ছেলের জন্য খাচ্ছেন না, ঘুমাতেও পারছেন না শাহরুখ

মানুষ যত খারাপই হোক সন্তানের কাছে তিনি শ্রেষ্ট বাবাটিই হতে চান। আর যদি বাবাটি হয় শাহরুখ খানের মতো একজন ক্লিন ইমেজের সুপারস্টার তাহলে তো কোনো কথাই নেই।

গৌরি খানের সঙ্গে সংসার পাতার পর থেকেই অভিনেতার পাশাপাশি একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবেই পরিচয় দিয়ে আসছিলেন তিনি। এবার একজন বাবা হিসেবে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়লেন।

মাদক মামলায় আরিয়ান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দুশ্চিন্তায় খেতে পারছেন না ঠিক মতো। এমনকি ঘুমাতেও পারছেন না। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন শাহরুখের কাছের এক সূত্রের বরাতে।

মাদক মামলায় বড় ছেলে আরিয়ান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে শাহরুখের ভক্তরা দুশ্চিন্তায় আছেন অভিনেতাকে নিয়ে। দীর্ঘ বিরতির পর কিছুদিন আগেই নতুন ছবির শুটিং শুরু করে ছন্দে ফিরেছিলেন অভিনেতা। কিন্তু হঠাৎই আবারও ছন্দ পতন!

ছেলের জামিনের আবেদন বার বার খারিজ করা হচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় খাওয়া-ঘুম কিছুই হচ্ছে না শাহরুখের, অভিনেতার কাছের এক সূত্র রেডইটে বিষয়টি জানিয়েছেন।

সেই ব্যক্তির মতে, শাহরুখ একেবারে চুপ হয়ে গেছেন। তিনি খাচ্ছেন না, ঘুমাতেও পারছেন না। মাঝে মাঝে দুই ঘণ্টা ঘুমাতেন তিনি। এখন সেটাও পারছেন না।

আরিয়ান গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তার সঙ্গে মাত্র দুই মিনিট ফোনে কথা বলতে পেরেছেন শাহরুখ। ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য এনসিবির অনুমতির অপেক্ষায় আছেন শাহরুখ।

এদিকে ‘পাঠান’ এর শুটিংয়ের জন্য বাতিল করেছেন স্পেন যাত্রা। শুধু তাই নয়, অজয় দেবগনের সাথে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংও শেষ পর্যায়ে এসে বাতিল করেছেন শাহরুখ।

এই পুরস্কার পৃথিবীর সব সাংবাদিকের: মারিয়া রেসা

ফিলিপাইনের নোবেল বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা শান্তিতে পাওয়া নোবেল পৃথিবীর সব সাংবাদিককে উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেছেন, তার এই নোবেল শান্তি পুরস্কার পৃথিবীর সব সাংবাদিকের। এছাড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় নিজের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি। খবর এএফপি’র।

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে  রেসা বলেন, সত্যিই এই পুরস্কার পৃথিবীর সমস্ত সাংবাদিকের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য দরকার। আজকের দিনে সাংবাদিক হওয়া খুব কঠিন এবং বিপদজনক।

৫৮ বছর বয়সী রেসা বলেছেন, এই পুরস্কার তার এবং ফিলিপাইনে কাজ করা অন্য সাংবাদিকদের জন্য শারীরিক এবং অনলাইন আক্রমণ থেকে বাঁচাতে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

এই পুরস্কার অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশনের মতো জানিয়ে তিনি বলেন, এই যে ‘তাদের বিরুদ্ধে আমরা’ এটা কিন্তু সাংবাদিকরা তৈরি করেনি। এটা তৈরি করেছে ক্ষমতায় থাকা লোকজন যারা নেতৃত্বকে সমাজে বিভাজন  তৈরিতে ব্যবহার করতে চায়। আমি আশা করি এই পুরস্কার সাংবাদিকদের নির্ভীকভাবে কাজ করতে উৎসাহ দিবে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে ও তার সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনাকারী রেসা। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের। অধিকার কর্মীরা বলছেন, ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই গরীব মানুষ। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মধ্যে র্যা পলার একটি যে ওইসব হত্যাকাণ্ডের নৃশংস ছবি প্রকাশ করেছে এবং এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। র্যা পলার ওয়েবসাইটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া রেসা। এছাড়া রক্তাক্ত ওই অভিযানকে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকও পুর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও দুতের্তের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইন্স ডেইলি ইনকোয়ারার ও টেলিভিশ এবিএস-সিবিএনের লাইসেন্স বাতিল করে গতবছর।

