চুরির দায়ে মাথার চুল কেটে শিশুকে নির্যাতন

Reporter Name / ৪৮১ ooo
Update : রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

 

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক শিশুকে প্রকাশ্যে বাজারে মারধর করে তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা বাজারে। সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, নির্যাতিত শিশু ও তার মা জানায়, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক লাল মিয়া সরদারের শিশু ছেলে সজীব (১১)। গৈলা বাজারের অলি টেলিকম থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় শাহীন খানের ছেলে তাওহীদ খানের নেতৃত্বে এনামুলসহ চার-পাঁচজন সজীবকে গতকাল শনিবার বিকেলে গৈলা বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করে। এরপর  কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দিয়েছে।

শিশুর মা সানু বেগম বলেন, দুপুরে তার ছেলে বাড়ি আসে। একটু পরে গৈলা অলি টেলিকমের মালিক অলি বেপারী তাদের বাড়ি এসে সজীবকে বাজারে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বিকেলে তার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে জানায়, একটি মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে।

ঘটনার বিচার দাবি করে সানু বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যদি চুরি করে থাকে তাহলে তারা আমার কাছে বিচার দিলে আমি আমার ছেলের বিচার করতাম। আমার ছেলেকে মারধর করে বাজারের লোকজন অমানবিকভাবে মাথার চুল কেটে দিয়েছে।’

শিশুর বাবা ভ্যানচালক লাল মিয়া সরদার বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, আমাদের এই ঘটনার মধ্যে টানবেন না।’ বিষয়টি নিয়ে তার যেন কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

অলি টেলিকমের মালিক অলি বেপারী বলেন, ‘আমি দোকানে না থাকার অবস্থায় অন্য একজনের উপস্থিতিতে সজীব আমার দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।’ দোকানের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে সজীবকে ফোন নেওয়ার ঘটনায় তার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে ফোন চুরির কথা স্বীকার করে। একপর্যায়ে চুরি যাওয়া ফোনটি সজীব ফেরত দেয়।

অলি বেপারী  আরও বলেন, ‘মোবাইলের মধ্যে সীম না থাকায় তাকে সীম দুটি ফেরত দিতে বললে সে জানায়, সীম ফেলে দিয়েছে। তবে কোথায় ফেলেছে, তা দেখানোর জন্য তাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনলে সজীব কাঁচা বাজারের ময়লা ফেলার স্থান দেখিয়ে দেয়। সেখানে খুঁজে সীম দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে মসজিদে নামাজ পরে মিলাদের তবারক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেই। এরপরে শুনেছি যে, বাজারে বসে তার চুল কেটে দিয়েছে উৎসুক লোকজন।’

গৈলা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি সুশান্ত কর্মকার বলেন, তিনি গৈলা মনসা পূঁজার আয়োজনের জন্য মনসা বাড়িতে ছিলেন। বাজারে এসে একটি শিশুর চুল কাটার কথা শুনেছেন। তবে কে বা কারা ওই শিশুটির চুল কেটেছে তা তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, নির্যাতিত শিশু ও তার অভিভাবকদের থানায় ডেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category