ইভ্যালির শামীমার জামিন নামঞ্জুর, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তার জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১৯ অক্টোবর সাইবার ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিলেও আজ (২৬ অক্টোবর) বিষয়টি জানা যায়। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী শামীম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ১৯ অক্টোবর মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। ওইদিন শামীমা আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আলমগীর হোসেন নামে এক গ্রাহক বাদী হয়ে ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী ২০২০ সালের শুরুর দিকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইভ্যালি সম্পর্কে জানতে পারেন। সেখানে ইলেক্ট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কম মূল্যে অফার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাজার মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেখতে পান। তিনি ইভ্যালির অ্যাপসের মাধ্যমে দুটি মোবাইল নম্বর দিয়ে পৃথক অ্যাকাউন্ট খুলেন। নিজের আইডি দিয়ে আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করেন তিনি। আরেকটি আইডি বন্ধুর নামে খুলে ২৩ লক্ষ টাকার বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করেন। তিনি দুই আইডি দিয়ে সর্বমোট ২৮ লক্ষাধিক টাকার অর্ডার করেন এবং বিকাশ/নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করেন। কিন্তু ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ তার অর্ডার করা পণ্যগুলো নির্ধারিত ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি দেয়নি। এমনকি ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও অর্ডার করা পণ্যগুলো বুঝে পাননি তিনি। এ ব্যাপারে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তারা পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা সারা দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কম মূল্যে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

তদন্ত শেষে এ বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির উপ-পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস।

সিত্রাং এখন স্থল নিম্নচাপ, কেড়েছে ১০ জনের প্রাণ

সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে উপকূলে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। এতে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে বিপৎসংকেত কমিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার মধ্যরাতের পর আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের স্বাক্ষরিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অতি দ্রুত অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাতে ভোলার নিকট দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টি বৃষ্টি ঝরিয়ে দ্রুত দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে স্থল নিম্নচাপ আকারে ঢাকা-কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

এতে আরও বলা হয়, মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দমকা বাতাসে সোমবার সারাদেশে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে কুমিল্লায় একই পরিবারের তিনজন, ভোলায় দুজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, নড়াইল, বরগুনা ও ঢাকায় একজন করে মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপূকলে আঘাত হানতে শুরু করেছে সিত্রাং

বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ পটুয়াখালীর কলাপাড়া-খেপুপাড়া উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করে। রাত আটটা নাগাদ ঝড়টির কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া বইছে, হচ্ছে প্রচুর বৃষ্টি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সিত্রাং বড় আকারের ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। এ জন্য তারা তিনটি কারণের কথা বলছে। কারণ তিনটি হলো ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য।

উপকূল পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, নোয়াখালী, ফেনীর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ার থেকে পাঁচ থেকে আট ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় অমাবস্যা থাকায় জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠতে পারে। ফলে দেশের উপকূলের বেশিরভাগ এলাকা ওই জোয়ারে প্লাবিত হবার আশঙ্কা আছে। ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। ঝড়ে বাতাসের গতির চেয়ে জলোচ্ছ্বাসের কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হতে পারে।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এগিয়ে আসছে উপকূলের দিকেই। এর অগ্রভাগ আঘাত করবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট থেকে শুরু করে ফেনী ও নেয়াখালী পর্যন্ত। আর কেন্দ্র পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা জেলায় আঘাত করতে পারে।

তিনি আরও জানান, সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ সন্ধ্যা সাতটা থেকে আটটার মধ্যে উপকূলের দিকে আঘাত হানবে। এর কেন্দ্র বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনে অতিক্রম করবে মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে। এরপর এটি দুর্বল হয়ে ক্রমেই স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, লঘুচাপ শুরুর পর থেকেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেরি করা হয়নি। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোকজনকে বাড়িঘর থেকে আনা হয়েছে ও প্রায় ৭৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। প্রয়োজনীয় খাবার, নগদ টাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলেও জানান, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী।

৯১ থেকে ৯৬ রাজপথে নামলেই বিএনপির হামলা হতো: জাতীয় পার্টি

১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি রাজপথে নামলেই বিএনপির হামলা হতো বলে অভিযোগ করেছেন পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘বিএনপির অভিযোগ, সমাবেশ করলে সরকার সমর্থক ও পুলিশ তাদের ওপর হামলা করছে। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি রাজপথে নামলেই বিএনপির হামলা হতো।বিএনপির হামলায় জাতীয় পার্টি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। বিএনপিই জাতীয় পার্টির ওপর হামলা করে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এখন সেই ধারাবাহিকতা চলছে।’

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি মানুষের রাজনৈতিক অধিকারে বিশ্বাস করে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের সম্মেলন প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুন্নু এসব কথা বলেন।