এই প্রসঙ্গে মারিয়া রেসা বলেন, আমাদের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই… তাই আমাদেরকে প্রতিরোধ করা সহজ। গত দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে ১০টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তিনি জানান, এখনো তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা আছে। এর মধ্যে কর ফাঁকির মামলাও আছে যেটাকে তিনি হাস্যকার বলেছেন এবং এই মামলায় জিতবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাইবার মানহানির মামলাও আছে।

এইসব মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতার এই অপব্যবহার কাজ করতো যদি আমি ভয়কে প্রশ্রয় দিতাম এবং এগুলো আমার প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতো। আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভয়কে জয় করা। নির্ভীক হওয়া মানে ভয় না পাওয়া না, এর মানে হলো কিভাবে আপনি ভয়কে কব্জা করবেন তা জানা। আমি সব সময় মজা করি এবং প্রায়ই বলি সত্যি প্রেসিডেন্ট দুতের্তেকে আমার ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারণ ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি জানেন না আপনি কে, যতক্ষণ আপনি এটার জন্য যুদ্ধ না করেন। এখন আমি জানি আমি কে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার ফিলিপাইনের নিউজ ওয়েবসাইট র্যা পলার সহ-প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া রেসা ও রাশিয়ান সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।

ফিলিপাইনের সাংবাদিক ও অধিকার আন্দোলনকর্মীরা রেসার এই পুরস্কারকে দেশটির সাংবাদিকদের জন্য বিশাল এক মাইল ফলক বলে অভিহিত করেছেন। কারণ দেশটি সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক এক দেশ।

আর গণমাধ্যম সমর্থকরা বলছেন, ২০১৬ সালে দুতের্তে ফিলিপাইনের ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেসা এবং র্যা পলার অসংখ্য ফৌজদারি মামলা, তদন্ত ও অনলাইন আক্রমণের শিকার হয়েছেন। দুতের্তে র্যা পলারকে ‘ভুয়া নিউজ প্রতিষ্ঠান’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং রেসাকে অনলাইনে অপমানজনক বার্তার শিকারে পরিণত করেছিলেন।

গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে নিরুদ্দেশ করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে অগণতান্ত্রিক অপশক্তি নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই। এখন সেই পুরনো স্বৈরাচার বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মিলেমিশে জনগণের নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে জনগণকে দুঃস্বপ্নের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর চক্রান্তের খেলায় গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে নিরুদ্দেশ করা হয়েছে।’

শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রসেনানী শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘স্বৈরাচারের দোসররা এখন ক্ষমতাসীনদের মিত্র। দুর্বিনীত শাসনকে স্থায়ীত্ব দেওয়ার জন্য এসময়ের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রাখার পর এখন নানা বিধি-নিষেধের আওতায় গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। তার ওপর এই নিপীড়ণের ঘটনায় প্রমাণিত হয়-এদেশে মানবতার অস্তিত্ব চরম ঝুঁকির মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় নাম। শহীদ জেহাদ নিজেকে উৎসর্গ করেছেন গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে। তার এই মহিমান্বিত আত্মদানের ফলেই স্বৈরশাহী এরশাদের পতন হয়। শুরু হয় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা। নব্বইয়ে স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্রের বিজয়ে তার অগ্রণী ভূমিকার জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান দুঃসময়ে নিষ্ঠুর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে কঠিন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করবে শহীদ জেহাদের আত্মদান। যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ সেদিন স্বৈরাচারীর বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের আজকের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য। আর তাতেই শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মা শান্তি পাবে।’

