বল পায়ে নিজেদের অর্ধ থেকে প্রায় ডি-বক্স পর্যন্ত চলে যান ইয়োসিপ ইউরানোভিচ। তার বল পেয়ে ক্রস করেন মারিও পাসালিচ। বক্সে ইউরারোভিচের ডামির পর দারুণ জায়গায় বল পেয়ে যান ইভান পেরিসিচ। কিন্তু এদের মিলিতাওয়ের চাপের মুখে তিনি শট রাখতে পারেননি লক্ষ্যে। এ যাত্রায় ব্রাজিল বেঁচে যায়।

খেলার ২০তম মিনিটে পেনাল্টি স্পটের কাছে ভিনিসিউসের শট ব্লক করেন বোর্না সোসা। কয়েক সেকেন্ড পর গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নেন নেইমার।

৪২তম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় ব্রাজিল। নেইমার গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রাজিল। তবে প্রচুর সুযোগ পেয়েও গোল বঞ্চিত হয় দলটি। প্রায় পুরোটা সময় খেলা হলো ক্রোয়েশিয়ার অর্ধে। আক্রমণের ঝাপটায় একের পর এক সুযোগ তৈরি করল ব্রাজিল। কিন্তু গোলমুখে ব্যর্থ হলেন নেইমার-রিচার্লিসন-ভিনিসিয়াসরা।

বিরতির ঠিক পরেই দারুণ একটি সুযোগ পায় ব্রাজিল। তবে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে নেইমারের শট ঠেকান ইয়োস্কো গাভারদিওল।

খেলার ৫৫তম মিনিটে আবার সুযোগ পান নেইমার। এবার রিচার্লিসনের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শট নেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে কাছের পোস্টে তৎপর লিভাকভিচ ফেরান সহজেই।

লুকাস পাকুয়েতার অবিশ্বাস্য ভুলে ৬৬তম মিনিটে গোল পায়নি ব্রাজিল। ডি-বক্সে আলগা পেয়ে যান এই মিডফিল্ডার। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু তাকে পার করতে পারেননি। ১০ মিনিট পর এগিয়ে গিয়ে নেইমারের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও শুরুটা আক্রমণাত্মক করে ব্রাজিল। একের পর এক শট করে যায় তারা। অবশেষে এই অর্ধের যোগ করা প্রথম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন নেইমার। পাকুয়েতার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান পাসে গোলমুখে এগিয়ে যান নেইমার। পরে ক্রোয়েট গোলরক্ষক লিভাকোভিচ এগিয়ে এলে দুরূহ কোন থেকে দারুণ শটে গোলটি করেন নেইমার।

এই গোলে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে কিংবদন্তি পেলেকে ছুঁলেন নেইমার। ১২৪ ম্যাচে ৭৭ গোল করলেন সময়ের সেরা এই তারকা। আর পেলে ৯২ ম্যাচে সমান সংখ্যাক গোল করেছিলেন।

তবে ১১৬তম মিনিটে ব্রুনো পেতকোভিচের অসাধারণ গোলে সমতায় ফিরে ম্যাচ বাঁচিয়ে রাখে ক্রোয়েশিয়া। ওরসিচের কাছ থেকে বল পেয়ে লম্বা শটে আলিসনকে পরাস্থ করেন পেতকোভিচ। এরপরই ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

ডাচদের বিদায় করে সেমিতে আর্জেন্টিনা

কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এ জয়ে ডাচদের বিদায় করে আসরটির সেমিফাইনালে উঠে গেলেন লিওনেল মেসিরা।

রামোঞ্চে ভরপুর ম্যাচে আর্জেন্টিনা দুই গোলে এগিয়ে ছিল। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তনে ২ গোল শোধ দিয়ে ম্যাচে ফেরে ডাচরা। যেখানে নির্ধারিতর ৯০ মিনিট পর যোগ করা দশম মিনিটের শেষ মিনিটে গোল দিয়ে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরে দলটি। পরে অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ায়। তবে সেখানে আর কোনো গোল না হলে রেফারি টাইব্রেকারের বাঁশি বাজান।

টাইব্রেকারে ডাচদের দুটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তিনি নেদারল্যান্ডসের প্রথম দুটি শট নেওয়া ভার্জিল ফন ডাইক ও স্টেভেন বার্গউসের শট আটকে দেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম তিনটি শটে গোল আদায় করে নেন লিওনেল মেসি, লিওনার্দো পারেদেস ও জনজালো মনটিয়েল।

নেদারল্যান্ডসের পরের তিনটি শট থেকে গোল করেন টেনু কুম্পেইনার্স, ওউট ওয়েগওরস্ট ও লুক ডি ইয়ং। তবে এনজো ফার্নান্দেসের করা আর্জেন্টিনা চতুর্থ শটটি ঠেকিয়ে দেন নোপার্ট। কিন্তু শেষ শট থেকে লাওতারো মার্তিনেস গোল করলে উৎসবে মাতে আর্জেন্টি।

শেষ চারে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে বিদায় করা ক্রোয়েশিয়া।

শুক্রবার লুসাইল স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। যেখানে ম্যাচে নেদারল্যান্ডস বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা আক্রমণে আধিপত্য দেখায়।

