গাজীপুর সিটি মেয়রের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে দলীয় ফোরামে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন তিনি।

স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রেক্ষিতে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত একজন মেয়রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটা নিয়ে কথা উঠেছে, ডিজিটাল যুগে তো কথা নানাভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রচার করেছে, কিভাবে কি হয়েছে সেটা জানার জন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। জবাব পাওয়া গেলে পার্টি বসবে। বসে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধাওরণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তিমূলক বক্তব্য রয়েছে অভিযোগে মেয়রের বিরুদ্ধে কর্মসূচী পালন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ। এসময় তারা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দল থেকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করে জোড়াতালি দিয়ে এই ভিডিও ক্লিপ বানিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে রোববার (২ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে, ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয়শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গে জবাব চাওয়া হয়েছে।

 

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে অংশ নিয়ে আমি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক বিষয়ে মনোযোগ ও সহযোগিতা কামনা করেছি। সদ্য সমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সোমবার বিকেল ৪টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা ও এর স্থায়ী সমাধানের বিষয়টা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মূল বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক ছিল। বিশেষত কোভিড ১৯ টিকার সার্বজনীন প্রাপ্যতা।  মহামারি থেকে টেকসই পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত শীর্ষ সভাগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাঙ্গীর বিরোধী আন্দোলন চলবে: আজমত উল্লাহ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান। তবে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আজমত উল্লাহ।

 

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুধু আওয়ামী লীগ করছে না। এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষেরও উপস্থিতি আছে। ছাত্রলীগসহ আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করছে। এখন শোকজ করা হয়েছে। এই শোকজের পরিপ্রেক্ষিতে তারা যদি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে চায়…তাদেরও তো একটা দাবি আছে।’

 

কেন্দ্র থেকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কারণ দর্শাতে বলা হলেও আন্দোলন বন্ধের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানান আজমত উল্লাহ।

 

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র তো শোকজ করার সঙ্গে কাউকে বলেনি আপাতত আন্দোলন বন্ধ। এটা যেহেতু কেন্দ্র থেকে বলা হয়নি, তাই আন্দোলন চলতেই পারে। আন্দোলন চলবে।’

 

রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা একটি চিঠি জাহাঙ্গীরের কাছে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেন দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। চিঠির জবাব দিতে জাহাঙ্গীরকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে।

 

কারণ দর্শানোর চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মেয়র জাহাঙ্গীরও। তিনি বলেন, ‘আমি চিঠির লিখিত জবাব দেব।’

 

শুরু থেকেই বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আসা এই মেয়র বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও আমার নির্বাচনের বিরোধিতাকারীরাই এই অপপ্রচার চালিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ যেভাবে চায়, আমি সেভাবেই জবাব দেব।’

গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ, ১৫দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ আঃলীগের

আওয়ামী লীগের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে শোকজ করেছে আওয়ামী লীগ।

দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গোপনে ধারণ করা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।

তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, ‘তাকে নিয়ে একটি পক্ষ নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে তার কিছু কথা এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে।’

বঙ্গবন্ধু্কে নিয়ে কটুক্তি গাসিক মেয়রের বহিষ্কারের দাবীতে টঙ্গীতে অবরোধ ও মহাসড়কে আগুন

 

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে টঙ্গীর ৪৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা  ।

শনিবার ( বিকেল সাড়ে ৪ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ পর্যন্ত) প্রায় দুই ঘন্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং গাসিক মেয়রের বহিষ্কারের দাবীতে মহাসড়কে আগুন লাগিয়ে দেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গাসিক মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের দাবী জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তিকারী ও গাজীপুর মহনগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্যকারী এবং দেশে দুইটি
গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সুনাম ক্ষুন্নকারী জামাত বিএনপির এজেন্ট নব্য রাজাকার প্রতারক শাহেদ ও হেলেনা জাহাঙ্গীরের সহযোগী গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবী জানাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ৪৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ নূরুল ইসলাম নুরু, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সদস্য কাইয়ূম সরকার, টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি কে এম নাছির,
টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশিউর রহমান সরকার বাবু, টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মনজুর।

আজ দেশে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ দিনের সফর শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবাই হয়ে আজ বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন।
দেশে ফিরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যাপক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। বিমানবন্দর থেকে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনের উদ্দেশে রওনা হলে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে ফুল, ব্যানার-ফেস্টুন ও রং-বেরঙের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে অভ্যর্থনা জানাবেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগসহ কেন্দ্রীয় ১৪ দল, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত, কুড়িল ফ্লাইওভার, হোটেল র্যা ডিসন, কাকলীর মোড়, বনানী, জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয়সরণি, সামরিক জাদুঘর, জাতীয় সংসদ ভবন মোড় ও গণভবন পর্যন্ত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবে।
ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল: প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর, জেলা, উপজেলা, কলেজে নানা কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। কর্মসূচির মধ্যে ছিল কেক কাটা, আনন্দ শোভাযাত্রা, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণ।

২০০০ কোটি টাকা পাচার, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

ঢাকা: ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

 

এই মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর ৮ আসামি হলেন- ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, খোন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।

এই ১০ আসামির মধ্যে রুবেল, বরকত, লেভী ও ফারহান কারাগারে রয়েছেন। অপর ছয় আসামি পলাতক। এদিন আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

১৩ অক্টোবর গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন আদালত।

এদিকে চার্জশিট গ্রহণ হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও  ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম  এবং মো. জাফর ইকবাল, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন এবং গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু অব্যাহতি পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এসব তথ্য জানান।

এর আগে ০৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) উত্তম কুমার সাহা চার্জশিট সিএমএম আদালতে দাখিল করেন।

