আগস্ট এলেই বঙ্গবন্ধু কন্যার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি’

আগস্ট এলেই বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আগস্ট এলেই বঙ্গবন্ধু কন্যার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। ১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফিরে আসার পর তাকে প্রায় ২০ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়।’

ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। যারা খুনের কুশীলব ছিল তাদের অপমৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করিনি,ক্ষমা করেও না।’

আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ধারায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চলমান করোনা সংকটে অসহায়, দুঃখি মানুষের পাশে দাঁড়ালেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শন এবং তার আত্মা শান্তি পাবে।’

ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল ১৫ আগস্ট, নির্মমতার দিক থেকে এমন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নজির পৃথিবীতে আর নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জগতে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হয়নি, টার্গেট করা হয়নি অবলা নারীকে, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুই নন, তার সহধর্মিণী মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম মুজিবসহ নৃশংসভাবে নিহত হন পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রকারিরা থেমে থাকেনি, তারা পরবর্তীতে তিন নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে জেলের অভ্যন্তরে কারাকক্ষে হত্যা করে। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। ’

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট প্রাইম টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রাইম টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ’

ব্যবসায়ীদের অনুরোধে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা বিধি নিষেধের আওতামুক্ত

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অনুরোধে আজ থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা বিধি নিষেধের আওতামুক্ত ঘোষণা করেছে সরকার।’

ব্যবসায়ী নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ‘কারখানার আশপাশের শ্রমিকদের নিয়ে প্রথমে কারখানা চালু করবেন’-এমনটা স্মরণ করে দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার নোটিশ দেয়, এতে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে মানুষের রাজধানীমুখীর যে শ্রোত তাতে সংক্রমণের হার বেড়ে যেতে পারে

লকডাউনে হঠাৎ কলকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আত্মঘাতী : ফখরুল

লকডাউনের মধ্যে হঠাৎ করেই রপ্তানিমুখী কলকারখানা খুলে দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় গতকাল শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা আজকের পত্রিকাগুলোতে দেখেছেন কী ভয়াবহ অবস্থা? কী রকম তুঘলগি কারবার- আগে বলা হলো যে, করখানা খোলা হবে না, ৫ আগস্ট পর্যন্তই বন্ধ থাকবে। আবার হঠাৎ করেই বলা হলো কলকারখানা খোলা হবে। কী করে লোকগুলো আসবে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার দেখা যাচ্ছে, রাত্রি বেলা বলছে যে, না, দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন খোলা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কি এমনি বলেছিলাম যে, এগুলো আসতেছে সব হেমায়েতপুর থেকে। আসলেই তো! সব হেমায়েতপুরের অবস্থা। এটা বদ্ধ উন্মাদনা ছাড়া আমি কিছু দেখতে পাই না। বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে যে, অযোগ্যতা, দুর্নীতিপরায়ণতা এবং আন্তরিকতার চরম অভাবে এসব আত্মহননকারী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করছে। দিস ইজ টোটালি সুইসাইডাল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেভাবে মানুষ আসছে একেবারে গাদাগাদি করে, ঘাড়ের উপর, ঘাড়ের উপরে চড়ে এবং  সেভাবে এসে কিভাবে? একবার তাদের ছুটি দিলো সব চলে গেলো। আবার ফিরছে তারা মফস্কল থেকে। এখন তো মফস্বলেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেড়েছে। ওইগুলো নিয়ে তারা আবার ফিরে আসছে। সো উই আন্ডারস্ট্যান্ড কি হতে যাচ্ছে ঢাকাতে। আমরা মনে করি, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার জন্য সকল দায়-দায়িত্ব নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারেরে অপরিকল্পিত লকডাউনে জনগনের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিএনপি অনেকবার বলেছে যে, দিন আনে দিন খায় মানুষ, প্রান্তিক মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, মাঝি, রিকশাশ্রমিক, ভ্যানশ্রমিকসহ সকল প্রকার নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা ব্যতীত লকডাউন কখনই কার্যকর হবে না। সেইজন্যই বিএনপি এসব মানুষদেরকে এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদানের প্রস্তাব করেছিল। সরকার সেদিকে না গিয়ে দলীয় লোকদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকৃত দুর্গত মানুষের কাছে এই সহযোগিতা পৌঁছাচ্ছে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হঠাৎ করে রপ্তানিমুখী কলকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কল-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা আরও মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। একদিকে গণপরিবহন বন্ধ অন্যদিকে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশে তারা হতবিহবল হয়ে উঠেছে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রায় সব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। ঢাকার বাইরে এই শ্রমিকরা এবং ঢাকার জনগন ডেল্টা ভেরিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।’

রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলবে

রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আগামীকাল রোববার দুপুর ২২টা পর্যন্ত     সকল গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। আজ শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকাপ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে এখন থেকে আগামীকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত  গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। গণপরিবহন চলাচল শুরু হবে।’

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। চলমান এই বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার এক আদেশে ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সারাদেশ থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

আজ শনিবার নৌরুটগুলোতে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভিড় ছিল উপচেপড়া। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে তারা কর্মস্থলে ফিরছেন। ফেরিতে এবং মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শহরমুখী শ্রমিকরা ভিড় করছেন। এদিকে গণপরিবহন চালু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ অবস্থায় রোববার দুপুর পর্যন্ত  গণপরিবহন চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে শিল্প-কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে রোববার দুপুর পর্যন্ত নৌযান চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

টঙ্গীতে জালনোট তৈরির সরঞ্জামসহ একজন গ্রেফতার

টঙ্গী প্রতিনিধি: টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ ২, ৫৪ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল টাকা উদ্ধার করেছে। জালনোট তৈরী ও ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য মোঃ সবিজুল ইসলাম প্রকাশ সবুজ (৫০) কে গ্রেফতার করেছে।
র‌্যাব জানায়, শুক্রবার রাত ৩টায় একটি আভিযানিক দল গোপন সূত্রের ভিত্তিতে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া সুলতানা রাজিয়া রোড এলাকার একটি বাড়িতে জাল টাকা তৈরি করে আসছে একটি চক্র। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে জালনোট তৈরী ও ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য মোঃ সবিজুল ইসলাম প্রকাশ সবুজ (৫০) কে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামীর নিকট হতে ২,৫৪,০০০ টাকা মূল্যমানের জালনোট, ২টি প্রিন্টার, ১৯টি জাল টাকা বানানোর ফ্রেম, ২টি জাল টাকা তৈরীর মেশিন, ১.২০০ কেজি জাল টাকা তৈরীর কাচের গুড়া, ১.৮০০ কেজি স্পিরিট, ৪কৌটা গাম, ৮বোতল বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, ১২টি ফয়েল পেপার, ১টি মোবাইল ফোন, ১টি সিমকার্ড এবং ৩৭ বান্ডেল কাগজসহ জাল টাকা তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সবুজ জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ জালনোট তৈরি করে আসছিল। সে বিভিন্ন জায়গা থেকে জালনোট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করে জালনোট তৈরী করতো। জাল টাকা তৈরি ও বিপণনের কাজে জড়িত চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপ অর্ডার অনুযায়ী জাল নোট তৈরি করে, অপর গ্রুপ টাকার বান্ডিল পৌঁছে দেয়, আরেক গ্রুপ এসব টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়। জালনোট প্যাকেট আকারে সুনির্দিষ্ট কিছু লোককে সরবরাহের নিমিত্তে বিপুল পরিমান জালনোট তৈরী এবং বাজারে সরবরাহ করে আসছিল বলে ধৃত আসামী স্বীকার করে।

লকডাউন আরও বাড়ানো হবে কিনা, যা বললেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৫ আগস্টের পর লকডাউন আরও অন্তত ১০ দিন বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের সুপারিশ মাথায় আছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি (সুপারিশ) অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে। কারণ সবকিছুর সমন্বয় আমাদের করতে হবে। সেজন্য আমরা বলছি যে, একটু সময় নেব। ৩ বা ৪ তারিখে এ বিষয়টি পরিষ্কার করে দেব।

শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

৫ তারিখের পর কী হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কী হবে, সেটির এখনও সিদ্ধান্ত পাইনি। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত জানাবেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ব্যবস্থা নেব। চলমান কঠোরতম বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হতে পারে, যাতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, আবার শিল্প উৎপাদনও চালু রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা যায়।

