রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, ভোটারদের একটি অংশকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে- এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে বিশ^ ইজতেমা এলাকায় অসাধু একটি চক্র চাঁদাবাজি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে ওই চক্রটি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রকাশে চাঁদাবাজি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সেবার নামে বাজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করে আসছে একটিচক্র। তারা দলীয় নেতাদের পরিচয় দিয়ে এই চাঁদাবাজি করছে
মুন্নু টেক্সটাইল মিলের ভেতরে দোকান বরাদ্দ নেয়া ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব উপলক্ষে দোকান বরাদ্দ নিয়ে আমরা এখন বিপদের মধ্যে আছি। প্রতি দোকান প্রতি ১০ হাজার করে টাকা নিচ্ছেন চাঁদাবাজরা। দোকান বসানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকা দিয়ে দোকান বসাতে হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী জানান, ৪২ জনকে ম্যানেজ করে দোকান বরাদ্দ বাবদ ৪ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। এখন আমার কিছু করার নেই, বাধ্য হয়েই দিতে হয়েছে। দোকান বরাদ্দ নিয়ে এখন আছি অনেক বিপদে। তারা অপরদিকে অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস এলাকার দোকানদারা এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্যবসা করতে এসেছি অথচ লস দিয়ে যেতে হচ্ছে। শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে।
এ বিষয়ে চাঁদা উত্তোলনকারী ফজলুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসিনা দিয়েছে আমাদের এই মিল, শেয়ার হোল্ডার নিয়ে দোকান বসিয়ে টাকা কালেকশন করছি। অলিম্পিয়ার অবৈধ মাঠ কর্মকর্তা মাহমুদ জানান, দুপুরে আসেন দেখি কি করা যায়। বিএনপি জাতীয়তাবাদী গাজীপুর মহানগর কর্মজীবী দল মোহাম্মদ আইয়ুব খান জানান, আমরা মাঠ নিয়েছি ১৭ লক্ষ টাকা খরচ করে সব মিলে ২০লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকা উঠাবো কি করে অনেক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাচ্ছে যে যার মত। দল আসলে ব্যবসা পুষিয়ে নিব। জনগণের প্রশ্ন উঠেছে এত টাকা খরচ কাকে দিয়ে বাজার পরিচালনা করছেন এইসব চাঁদাবাজরা। টঙ্গীর হোন্ডা রোডে বিএনপি নেতার পরিচয়ে পুরো হোন্ডা রোডের রাস্তা দখল করে দোকান বসিয়ে কোটি টাকার বনে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের রাজস্ব বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সম্পত্তি কর্মকর্তাদের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বাজার বসানোর কোন অনুমতি দেয়া হয়নি সিটি কর্পোরেশন ও ডি সি অফিস থেকে। যদি কেউ নিয়মের অনিয়ম করে আমরা অবশ্যই এ বিষয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব
আখেরি মোনাজাতে বিশ^ ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপ সমাপ্ত, আমিন ধ্বনিতে প্রকম্পিত তুরাগ তীর
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করে, আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার শুরায়ী নেজামের তত্ত্বাবধানে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপ।ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্ব পাশের মঞ্চ থেকে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলীগ জামায়াতের বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেমে দ্বীন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ০৯ মিনিট থেকে শুরু করে ১২টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত আখেরি মোনাজাতে গভীর ভাবাবেগপূর্ণ পরিবেশে ‘আমীন, আলাহুম্মামীন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় টঙ্গীর আকাশ-বাতাস।রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মুসল্লি ছাড়াও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের অর্ধশতাধিক বিদেশি রাষ্ট্রের প্রায় ২ সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
আখেরি মোনাজাতের কিছু সময়ের জন্য ভুলে গিয়েছিল হিংসা-বিদ্বেষ ও ভেদাভেদ। ধনী-গরিব, নেতাকর্মী নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশা ও গোষ্ঠীর মানুষ পরওয়ারদেগার আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
আখেরি মোনাজাতের সময় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন ক্ষমাশীল পরওয়ারদিগারের শাহী দরবারে। গুনাহগার, পাপী-তাপী বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছেন।
ইজতেমার মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বয়ানের মিম্বর থেকে ২০২৬ সালের শুরায়ি নেজামের দুইপর্বের বিশ্ব ইজতেমার তারিখের ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব ইজতেমার শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
তারিখ দুটি হলো ২, ৩, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ প্রথম ধাপের ইজতেমা পালন করবেন। মাঝে চারদিন বিরতি দিয়ে ৯, ১০,১১ জানুয়ারি, ২০২৬ সালে ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপ পালন করা হবে।