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

করোনা মহামারির এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে করোনা মহামারির এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জনসাধারণের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও পরিবারের সদস্য, সামাজের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।’

আগামীকাল ১০ অক্টোবর ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২১’ উপলক্ষে শনিবার এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’ সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব সভ্যতা বিকশিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তর বৈষম্য ও নানাবিধ অসমতা রয়ে গেছে দেশে দেশে। এ অসমতা অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও। স্বাস্থ্যের দিকে যদি তাকাই তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য আরো বেশি উপেক্ষিত। অথচ সুখী, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন মানবিক বিশ্ব গঠনে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার মানসিক স্বাস্থ্যের এই প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে অনুধাবন করে। এজন্য আমাদের সরকার ২০০১ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে প্রতিষ্ঠা করে ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট’। সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বাস্তবায়নে এটি একটি মাইলফলক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে- এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

তুরাগে ট্রলারডুবি: শিশুসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর গাবতলীর কয়লাঘাট এলাকায় তুরাগ নদে ট্রলারডুবির ঘটনায় চার শিশু ও এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ঢাকা সদর দপ্তরের উপপরিচালক দিনমনি শর্মা শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এ পর্যন্ত নিখোঁজ চার শিশু ও একজন নারীর লাশ উদ্ধার করেছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ৬টায় এদিনের মতো উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে। রোববার সকালে আবার উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হবে।

শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কয়লাঘাট এলাকায় ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

নৌ পুলিশের আমিনবাজার থানার ওসি আলমগীর শেখ জানান, ট্রলারটিতে চড়ে কয়েকজন নদী পার হওয়ার সময় এটি ডুবে যায়।

জাপার নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু

জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু। দলের সদ্য প্রয়াত মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর জায়গায় তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। আজ শনিবার চুন্নুকে মহাসচিব ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

জাতীয় পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১(১)ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে উক্ত নিয়োগ দেওয়া হলো যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২ অক্টোবর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। পরে পদটি শূন্য হওয়ায় আজ এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

টাইগারদের দুর্দান্ত জয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই হয়েছে নুরুল হাসান সোহানের। অবশ্য তার আগে দারুণ দুটি অর্ধশতক হাঁকান দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাঈম শেখ। তাতেই পাহাড় সমান সংগ্রহ বাংলাদেশের। টাইগারদের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়ায় অনেকদূরেই থেমেছে ওমান এ দল। টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬১ রানের বড় জয় পেয়েছে সফরকারীরা।

আজ শুক্রবার রাতে ওমানের আল আমিরাত স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তোলে স্বাগতিকরা।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভাল হয়নি ওমানের। ইনিংসের তৃতীয় বলে ওপেনার অক্ষয় প্যাটেলকে সাজঘরে পাঠান নাসুম আহমেদ। পরের ওভারে প্রুথবি কুমারকে ফেরান শেখ মেহেদী হাসান। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ২২ রান তোলে ওমান। দলীয় ৩২ রানের মাথায় খালিদ কাইলকে সাজঘরে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম।

দশম ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক আমির কলিমকে মেহেদী হাসানের ক্যাচবন্দী করান আফিফ হোসেন। ১৪ বলে মাত্র ৭ করে ফেরেন স্বাগতিক এই ব্যাটসম্যান। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে মাথায় ৪৩ করা শোয়েব খানকে রানআউটে ফেরান মুশফিকুর রহিম। ওই ওভারের পঞ্চম বলে খুররাম খানকে সাজঘরে ফেরান সাইফউদ্দিন।

দলীয় ১০৩ রানের মাথায় শরিফুলের শিকার হন মেহরান খান। ১০ বলে দুই ছয়ে ১৯ রান করে মেহেদীর তালুবন্দী হন তিনি। নিজের পরের ওভারে রউফ আতাউল্লাহকে তৃতীয় শিকার বানান শরিফুল। শেষ ওভারে এক রান দিয়ে নতুন ব্যাটসম্যান রফিকুউল্লাহকে ফেরান সাইফউদ্দিন। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৭ করে ওমান এ দল।

এর আগে, শুরুতে ব্যাট করতে আসেন দুই টাইগার ওপেনার নাঈম শেখ ও লিটন দাস। দুইজনের ১০২ রানের বিশাল জুটি ভাঙেন সময় শ্রীভাস্তভা। ৫৩ রান করা লিটনকে কট এন্ড বোল্ড করে ফেরান তিনি।

নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে তেমন সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। মাত্র ৬ রান করা এই ব্যাটসম্যানকেও ফেরান শ্রীভাস্তভা। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসেন ধ্রুবকে সাজঘরে ফেরান আমির কালিম। ৫৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে সতীর্থদের সুযোগ করে দিতে মাঠ ছাড়েন ওপেনার নাঈম।

শেষ পাঁচ ওভারে ৮১ রানের ঝড়ো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ছক্কার ঝড় তোলেন সোহান। মাত্র ১৫ বলে ৭ ছয়ে সোহান খেলেন অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস। অন্যপ্রান্তে শামীম খেলেন ১০ বলে ১৯ রানের ইনিংস।

২০-দলীয় জোটে অস্থিরতা

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই বিএনপি জোটে অস্থিরতা তৈরি হয়। গত নির্বাচনের আগে এক দফা ভাঙনের মুখে পড়ে ২০ দল। এবার নির্বাচনের দুই বছর আগেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে, জোট ছেড়েছে আরও একটি দল। বিএনপি নেতারা বলছেন, শরিকদের জোট ছাড়ার পেছনে বিএনপির নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলা মূল কারণ নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক শক্তি কাজ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জোট ছেড়ে যাওয়া দলগুলোর কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির ওপর নানা কারণে তারা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হলেও সরকারের চাপেই জোট ছেড়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যক্তিগতভাবে সুবিধাভোগী জোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

গত ১ অক্টোবর বিএনপি জোটে থাকা সর্বশেষ নিবন্ধিত ইসলামি রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিশ জোট ছেড়েছে। এর আগে জোট ছাড়ে ১৪ জুলাই কওমি আলেমদের পুরনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশও। এর বাইরে যে কয়টি ধর্মভিত্তিক দল আছে তারা মূলত এর আগে জোট ছেড়ে যাওয়া দলগুলোর খ-িত অংশ।

বিএনপির কাছে খবর আছে, তাদের জোট ভাঙতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে সরকার। জোট শরিক দলগুলোকে ভাগিয়ে নিতে চাপে রাখা হয়েছে। শরিক দলের নেতারাও স্বীকার করেছেন, রাজনৈতিকভাবে চাপে আছেন তারা। কারণ ইসলামপন্থিদের দিয়ে একটি জোট তৈরি করতে কাজ চলছে। এ জন্যই ধর্মভিত্তিক দলগুলো একে একে বিএনপি ছাড়তে শুরু করেছে। আগামী বছরে এই জোট আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাকি দলগুলোকে ২০-দলীয় জোট থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা চলছে। এ প্রক্রিয়া সফল হলে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো দল ওই জোটে থাকবে না। খ-িত অংশ নিয়ে জোট টিকিয়ে রাখা হলেও তাতে সুবিধা পাবে না বিএনপি। এর মাধ্যমে জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝানো যাবে- যুদ্ধাপরাধের দল জামায়াত ছাড়া বিএনপির সঙ্গে কেউ নেই।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া আগেও ছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। এবারও একই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শরিক দলগুলোর নেতারাও তাদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন। তবে বিএনপি কাউকে ছাড়বে না, কাউকে ছেড়ে যেতে বলবেও না।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের চাপে জোট ছেড়েছে খেলাফত মজলিশ। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করতে সরকারের অপচেষ্টার অংশ এটি। এভাবে সরকার আগেও সফল হয়নি, এবারও হবে না। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে এর প্রমাণ মিলবে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, চাপে ফেলে বিএনপি জোট থেকে শরিকদের বিচ্ছিন্ন করা হলেও এসব দলের কর্মী, সমর্থক ও ভোটাররা তাদের সঙ্গেই আছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষকে ভোট দেবে তারা।

বিএনপি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্দলীয় সরকার নিয়ে তাদের অবস্থান, আগামী নির্বাচন এবং সরকারের গেলে কী করবে তার একটি রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরে কর্মসূচি দেবে। ওই কর্মসূচির সঙ্গে যারা একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠে থাকবে, তাদের নিয়েই চলবে বিএনপি। কর্মসূচিগুলো বিএনপি এককভাবে পালন করবে, তবে ২০ দল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিংবা সরকারবিরোধী যে কোনো রাজনৈতিক দল যুগপৎভাবে এ আন্দোলনে অংশ নিলে তাদের স্বাগত জানাবে বিএনপি।

২০ দলের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বিএনপি ২০ দলের প্রধান। তাদের নেতৃত্বে আমরা জোটে অংশ নিয়েছি। জোটের নেতৃত্বকারী দল হিসেবে তারা যখন যে কর্মসূচি দেবে, তার সঙ্গে আমরা থাকব।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৬ মে জোটের সঙ্গ ত্যাগ করে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি)। দলটি ছিল নিবন্ধিত। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। ওই সময় এনপিপির একটি অংশ জোটে থেকে যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জোট ছেড়ে যায় প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট। ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ ও খন্দকার গোলাম মোর্তুজার নেতৃত্বাধীন এনডিপি জোট থেকে বেরিয়ে যায়। বাংলাদেশ ন্যাপও নিবন্ধিত। ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর জোট ছাড়ে লেবার পার্টির একটি অংশ। তবে মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি নামে আরেকটি অংশ থেকে যায় ২০-দলীয় জোটে।

অবশ্য ২০ দলের সভাই হয় না দীর্ঘদিন। জোটভুক্ত কর্মসূচিও হয়নি। যার কারণে দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জোট শরিকদের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আনলেও বিএনপির শীর্ষ নেতা তা আমলে নেয়নি।

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) ড. অলি আহমদ বলেন, জোটে যেহেতু একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে, অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে এবং ভালো ভবিষ্যৎ দেখছে না। তাই কিছু দিন পর পর বৈঠক হলে সবাই যার যার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারত এবং সমাধান পেত। তা হলে এ ধরনের হতাশা কাজ করত না, দূরত্ব সৃষ্টি হতো না, কেউ জোট ছেড়েও যেত না।

জোট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জুলাই মাসে ২০-দলীয় জোটের একটি ভার্চুয়াল সভা হয়েছিল। ওই সভায় জোটের কর্মকা- নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি জোটের কয়েকটি শরিক দলকে নিয়ে বিএনপি একটি স্মরণসভা করে। এক বছরের বেশি সময় ধরে ২০-দলীয় জোটের আর কোনো কর্মকা- চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, জোটের কার্যক্রম সব সময় সমান থাকে না। ভোট এলে জোটের কর্মসূচি ও কার্যক্রম বাড়তে থাকে। আমরা কিছু দিনের মধ্যে কর্মসূচি দেব, এর সঙ্গে যারা থাকবে তাদের নিয়ে পথ চলব।’