শিল্প কারখানা খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রফতানিমুখী যে শিল্প কল-কারখানাগুলো আছে, সেগুলো আগামীকাল (১ আগস্ট) থেকে খুলে দেওয়া হবে এবং শুধুমাত্র যারা ঢাকাতে আছে, কারখানার আশেপাশে যারা রয়ে গেছে, তাদেরকে নিয়ে তারা কাজগুলো করবে ৫ তারিখ পর্যন্ত। আমরা এর ভেতরে সিদ্ধান্ত নেব, ৫ তারিখের পর কী হবে।’

৫ তারিখের পর বিধিনিষেধ থাকছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি আসলে কী হবে, এখন তা চূড়ান্তভাবে বলতে পারছি না। সেটি আমাদের বলাও উচিত হবে না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বিভিন্ন প্রস্তাব আছে, সেগুলো বিবেচনা করে কীভাবে করলে এ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেটি আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের কাজকর্মগুলো, যেগুলো একেবারেই অপরিহার্য, সেগুলো চালানো। সেটি কী করলে ভালো হবে, সেজন্য আরেকটু সময় আমাদের লাগবে।’

শুক্রবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম চলমান কঠোর বিধিনিষেধ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করার তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, আমরা কীভাবে এই সংক্রমণ সামাল দেব? রোগীদের কোথায় জায়গা দেব? সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব? অবস্থা খুবই খারাপ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব বিবেচনাতেই আমরা বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি।

কারখানার শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন- বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘গতকালকে আমরা বিষয়টি ক্লিয়ার করেছি। মিটিংয়ে মালিকরা কথা দিয়েছেন, যারা শুধু ঢাকায় আছেন তাদেরকে নিয়েই এ কর্মকাণ্ড শুরু করবে, কেউ চাকরি হারাবে না।’

সেক্ষেত্রে গণপরিবহন চালু হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কী হবে, সেটি নিয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা নেই।’

দেশে পৌঁছালো অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরও ৭ লাখ ৮১ হাজার টিকা

জাপান থেকে দেশে পৌঁছালো অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরও ৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ টিকা। শনিবার (৩১ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে টিকা বহনকারি বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

 

টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান থেকে এ টিকা দেশে এসেছে।

 

 

এর আগে গতকাল জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে নিপ্পন এয়ার ওয়েজের একটি কার্গো বিমান টিকাগুলো নিয়ে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে।

 

 

এ নিয়ে দুই দফায় জাপান থেকে বাংলাদেশে ১০ লাখ অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসলো। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে জাপানের ৩০ লাখ টিকা দেওয়ার কথা। আগামী ৩ আগস্ট জাপান থেকে আরও ছয় লাখ টিকার একটি চালান ঢাকায় আসবে।

 

 

এর আগে ২৪ জুলাই প্রথম দফায় অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ টিকা জাপান থেকে ঢাকায় আসে।

নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৩ শত টন মশার ঔষধ ছিটানো হবে ……….মেয়র

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : “তিনদিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এডিস মশা নিধন করে, মশার লার্ভাকে ধ্বংস করে এই ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৩ শত টন মশার ঔষধ ছিটানো হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এড. জাহাঙ্গীর আলম। শনিবার দুপুর ১২টায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড জুড়ে মশক নিধন পরিছন্নতা কার্যক্রম ও চিরুনি অভিযান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনরে ৫৭টি ওয়ার্ডে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মশার ঔষধ ছিটানো কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ডেঙ্গু যেন কোন ভাবেই আমাদের শহরে উৎপাদন না হতে পারে সে জন্য কয়েকশত ফগার মেশিনের মাধ্যমে ৩শত টন মশার ঔষধ ছিটানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৭৬জন কাউন্সিললদের যৌথ সহযোগিতায় কাজটি সম্পাদন করতে চাই।
তিনি আরোও বলেন, আপনারা সকলেই জানেন, এখন বর্তমানে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেই সাথে যদি ডেঙ্গু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আমাদের ভয়াবহ ক্ষতি হবে। সকলে যেন ডেঙ্গু ও করোনামুক্ত থাকতে পারে সে জন্যে আমরা ইউরোপ থেকে প্রায় ৩শ’ টন মশা মারার ঔষধ আমদানি করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ৩শ’ টন ঔষধ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে আরো বাড়ানো হবে।
আমরা এ ঔষধ পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে শতভাগ সফলতা পেয়েছি। গাজীপুর সিটির মানুষ যেন ডেঙ্গু ও করোনামুক্ত থাকতে পারে সে জন্য আমাদের সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সকলের সহযোগিতায় কাজটি শুরু করেছি। প্রত্যেকেই যেন তার বাড়ির আশপাশ, বাড়ির ছাদ, সেসব সুরু জায়গায় আমাদর মেশিন ঢুকতে পারবে না সেসব জায়গায় যেন সকলে নিজ দ্বায়িত্বে পরিষ্কার— পরিছন্ন রাখে। নিজেকে বাঁচতে হবে, অন্যকেও বাঁচাতে আমরা সকলে সকলের সহযোগিতা কামনা করি। আমরা স্থানীয় সরকারের সহযোগিতায় আমরা এ কাজটি শুরু করেছি।