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরে এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এছাড়া, মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন তারা। ২৩টি বাস, ট্রাকসহ বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন ওই দুই ভাই। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন তারা। রাজবাড়িতে ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর এক আইনজীবী খুন হন। সেই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বরকত ও রুবেল।

এজাহারে আরও বলা হয়, ১৮ জুন মিরাজ আল মাহমুদ তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বরকত ও রুবেল অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

ইকুয়েডরে কারাগারে দাঙ্গায় নিহত বেড়ে ১১৬, আহত ৫০

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে কারগারে দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দাঙ্গার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন।

দেশটির কারা ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ দাঙ্গা হয়। দাঙ্গায় অন্তত পাঁচ জনের শিরচ্ছেদ করা হয়েছে। আর বাকিরা গুলিতে নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ কমান্ডার ফাস্তো বুয়েনানো জানান, প্রায় চারশ’ পুলিশের চেষ্টায় কারাগারের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কারাগারটিতে মূলত মাদক চক্র সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বন্দি রাখা হতো।

ইকুয়েডরের কারাগার কর্তৃপক্ষের পরিচালক বলিভার গারজন বলেন, বুধবার দুপুর ২টার দিকে পুলিশ কারাগারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, কিন্তু রাতে আবারও গুলি চলেছে, বিস্ফোরণও হয়েছে। আর আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আমরা কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, যে স্থানে সংঘাত হয়েছে সেখানে আমরা যতই ভেতরের দিকে যাচ্ছি, ততই নতুন নতুন মরদেহের সন্ধান পাচ্ছি।

পুলিশ কমান্ডার ফাস্তো বুয়েনানো জানান, এক অংশের বন্দিরা দেওয়ালে গর্ত খুঁড়ে অন্য অংশে প্রবেশ করে। সেখানেই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে সর্বশেষ দাঙ্গার ঘটনা এটি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আরেক দাঙ্গায় ৭৯ বন্দি নিহত হয়েছিলেন।

মা হারালেন ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ

ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগমের মা উজালা বেগম আর নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন উজালা বেগম। এছাড়া লিভারজনিত সমস্যা ছিল তার। হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার বাদ আসর মমতাজের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নে বাউল কমপ্লেক্সে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

গত সপ্তাহে মায়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের এই সংসদ সদস্য।

মমতাজ লেখেন, ২ সেপ্টেম্বর থেকে মাকে নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালেই আছি। এর মধ্যে একটা জিনিস খেয়াল করেছি, আমার ধারনার চেয়েও মানুষ আমাকে বেশি ভালোবাসেন। আমার এলাকার মানুষ ও আমার সকল ভালোবাসার মানুষ গুলো প্রতিদিন আমার পাশে থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করে আমাকে আরও বেশি ঋণী করে ফেলেছেন। আমি সবার কাছে আমার মায়ের জন্যে দোয়া চাই। তবে চিকিৎসক বলেছেন হাসপাতালে লোকের ভিড় কমিয়ে তাদেরকে সঠিক সেবা করার সুযোগ করে দিতে। কেউ মনে কষ্ট নেবেন না, দূর থেকে সবাই দোয়া করবেন মা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়।

চলতি বছরের এপ্রিলে মায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন ফোকসম্রাজ্ঞী। মমতাজের বাবা ছিলেন বিখ্যাত বাউলশিল্পী মধু বয়াতী।

৯ মাস হাসপাতালে এক শিশু, খোঁজ মেলেনি পরিবারের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের এক কোনায় একটি বিছানায় গত ৯ মাস ধরে শুয়ে আছে অজ্ঞাত পরিচয় এক শিশু। তার আনুমানিক বয়স ১১ বছর। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ করেনি কেউ। শিশুটি হাটতে ও কথা বলতে পারে না। নাম না জানা এই শিশুকে নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করছেন হাসপাতালের পরিছন্নতাকর্মী উজ্জ্বল মিয়া। শিশুটির নাম দিয়েছেন শরিফ মিয়া।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি জেলার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে সদর ইউনিয়নের বৈকণ্ঠপুর এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ২৫ দিন শিশুটি কোমায় ছিল। তারপর ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে সে। গত ৯ মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে শিশুটি। এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি শিশুটির পরিবারের।

জানা যায়, হাসপাতালে আনার পর থেকে শিশুটির সেবাযত্ন করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী উজ্জ্বল মিয়া। প্রথম দিকে শিশুটি খাবার খেতে পারতো না। এসময় তাকে বিভিন্ন ফলের রস সিরিঞ্জ দিয়ে খাওয়াতেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে শিশুটি। বিছানা থেকে উঠে বসতে না পারলেও, মুখে কথা বলার চেষ্টা করে। খেতে পারে ভাত ও ফলমূল।

পরিছন্নতা কর্মী উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘শিশুটিকে নিজের সন্তানের চেয়ে বেশি সেবাযত্ন করছি। প্রতিদিন তার মলমূত্র পরিষ্কার, গোসল করানো, তেল মালিশ করাসহ সব ধরনের সেবাযত্ন করতে হয়। নাম না জানায় শরিফ মিয়া বলে ডাকি। মাঝে মাঝে মানুষ আসে শিশুটিকে দেখতে। তখন অনেকেই কিছু টাকা দিয়ে যান। না হলে নিজের টাকা দিয়ে শিশুটির তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজেরও তো সন্তান আছে। তাদের পাশাপাশি এই শিশুটিকে লালন পালন করছি। জানি না এই ভাবে কতদিন চালিয়ে যেতে পারবো। সে কার সন্তান তা আমি জানি না। তার প্রতি আমার ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। আমি এর মাঝে লাভক্ষতি খুঁজি না। কিন্তু এখন যখন সে হাসি দেয় আমার বুক আনন্দে ভরে উঠে।’