২০-দলীয় জোটের আরেক শরিক বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপিও জোটে থাকতে চায় কি না, তা নিয়েও রাজনীতি মহলে রয়েছে নানা গুঞ্জন। ২০১৯ সালের জুনের শেষে অলি আহমদের নেতৃত্বে ২০ দলের কয়েকটি শরিক নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে আলাদা একটি মোর্চা গড়ে তোলে। তখন বিএনপির সঙ্গে জোটের অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। এলডিপিও এখন ২টি অংশে বিভক্ত। অপর দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছে? বিএনপির সাবেক নেতা আবদুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাৎ হোসেন সেলিম। ২টি অংশই ২০-দলীয় জোটে রয়েছে। গত নির্বাচনের আগে জোট যুক্ত হওয়া একটি দলের ব্যাপারেও বিএনপির মধ্যে সন্দেহ আছে।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা), জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট (আমিনী) নিয়ে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল ১৮ দল এবং পরে পর্যায়ক্রমে আরও দুটি দল নিয়ে ২০-দলীয় জোট গঠিত হয়।

‘ছেলের খুনিকে আমার বউমা বিয়ে করবে কী করে’

পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান হত্যার প্রধান আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূইয়া এখন কারাগারে। সেখান থেকেই রায়হানের স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার মা ও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তার এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে মতামত দিয়েছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, ‘ছেলের খুনিকে আমার বউমা বিয়ে করবে কী করে।’

সম্প্রতি ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্যই দিয়েছেন মৃত রায়হানের মা। এর আগে এক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে আকবর এই প্রস্তাব দেন। সালমা বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগে পুলিশের এক সদস্য আমাদের বাসায় আসেন। তিনি আরেকটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। সেখানে আকবরের সঙ্গে তার দেখা হয় জানিয়ে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, আকবর রায়হানের স্ত্রীকে বিয়ে করতে চান এবং আমার ও আমার নাতনির ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে চান। এ ব্যাপারে আমাদের সম্মতি জানতে চান ওই পুলিশ সদস্য। তবে আমরা আমাদের আপত্তির কথা তাকে জানিয়ে দিয়েছি। ছেলের খুনিকে আমার বউমা বিয়ে করবে কী করে।’

এই প্রস্তাব পাঠানোর কিছুদিন পর আকবরের সঙ্গে কারাফটকে তাদের দেখা হয় জানিয়ে সালমা বেগম বলেন, ‘সেদিন তিনি আমাদের পা ধরে ক্ষমা চান।’ হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিভাগীয় মামলায় সাক্ষ্য দিতে গত মাসে রায়হানের মা সালমা বেগম, স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী ও সৎ বাবা হাবিবুল্লাহকে পুলিশ সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আকবরসহ অন্য আসামিদেরও তাদের সামনে হাজির করা হয়।

সালমা বেগম বলেন, ‘ওইদিন আকবর আমার ও রায়হানের চাচার (সৎ বাবা) পা ধরে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করেন। তিনি ক্ষমা চেয়ে আমাদেরকে তার প্রাণভিক্ষা দেওয়ার জন্য বলেন। আমাদের সব ধরনের দায়িত্ব তিনি নেবেন বলেও জানান।’

রায়হানের মা আরও বলেন, ‘সেদিন আকবর আমাকে বলেছিল- ‘আমরা ভুল তথ্য পেয়ে রায়হানের মতো ভালো একটি ছেলেকে নির্যাতন করেছি। আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা বুঝতে পারিনি। আমাদের ক্ষমা করে দিন।’

আকবরকে কখনো ক্ষমা করবেন না জানিয়ে সালমা বেগম বলেন, ‘তিনি আমার নিরপরাধ ছেলেকে খুন করেছেন। তাকে আমি কখনোই ক্ষমা করব না। আমাদের ভরণপোষণের চিন্তা করতে হবে না। পারলে তিনি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিক।’ রায়হান যখন মারা যান তখন তার মেয়ে আলফার বয়স ছিল দুই মাস। সেই মেয়ে এখন বড় হয়ে উঠছে। হাঁটা শিখছে। ধীরে ধীরে কথাও ফুটছে তার মুখে।’

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার কাজে আদালতে গিয়েছিলাম। এসে দেখি নাতনিটা কেবল বাবা বাবা করছে। সবসময়ই সে বাবাকে খোঁজে। কিন্তু পায় না। তার জন্য বুক ফেটে যায়। এই শিশুকে যে এতিম করেছে তাকে কী করে ক্ষমা করব।’

আকবরসহ অন্যরা অপরাধ না করে থাকলে কেন ক্ষমা চাইবে- এমন প্রশ্ন তুলে রায়হানের মা বলেন, ‘তাদের এই ক্ষমা প্রার্থনা আর বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাবই প্রমাণ করে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।’

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে নেওয়া হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে। সেখানে সকালে তিনি মারা যান। এরপর পরিবার রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ তোলে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

গত ৫ মে এই মামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদ ও কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান।

এদিকে, রায়হানের মৃত্যুর পরই পালিয়ে যান এসআই আকবর। পরে গত বছরের ৯ নভেম্বর দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখন অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও আরেক আসামি নোমান পলাতক।

নিখোঁজ সেই ৩ বান্ধবী উদ্ধার

 

রাজধানীর পল্লবী থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও সার্টিফিকেট নিয়ে নিখোঁজ হওয়া কলেজপড়ুয়া সেই তিন বান্ধবীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিল, তখন তাদের র‌্যাব-৪ এর একটি দল উদ্ধার করে।

আজ বুধবার বিকেলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিলাম। তাদের অবস্থান শনাক্তের পর আমাদের একটি টিম কক্সবাজারে যায়। সেখানে আমাদের সদস্যরা তাদের অনুসরণ করেন। গতকাল তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। আমাদের সদস্যরাও তাদের অনুসরণ করে ঢাকায় আসেন। মিরপুরে প্রবেশের সময় তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। শিগগির তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা তিনজনই সুস্থ আছেন।’

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দিলখুশ জান্নাত নিশা, কানিজ ফাতেমা ও নেহা আক্তার নামে তিন বান্ধবী বাসা থেকে বের হন। তারা কলেজের পোশাক পরে এবং ব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তারা আর বাসায় ফেরেননি। পরে নিখোঁজদের পরিবার জানায়, ওই ছাত্রীরা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বর্ণের গহনা, নিজেদের সার্টিফিকেট নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিখোঁজ শিক্ষার্থী দিলখুশ জান্নাত নিশার বড় বোন অ্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন- মো. তরিকুল্লাহ (১৯), মো. রকিবুল্লাহ (২০), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ (১৮) ও শরফুদ্দিন আহম্মেদ অয়ন (১৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ কাজী দিলখুশ জান্নাত নিশা (১৬) পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-সি, ১৮ নম্বর রোডের মায়ের সঙ্গে বসবাস করত। সে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ার সুবাদে এক নম্বর আসামি তরিকুল্লাহ, রকিকুল্লাহ, জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ ও শরিফুদ্দিন আহম্মেদ অয়নসহ দিলখুশের বান্ধবী লেহা আক্তার (১৭) ও কানিজ ফাতেমার (১৮) সঙ্গে পরিচয় হয়।

এতে বলা হয়, তিন নম্বর আসামি জিনিয়া প্রায় সময় দিলখুশের বাসায় আসা-যাওয়া করত এবং প্রায় সময়ই তরিকুল্লাহ ও জিনিয়া বাসায় এসে নিশাকে ঘোরাফেরার জন্য বাইরে নিয়ে যেত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দিলখুশ বাসা থেকে বের হয়।

এজাহারে বলা হয়, নিখোঁজের পর তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করে দেখতে পান, আলমারির ভেতরে রাখা নগদ ছয় লাখ টাকা, স্বর্ণের গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নেই। তার বান্ধবী নেহা আক্তারের বাবা জানান, বাসা থেকে তার মেয়ে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নিয়ে গেছে। এ ছাড়া কানিজ ফাতেমার বাবা জানান, তার মেয়েও বাসা থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণের গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নিয়ে গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় করা মামলায় গত রোববার রকিবুল্লাহর (২০) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে আসামি মো. তরিকুল্লাহ (১৯), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ (১৮) ও শরফুদ্দিন আহম্মেদ অয়নকে (১৮) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।