১ আগস্ট থেকে খুলছে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা

আগামী রোববার (১ আগস্ট) থেকে রপ্তানিমুখী সকল কলকারখানা খোলার অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার (৩০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নোটিশে বলা হয়, ঘোষিত দিন থেকে রপ্তানিমুখী সকল শিল্প কারখানা চলমান কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

এর আগে দেশে মহামারি পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন দেয় সরকার। ঈদের পর থেকে কঠোরভাবে চালু হওয়া এ লকডাউনের আওতায় বন্ধ রাখা হয় শিল্প কারখানা। এরপর কারখানা খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান ব্যবসায়ী নেতারা। তারপরই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো।

পোশাকশিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-সহ দেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্ব কারখানা চালুর অনুমতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৩ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষ

চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা-জমিজমা সব। ভাঙনের শব্দে ঘুম ভাঙছে পদ্মা-যমুনা-তিস্তা আড়িয়াল খাঁ এসব নদী পাড়ের মানুষের। সকালে যাদের ঘর-বাড়ি, জমিজমা ছিল, সন্ধ্যায় নদীগর্ভে সব বিলীন হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ নানা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী আগ্রাসী রূপ ধারণ করছে। নদীপাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। টাঙ্গাইলে যমুনা ও ঝিনাই নদীর ভাঙনে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়িসহ ফসলি জমি। মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দিশেহারা মানুষ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পদ্মা পাড়ের কয়েক শত অসহায় পরিবারের। নিরুপায় হয়ে বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে এ সকল মানুষের।
লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার প্রবল ভাঙনে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রামে তিস্তার গাবুর হেলান, খিতাবখা, ধরলার সারডোব, পাটেশ্বরীসহ কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। সারডোবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সারা দেশের নদীভাঙন নিয়ে আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।

টাঙ্গাইল  : যমুনা ও ঝিনাই নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরিভাবে ফেলা জিওব্যাগও যমুনার করাল থাবা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। যমুনার প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিতে চারটি ও ঝিনাই নদী তীরবর্তী একটি উপজেলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, নাগরপুর, ভূঞাপুর ও বাসাইল এই পাঁচটি উপজেলায় যমুনার ও ঝিনাই নদীর পানি কমতে থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, চরপৌলী হাটখোলা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ : যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র হচ্ছে। জেলার নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার নদীপাড়ে ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যমুনাপাড়ের ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ রিক্ত, নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের গুনেরগাতী, বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী পাচিল শরিফমোড় গ্রাম ও কাজিপুর সদরে আবারো নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনার ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ চৌহালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল রক্ষায় পাউবোর জরুরি নদী তীর সংরক্ষণ এলাকায় ভাঙন অব্যাহত গতিতে চলছে। এনায়েতপুর এলাকা প্রায় ৫শত’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হুমকীর মুখে পড়েছে।

