২৮ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি

২৭ জানুয়ারির মধ্যে দাবি মানা না হলে ২৮ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। তাদের দাবি হচ্ছে, মাইলেজের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত রানিং স্টাফদের নিয়োগপত্রের বৈষম্যমূলক ১২ ও ১৩ নম্বর শর্ত বাতিল করা।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী পুরাতন রেলস্টেশনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান।

মো. মজিবুর রহমান বলেন, রেলওয়ের রানিং স্টাফগণ ১৬০ বছরের অধিক সময় ধরে পার্ট অব পে হিসেবে পেয়ে আসা রানিং অ্যালাউন্স নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সৃষ্ট জটিলতা দূর করার দাবিতে ২০০১ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন।

এখনো এ সমস্যার সমাধান হয়নি। রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক-যেকোনো দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ট্রেন সচল রাখেন রানিং স্টাফরা। তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি বা জাতীয় দিবসের বন্ধ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেদের দুর্নীতি ও অর্থ অপচয় ঢাকতে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর রেলওয়ের রানিং স্টাফদের বেতন, পেনশন ও আনুতোষিক কমিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় রানিং স্টাফদের প্রাপ্যতার পক্ষে থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় জটিলতা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের পর নিয়োগপত্রে দুটি শর্ত আরোপ করা হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা চলন্ত ট্রেনের দায়িত্ব পালনের জন্য রানিং অ্যালাউন্স ছাড়া অন্য কোনো ভাতা পাবেন না এবং মাসিক রানিং অ্যালাউন্সের পরিমাণ মূল বেতনের চেয়ে বেশি হবে না। এ ছাড়া অবসরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক পাবেন, যা রেলওয়ের কোনো আইনে উল্লেখ নেই।
 সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনবার সময় দেওয়া হয়েছে। তারা স্থায়ী সমাধান চান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পত্র এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া রানিং স্টাফদের বৈষম্যমূলক শর্ত প্রত্যাহার না করলে কর্মবিরতি পালন করা হবে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বারী, সহসভাপতি খুরশিদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর এ বি এম শফিকুল আলম প্রমুখ।

ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দখলদার ইসরাইলের সেনাপ্রধান

ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দখলদার ইসরাইলের সেনাপ্রধান হারজি হালেভি। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হালেভি। তিনি আগামী ৬ মার্চ পদত্যাগ করবেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে হালেভি লিখেছেন, ‘২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর এই সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য এমন একটা সময়কে বেছে নিয়েছি, যখন দারুণ কিছু অর্জন আইডিএফের নামের পাশে যোগ হয়েছে। হামাসের হাতে বন্দি ইসরাইলি নাগরিকদের ছাড়িয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

ড:ই্‌উনুস সরকারের পুলিশের হাতে কেন শটগান থাকবে?-রুহুল কবীর রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী ড:ই্‌উনুস সরকার সম্পর্কে  বলেন,অনেক রক্ত জড়ানো, রক্তাক্ত পিচ্ছিল পথে আপনি ক্ষমতায় বসেছেন।এবং আপনাকে সমর্থন করেছে প্রত্যকটি গনতন্তামনা মানুষ ও প্রত্যকটি গনতন্ত্রামনা রাজনৈতিক দল। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করা।উত্তেজিত জনতা তাদের বিভিন্ন দাবী আদায়ে অনেক কিছু করে বসে।তখন পুলিশ মোকাবেলা করে। কিন্তু পুলিশকে এমন অধিকার দেওয়া উচিৎ না যাতে কথায় কথায় তাদের উপর গুলি চালাতে হয়। বর্তমান সরকারকে তিনি সমালোচনা করে বলেন, পুলিশের হাতে এখন কেন শটগান থাকবে? যে শটগানে দেশের হাজার হাজার ছাত্র রক্তাক্ত হয়েছে,কারো হাত গেছে, কারো পা গেছে, কারো চোখ গিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে।শেখ হাসিনা তাবেদারী করতে গিয়ে তারা নির্বিচারে গনতন্ত্রগামী জনগনের উপর গুলি করেছে।তিনি আরো বলেন শেখ হাসিনার সময়ে মিথ্যা মামলা ছড়াছড়ি হয়ে গেছে।মামলা বানিজ্য ও গ্রেপ্তার বানিজ্যে দেশ ছয়লাব হয়ে গেছে সেই শেখ হাসিনার দু:শাসন যাতে আবারো ফিরে না আসে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিনি গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৫৩নং কাউন্সিলর কার্ষালয়ের মাঠে আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে জন্মবাষির্কী ও  শির্তার্ত মানুষের জন্য কম্বল বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক চান মিয়া বেপারির  সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব  হাজী মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্মআহবায়ক মোস্তফাফিজুর রহমান সেগুন,এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন,ও কফিল উদ্দিন প্রমুখ।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেননি। তাঁর জনগণের দরকার ছিল না, ভোটের দরকার ছিল না। তিনি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর বাবার মতোই দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, পূর্বাচলে শুধু শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে ৬০ কাঠা জমি। তার মধ্যে শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের নামে ১০ কাঠা। বাংলাদেশের যেখানে যে জায়গা তার পছন্দ হয়েছে, সেটাই শেখ হাসিনা আত্মসাৎ করেছেন নামমাত্র একটা আইনি কাঠামোর মধ্যে। সেই আইনি কাঠামো কি? শেখ হাসিনার তৈরি করা। শেখ হাসিনা চাইলে রাজউকের ঘাড়ে কি দুইটা মাথা আছে যে তারা না করতে পারবে।