ইজতেমা ময়দানে সকাল থেকে দিক নির্দেশনামূলক বয়ান করছেন ভারতের মাওলানা ফারুক সাহেব। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করছেন বাংলাদেশের মাওলানাা মুফতি আমানুল হক সাহেব। এরপর হেদায়েতি বয়ান করেছেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেব। তার বয়ান তরজমা করেছেন বাংলাদেশের মাওলান আব্দুল মতিন সাহেব।
এই বয়ানের পরেই ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা নসিহতমূলক বয়ান কনে। তার বয়ান তরজমা করেন শুরায়ী নেজামের শীর্ষ মুরুব্বী বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের । এর পর লাখো মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১২টা ৯ মিনিটে।
জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে আবেগঘন পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে হাত তুলেন আল্লাহর দরবারে। আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে লাখ লাখ মুসলমান যেন ভেঙে পড়েছিলেন টঙ্গীতে। আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা টঙ্গী অভিমুখে ছুটতে থাকেন মঙ্গলবার থেকেই। বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীরা ছাড়াও কেবলমাত্র আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা বাস, ট্রাক, পিকআপ, মিনিবাস, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেন, লঞ্চ-স্টিমারে করে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন। বুধবার ভোররাত থেকে সড়ক-মহাসড়ক ও নদীপথে টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়। চারিদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ।
নারীদের অংশগ্রহন:
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপেও পুরুষ মুসল্লিদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহন করেছে। মোনাজাতে শরীক হতে সকাল থেকে ময়দানের চারপাশে বিভিন্ন অলি-গলির খালি জায়গায় বসে হাজার হাজার মহিলা আখেরি মোনাজাতে শামিল হন।
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের চারপাশে মিলগেট, কলেজগেট, স্টেশন রোড, টঙ্গী বাজার, কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুরসহ ময়দানের চারদিকে রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে নারীরা বসে মোনাজাতে শরিক হন।মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় আগত মহিলাদেও এ পর্বেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইজতেমায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা পেটের পীড়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আত্রæান্ত হয়েছে। দুই পর্বের ইজতেমা কয়েক হাজার অসুস্থ্যদের চিকিৎসা করা হয়ছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুল্লা ইসকান্দার জানায়, ইজতেমায় শতাধিক পকেটমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মোনাজাত শেষে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি:
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পর এক সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ ফিরতে শুরু করলে সর্বত্র ভীড় হয়। টঙ্গী স্টেশনে ফিরতি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমাণ ট্রেনগুলোতে উঠতে মানুষের জীবনবাজির লড়াই ছিল উদ্বেগজনক। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে ও দরজা-জানালায় ঝুলে হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে দেখা যায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশুলিয়া সড়কে যানবাহন চলাচল সচল থাকায় ফিরতি মুসল্লিদের যাত্রা সহজ ছিল।৩-৪ দিন ধরে টঙ্গীতে জমায়েত হওয়া মুসল্লিরা আখেরি মোনাজাতের পর একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন। মোনাজাতের পর মুসল্লিরা এখন ঘরমুখি।মোনাজাতের পর সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। তবে অধিকাংশ যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক মুসল্লি।
মৃত্যু: বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী হাব্বিবুল্লাহ রায়হান জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দের শাহবাজপুর গ্রামের সুজাবত আলী সরকার (৭৫)ও জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের রায়কালী গ্রামের সামসুল আলম (৬০) মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন। এ নিয়ে দুই ধাপের ইজতেমায় (৫+৪) জন মৃত্যু বরন করেছে।
প্রসঙ্গত, প্রথম পর্ব দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা। শুরায়ী নেজামের অধীনে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব-ইজতেমার প্রথম পর্বের দুই ধাপ। এরপর ৮ দিন বিরতি দিয়ে ১৪ ফেব্রæয়ারি দ্বিতীয় পর্ব বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করবেন সাদ অনুসারীরা।
৪ ঘণ্টায়ও রেলপথ ছাড়েননি তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা, ভোগান্তি চরম
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রেললাইনের ওপর বসে রয়েছেন।
এর আগে এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ঢাকার মহাখালী রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন লাল পতাকা দেখিয়ে থামানো হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত, মানি না মানি না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘তিতুমীর আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘টিসি না টিউই, টিউই টিউই’, ‘আমার ভাই অনশনে, প্রশাসন কী করে’, ‘প্রশাসনের সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, চলবে না চলবে না’, ‘অধ্যক্ষের সিন্ডিকেট, মানি না মানবো না’, ‘আমাদের সংগ্রাম, চলছে চলবে’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
যার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেল থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
আখেরি মোনাজাতে বিশ^ ইজতেমার প্রথম পর্ব সমাপ্ত, আমিন ধ্বনিতে প্রকম্পিত তুরাগ তীর
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মুক্তি, সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা, ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করে, অশ্রæসিক্ত আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পবিত্র হজের পর মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার শুরায়ী নেজামের তত্ত্বাবধানে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম ধাপ।
ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্ব পাশের মঞ্চ থেকে এসব লাখো মানুষের কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলীগ জামায়াতের বিশিষ্ট বুজুর্গ আলেমে দ্বীন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ।
গতকাল রবিবার সকাল ৯টা ১১ মিনিট থেকে শুরু করে ৯টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রথমে ১২ মিনিট আরবিতে ও পরে বাংলায় ১২ মিনিটসহ ২৪ মিনিট স্থায়ী আবেগঘন আখেরি মোনাজাতে গভীর ভাবাবেগপূর্ণ পরিবেশে ‘আমীন, আলাহুম্মামীন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় টঙ্গীর আকাশ-বাতাস।রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মুসল্লি ছাড়াও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের অর্ধশতাধিক বিদেশি রাষ্ট্রের প্রায় ২ সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
মোনাজাতে অযুত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে রাহমানুর রাহীম আলাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। সবাই যেন কিছু সময়ের জন্য আল্লাহর প্রেমে দিওয়ানা হয়ে ভুলে গিয়েছিল হিংসা-বিদ্বেষ ও ভেদাভেদ। আমীর-ফকির, মনীব-ভৃত্য, ধনী-গরিব, নেতাকর্মী নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশা ও গোষ্ঠীর মানুষ পরওয়ারদেগার আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
বিশাল জনসমুদ্র থেকে মধ্য সকালের আকাশ কাপিয়ে ধ্বনি উঠে-‘ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ’। আখেরি মোনাজাতের সময় মুঠোফোন, বেতার, ওয়ারলেস সেট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন ক্ষমাশীল পরওয়ারদিগারের শাহী দরবারে। গুনাহগার, পাপী-তাপী বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছেন।
সকাল থেকে দিক নির্দেশনামূলক বয়ান করছেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করছেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন।
এই বয়ানের পরেই ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা নসিহতমূলক বয়ান কনে। তার বয়ান তরজমা করেন শুরায়ী নেজামের শীর্ষ মুরুব্বী বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের । এর পর লাখো মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ৯টা ১০ মিনিটে।
জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে আবেগঘন পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে হাত তুলেন আল্লাহর দরবারে। আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে লাখ লাখ মুসলমান যেন ভেঙে পড়েছিলেন টঙ্গীতে। রাজধানী ঢাকা ছিল প্রায় ফাঁকা। টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ চারপাশের এলাকার প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপনীবিতান, অফিসসহ সব কিছু ছিল বন্ধ।
আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা টঙ্গী অভিমুখে ছুটতে থাকেন শুক্রবার থেকেই। বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীরা ছাড়াও কেবলমাত্র আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা বাস, ট্রাক, পিকআপ, মিনিবাস, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেন, লঞ্চ-স্টিমারে করে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন। রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন ভিড় এড়াতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা উপেক্ষা করে রাতেই টঙ্গীমুখী হন।
রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও টঙ্গীর সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্রই ছিল পূর্ণ ছুটির আমেজ। গভীর রাত থেকে টঙ্গীমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দীর্ঘ পথ হেঁটে টঙ্গী পৌঁছতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।
কয়েক লাখ মানুষ রাতেই ইজতেমার মাঠ কিংবা আশপাশের বাসা-বাড়ি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উড়াল সড়ক, বিভিন্ন ভবন, ভবনের ছাদ কিংবা করিডোরে এমনকি গাছতলায় অবস্থান নেন।
রবিবার ভোররাত থেকে যানবাহন শূন্য সড়ক-মহাসড়ক ও নদীপথে টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়। চারিদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। সকাল ৭টার মধ্যে গোটা এলাকা জনতার মহাসমুদ্রে পরিণত হয়।
নারীদের অংশগ্রহন:
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে পুরুষ মুসল্লিদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণও আগের তুলনায় বেড়েছে। মোনাজাতে শরীক হতে সকাল থেকে ময়দানের চারপাশে বিভিন্ন অলি-গলির খালি জায়গায় বসে হাজার হাজার মহিলা আখেরি মোনাজাতে শামিল হন।
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের চারপাশে মিলগেট, কলেজগেট, স্টেশন রোড, টঙ্গী বাজার, কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুরসহ ময়দানের চারদিকে রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে নারীরা বসে মোনাজাতে শরিক হন।মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় আগত মহিলাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ড্রোন মাটিতে পড়ার শব্দে আতঙ্ক:
আখেরি মোনাজাত চলাকালে হঠাৎ মুসল্লিরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। ড্রোন মাটিতে পড়ার শব্দ থেকে এই আতঙ্ক বলে জানা গেছে। এতে শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন।এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০ জন।
আখেরি মোনাজাত চলাকালে সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে টঙ্গী স্টেশন রোডে ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জের বাহাদুর সাদী ইউনিয়নের জুগলি গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন বলেন, আমার সামনে হঠাৎ তিনটি ড্রোন পড়ে গিয়ে বাঁশের সঙ্গে লেগে শব্দ হয়। এতে আতঙ্ক দেখা দিলে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়।
টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বেলায়েত হোসেন বলেন, ড্রোন পড়ার আতঙ্কে অনেক মুসল্লি দৌড়ে হাসপাতালে আসেন।
আহতদের মধ্যে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আবুল কালাম (৫৫), আলামিন (৩২), আজাদ (৩০), ওবায়দুল্লাহ (৩২), রাতুল (১৮), আব্দুল করিম (২৮) সাইফুল ইসলাম (৩৮), জাফর উদ্দিন (৩১) জয়নাল (২৪), মকবুল হোসেন (৬৪) সোহাগ (৬০), মোশারফ (৩০)সহ শতাধিক ব্যক্তি।
টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শতাধিক মুসল্লি আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।তারা ইজতেমার মোনাজাত চলাকালে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করার সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় একটি ড্রোন পড়ে যায়। এর শব্দ থেকে আতঙ্কের সৃষ্টি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কামারপাড়া সড়কে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় একটি সক্রিয় ড্রোন মাটিতে পড়ে যায়।
মোনাজাত শেষে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি:
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ ফিরতে শুরু করলে সর্বত্র মহাজটের সৃষ্টি হয়।টঙ্গী স্টেশনে ফিরতি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমাণ ট্রেনগুলোতে উঠতে মানুষের জীবনবাজির লড়াই ছিল উদ্বেগজনক। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে ও দরজা-জানালায় ঝুলে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মানুষের জন্য ট্রেন দেখা যাচ্ছিল না। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশুলিয়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ফিরতি মুসল্লিদের বিড়ম্বনা ও কষ্টের সীমা ছিল না।হাজার হাজার বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর ও নারী মাইলের পর মাইল হেঁটে মোনাজাতে শরিক হন এবং একইভাবে ফিরতে শুরু করেন। মোনাজাতের পর সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। তবে অধিকাংশ যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক মুসল্লি।
মৃত্যু: বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী হাব্বিবুল্লাহ রায়হান জানান, আব্দুল গফুর বার্ধক্যে কারণে অসুস্থ ছিলেন। ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ নিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচজন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আরও চার মুসল্লি বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যান। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন বয়স্ক।
প্রসঙ্গত, তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা। শুরায়ী নেজামের অধীনে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব-ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম ধাপ। এরপর আগামীকাল দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে ৫ ফেব্রæয়ারি আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে। এরপর ৮ দিন বিরতি দিয়ে ১৪ ফেব্রæয়ারি দ্বিতীয় পর্ব বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করবেন সাদ অনুসারীরা।
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব তথা ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা। রোববার (২ ফেব্রæয়ারি) টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে সকাল ৯টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমার এ পর্বের আখেরি মোনাজাত।
ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ঢাকা, গাজীপুরসহ সারাদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা ময়দানে আসছেন। এ পর্বের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবায়ের আহম্মেদ।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়ার সুবিধার্থে শনিবার মধ্যরাত ১২টা থেকে টঙ্গী-কামারপাড়া রোড, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত এবং আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
শনিবার দুপুরে ইজতেমা ময়দানে গাজীপুর মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার নাজমুল করিম খান।
তিনি আরো জানান, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরগামী যানবাহনগুলোকে গাবতলী দিয়ে কোনাবাড়ী হয়ে এবং ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভোগড়া বাইপাস দিয়ে ৩০০ ফিট রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করতে বলা হয়েছে।এসময় এসব সড়ক হয়ে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি বা যান চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জিএমপি। তবে ইজতেমা সংশ্লিষ্ট সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে বয়ান, তালিম, জিকির ও অন্যান্য ইবাদতের মধ্য দিয়ে চলছে প্রথম ধাপের কার্যক্রম। শনিবার ফজরের নামাজের পর বয়ান করেন পাকিস্থানের মাওলানা খোরশেদ আলম। বাংলা তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুর রহমান।
শনিবার বয়ানে ছিল আখেরাতে ভালো কিছু পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর ইবাদত, নবী-রাসুলের আদর্শ মেনে দুনিয়াতে দ্বীনের দাওয়াতে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং ঈমান-আমলের সঙ্গে নিজেদেরকে পরিচালিত করার বিষয়ে। আজ আসর নামাজের পর বেশকিছু যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিয়েতে বর ও কনে পক্ষের অভিভাবকরা উপস্থিত থাকবেন। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এটি অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্থানের তাবলিগ মুরব্বি এ বিয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বিশ্ব ইজতেমায় আগতদের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ইয়াকুব আলী মৃত্যু বরন করেছে।এ পর্যন্ত চারজন মুসল্লি মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত ও অসুস্থ হয়ে তারা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ইজতেমার আয়োজকরা।
রোববার ফজরের পর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান। আখেরি মোনাজাতের আগে নসিহতমূলক বক্তব্য দেবেন মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা।
ইজতেমায় অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের অন্তত দুই হাজার ৫০০ জন বিদেশি মুসল্লি ময়দানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তারা তাদের জন্য নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে দিন পার করছেন।
২০১৮ সালে তাবলিগের দিল্লির মাওলানা সাদ ও বাংলাদেশের জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ২০১৯ সাল থেকে তাবলিগের দুই পক্ষ মাওলানা জোবায়ের ও সাদ কান্ধলভী অনুসারীরা দুই পর্বে আলাদাভাবে ইজতেমা শুরু করেন। তবে এবারই প্রথম মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা দুই ধাপে ইজতেমা করছেন। ২ ফেব্রেæয়ারি আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে প্রথম ধাপের ইজতেমা। এ ধাপে অংশ নিয়েছেন ৪১ জেলা ও ঢাকার একাংশের মুসল্লি। এরপর ৩ থেকে ৫ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা। আর ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রæয়ারি মাওলানা সাদের অনুসারীরা ইজতেমা করার কথা রয়েছে।
মুসল্লিদের স্রোত অব্যাহত
রোববার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসল্লিদের টঙ্গীমুখী স্রোত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ও পায়ে হেঁটে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিচ্ছেন। রোববার ভোর রাত হতে আখেরি মোনাজাতের পূর্ব পর্যন্ত এই স্রোত আরো তীব্র হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সব আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।
ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে ৮ হাজার পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তবে মুসল্লিদের সমাগম বেশি হওয়ায় বাইরে অবস্থানরত হাজার হাজার মুসল্লি ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া ওজু, গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
গাজীপুরে সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজিসহ মামলা বানিজ্যে বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন এশিয়ান হাইওয়ের ঝাজর এলাকায় শনিবার সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজীসহ মামলা বানিজ্যের বিরুদ্ধে এলাকার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবন্ধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,প্রধান সমন্বয়ক বাংলােেদশ কৃষি ফার্ম আক্তারুজ্জামান বাবুল,গাজীপুর মহানগর ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি হামিদ মন্ডল, গাজীপুর মহানগর যুবদলের-৩২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু, বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন, আলমাছ খান সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মী বৃন্দ। সভায় প্রধান অতিথি বলেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ইং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট, আওয়ামীলীগের পতনের পর তাদের দোষররা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্তিতে ভোগাচ্ছে,ভূলভাল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে সময়ে তারা সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজিসহ মামলা বানিজ্যের মত নোংরা কর্মকান্ড করে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার নীল নকশ্য়া নেমেছে। তিনি অবিলম্বে গাজীপুরে সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজীসহ মামলা বানিজ্যেও বন্ধের দাবী জানান।
৭ কলেজের ৬ দাবি, মানতে ৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
আগামী ৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয় দফা দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তারা।
১। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘাতের দায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং প্রোভিসি মামুন আহমেদকে পদত্যাগ করতে হবে।
৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেচ্ছা কলেজসহ সাত কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অশালীন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৫। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষার্থী উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ইউজিসি সদস্য এবং ঢাবি ভিসির সমন্বয়ে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি টিমের সঙ্গে তাৎক্ষণিক উচ্চ পার্যায়ের মিটিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনার সমাধান করতে হবে।
৬।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এরিয়ায় সিটি করপোরেশনের রাস্তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
গাজীপুর মহানগরীর গাছা কলেজ মাঠে ই-সেবা ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত ও পুরষ্কার বিতরণ
গাজীপুর মহানগরীর কলেজ মাঠে মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ই-সেবা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে ও গাছা প্রেসক্লাবের সার্বিক তত্তাবধানে ফুটবল (ম্যাচ) টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে গাছা কলেজ মাঠে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি বোর্ডবাজার শাখা বনাম টরমেন্টা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়ারদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর আয়োজনে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। মো: ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এনআরবিসি ব্যাংক পি এল সি ঢাকা উত্তরের ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড জোনাল হেড মোঃ শহিদুল ইসলাম।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জিএমপির গাছা থানা অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এনআরবিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড বোর্ড বাজার শাখার হেড অব ব্রাঞ্চ মোঃ গাউস আহম্মেদ, গাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ¦ মো: আমির আলী, গাছা পল্লীবিদ্যুৎ-সমিতির ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান, গাছা প্রেসক্লাবের সাধারণত সম্পাদক মোঃ আব্দুল হামিদ খান, স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস খান, আয়কর উপদেষ্টা সজীব মাহমুদ, ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, ব্যাংকের বনশ্রী শাখার এমওপি রুহুল আমিন, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুব-সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলা-ধুলার চর্চা করলে শরীর যেমন ভালো থাকে তেমনি সকল কাজেও উদ্যোমী হওয়ার শক্তি পাওয়া যায়। একটি মেধাবী জাতি গড়তে হলে নিয়মিত খেলার কোন বিকল্প নেই। ফুটবল গ্রামবাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা।
ফুটবল টুর্নামেন্টে টরমেন্টা স্পোর্টিং ক্লাব ৪-৩ গোলে এনআরবিসি ব্যাংক পি এল সি বোর্ডবাজার শাখার দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে গোল্ডকাপ, মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন।
টঙ্গীতে আরফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুনামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গালর্স কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ ও জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। আউচপাড়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের আয়োজনে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি মেরাজউদ্দিন । উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন,গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার,টঙ্গী পশ্চিম থানার বিএনপি আহবায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন ও আজিজুল হক রাজু মাষ্টার প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি হাসান উদ্দিন সরকার, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে আরফাত রহমান কোকো স্মুতি ফুটবল টুনামেন্ট আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। খেলাশেষে বিজয়ী টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গালস কলেজের ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।