আগামী ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘দেশের সব ক্ষমতা এখন এক ব্যক্তির হাতে। দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই। অতিরিক্ত ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। অস্বাভাবিক ক্ষমতায় দুর্নীতি বেড়ে যায়। দেশের এমন বাস্তবতা থেকে মুক্তি দিতে হবে। দেশের মানুষকে মুক্তি দিতেই জাতীয় পার্টির রাজনীতি।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ওই সব নির্বাচনে যারাই হেরেছে, তারাই অভিযোগ করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।’

চুন্নু বলেন, ‘আমরা চাই আনুপাতিক হারে নির্বাচন হোক। আনুপাতিক হারে নির্বাচন হলে ভোটে কারচুপি হবে না, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

জাতীয় পার্টি মহাসচিব আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী নেতাদের ষড়যন্ত্রে জাতীয় পার্টি ভাগ হবে না। লোভ-লালসায় কেউ কেউ দালালি করতে পারে কিন্তু পল্লীবন্ধু এরশাদের লাখ লাখ কর্মী কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবে না। ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের সম্মেলনে হাজার হাজার কর্মীর ঢল প্রমাণ করবে জাতীয় পার্টি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই জাতীয় পার্টির ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারবে না। জাতীয় পার্টি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানত হোসেন আমানত, মাহাবুবুর রহমান লিপটন, ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, যুগ্ম মহাসচিব সামছুল হক, আমির হোসেন ভূঁইয়া, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন সরকার, বিভিন্ন থানার নেতারা।

আরও বক্তব্য দেন- মাহফুজ মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, আবুল বাশার, আব্দুস সাত্তার, এমএ হাশেম, খলিল মোল্লা, মেহেদী হাসান রিয়াজ, কাজল, ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বকুল, রাজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক, নজরুল ইসলাম সরদার, আব্দুল আজিজ, আলাল মেম্বর, বজলুর রহমান মৃধা, আলমগীর হোসেন, নয়ন, নুরুল হক নুরু, আব্দুল বারেক, সাখাওয়াত হোসেন দুলাল, নুরুল ইসলাম মিন্টু, লিপু।

উপস্থিত ছিলেন- সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস উর রহমান খোকন, কাজী আবুল খায়ের, দপ্তর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সরকার, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক সমরেশ মন্ডল মানিক, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী মামুন, মোতাহার হোসেন শাহীন, প্রিন্সিপাল মোস্তফা চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, চিশতী খায়রুল আবরার শিশির।

 

তৃতীয় মেয়াদে শি, বাড়ল ক্ষমতা

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস সম্পন্ন হয়েছে। এতে পার্টির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ক্ষমতা বাড়িয়ে সংশোধিত দলীয় গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়নি প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও ওয়াং ইয়াংকে।

শনিবার চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছরে একবার এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নেই, এমন দুই নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকের মতে, পরবর্তী পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে শির ঘনিষ্ঠরা যে জায়গা পাচ্ছেন, এটা তারই ইঙ্গিত। আগামীকাল রোববার দুপুরে এ কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে।

লি মার্চে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের প্রধান ওয়াং। দুজনের বয়সই ৬৭ বছর। চীনের প্রথা অনুযায়ী, তারা আরেক মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য সাত সদস্যের শক্তিশালী স্ট্যান্ডিং কমিটিতে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন।

বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শির সঙ্গে এই দুজনের কারো দীর্ঘ মেয়াদে ঘনিষ্ঠতা ছিল না। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নতুন চার মুখকে জায়গা করে দিতে পারেন তিনি।

এ কমিটির বর্তমান দুই সদস্য ওয়াং হানিং (৬৭) ও ঝাও লেজি (৬৫) দুজনকেই শির ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। দুজনই ২০৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে তাদের ফের রাখা হতে পারে।

আজ দলীয় গঠনতন্ত্রে সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে পার্টি। এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য দলে শির মূল অবস্থান (স্ট্যাটাস) এবং দলের মধ্যে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারার দিকনির্দেশক ভূমিকাকে পোক্ত করা।

গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে অংশ নেওয়া সদস্যরা হাত তুলে সমর্থন জানিয়ে নতুন সংবিধান অনুমোদন করেন। অবশ্য চলতি সপ্তাহে চলা এই কংগ্রেসের অধিকাংশ কার্যক্রমই হয়েছিল রুদ্ধদ্বার।

রোববার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের শুরুতে পরবর্তী পলিটব্যুরো নির্বাচিত করবেন নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। সাধারণত এ কমিটির সদস্য ২৫ জন হয়ে থাকেন।

এরপর একই দিন কেন্দ্রীয় কমিটি পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি নির্বাচিত করবে। এতে ৬৯ বছর বয়সী শি তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করতে যাচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তার সাধারণ সম্পাদক হওয়াটা অনেকটাই নিশ্চিত।

 

মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক : মোমেন

মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী সকল চুক্তিকে সম্মান করতে সম্মত হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা ভালো খবর। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি (প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার জন্য)।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো সুসংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তারা সেই লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আজকে আমার আলোচনা (চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে) ছিল মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে।’

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (চীন) সহযোগিতাকারী, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি অগ্রাধিকার বিষয়। আমাদের এই সঙ্কটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান দরকার।’

এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে তিস্তা ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি। আমি বলেছি যে সমস্যাটি আমার কাছে কখনো উত্থাপিত হয়নি।

মোমেন বলেন, তিনি রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন যে এক্ষেত্রে চীনের উচিত ভূমিকা রাখা, যাতে জিরো পয়েন্টে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যাকে তিনি ‘ভালো উন্নয়ন’ হিসেবে দেখছেন।

মোমেন বিষয়টিকে ‘নতুন অ্যাসাইনমেন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

সূত্র : ইউএনবি

ক্ষমতা গ্রহণের ৬ সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ট্রাস

ক্ষমতা গ্রহণের ছয় সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। আর এর মাধ্যমে তিনি হলেন যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে কম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী।

লিজ ট্রাসের প্রশাসনের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে নজিরবিহীন তোলপাড় চলছিল। তার নিজ দলের বেশ কিছু এমপি তার পদত্যাগ দাবি করছিলেন।

বৃহস্পতিবার দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যে ম্যানডেটের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই ম্যানডেট তিনি পূরণ করতে অপারগ।

কনজারভেটিভ পার্টিতে তার উত্তরসূরী নির্বাচনের জন্য আবার ভোটাভুটি হবে।

ট্রাস প্রধানমন্ত্রী হন মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে, কিন্তু তার পর থেকেই তার সরকারের আর্থিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র বিতর্ক-বিবাদ চলছে এবং এ পর্যন্ত তার দু’জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, আর প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন তার নিজ দল কনসারভেটিভ পার্টির অন্তত ১৩ জন এমপি।

তার অর্থমন্ত্রী কোয়াজি কোয়ার্টেং আগেই পদত্যাগ করেছেন এবং বুধবার পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যান।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে লিজ ট্রাস সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী। তিনি মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় থাকলেন।

সূত্র : বিবিসি

আদেশ না মানলে আপনার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে: ডিসিকে হাইকোর্ট

কক্সবাজারের ডিসি মামুনুর রশিদকে তলব করে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট। তাকে কঠোর বার্তা দিয়ে উচ্চ আদালত বলেছেন, বার বার বলার পরও আপনি সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেননি। আপনি সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ মান্য করুন। আদালতের আদেশ না মানলে আপনার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। আপনি এই ঝুঁকিতে যাবেন না।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মানায় বুধবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিসিকে এমন কঠোর বার্তা দেন।

ডিসিকে আদালত বলেন, কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষায় আপনার পারফরমেন্স শুধু জিরো নয়, নেগেটিভও। বার বার বলার পরও আপনি সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেননি। আপনি সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ মান্য করুন। আদালতের আদেশ না মানলে আপনার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। আপনি এই ঝুঁকিতে যাবেন না।

শুনানির শুরুতে কক্সবাজারের ডিসির পক্ষে অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকিরকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেন, আমরা কখনো ঢালাওভাবে কারো বিরুদ্ধে কনটেম্পট করি না। তাকে অনেকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে আদালতের মনোভাব জানিয়েছেন। এরপরও তিনি সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ মানেননি। এ কারণে তলব করেছি।

ডিসিকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেন, কক্সবাজারকে সারা বিশ্বের মানুষ চেনে। আপনি সেই কক্সবাজারের ডিসি। কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষায় ভূমিকা রাখুন। আপনাকে সারা বিশ্বের মানুষ চিনবে।উচ্ছেদ করে আমরা তাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে বলছি না। আপনি সুন্দর ব্যবস্থাপনা করুন। মানুষ আপনাকে মনে রাখবে। আমরা প্রতিদিন পত্রিকা-টিভি খুলে দেখি আপনি কী করছেন। কিন্তু আপনার পারফরমেন্স জিরো তো নয়ই, নেগেটিভও।

এ সময় কক্সবাজারের ডিসি আদালতকে বলেন, আমি কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। এখন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করব।তখন আদালত বলেন, শুধু করব বললে হবে না। আপনাকে করতেই হবে। আদালতের আদেশ না মানলে আপনার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।তখন ডিসি বলেন, আমি আদালতের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।

পরে আদালত তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে ৯ নভেম্বরের মধ্যে তাকে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।

এর আগে সকালে সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মানার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে হাইকোর্টে হাজির হন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক। আদালতের আদেশ না মানায় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

গত ২৫ আগস্ট আদালত অবমাননার অভিযোগের এক আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে ডিসিকে তলব করেন হাইকোর্ট। সেদিন ডিসি ছাড়াও আরও চারজনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন আদালত।

সেই চারজন হলেন- কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, উপ-পরিচালক, টাউন প্ল্যানার তানভির হাসান, পুলিশ সুপার (এসপি) হাসানুজ্জামান ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবর রহমান।

তার আগে কক্সবাজার সৈকত এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ একটি আইনি নোটিশ দেন।সেই নোটিশে বলা হয়, কক্সবাজার সৈকত এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখতে সেখান থেকে সব অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ করার আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থে এইচআরপিবি আদালতে রিট মামলা দায়ের করলে আদালত রায় দেন। রায়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশনা দেন। জনস্বার্থ বিবেচনা করে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৭ জুন বিবাদীদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও এখনো তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

 

রূপপুরে দ্বিতীয় পরমাণু চুল্লি বসছে আজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের (রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল) কাজ আজ বুধবার শুরু হচ্ছে। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কাজের উদ্বোধন করবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপন শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, পদ্মানদী তীরবর্তী এলাকায় বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ২২-২৩ হাজার মানুষ দিন-রাত কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রুশ নাগরিকসহ সাড়ে চার হাজার বিদেশি রয়েছেন। কাজ শেষে বেলা ১২টার দিকে ধাপে ধাপে হাজারের অধিক রুশ নাগরিককে বের হতে দেখা যায়। পরবর্তী শিফটের অনেককেও প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রকল্পের ভেতরে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপন ঘিরে প্রকল্প এলাকাকে সাজানো হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের ছবি সংবলিত বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এ আয়োজনে পাঁচ শতাধিক দেশি-বিদেশিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এখন রূপপুরে অবস্থান করছেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে প্রকল্পের অগ্রগতি ও অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে স্থপতি ইয়াফেস ওসমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কী করে এমন জায়গায় পৌঁছে গেল-তা নিয়ে বড় বড় দেশ, শক্তিশালী দেশ হতবাক হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার সরকার আন্তরিক বলেই এটা করা সম্ভব হয়েছে। কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কাজে কত শতাংশ এগুলো সেটা হিসাব করা বলা যায় না। এটি দুইভাবে করা হয়- ফাইন্যান্সিয়াল আর ফিজিক্যাল। ফিজিক্যাল অগ্রগতি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। প্রকল্প ব্যয় বাড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না। এটা একটা ফ্রেমের মধ্যে বাঁধা। এর মধ্যেই হবে। ইউরেনিয়াম আনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী বছরের মধ্যেই প্রথম জ্বালানি আসবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেন, প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল অগ্রগতি ৭০ ভাগ। আর দ্বিতীয় ইউনিটের সঙ্গে সাত মাস এদিক-ওদিক। দুইটি ইউনিটের ফাইন্যান্সিয়াল অগ্রগতি ৫৩ ভাগ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। ৩০০ মিটার দূরে জনগণ বসবাস করতে পারবে।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের হৃৎপিণ্ড বলে বিবেচিত রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, এখন থেকে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তির অংশ হলো। অস্ত্র উৎপাদনে নয়, শান্তির কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করা হবে।

 

রাশিয়ার হামলা অব্যাহত, ইউক্রেনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক

রাশিয়ার বাহিনী মঙ্গলবার আবার ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এ কারণে রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য কয়েকটি শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন সহকারী বলেছেন, দেশটির জ্বালানি পরিস্থিতি এখন সংকটজনক।

প্রসিকিউটররা বলছেন, রাজধানীতে হামলায় দুজন নিহত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার দনিপ্রো নদীর কাছে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। 

কিয়েভের পশ্চিমে জাইতোমিরে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কাটা হয়েছে। দনিপ্রোতেও দুটি স্থাপনা খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উপপ্রধান কিরিলো তিমোশেঙ্কো বলেছেন, ‘প্রথমত, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সবার প্রস্তুত থাকা উচিত এবং দ্বিতীয়ত, হামলা অব্যাহত থাকলে পালাক্রমে লোডশেডিংও হতে পারে। জনগণকে কঠিন শীতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ’

প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার টুইটারে বলেছেন, গত আট দিনে ইউক্রেনের ৩০% বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে সারা দেশে ব্যাপক বিদ্যুৎহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি