প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড মধ্যযুগীয় শাস্তি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য রাসুলের (সা.) চরম অবমাননা: জামায়াত

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড’ ব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় বলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, এই মন্তব্য ইসলামী বিচারব্যবস্থা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিচারনীতির প্রতি চরম অবমাননার শামিল।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ আখ্যা দিয়ে মূলত রাসূল (সা.) এর বিচারব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করেছেন বলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী মনে করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের নীতিনির্ধারকেরা একদিকে ‘মদিনার সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা’ এবং শরিয়াবিরোধী আইন প্রণয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দেন, অন্যদিকে ইসলামী শরীয়া আইনকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে আখ্যায়িত করে দ্বিচারিতার পরিচয় দিচ্ছেন।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই অবমাননাকর মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি ইসলামী শরীয়া আইন নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য থেকে বিরত থাকারও দাবি জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪০ জন। মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী।
প্রতি বছর হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার প্রায় দুই বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনের মাঠে রয়েছে তিনটি প্যানেল।সেগুলো হলো—সরকার (বিএনপি) সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, বিরোধী দল (জামায়াত) সমর্থক আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।
যদিও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাছাইয়ে তাদের মনোনয়ন টেকেনি।

তারেক রহমান ঢাবির আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন: আসিফ নজরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৩ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। তখন এরশাদের প্রবল শাসন ছিল দেশে  সম্ভবত  নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারেক রহমানের ঢাবির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‌‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯৮৫-৮৬ ব্যাচে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন, মাস দুয়েক ক্লাসও করেছেন। আইন বিভাগের ওপরের ব্যাচের একজন ছাত্র হিসেবে তখনই বিষয়টা জানতাম আমি।’

‘তারেক রহমানের সহপাঠীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অতি পরিচিত মানুষ রয়েছেন। সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, আপিল বিভাগের বর্তমান বিচারপতি ফারাহ মাহবুব তারেক রহমানের সহপাঠী ছিলেন।’

 

লক্ষ্মীপুরে দুধের শিশুসহ মা কারাগারে

লক্ষ্মীপুরে মারধরের মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী নামের এক নারীসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় শিল্পীর দুধের শিশুকেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে। অন্যদিকে স্কুল ড্রেস পরিহিত তার আরো দুই সন্তানকে জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক শাহ জামাল মারধরের মামলায় আসামি শিল্পী ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

জানা যায়,আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকে পুলিশ হাজতে পাঠানো হয়। পরে শিশুটিকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে প্রিজনভ্যানে মায়ের কোলে থাকা শিশুসন্তান এবং জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা দুই শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, দুধের শিশু সিয়ামকে নিয়ে শিল্পী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তার অন্য দুই সন্তান—পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিপন হোসেন (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮)—জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী এবং তাদের পরীক্ষা চলমান।
 

স্ট্যাটাসে আইনজীবী স্বপন লেখেন, ‘মায়ের সঙ্গে দুগ্ধজাত এক বছরের শিশুটিও হাজতে। রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগ।

অথচ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সে মার খাচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে সে মেরেছে এবং জেলে।’ 

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে শিল্পী রড দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করেছেন। এতে বাদীর মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। তবে আদালতে জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে আঘাতের ধরন ‘সাধারণ জখম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরও আদালত শিল্পীসহ দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক সেবন ও মাদক কারবারসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৫৯ দিনে অভিযান পরিচালনা করে ৮৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) জিএমপি সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, টঙ্গীতে ময়লার স্তূপে ভরা বস্তিতে বিলাসবহুল একাধিক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে। কক্ষগুলো মাদক সেবনের কাজে ব্যবহার করে মাদকসেবীরা।

তাদের পালানোর জন্যেও বস্তিতে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য সুরঙ্গপথ।

পুলিশ জানায়, ৫৯ দিনে মাদক ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ৫৫৯ গ্রাম হেরোইন, ২১৫৫ পিস ইয়াবা ও প্রায় ৬ কেজি গাঁজা, ২১০ পিস প্যাথেডিন, ৪৫ বোতল ফেনসিডিলি ও ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার হয়।

।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে টঙ্গীর ১৯টি বস্তির প্রায় ৫ শতাধিক আন্তঃজেলা মাদক কারবারির এই দেশীয় সিন্ডিকেট অবাধে মাদকের কারবার করছে

বস্তিগুলো হলো—টঙ্গী বাজার এলাকার গোহাটা বস্তি, হাজী মাজার বস্তি, এরশাদনগর বাস্তুহারা বস্তি, নতুন বাজার এলাকার ব্যাংকের মাঠ বস্তি, আমতলি এলাকার কেরানীরটেক বস্তি, রেলওয়ে বস্তি, মাছিমপুর এলাকার জিন্নাতের পেছনের বস্তি, নিশাতনগর এলাকার নিশাত মহল্লা বস্তি, চুড়ি ফ্যাক্টরি বস্তি, নামা বাজার বস্তি, কলাবাগান বস্তি, বেক্সিমকো সংলগ্ন বেঙ্গলের মাঠ বস্তি, টঙ্গী মেডিক্যালের পেছনের বস্তি, পরানমন্ডলের টেক কাঠালদিয়া বস্তি, নেকারবাড়ী বস্তি, বেলতলা বস্তি, সান্ডারপাড়া বস্তি, খৈরতুলের ব্যাংকপাড়া বস্তি, কড়ইতলা বস্তি অন্যতম।

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯ বস্তিতে ৫ হাজারেরও বেশি মাদক কারবারি রয়েছে। মাদকসেবী ও প্রশ্রয়দাতাসহ সব মিলিয়ে মাদক কারবারের নিরাপদ রুট তৈরিতে বস্তিগুলোর প্রায় ২০ ভাগ মানুষ মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদক কারবারিদের স্বমূলে উচ্ছেদ করতে দিন-রাত কাজ করছে পুলিশ।

ইতিমধ্যে ধারাবাহিক অভিযানে অনেক মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক মাদক বিক্রয় কেন্দ্র সিলগালাও করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকার

পনের বছরের শাসক মমতা বন্দ্যোপধ্যায়কে ভোটের লড়াইয়ে ধরাশায়ী করা শুভেন্দু অধিকারী আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিল ভারতের শাসক দল বিজেপি।

শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি নেতা অমিত শাহ। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পরিষদীয় দলনেতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকার শপথ নেবে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে না চাওয়ার মধ্যেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। তার এই আদেশের মধ্য দিয়ে ইস্তফা ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারালেন ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল বলেন, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ আজ বৃহস্পতিবার । এদিনই বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাও বিবৃতি জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াত-এনসিপি জোট কি ভেঙে যাচ্ছে 

ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬ সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। তারা মাঠে প্রচারণাও শুরু করেছে। অপরদিকে জামায়াত জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।

তবে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে, একই পদে এনসিপি আগেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে সমঝোতা না হলে দুই দলের প্রার্থীদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেখা যেতে পারে।
এর মধ্যেই সোমবার (৪ মে) জামায়াত-সমর্থিত সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে।” এতে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের অ্যাক্টিভিস্টরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তবে দুই দলের দায়িত্বশীল পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা দেখাতে চায় উভয় দলই। ফলে এককভাবে নির্বাচন করার আলোচনা জোরালো হচ্ছে। যদিও এনসিপির একটি অংশ ঢাকার অন্তত একটি সিটিতে সমঝোতা চায়।

এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “কেন্দ্র থেকেই মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তফসিলের পর তা প্রকাশ করা হবে।”

সমঝোতা নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা?

এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা জোটগতভাবে নির্বাচনে আগ্রহী হলেও জামায়াতের কাছ থেকে ঢাকার অন্তত একটি সিটিতে ছাড় চান। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিষয়ে আপসের সুযোগ দেখছেন না তারা।

দলের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কৌশলগত কারণে ৬ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত জোট অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কিছু সিটিতে সমঝোতার আলোচনা হয়েছে।”

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দাদের আর ময়লার বিল দিতে হবে না। পাশাপাশি ঢাকাকে দখল ও দূষণমুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে এনসিপির প্রার্থীদের নিয়ে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। তাদের দাবি, ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নেওয়া হবে না। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের এক নেতা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঠিক করেছি। এ বিষয়ে সমঝোতার সুযোগ নেই।”

 

ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম পরিণতি, টঙ্গীতে সোহেল রানা ও তার ছোট ছেলে সাকিব হত্যাকান্ড

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন উত্তর বনমালা এলাকায় সোহেল রানা ও তার ছোট ছেলে সাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজ, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং পুলিশের বক্তব্য মিলিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা এক ভয়াবহ ত্রিভুজ প্রেম, পারিবারিক দ্বন্ধ এবং ঠান্ড মাথার পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের ঘটনা।
তদন্তে জানা গেছে, খালাত বোনের সঙ্গে বড় ছেলে সোহানের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়ের সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক গড়ে তোলে ছোট ভাই সাকিব। বিষয়টি জানার পর থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্ধ। সোহান বারবার সতর্ক করলেও সম্পর্ক থামেনি। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক পরিণত হয় মানসিক চাপ, অপমানবোধ এবং জমে থাকা ক্ষোভে। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভই রূপ নেয় রক্তাক্ত প্রতিশোধে।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বড় ভাই সোহান গভীর রাতে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাইয়ের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়, যাতে সে পালাতে না পারে। এরপর একাধিক আঘাতে নিশ্চিত করে তার মৃত্যু। ঘরের ভেতরেই নিভে যায় একটি তরুণ প্রাণ। হত্যাকান্ডের কিছুক্ষণ পরই বাবা সোহেল রানা (৫০) ঘটনাটি দেখে ফেলেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোহান আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দ্রুত একজন সহযোগীকে ডেকে আনে। এরপর তারা দুজন মিলে বাবাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে সেই ভয়াবহ দৃশ্য রাতের অন্ধকারে দুইজন ব্যক্তি একজন দুর্বল মানুষকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেই ব্যক্তি ছিলেন সোহেলের বাবা। ফুটেজে আরও দেখা যায়, রেললাইনের ওপর তাকে ফেলে রেখে দ্রুত সরে যায় তারা। কিছু সময় পর ট্রেনের নিচে পড়ে মৃত্যু হয় তার। এটি দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত হত্যাকান্ড নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে, তবে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকান্ডের অংশ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঘটনার পরপরই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে বাবা নাকি ছোট ছেলেকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এই গল্প বেশিক্ষণ টেকেনি। কারণ, সিসিটিভি ফুটেজই ভেঙে দেয় সব মিথ্যা। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায় বাবাকে জীবিত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, সোহানের উপস্থিতি এবং তার সন্দেহজনক গতিবিধি। এই প্রযুক্তিগত প্রমাণই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সামনে আসে প্রকৃত সত্য।এদিকে, ঘটনার পর সোহানের আচরণ ছিল আরও রহস্যজনক। সে পালিয়ে যায়নি, বরং স্বজনদের ফোন করে হত্যার খবর জানাতে থাকে। কিন্তু তার ফোনকলের সময়, বক্তব্য এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা, যাতে সন্দেহ অন্যদিকে ঘুরে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রমাণের কাছে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে বড় ভাই একাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

টঙ্গীতে পিতা পুত্র হত্যাকান্ড

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন উত্তর বনমালা এলাকায় সোহেল রানা ও তার ছোট ছেলে সাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনকল, ঘটনাস্থলের আলামত এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মিলিয়ে এখন পুরো ঘটনাটি একটি সুপরিকল্পিত ও জটিল বলে পুলিশের ধারণা। এ ঘটনায় সোহেল রানার বড় ছেলে সোহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে দিবাগত রাত ৩টায় বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ড কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ছেলে সোহান (২৮)কে সন্দেহ করা হচ্ছে।

 

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় ঘরের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় ছোট ভাই সাকিব (১৮)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘরের ভেতর কোনো বড় ধরনের শব্দ না হওয়ায় স্থানীয়রা কিছুই টের পাননি বলে জানা গেছে।

এরপর তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ। ওই ফুটেজে দেখা যায়, সোহেল রানা (৫০) তার বড় ছেলে সোহান এবং আরও এক ব্যক্তি রেললাইনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেই সময় সোহেল জীবিত ছিলেন এবং নড়াচড়া করছিলেন, তবে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিলেন।

সোহেল রানাকে রেললাইনের কাছে নিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো একটি দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়েছে। কিছুসময় পরই রেললাইনের ওপর তার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছেন নাকি পরিকল্পিতভাবে রেললাইনে ফেলে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বড় ছেলে সোহানের আচরণ। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে না গিয়ে বরং আশপাশের স্বজনদের ফোন দেন। তার ফোনকল ও বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি চেষ্টা হতে পারে।

এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ও গতিবিধি সন্দেহজনকভাবে ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মাদানী আলিফ’ নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও ভূমিকা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

 

 

ঘটনার পর গুজব ছড়ানো হয়, সোহেল নাকি তার ছেলে সাকিবকে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী ঘটনার বিপরীত চিত্রই ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

পরবর্তীতে সন্দেহজনক ভূমিকা ও প্রমাণের ভিত্তিতে বড় ছেলে সোহানকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্পর্শকাতর। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ডেটা, ফরেনসিক রিপোর্টসহ সব দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছি। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’