করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না আসায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ সময় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদরাসা বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় এবং কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদরাসাসমূহের চলমান ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট ২০২১ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়ানো হয়।
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করেছে র্যাব।
অভিযানের সময় হেলেনাকে আটক করা হয় বলে আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
গতকাল বৃহষ্পতিবার রাত ৮টার থেকে গুলশান-২ এলাকায় ৩৬ নম্বর সড়কে তার ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় বাসাটি ঘিরে রাখে র্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্য। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায় র্যাব সদস্যরা। রাত ১০টার দিকে র্যাবের নারী সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য হয়েছিলেন গত ১৭ জানুয়ারি। তার আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের দিকে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। আবদুল মতিন খসরু মারা গেলে ওই আসনে মনোনয়নের জন্য দলীয় ফরম সংগ্রহ করলেও মনোনয়ন পাননি।
সম্প্রতি ফেসবুকে নেতা বানানোর ঘোষণা দিয়ে ছবি পোস্ট করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের ব্যানারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। কথিত এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়।
মো. সালাহ উদ্দিন, বয়স পঁচিশের এই যুবক পরিবারের হাল ধরতে পাড়ি জমান বিদেশে। পাঁচ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে বাড়ি ফেরেন মাস কয়েক আগে। বিয়ে করে বৌ তুলেছেন ঘরে। কিন্তু বিয়ের এক মাসের মাথায় সালাহ উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জানতে পারেন তার দুটি কিডনি অচল হয়ে গেছে। একাধিক মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে প্রবাস জীবনে কামানো সব অর্থ শেষ করেছেন তিনি। তাও সুস্থ হননি। শেস পর্যন্ত সম্পদও বিক্রি করেন, এখন নিঃস্ব তার পরিবার।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে সালাহ উদ্দিন। চিকিৎসকরা জানান, কিডনি নষ্ট হয়ে পড়ায় তাকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় কেউ যদি তাকে কিডনি দেন, সেটি প্রতিস্থাপন করলে হয়ত সালাহ উদ্দিন বাঁচতে পারেন। এই অবস্থায় ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে হাসপাতালে ছুটে যান সালাহ উদ্দিনের মা মর্তুজা বেগম। ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দিয়েছেন তিনি।
এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক শোয়াইব নোমানী। গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় এ প্রতিষ্ঠানে সালাহ উদ্দিনের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। ডা. শোয়াইব নোমানী বলেন, ‘সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মা ছেলে দুজনই সুস্থ আছেন।’
চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হলেও সালাহ উদ্দিনের পরিবারের কারও সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার আরব আলীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহামগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা জমি দখল, চাঁদাবাজি, ও চুক্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- মো. সাহজামান ওরফে সাবু, মো. দুলাল প্যাদা ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন। গতকাল বুধবার ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদপুর ও রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম। তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকার পানি ও সুয়ারেজ লাইন ঠিকাদার আরব আলীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় চাদঁপুর জেলার হাইমচর থানার মিয়া বাজার ও রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ ‘‘কন্ট্রাক্ট শুটার টিমের’’ সদস্য সাবু, দুলাল ও সুজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত, সিসি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।’
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গতকাল বুধবার চাঁদপুর হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে পল্লবী থানার কালশী বাউনিয়াবাধস্থ তার বাসা হতে ছয় চেম্বারবিশিষ্ট একটি রিভলবার ও এক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। ধারাবাহিক অভিযানে কালশী এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত দুলাল ও সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী ইব্রাহীম এবং যুবরাজের তত্ত্বাবধানে থেকে ঢাকা মহানগরীর ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট ও পল্লবী থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট, বিতর্কিত জায়গায় জমির দখল-বেদখল এবং গ্যাস, পানি ও সুয়ারেজ লাইন তৈরির কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করতেন।’
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ সকল সন্ত্রাসীরা আদায়কৃত চাঁদার টাকা, ইয়াবা বিক্রির টাকা নিয়ে পদ্মা-মেঘনার দুর্গম চর এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করতেন।’ চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও কন্ট্রাক্ট শুটিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য প্রদানের জন্যে সকলকে অনুরোধ জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকাবাসীর টাকায় সুয়ারেজ লাইনের মেরামতের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় পানির লাইন ও সুয়ারেজ ঠিকাদার আরব আলীকে। কাজ চলাকালীন সন্ত্রাসীরা আরব আলী এবং নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। আরব আলী টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত ৩০ মার্চ দুপুর সোয়া একটায় ক্যান্টনমেন্ট থানার ৩৩/এ নম্বর বাসার সামনে আরব আলীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা উপর্যপুরি গুলি চালায়।
এ সময় উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে আরব আলী শুয়ে পড়ে কোনো রকমে নিজের জীবন রক্ষা করেন। তবে তার ডান পা ও উরু গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় গত ৩০ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে চলছে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ। মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা যখন পরিশ্রম করছেন, ঠিক তখন স্থানীয় লোকজন নিয়ে সপরিবারে নৌকা নিয়ে ভ্রমণে বের হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান।
ফেসবুকে ওসির ভ্রমণের ছবি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যাদের নিয়ে ওসি ভ্রমণ করছেন, তাদের কারও মুখে মাস্ক নেই। ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোকজন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের তিতাস ব্রিজের নিচে নৌকা নিয়ে ভ্রমণে যান ওসি সাদেকুর রহমান। তার সঙ্গে থাকা লোকজন সেলফি তুলে ফেসবুকে একের পর এক ছবি পোস্ট করতে থাকেন। একাধিক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ওই ছবি প্রকাশ হওয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায়, কারও মুখে মাস্ক নেই। নেই সামাজিক দূরত্বও। থানার একজন ওসি ও উপজেলার দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তির এমন ছবি প্রকাশ হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ছবিগুলো দেখে বিরূপ মন্তব্য করেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিধিনিষেধের নির্দেশনার মধ্যে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, পিকনিকসহ জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে গ্রেপ্তার বা অর্থদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যেই ওসির এমন ছবি ভাইরাল হওয়ায় নিন্দা জানাচ্ছেন উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।
তোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে ভাইরাল ছবিতে কমেন্ট করেছেন, ‘আবারও প্রমাণিত হলো আইন সবার জন্য সমান নয়! সকাল বেলা কর্তব্যরত অবস্থায় লকডাউন অমান্যকারীদের দৌঁড়ায়, আর উনি নিজেই বিকেল বেলা পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে বের হওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? তা ছাড়া পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে নৌকার ছাদে উঠে ঝুকিপূর্ণ ছবিও প্রকাশ করেছেন, যা আমাদের কাছে দায়িত্বহীনতা প্রকাশ পেয়েছে।’
আক্তার মিয়া নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘এবার দৌঁড়াবেন কাকে জনাব? আপনারা এগুলো করলে আনন্দভ্রমণ, আর সাধারণ মানুষ করলে করোনাভ্রমণ।’
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, ‘আমার পরিবারের লোকজন জেলা সদরে থাকেন, ঈদ উপলক্ষে আমার এখানে এসেছেন। তাই তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নৌকাযোগে ঘুরতে বেরিয়েছি। আমার তো একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমি স্ত্রী-সন্তানদের সময় দিতে পারছি না বলে সঙ্গে নিয়ে গেছি। এটা নিয়ে নিউজ করার মতো কী আছে?’
কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যদি মুখে মাস্ক না থাকে তাহলে কাজটি বেআইনি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রাকিবুল ইসলাম (২২) নামের এক ছাত্রলীগ নেতার কবজি কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের হাজী মসজিদসংলগ্ন জলকপাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সাইফুল।
আহত ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এক বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেন। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সাইফুল রাকিবুলের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তবে সাইফুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাকিবুলের মামা গাজী মো. মাইনুল ইসলাম জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাকিবুল তেগাছিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। হাজী মসজিদ সংলগ্ন জলকপাট এলাকা অতিক্রম করার সময় সাইফুল, তার ছোট ভাই তরিকুল, নবী হোসেন, বাদশা খলিফা, জাকারিয়া জমাদ্দার, রুবেল সিকদার, মাসুম হাওলাদারসহ ১০-১২ জন রাকিবুলের ওপর হামলা চালান। তারা রাকিবুলকে বেদম মারধর করেন। পরে মাটিতে পড়ে গেলে রামদা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা রাকিবুলের ডান হাতটি টেনে নিয়ে একটি কাঠের ওপর রেখে রামদা দিয়ে কুপিয়ে কবজি বিচ্ছিন্ন করেন।
মাইনুল ইসলাম আরও বলেন, রামদার কোপে রাকিবুলে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়েছে। ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইফুল ও তার সহযোগীরা পাশের তেগাছিয়া বাজারে গিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের বলেন কে বা কারা রাকিবুলকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনার পরে স্থানীয়রা রাকিবুলকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানী সূত্রে জানা যায়, রাকিবুল গত বছর সাইফুলকে কুপিয়ে জখম করেন। ওই সময় তার ডান হাতের রগও কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ওই ঘটনার জের ধরেই রাকিবুলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কে বা কারা এমন হামলা করেছে তা আমি জানি না। তবে আমি বা আমার কোনো আত্মীয় এ ঘটনার সাথে জড়িত নই।’
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মাইনুল হোসেন বলেন, ‘রাকিবুলের ডান হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখম রয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ‘আসলে এ ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জের ধরেই হয়েছে বলে আমরাও শুনেছি। আমরা ইতিমধ্যে আহত ব্যক্তিকে দেখে এসেছি। অপরাধীদের ধরার জন্যও পুলিশি তৎপরতা চলছে। সন্ত্রাসীরা যত বড়ই হোক আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’
অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদার বুধবার চীন সফরে গেছেন। সেখানে পৌঁছেই উত্তরাঞ্চলীয় তিয়ানজিং শহরে তিনি বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই চীন তালেবানের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রক্ষা করছে। কিন্তু এই প্রথম এত উঁচু মাপের কোনো তালেবান নেতা চীন সফরে গেলেন এবং এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন কিছুদিন আগেই তালেবান চীনের সীমান্তবর্তী আফগান প্রদেশ বাদাকশানের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো কব্জা করেছে।
তালেবান নেতার এই সফরের চারদিন আগে আফগান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রণ করেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশীকে। চেংডু শহরে দুই মন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে কাজ করবে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তানে যেকোন অস্থিতিশীলতার প্রভাব প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানে সরাসরি গিয়ে পড়বে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।’
আফগানিস্তানে নতুন করে কোন গৃহযুদ্ধ যাতে শুরু না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এবং আফগান বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মীমাংসা আলোচনায় সাহায্যের জন্য পাঁচ দফা একটি কর্মপরিকল্পনা চেংডুর ওই বৈঠক থেকে ঘোষণা হয়।
আগস্টের মধ্যেই মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণার পর আফগানিস্তান নিয়ে সমস্ত প্রতিবেশী দেশগুলো অনিশ্চয়তা-উদ্বেগে ভুগছে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাই এখন সচেষ্ট। তবে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে চীন।
আফগানিস্তানে ঠিক কী চাইছে চীন?
অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানকে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বি আর আই) প্রকল্পে যুক্ত করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে চীন। সেই সাথে, আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদের ওপর চীনের লোভ রয়েছে বলে অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষক মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র্যান্ড কর্পোরেশনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যান এ মাসের গোঁড়ার দিকে তার এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, ‘চীন নীরবে আফগানিস্তানে তাদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপরতা শুরু করেছে।’
তিনি লিখেছেন- চীন এরই মধ্যে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের (সিপেক) সঙ্গে আফগানিস্তানকে যুক্ত করার কথা বলছে। পেশোয়ার এবং কাবুলের মধ্যে একটি মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাবুল সরকারের সাথে বছর দুয়েক ধরে কথা বলছে চীন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হবে এই ভয়ে আফগান সরকার তাতে সায় দেয়নি। তা ছাড়া, শিনজিয়াং প্রদেশের ওয়াকান করিডোর দিয়ে আফগানিস্তানের সীমান্ত পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করছে চীন।
মি. গ্রসম্যান মনে করছেন, আফগানিস্তানকে বিআরআই-এর সাথে সম্পৃক্ত করে নিজের প্রভাবে বলয়ে ঢোকানোর একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, আফগানিস্তানে সরাসরি অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের চেয়ে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা এখন চীনের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের সঙ্গে চুক্তির পর লাগমান প্রদেশে বিজয় উল্লাস করছে তালেবান যোদ্ধা ও তাদের স্থানীয় সমর্থকরা। ছবি : গেটি ইমেজেস
‘আফগানিস্তান এখন আর চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের জন্য অতি আবশ্যক নয়। মধ্য এশিয়ায় ঢোকার জন্য বা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আফগানিস্তানকে চীনের খুব বেশি প্রয়োজন নেই। পাকিস্তান এবং ইরানের সাথে চুক্তি করে সেই লক্ষ্য তারা হাসিল করছে।’
কিন্তু ড. আলী মনে করেন যে চীনের এখন প্রধান চিন্তা যে আফগানিস্তানে যেকোন অরাজকতা হয়তো পাকিস্তানে এবং ইরানে তাদের শত শত কোটি ডলারের প্রকল্প- যা ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বিকল্প একটি বাণিজ্য রুট- হুমকিতে ফেলতে পারে।
সাগর তীরবর্তী গোয়াদার গভীর সমুদ্র বন্দর এবং সেখান থেকে চীন পর্যন্ত একটি জ্বালানি পাইপলাইন বসানোসহ পাকিস্তানে ডজন ডজন অবকাঠামো প্রকল্পে চীন ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬০ বিলিয়ন (৬,০০০ কোটি) ডলার ব্যয় করবে। সেই সঙ্গে, চীন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে যার আওতায় তারা বন্দর আব্বাসের আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণসহ সেদেশের একগাদা অবকাঠামো এবং জ্বালানি প্রকল্পে আগামী ২৫ বছরে ৪০০ বিলিয়ন (৪০,০০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ করবে।
ফলে, পাকিস্তান এবং ইরানের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা চীনের কাছে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চীনের ভয় হলো যে আফগানিস্তানে নতুন কোনও অস্থিতিশীলতার ধাক্কা ও দুই দেশে গিয়ে পড়তে বাধ্য। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত সেনা অভিযানের পর থেকে গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সেদেশে যে যুদ্ধ চলছে, তার সরাসরি শিকার হয়েছে পাকিস্তান এবং ইরান। এই দুই দেশে এখনো লাখ লাখ আফগান শরণার্থী রয়েছে, সন্ত্রাসও ঢুকেছে।
আফগানিস্তান এবং উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদ
চীনের অবশ্য নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের যে ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, তার ঠিক ওপাশেই রয়েছে উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত চীনা প্রদেশ শিনজিয়াং।
উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইস্ট তুর্কেস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (এটিম) অনেক বছর ধরে এই সীমান্ত এলাকায় তৎপর। সীমান্ত পেরিয়ে তারা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়, এবং চীন বিশ্বাস করে পাকিস্তানে বিভিন্ন সময়ে চীনা নাগরিক এবং চীনা প্রকল্পে হামলার পেছনে এটিমের হাত রয়েছে।
জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এটিমের সাড়ে তিন হাজার সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে, যাদের সাথে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে তৎপর কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে।
ড. মাহমুদ আলী বলেন, ‘এ কারণে তালেবানকে চীন বলছে, আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতায় তাদের বৈধতা চীন মেনে নেবে, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে তারা তালেবানকে সাহায্য করবে, কিন্তু বদলে এ টিমসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।’
চীনা সরকারের মুখপত্র হিসাবে পরিচিত গ্লোবাল টাইমস সংবাদপত্র বলছে, তিয়ানজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তালেবান নেতা মোল্লাহ বারাদারের সাথে বুধবারের বৈঠকে ওয়াং ই তালেবানের কাছে দাবি করেছেন যে এটিম এবং অন্য সব সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, এবং এসব গোষ্ঠী যাতে আফগানিস্তানে ঘাঁটি না গাড়তে পারে ,তা নিশ্চিত করতে হবে।
গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোল্লাহ বারাদার বৈঠকে চীনা মন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে কাউকে কোনও তৎপরতা তালেবান চালাতে দেবে না। মি. বারাদার এও বলেছেন আফগানিস্তানে শান্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তারা চীনের কাছ থেকে আরও ভূমিকা দেখতে উদগ্রীব।
তালেবানের ওপর চীনের ভরসা কেন
কিন্তু প্রশ্ন হলো,তালেবানের ওপর এত ভরসা কেন করছে চীন? তারা কি ধরেই নিচ্ছে যে তালেবানই আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসতে চলেছে? বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যান লিখেছেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে চীন আফগানিস্তানে জাতীয় আপোষ-মীমাংসার সমর্থন করছে, কিন্তু তারা আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসক হিসাবে তালেবানকে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।
আর ড. আলী মনে করেন, শুধু চীন নয় বাকি বিশ্বও এক রকম নিশ্চিত যে তালেবানই আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিচ্ছে বা অন্তত ক্ষমতার প্রধান শরীক হতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘খোদ আমেরিকাও সেটা মেনে নিয়েছে। আমেরিকা নিজেই কয়েক বছর আগে তালেবানের সঙ্গে মীমাংসা শুরুর জন্য জালমে খালিলজাদকে দোহায় পাঠিয়েছে। ২০ বছর ধরে যুদ্ধের পর আমেরিকা বুঝেছে, যুদ্ধ করে তালেবানকে হারানো যাবে না এবং তারা মেনে নিয়েছে তালেবানই আফগানিস্তানের প্রধান শক্তি।’
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কট্টর সুন্নী একটি গোষ্ঠীর সাথে কমিউনিস্ট চীনের আস্থার সম্পর্ক কীভাবে সম্ভব? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ২০ বছর আগে আল কায়েদাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া তালেবানের তুলনায় এখনকার তালেবান অনেক বাস্তববাদী।
তারা সমর্থনের জন্য মস্কোতে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলেছে। এমনকি কট্টর সুন্নী ওয়াহাবীপন্থী হয়েও তালেবান নেতারা শিয়া ইরানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইরানের সমর্থন সহানুভূতি আদায়ে সক্ষম হয়েছেন বলেও জোর ইঙ্গিত রয়েছে। আবার তলে তলে ভারতের সঙ্গেও তালেবানের কথা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে একাধিক খবর বেরিয়েছে। তালেবানকে নিয়ে চীনের ভরসা হয়তো সেখানেই।
এ ছাড়া, তালেবানের ওপর ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের প্রভাবও চীনের ভরসার আরেকটি কারণ। একই সঙ্গে, তালেবানও বুঝতে পারছে যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং আফগানিস্তানে পুনর্গঠনে তাদের কাড়ি কাড়ি টাকা দরকার হবে এবং সেই টাকা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র চীনের। ফলে এখন চীনের আস্থা অর্জন ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্পও নেই।
টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫জন নারী সহ ১০জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার ৭ নংব্লকে এঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন এরশাদ নগর এলাকার ৭নং ব্লকের জামাল মিয়ার স্ত্রী ফুলবানু বেগম (৩৫), ফুলবানুর ছেলে হিরা মিয়া (১৮), মেয়ে আমেনা আক্তার (২৪), খালাতো বোন সকিনা (২৫), স্মৃতি আক্তার (১৫) কিরনী বেগম (৩৪) সহ আরো ৪জন।
এ ঘটনায় হিরা মিয়া (১৮) কে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়। তার মাথার পেছনে অংশে, বুকের বাম পাশে, ও পিঠে গুরুত্বর জখমের পাওয়া গেছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ—পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিন) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বন্দ চলছিলো। পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আগস্টের পর যেকোনো সময়ে এটি হতে পারে বলে জানালেন এই কণ্ঠশিল্পী। কথায় কথায় জানা গেল, সেপ্টেম্বরেই পরিকল্পনা তার।
পাত্র কে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি পরে জানাবেন তিনি।
ন্যানসি বলেন, ‘সবাই আমার বিচ্ছেদ নিয়ে পড়ে আছেন। কিন্তু আমি তো সামনে তাকাতে চাই। বিয়েটাও তো মধুর কিছু। খুব দ্রুতই আমি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চাই। যদি সম্ভব হতো আগস্ট মাসেই সেটা করতাম। কিন্তু শোকের মাসের পরই সুসংবাদ দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এর আগে বিয়ে হয়েছে কিন্তু মেহেদি দেওয়া হয়নি। যেহেতু এবার দানে দানে তিন দান, তাই বিয়ের সব আয়োজন রাখব কিনা ভাবছি। মেহেদি, প্রি ও পোস্ট ওয়েডিং- সব কিছু। আমি জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে চাই। পেছন ফিরে তাকাতে চাই না।’
এদিকে জানা গেছে, দ্বিতীয় স্বামী জায়েদের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুকে আজ এক স্ট্যাটাসও দিয়েছেন তিনি।
ন্যানসি জানান, সংসার জীবনে বিচ্ছেদ মানেই মানসিক নিপীড়ন, পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের টিপ্পনি, সমাজের নোংরা কথা… ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্তু নিজের ওপর ভরসা থাকলে এই কঠিন সময়টাও সহজ হয়ে যায়। আমার বেলায় তাই হয়েছে। দুটো মানুষ একে অপরের বিরক্তির কারণ না হয়ে বরং সম্মানের সঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। নতুন পথে যাত্রা শুরু করলাম। তাই বলি, বিচ্ছেদ কখনো মধুরও হয়।
উল্লেখ্য, প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর ২০১৩ সালে কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি ভালোবেসে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী নাজিমুজ্জামান জায়েদকে। ২০১৪ সালে তাদের সংসারে জন্ম নেয় কন্যা সন্তান আলী আফরিন নায়লা। জায়েদের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি স্থানীয় পৌরসভায় চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
টঙ্গীর এরশাদনগর ৩নং ব্লকে এক গার্মেন্টস কমীর্ (১৮) ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ধর্ষক পরিবারদের হামলায় ৫জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মোসা: জোসনা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল বুধবার ৭জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। আসামীরা হচ্ছে—রুবেল, বাচ্চু মিয়া, আমেনা বেগম, আলমগীর, রুমা, রাকিব ও জান্নাত।
অভিযোগে জানা যায়, তার মেয়ে গার্মেন্টস কমীর্ জাকিয়া আক্তার সুমাইয়া (১৮) টঙ্গীর একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে। সেই সুবাদে একই এলাকায় বসবাসকারী মো: রুবেল মিয়া তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করে আসছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১৭ জুলাই রাতে এরশাদনগর ৩নং ব্লকে তাদের বাসা গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবতীর্তে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। পরে সুমাইয়া বিষয়টি পরিবারের লোকজকে জানালে গত মঙ্গলবার বিকেলে ধর্ষণকারী রুবেলের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানালে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে তাদের উপর লাঠিশোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় জোসনা আক্তার, জাহাঙ্গীর আলম ও আখি আক্তারসহ ৫জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানা অফিসার ইনচার্জ জাবেদ মাসুদ জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।