পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৫ জন নিহত

তকক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ভিলেজারপাড়ায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা ওই এলাকার সৈয়দ আলমের সন্তান।

 

 

তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পাওয়া যায়নি।

 

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে  জানান, গভীর রাতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আলমের বাড়ির পাশের পাহাড় ধসে গেলে তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

 

 

তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

চেয়ারম্যান আরও জানান, টানা বর্ষণে হ্নীলা ইউনিয়নে শত শত বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।

 

 

এই এলাকার মানুষ খুব দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

সম্পাদক পরিষদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগ

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক  নঈম নিজাম। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘উদ্ভূত কিছু পরিস্থিতির কারণে সম্পাদক পরিষদের সভাপতির সঙ্গে নীতিগত মনোভঙ্গি একমত না থাকার কারণে আমি সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদপত্র ও অনলাইনে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবরে সম্পাদক পরিষদের একটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, পরিষদ সভাপতি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে সংবাদপত্র মালিকদের কারও কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে ব্যক্তিগত কুৎসাচারে লিপ্ত হন। বিষয়টি নিয়ে সভাপতি মাহফুজ আনামের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজামের তীব্র মতভেদ দেখা দেয়। সাধারণ সম্পাদক কুৎসাচার প্রচার থেকে সভাপতিকে নিবৃত্ত করার জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক হুঁশিয়ারি দেন যে, পরিষদ সদস্যদের সম্পাদিত পত্রিকার মালিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সভাপতির অশোভন ও অনৈতিক ভূমিকার বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্য অবস্থান নেবেন। অবশেষে নঈম নিজাম সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে ইস্তফা দিলেন।

সম্পাদক পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজামের পদত্যাগের খবরটি বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্য কোন সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যমে  বুধবার সকাল পর্য ন্ত চোখে পড়েনি। বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকাগুলোতে পদত্যাগী নঈম নিজামের ছবির সঙ্গে সভাপতি ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের ছবিও প্রকাশ করা হয়। সচরাচর এমনটা দেখা যায়। নিউজটিও প্রথম পৃষ্ঠায় দুই কলামে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়।

সম্পাদক পরিষদ গঠনের পর থেকেই দেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের একাংশ এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। কারণ পরিষদের উদ্যোক্তারা যাদের পছন্দ করেন কেবল তাদেরেই এ পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। বিশেষত ক্ষমতাসীন সরকারন্থী ও একই ঘরানার প্রভাবশালী সম্পাদকদের নিয়ে এটি গঠিত হয়। এর বিপরীতে মধ্যম সারির সংবাদপত্র ও টিভির কর্তারা ‘এডিটর্স গিল্ড’ নামে আরেকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল উদ্যোক্তা একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু। যদিও সেখানেও অধিকতর সরকারঘনিষ্টদেরই স্থান হয়েছে।

এদিকে নঈম নিজামের পদত্যাগের নেপথ্য কারণ হিসেবে কলেজছাত্রী মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা ও এ নিয়ে ডেইলী স্টার ও প্রথম আলোর ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি আনভিরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তার সমালোচনা করে বিশিষ্ট নগরিকদের  দেয়া বিবৃতি ও নিবন্ধ প্রকাশ নিয়ে সম্পাদক পরিষদের সংকট তৈরী হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এ দিকে প্রথম আলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে হেনস্থা ও গ্রেফতারের পর সম্পাদক পরিষদ কড়া বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিবাদ জানায়। এ বিষয়েও সম্পাদক পরিষদের নেতারা পুরোপুরি একমত ছিলেন না বলে কেউ কেউ বলছেন। সম্পাদক পরিষদ মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে সচরাচর এমন প্রতিক্রিয়া ও বিবৃতি দেয় না।

সম্পাদক পরিষদ গঠিত হওয়ার পর সবচেয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়া হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পরিষদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সংখ্যক সম্পাদক এভাবে রাস্তায় দাঁড়ানোর ঘটনা এটিই ছিল প্রথম। এ নিয়ে সরকারে অস্বস্তি তৈরী হলে তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে প্রথমে মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে কয়েকজন সম্পাদকের অনমনীয় মনোভাবে তা বাস্তবায়িত হয়। যদিও সম্পাদক পরিষদের ওই প্রতিবাদকে আমলে না নিয়ে সরকার আইনটি তাদের মত করে পাশ ও কার্যকর করে।

মাহফুজ আনাম ও নঈম নিজামের এ বিরোধের জের কতটুকু গড়ায় তা দেখার বিষয়। এ পেছনে যে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে তা অনুমান করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।

লকডাউন অমান্য করে কারখানা খোলা রাখায় নিটল মটরস্ লি: সার্ভিসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনে বিধিনিষেধ অমান্য করে টঙ্গীতে নিটল মটরস্ কারখানা চালু রাখায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জোন—১ এর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কারখানাটিকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহরাব হোসেন জানান, লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কারখানায় কর্মরত ছিল। তাদের মধ ছিল না এবং সেখানে হাত ধোয়াসহ হ্যান্ডস্যানিটাইজারের কোন কিছুই দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, এডমিন অফিসার সুজন, ফ্যাক্টরী ম্যানেজার নূরে আলম তন্ময় শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করে।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে কারখানা খোলা রেখে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিবেশ সৃষ্টি করায় নিটল মটরস্ লি: সার্ভিসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দ্বিভাষিক গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

বইটির ইংরেজি সংস্করণের নাম ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: আ স্পিরিটেড গ্রেসফুল জার্নি’। ১৬০ পৃষ্ঠার বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বইটি সম্পাদনা করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এবং পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

জয়ীতা প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করেছেন ইয়াসিন কবীর জয়। ই-বুক আকারেও (https://gorbitopothchola.net/) বইটি পড়া যাচ্ছে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর বেশ কিছু নিবন্ধ, সংবাদচিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্র রয়েছে এই বইয়ে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করা হয়েছে বইটি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্নের কথা বলা হয় তার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন সজীব ওয়াজেদ।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা করা হয়। গত এক যুগে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির যে বিকাশ হয়েছে তার অন্যতম কারিগরও তিনিই। নেতৃত্ব ও প্রভাবের কারণে ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হন জয়।

‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের প্রচ্ছদ ও গ্রন্থ পরিকল্পনা করেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ। বইটির দাম তিন হাজার টাকা।

ইভ্যালিতে ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা গ্রুপ

দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ যমুনা গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় ইভ্যালির পক্ষ থেকে। তবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির মূল বাজার দর (ভ্যালুয়শন) প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ।

এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসেবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এই বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যত উন্নয়ন এবং ব্যবসা পরিধি বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।’

গ্রাহকদের পুরোনো অর্ডার ডেলিভারি নিয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘পুরোনো অর্ডার যেগুলো পেন্ডিং, সেগুলোর ডেলিভারির ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা আরও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করব।’

বিনিয়োগ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে আমরা দেখছি যে, স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমাজন, চীনের ক্ষেত্রে আলিবাবা। তেমনি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছে দেশীয় ই-কমার্স ইভ্যালি। শুধু দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে। যমুনা গ্রুপ দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এখন থেকে ইভ্যালি এবং যমুনা গ্রুপ সেই স্বপ্নপূরণে একে অপরের অংশীদার হলো।’

ইভ্যালি ও যমুনা গ্রুপের এই অংশীদারিত্বকে  স্বাগত জানিয়ে যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মনিকা ইসলাম বলেন, ‘দেশের বাজারে মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা নিয়ে যমুনা গ্রুপ ব্যবসা করে আসছে। বাংলাদেশে সবথেকে বড় অফলাইন মার্কেটপ্লেস যমুনা ফিউচার পার্ক। আর এখন সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলার জন্য ইভ্যালির সাথে থাকবে যমুনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং দেশের ই-কমার্স খাতকে একটা মজবুত অবস্থানে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইভ্যালির সৎ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের প্রতি বিশ্বাস রেখে দেশের এই করোনাকালীন দুঃসময়ে দেশের অর্থনীতিকে চাংগা রাখতে তাদের পাশে  এসে দাড়িয়েছি।’

যমুনা গ্রুপের পরিচালক (অ্যাকাউন্টস) শেখ ওয়াদুদ বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনা এর সময়ে আমরা দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই। এই বিনিয়োগ নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আমরা ধাপে ধাপে প্রকাশ করব।’

টাকা ফেরত দিলেন পূর্ণিমা

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। প্রতি ঈদে তাকে একাধিক নাটকে দেখা গেলেও এবার ঈদুল আজহায় তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। কুরবানির ঈদের তিন-চারটি নাটকে কাজ করার কথা ছিল এই চিত্রনায়িকার। তবে শেষ পর্যন্ত সেই নাটকগুলো করেননি তিনি। এমনকি একটি নাটকে অভিনয়ের জন্য অগ্রিম হিসেবে নেওয়া সাইনিং মানিও নির্মাতাকে বাসায় ডেকে ফেরত দিয়েছেন।

পূর্ণিমা বলেন, ‘জুলাইয়ের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে আমার যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। আর সে কারণেই ঈদুল আজহায় তিন-চারটি নাটকে কাজ করার কথা থাকলেও তা থেকে সরে আসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাটকগুলোর একটির জন্য সাইনিং মানিও নেওয়া ছিল। এমনকি সময় দিতে পারব না দেখে ঈদের সপ্তাহ দুয়েক আগে এক পরিচালককে বাসায় ডেকে সাইনিং মানি ফেরত দিয়ে দেই। বাকিদের কাছেও সরি বলেছি।’ তবে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য নাটক ছাড়লেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সেখানে আর যাওয়া হয়নি পূর্ণিমার।

বিধিনিষেধ ৫ আগস্ট পর্যন্তই চলবে

গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্তই চলবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ‘লকডাউন’ সম্পর্কিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৈঠক শেষে সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলমান বিধিনিষেধ ৫ আগস্ট পর্যন্তই চলবে। শিল্পপতিরা বিধিনিষেধের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন, আমরা সেই দাবি রাখতে পারছি না।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এ সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেই টিকা দেওয়া যাবে। সরকার টিকা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে।

প্রসঙ্গত, মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সব ধরনের দোকানপাট, গণপরিবহন এবং শিল্পকারখানা বন্ধ রেখে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টায় শুরু হয় ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ, যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত।

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু, শনাক্তেও নতুন রেকর্ড

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে মৃত্যুর হিসাবে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯ হাজার ৫২১ জনে।

২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৪৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১৪১ ও নারী ১০৬ জন। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৫৫ জন, বাড়িতে ২৬ জন এবং হাসপাতালে আনার পথে একজন মারা যান।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৫ হাজার ১৯২ জন, যা একদিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে।

সোমবার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এর আগে গত ১৯ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ২৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার আগে ১১ জুলাই ২৩০ জনের মৃত্যু হয়।

jagonews24

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৬৩৯টি ল্যাবে ৫৩ হাজার ৩১৬টি নমুনা সংগ্রহ ও ৫০ হাজার ৯৫২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫ লাখ ছয় হাজার ২৩৩টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৫ দশমিক শূন্য ৭২ শতাংশ।

এদিকে একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখ নয় হাজার ৯৭৫ জনে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৪৭ জনের মধ্যে বয়সের হিসাবে দশোর্ধ্ব দুজন, বিশোর্ধ্ব তিনজন, ত্রিশোর্ধ্ব ১৬ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ৩০ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫৯ জন, ষাটোর্ধ্ব ৭৩ জন, সত্তরোর্ধ্ব ৪৫ জন, আশি বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন, নব্বইয়ের বেশি বয়সী দুজন রয়েছেন।

বিভাগওয়ারী হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ৭২ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, খুলনায় ৪৬ জন, বরিশালে ১২ জন, সিলেটে ১৪ জন, রংপুরে ১৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচজন।

বাংলাদেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এর ১০ দিন পর ভাইরাসটিতে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

পুরো উইকেট ছিল ব্যাটিং স্বর্গ। বোলারদের জন্য কোনো সুবিধাই ছিল না। উইকেটের সাহায্য নিয়ে বড় সংগ্রহ গড়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওপেনার ওয়েসলি মাধেভেরের অর্ধশতক ও রেগিস চাকাবার ঝড়ো ব্যাটে ১৯৩ রান তোলে স্বাগতিকরা। বড় লক্ষ্য তাড়ায় সৌম্য সরকার ও শামীম পাটোয়ারির দৃঢ়তায় দারুণভাবে ম্যাচের ফিরে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভারের চার বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এতেই তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ জিতে নেয় টাইগাররা।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ২০ রানেই ফেরেন ওপেনার নাঈম শেখ। তিনে এসে আশা জাগান সাকিব আল হাসান। ওপেনার সৌম্য সরকারের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। অষ্টম ওভারে জঙউইকে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ওই ওভারের চতুর্থ বলেই ১৩ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন সাকিব।

তৃতীয় উইকেটের জুটিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ ব্যাট করতে থাকে সৌম্য। ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে জঙউইকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক তুলে নেন বাঁ হাতি এই ব্যাটসম্যান। দুর্দান্ত ব্যাট করেও সাকিবের পথেই হাঁটলেন তিনি। ৪৯ বলে ৬৮ রান করে লং অফে মুসাকান্দার হাতে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন এই ওপেনার।

দলীয় ১৫০ রানের মাথায় আফিফ হোসেনকে ফেরান উইলিংটন মাসাকাদজা। মাত্র ৫ বলে দুই ছয়ে ১৪ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। পঞ্চম উইকেটের জুটিতে মাঠে আসেন শামীম পাটোয়ারি। চলতি সিরিজে অভিষেক হওয়া এই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে রানের চাকা দ্রুত এগিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ। ১৮তম ওভারে শেষ তিন বলে তিন বাউন্ডারিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শামীম। তার ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রানে ভর করে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে এসে দারুণ শুরু জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৬ বলেই দলীয় অর্ধশতক তুলে নেন দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ওয়েসলি মাধেভেরে। খানিক পরই ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে বিধ্বংসী মারুমানিকে (২৭) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাইফউদ্দিন। তাতেও থামেনি জিম্বাবুয়ের রানের গতি। তিনে আসা রেগিস চাকাবা সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা এগিয়ে নেন মাধেভেরে। মাত্র ৯ ওভার ৩ বলেই দলীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তারা।

দলীয় ১২২ রানের মাথায় বিধ্বংসী হয়ে ওঠা চাকাবাকে সাজঘরে ফেরান সৌম্য সরকার। বাউন্ডারি থেকে নাঈম শেখের হাত ঘুরে বলটি তালুবন্দি করে শামীম পাটোয়ারি। এতেই থামে চাকাবার ২২ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। একই ওভারের পঞ্চম বলে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ককে শূন্য রানে ফেরান সৌম্য। এই পেসারের পরের ওভারে চার মেরে সিরিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন মাধেভেরে। মাত্র ৩১ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি।

১৬তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই মাধেভেরেকে সাজঘরে ফেরান সাকিব আল হাসান। ৩৬ বলে ছয় চারে ৫৪ রান করেন তিনি। শেষের দিকে ডিয়ন মায়ার্স ও রায়ান বার্ল মিলে আবারও রানের চাকা দ্রুত এগিয়ে নেন। তাদের ব্যাটেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তোলে স্বাগতিকরা।

টঙ্গীতে কঠোর লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করে এক আওয়ামী লীগ নেতার ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন

টঙ্গীতে কঠোর লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করে এক আওয়ামী লীগ নেতা ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন করেন। এতে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মহানগরীর টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙিয়ে জাকজমকপূর্ণভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের ভোজের দাওয়াত দেন গাজীপুর মহানগরের ৪৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব কামরুল হাসান দিপু।

দুপুর একটার পর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা দিপুর বাসায় এসে উপস্থিত হয়। এরপর কঠোর লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করে শুরু হয় দুপুরের খাওয়া-দাওয়া। ভূরিভোজের পুরো অনুষ্ঠানটি ফেসবুকে লাইভ প্রচার করেন ইমরান হোসেন বাবু নামে এক ছাত্রলীগ নেতা।

ফেসবুক লাইভে ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আসসালামু অলাইকুম। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমরা আছি ৪৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব কামরুল হাসান দিপুর বাসভবনে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মানবিক মেয়র আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশে আমাদের ৪৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব কামরুল হাসান দিপু ভাই তার বাসায় ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং বিশাল খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছেন।

টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। তবে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার মতো চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য মালামাল ছিল। ধারণা করছি, পুলিশ যাওয়ার আগেই আয়োজকরা তাড়াহুড়ো করে অনুষ্ঠান শেষ করে চলে গেছেন।