মুন্সীগঞ্জ: পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে লৌহজং ও টংগীবাড়ী উপজেলার বসতবাড়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নিঃস্ব এবং ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছে শতাধিক পরিবার। লৌহজংয়ে শতবর্ষী ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লৌহজং উপজেলার খড়িয়া, উত্তর মেধীনীমন্ডল, কান্দিপাড়া, তেউটিয়া, গাওদিয়া ডহুরীসহ শিমুলিয়া-বাংলা বাজার ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। কামারখাড়া, হাসাইল, মূলচর, কান্দারবাড়ী, বাঘবাড়ী এলাকার অর্ধ-শতাধিক বসত বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মাদারীপুর :হঠাৎ করে আড়িয়াল খাঁ রুদ্রমূর্তি ধারণ করে মাদারীপুরের শিবচরের কলাতলা-শিরুয়াইল নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর ভাঙন তীব্র হয়ে ওই এলাকার রাস্তাঘাটসহ বেশকিছু জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, প্রায় অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসতবাড়ি, মসজিদ ও কবরস্থানসহ হাটবাজার।
লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা পাড়ের মানুষ। তিস্তা ও ধরলার প্রবল ভাঙনে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বাঁধসহ নানান স্থাপনা। তিস্তার ভায়াবহ ভাঙনে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কুটিরপাড়, বালাপাড়া, বাদিয়ারটারী ও চৌরাহা গ্রামে বিলীন হয়েছে ২০টি পরিবারের বসতভিটা। এছাড়া অর্ধশত বসতভিটা ও শতাধিক একর আবাদিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় মোগলহাটের ফলিমারী এলাকায় ধরলা নদীর ডান তীরে গত তিন দিনে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীগর্ভে চলে গেছে বসতভিটা ও ভুট্টাসহ অর্ধশত বিঘা আবাদিজমি। গৃহহারা হয়েছেন অনেক পরিবার। অসহায় পরিবারগুলো স্থানীয় বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে আছেন।

কুড়িগ্রাম :ধরলার ভাঙনে সারডোবে বিকল্প বাঁধের অবশিষ্টাংশ ভেঙে পানি ঢুকে ভাটিতে থাকা ১৫টি গ্রাম নিমজ্জিত হয়েছে। এসব এলাকার গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ। পানি বাড়ার ফলে তিস্তার গাবুর হেলান, খিতাবখা, ধরলার সারডোব, পাটেশ্বরীসহ কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। সারডোবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ সংবাদদাতা জানান, পদ¥ার ভাঙনে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পদ্মা পাড়ের কয়েক শত অসহায় পরিবারের নিরুপায় হয়ে বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। সদর উপজেলার মিজানপুর ও বরাট ইউনিয়নের গোদারবাজার অংশে কংক্রিট দিয়ে নির্মিত সিসি ব্লকের ১৫০ মিটার অংশে ব্যাপক ভাঙনের পর গতকাল সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায় দ্বিতীয় দফায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে নদী তীরবর্তী প্রায় ৩০মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে শত শত বসতবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড় থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সরেজমিনে সকালে দৌলতদিয়া এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ও ১নং ফেরিঘাট এলাকায় মজিদ শেখর পাড়ার ৩০মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হওয়া ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মজিদ শেখের পাড়ার থেকে আবু মেম্বার, আবুল মন্ডল, সোহেল মুন্সী, মোকছেদ মন্ডল, উজ্জল সরদারের বাড়িসহ বেশকিছু বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল হক খান মামুন, গোয়ালন্দ পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মন্ডল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম। স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন্দু মোল্লা বলেন, অব্যাহত পদ্মার ভাঙন রোধে কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি ভাঙন রোধে কাজ করা হবে কিন্তু কিছুই হয়নি। স্থানীয় হানেফ মন্ডল বলেন, কয়েক বছর পূর্বে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে ছিল পদ্মা নদী। সেখান থেকে শুনে আসতেছি ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে। বালুর বস্তা ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয়নি

শাটডাউন বাড়ানোর সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান শাটডাউনের সময়সীমা আবারো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শাটডাউনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার সকালে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ক্যাবিনেটে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী, এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই তো আমরা চলমান লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিলাম। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকার সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কোরবানি ঈদের পর ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় শাটডাউন। কঠোর এ বিধিনিষেধ চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

ঈদের সময়টা বাদে চলতি মাসে চলা শাটডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কারও বাড়ির বাইরে আসা বারণ। রিকশা ছাড়া বন্ধ সব ধরনের গণপরিবহন।

মানুষের অযাচিত চলাচল ঠেকাতে বসানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়কে পড়তে হচ্ছে পুলিশি তল্লাশির মুখে। শাটডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে আছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী।