‘দুরন্ত প্রাণবন্ত শেখ রাসেল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে ‘দুরন্ত প্রাণবন্ত শেখ রাসেল’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থ।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে ‘শেখ রাসেল দিবস’-এর উদ্বোধন এবং ‘শেখ রাসেল পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ রাসেলের দুরন্ত শৈশবের ধূসর পাণ্ডুলিপি নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘দুরন্ত প্রাণবন্ত শেখ রাসেল’-এর সম্পাদনা করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

বইটির পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শেখ রাসেল সম্পর্কিত সব গ্রন্থনা, প্রকাশনা ও গবেষণায় সহায়তা করছেন ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

এর আগে প্রযুক্তিনির্ভর গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়নে সারা দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ হাজারটি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি করে মোট ৩০০টি শেখ রাসেল স্কুল অফ ফিউচারেরও উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় শেখ রাসেলের জীবন নিয়ে নির্মিত ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’-এর ট্রেলার। যার চিত্রনাট্য রচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। এটি শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

‘দুরন্ত প্রাণবন্ত শেখ রাসেল’ স্মারকগ্রন্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বিভিন্ন সময়ে শেখ রাসেলকে নিয়ে উঠে আসা কথার সংকলন রয়েছে। ভাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগময় একটি স্মৃতিচারণও রয়েছে এই বইয়ে। শেখ রেহানার একটি লেখাও এতে রয়েছে।

এছাড়া শেখ রাসেলকে নিয়ে বেবী মওদুদসহ বেশ কয়েকজনের লেখা রয়েছে ১০০ পৃষ্ঠার স্মারক গ্রন্থটিতে। শেখ রাসেলের দুর্লভ অসংখ্য আলোকচিত্র সম্মৃদ্ধ বইটি দেশের অপার সম্ভাবনাময় শিশুদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

জয়ীতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটির প্রকাশক ইয়াসিন কবীর জয়। প্রচ্ছদ ও গ্রন্থ পরিকল্পনা করেছেন শাহ্‌রিয়ার খান বর্ণ।

৩৭০০ কোটি টাকা লুট, কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হচ্ছে

দেশের আর্থিক খাতের ৩, ৭০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ ডেপুটি গভর্নরসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। ২৭ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে দুদককে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন। এ সময় হাইকোর্টের এক প্রশ্নে দুদকের আইনজীবী বলেন, এ যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে!

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) এ নির্দেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এ বিষয়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, দেখান। যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে? তদন্ত হচ্ছে কি না, জানান। চিঠি লিখে আপনারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেন।’

শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘দুর্নীতি সংক্রান্ত হলে আমরা দেখব। আর কোম্পানি সংক্রান্ত হলে সেটা কোর্ট দেখবেন।’

উত্তরে দুদকের আইনজীবী বলেন, এ যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে!’ ‘অবশ্যই এখানে দুর্নীতি হয়েছে।

এরপর লুটপাটের ঘটনায় কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চান আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে দুদককে নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘৩৭০০ কোটি টাকা লুটপাটে দায়ী পাঁচ ডেপুটি গভর্নর’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। পরে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

 

ইউক্রেনের শত শত শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

যুদ্ধক্ষেত্রে বিপর্যয়ের মুখে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো ইউক্রেনজুড়ে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ করেছে রাশিয়া।

সোমবার সকালে রাশিয়ার চালানো এই হামলায় ইউক্রেনের শত শত শহর ও হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন।

এতে সারা দেশের শত শত শহর ও গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়েছে। সকালের দিকে কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে অন্তত পাঁচটি হামলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি দিনিপ্রোপেৎরোভস্ক, নিকোলায়েভ, ওডেসা, ওচাকভ, কিরোভগ্রাদ এবং সুমি অঞ্চলেও হামলা করেছে।

শ্যামিগাল বলেন, রুশ সন্ত্রাসীরা আবারও ইউক্রেনের তিনটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রমণ করেছে। এর ফলে শত শত বসতি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিয়েভের স্কুলগুলো সোমবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি।

 

ব্রুনাইয়ের সাথে সই হলো যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশ ও ব্রুনাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে বিমান পরিষেবা চুক্তিসহ চার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।

রোববার দু‘নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সফররত ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় এই চুক্তি ও স্মারক সই হয়।

চুক্তিটি হলো বিমান সেবা চুক্তি। আর অন্য তিনটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক হলো ‘বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক’, ‘তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক’ এবং ‘নাবিকদের প্রশিক্ষণ, সনদ, ওয়াচকিপিংয়ের মান সংক্রান্ত ১৯৭৮ সালের আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীনে ইস্যুকৃত সনদপত্রের স্বীকৃতির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক’।

সূত্র : বাসস

ময়মনসিংহে বিএনপির গণসমাবেশ

ময়মনসিংহ: বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্মানে একটি চেয়ার খালি রেখেই শুরু হয়েছে ময়মনসিংহ বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ।

এ সময় মঞ্চের মাঝখানে খালেদা জিয়ার জন্য সংরক্ষিত খালি চেয়ারের এক পাশে বসেন সমাবেশের প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরেক পাশে বসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ অন্য নেতারা। ফলে সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের মধ‍্যে এই খালি চেয়ারকে ঘিরে তৈরি হয় বিশেষ কৌতূহল।

শনিবার (১৫ অক্টোবর) ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা পলিটেকনিক‍্যাল মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের মঞ্চে দেখা গেছে এই চিত্র।

এ সময় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওই খালি চেয়ারের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব‍্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আপনারা দেখছেন সমাবেশের মঞ্চে একটি চেয়ার খালি। এই চেয়ারটি খালেদা জিয়ার।

ইনশাআল্লাহ অচিরেই বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে এভাবেই আমাদের মধ‍্যমনি হয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেবেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ‍্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম।

এছাড়াও সমাবেশটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, আলমগীর মামুদ আলম ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়মারম‍্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠের র্শীষ নেতৃবৃন্দ।

বিশ্ব ইজতেমা শুরু ১৩ জানুয়ারি

২০২৩ সালে  দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে ১৩-১৫ জানুয়ারি (মাওলানা জোবায়ের পক্ষের লোকজন) ও দ্বিতীয় পর্বে ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি (ওয়াসেক পক্ষের লোকজন) বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ ও আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে টঙ্গীর বিশাল ময়দানে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা ১৯৬৭ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

ভারতের প্রখ্যাত মাওলানা ও তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা সাদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে দুই গ্রুপ দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন।

আপনাদের নেতাই তো মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালিয়েছেন: কাদের

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে সংসদ নির্বাচন না দিলে আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না’—বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যদি লজ্জা থাকতো তাহলে তিনি নিশ্চয় ভাবতেন পালানোর ইতিহাস বিএনপির, আওয়ামী লীগের নয়।

তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আরো বলেন, আপনাদের নেতাই তো রাজনীতি করবে না বলেন কাপুরুষের মতো মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংকালে একথা বলেন।

এখনো সময় আছে হুমকি-ধমকি, ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে বিএনপিকে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবসহ তাদের অন্যান্য নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তা না হলে শেষ পর্যন্ত আপনারাই পালানোর অলি-গলিও খুঁজে পাবেন না।

কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নীতিমালাগত সহায়তার পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অহেতুক যেন কেউ দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য খেয়াল রাখতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এ তথ্য জানান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ, আইএমইডি সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিনসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা।

এমএ মান্নান জানান, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সবাইকে সঞ্চয়ের মনোভাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্য-শস্য, অর্থ, বিদ্যুৎ ও পানি সব ক্ষেত্রেই সঞ্চয় করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নও বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে অপচয় রোধ করতে বলেছেন তিনি।  এ ছাড়া খাদ্যের অভাব পূরণে উৎপাদন বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদন পাওয়া একটি প্রকল্পে সরকারি অংশের অর্থ বেশি পরিমাণ চেয়েছেন দক্ষিণ সিটির মেয়র। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটি না দিয়ে বলেছেন প্রকল্পের কাজে গতি বাড়াতে হবে। লোকজনকে বুঝিয়ে ভালো কাজ করে টাকা সাশ্রয় করতে হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরের তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।  এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ২৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। ওই সময় খরচ হয়েছিল ১৯ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে একনেকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। কিন্তু এখনো আমাদের অর্থনৈতিক সূচকগুলো ভালো অবস্থানে আছে।  গত তিন মাসে দেশে রেমিট্যান্স গত অর্থবছরের তিন মাসের তুলনায় বেশি এসেছে। এ ছাড়া রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে ছিল ১১ শতাংশ। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমদানি কমে হয়েছে ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে আমদানি বেড়েছিল ৪৫ শতাংশ।

‘সরকারি বিদেশি বিনিয়োগ গত ৩ মাসে বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পরিকল্পনা মতো মুদ্রা সরবরাহ কমে হয়েছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ৬ শতাশ। বেসরকারি ঋণ প্রবাহ বেড়ে হয়েছে ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ মাসে ছিল ৮ শতাংশ। পরিকল্পনা মতো, গত ৩ মাসে সরকারি ঋণ প্রবাহ কমে হয়েছে ৪ হাজার  ৯৫০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ১০৮ কোটি টাকা।’

 

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তার সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশ সফর করে তিনি যে বিষয়টি অনুধাবন করেছেন তা হচ্ছে সর্বাগ্রে প্রয়োজন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যা সাধ্যমত তিনি করে চলেছেন।’

আজ সোমবার দুপুরে নড়াইলে মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেন বিশিষ্ট মধুমতি সেতু এবং নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধনকালে তিনি ভাষণে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সেতু দুটি উদ্বোধনকালে বলেন, ‘নতুন উদ্বোধন হওয়া সেতু দুটি বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ব্যাপকভাবে জোরদার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যখনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন তখনই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন এবং আওয়ামী লীগ সব সময়ই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। এটাই আওয়ামী লীগের ইতিহাস। পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবার সরকারে এসেই যমুনা সেতুর ওপর বহুমুখী সেতু নির্মাণ করে তার সরকার। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করে। যার মধ্যে রয়েছে ধরলা সেতু, গাবখান সেতু, শিকারপুর ও দোয়ারিকা সেতু এবং ভৈরব নদীর ওপরও সেতু নির্মাণ। সমগ্র বাংলাদেশকে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনাই ছিল তার সরকারের প্রচেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা দাবি করতে পারি দেশের সমগ্র এলাকার মাঝেই যেন যোগাযোগ স্থাপিত হয় সে কাজ আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিশ্ব ব্যাংকের ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রসংগ টেনে বলেন, আজকের মধুমতি সেতু এবং নারায়ণগঞ্জে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত করার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রথমে কালনা সেতু হিসেবে বর্তমান মধুমতি সেতুর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেও এটা যেহেতু মধুমতি নদীর ওপরে নির্মিত এবং মধুমতি নামটিও অনেক মিষ্টি তাই এটার নাম মধুমতি সেতু রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার প্রতিবাদকারী নাসিম ওসমানের নামে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নামকরণ করেছেন।”
ইতোপূর্বে তার সরকার নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর আরো দুটি সেতু এবং মুক্তারপুর সেতু নির্মাণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসেফ ঈসা আল দুহাইলান।

সেতুগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন।

সেতু প্রকল্পের উপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়।

সূত্র : বাসস

প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে ১০০ সেতু উদ্বোধন করবেন : কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ সারাদেশে একযোগে ১০০টি সেতু উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার দুপুরে গণভবনে কালনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ২টি সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটা দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার।’