এ ম্যাচে অষ্টম মিনিটে নেদারল্যান্ডস গোলরক্ষক আন্ড্রিস নোপার্টের বড় ভুলে বিপদে পড়তে বসেছিল নেদারল্যান্ডস। তিনি বক্সে হুলিয়ান আলভারেস থাকা সত্ত্বেও তার পাশ দিয়ে ডান দিকে সতীর্থকে পাস দেন। তবে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড চেষ্টা করেও বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। এ যাত্রায় বেঁচে যায় নেদারল্যান্ডস।

খেলার ২২তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের বাইরে থেকে লিওনেল মেসি শট নিলেন ঠিকই, তবে লক্ষ্যের ধারে কাছেও তা ছিল না। এরপর ৩৩তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নেয় আর্জেন্টিনা। তবে রদ্রিগো দে পলের বক্সের বাইরে থেকে দুর্বল শট যায় গোলরক্ষক বরাবর।

কিন্তু দুই মিনিট পরই উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা শিবির। ঝলক দেখান মেসি। ডান দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণে একটু আড়াআড়ি বাঁ দিকে গিয়ে বাড়ালেন চমৎকার এক রক্ষণচেরা পাস। যেখানে ডি-বক্সের মুখে প্রথম ছোঁয়ায় বল ভেতরে টেনে দ্বিতীয় টোকায় এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন মোলিনা। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার অভিষেক গোল।

বিরতির পরও আক্রমণাত্মক খেলে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মেসির পেনাল্টি গোলে ব্যবধান বাড়া স্কালোনির শিষ্যরা। ডাচ ডি-বক্সে আকুনাকে ডামফ্রিস ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এই গোলে অসাধারণ এক রেকর্ড ছুঁলেন মেসি। কিংবদন্তি গাব্রিয়েল বাতিস্তুতার সঙ্গে তিনি এখন বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। দুজনেই ১০টি করে গোল করেছেন।

তবে ৮৩তম মিনিটে ব্যবধান কমায় নেদারল্যান্ডস। স্টেভেন বার্গউসের লম্বা ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন বদলি নামা ওউট ওয়েগওরস্ট।

পিছিয়ে থাকা ডাচরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আরও এক গোল করে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা ১০ মিনিটের শেষ মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন ওয়েগওরস্ট। আর্জেন্টিনা ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় নেদারল্যান্ডস। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে কম্পিইনার্সের নিচু করে মারা শট পেয়ে গোল করতে কোনো ভুল করনেনি ওয়েগওরস্ট।

পরে রেফারি অতিরিক্ত সময়ের বাঁশি বাজান। কিন্তু এবার কোনো গোল না হলে টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ায়। সেখানেই বাজিমাত করে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনা

গণসমাবেশ বানচাল করতেই হামলা: ফখরুল

বিএনপির গণসমাবেশ বানচাল করার জন্যই নয়াপল্টনে দলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে বিকাল ৩টায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে একজন নিহত ও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

ফখরুল বলেন, আমাদের সমাবেশ বানচাল করার জন্যই এই হামলা। আর যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। এ ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে। আমি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিকেল সাড়ে ৪টায় নয়াপল্টেন আসেন ফখরুল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের গেটেরর সামনে বসে আছেন।

নয়াপল্টনের বিএনপির অফিস থেকে বোমা উদ্ধার: ডিবি

রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কার্যালয় থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ১৬০ বস্তা চাল, খিচুড়ি রান্নার উপকরণ এবং অবিস্ফোরিত ১৫টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশিদ।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হারুন অর রশিদ বলেন, সমাবেশ ১০ ডিসেম্বর, কিন্তু তিন-চার দিন আগেই অবস্থান নেয়ার জন্য পৌনে দুই লাখ পানির বোতল, চালসহ রান্নার উপকরণ নিয়ে এসেছে বিএনপি।

এর আগে বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। বর্তমানে বিএনপি কার্যালয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ছাত্রলীগের সম্মেলন শুরু

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ৩০তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সোয়া ১১টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের নেতারা কাউন্সিলর হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে এসেছেন। সম্মেলন ঘিরে সাজানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। নির্মাণ করা হয়েছে বর্ণাঢ্য ও সুবিশাল নৌকার আদলে প্যান্ডেল।

রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কের পাশে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ছাত্রলীগের পতাকা দিয়েও সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম ও ছবি সম্বলিত অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে ভরে গেছে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা। সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উৎসবের আমেজে সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে প্রবশে করছেন।

সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব পাবে দেশের সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এই সংগঠন। ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’ শেখ হাসিনাই পরবর্তী শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবেন।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই শেষ হয়েছিল ওই সম্মেলন। এর আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি চূড়ান্ত করেন শেখ হাসিনা।

পরে চাঁদাবাজির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা শোভন ও রাব্বানীকে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

পরে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের সভাপতি ও সাধারাণ সম্পাদক করা হয়। এর আগে সম্মেলনের এক বছর পর ২০১৯ সালের ৩১ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে সেদিন যাত্রা শুরু করে ছাত্রলীগ। ৭৪ বছরে ছাত্রলীগের ইতিহাস হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৫৪’র সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমে যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত, ৫৮’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, ৬৬’র ৬ দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া, ৬ দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক শাসকের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা, ৭০’র নির্বাচনে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অসামান্য অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।