শেখ হাসিনার সুদাসদন ও গোপালগঞ্জে বাড়ি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপর ৬০ কাঠা জমি তার এবং তার বোন, মেয়ে, ছেলের নামে। সম্পদের পর সম্পদ তার। এটা আমার কথা নয়, তথ্য-প্রমাণসহ খবর প্রকাশ হয়েছে। ৮০ হাজার কোটি টাকা শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল একতরফা। “ভারতকে সুবিধা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করেছেন। তিনি নিজেকে অগ্রাহ্য করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। বলতেন, ‘আমাকে কেনা যায় না।’ কিন্তু বাস্তবে ভারত তার সঙ্গে এতো প্রভাব বিস্তার করেছে যে, তার শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এর জন্য যে জনগণ দাড়াতে পারে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীর প্রতিরোধের সঙ্গে, এই দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনার আমলে তিনি করতে দেননি। ফ্যাসিজম দিয়ে, তার নির্দয়তা দিয়ে, তার নির্মমতা দিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) ভারতের দাস হয়ে কাজ করেছেন।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার যোগসাজশে বাংলাদেশের সীমান্তের ১৬০টি জায়গায় ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ২০১০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যেভাবে ভারতকে সুবিধা দিয়েছে, সেই সুবিধার কারণে তারা অসম কাজগুলো করেছে। দুটি স্বাধীন দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যে কাজগুলো করা যায় সেটা না করে জোর করে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়েছে ভারত। আপনাদের আমরা বলে রাখি, ১৬০টি জায়গায় শুধু শেখ হাসিনা সুবিধা দেওয়ার কারণে আমাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে ভারত।

বি এন পি নেতা মোস্তফা জামান ভাই,কফিল ভাই, রাজ্জাক ভাই, এস এম জাহাঙ্গীর ভাই দেশের গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। এরা প্রত্যেকের দেশের লড়াকু মানুষ। এরাই শীর্তার্ত মানুষের জন্য কম্বলের ব্যবস্থা করেছেন।এ জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ দেন।

সভাশেষে প্রধান অতিথি রুহল কবীর রিজভীসহ অন্যন্য নেতারা উপস্থিত প্রায় এক হাজার কম্বল বিতরন করেন।

 

গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু

আজ রবিবার গাজাবাসীর জন্য বহুল প্রতীক্ষিত একটি দিন। সকাল থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গাজায় দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ের অবসান হতে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় সহায়তাকারী কাতারের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।
এতে আরো মধ্যস্থতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর।কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারী এক্সে এক বিবৃতিতে বলেন, চুক্তির পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয় অনুসারে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি রবিবার গাজার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে।মাজেদ আল-আনসারী আরো বলেন, ‘আমরা গাজার বাসিন্দাদের সাবধানতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার এবং সরকারি সূত্র থেকে নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

গতকাল ইসরায়েলের জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন পায়।

এর আগে টানা ছয় ঘণ্টা বৈঠক করেন নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রীরা। নেতানিয়াহুর দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার চুক্তির (ফ্রেমওয়ার্ক) অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। আজ থেকে এটা কার্যকর হবে।ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন শুরু হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
তবে বলা হয়েছে, আজ স্থানীয় সময় বেলা ২টার আগে কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে না।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এই হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত হন। জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় আড়াই শ জনের বেশি মানুষকে। তাঁদের মধ্যে অনেককে মুক্তি দিয়েছে হামাস।
ইসরায়েলের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গাজায় হামাসের কাছে এখনো ৯৮ জন জিম্মি জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় রয়েছেন।হামাসের হামলার দিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৮৯৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ।আজ যে যুদ্ধবিরতি শুরু হচ্ছে, তা তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপ হবে ছয় সপ্তাহের। এ সময় ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা ১৯ বছরের কম বয়সী নারী ও শিশুদের মুক্তি দেওয়া হবে। এ সময় গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ। এই ধাপে ইসরায়েলের বাকি জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস। এর বিপরীতে আরো ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হবে। আর তৃতীয় ধাপে ইসরায়েলের কাছে মৃত জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে। গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে।

প্রথম ধাপে মুক্তি পাবেন ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মি

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে বন্দি ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। ইসরায়েল সরকারের জিম্মি এবং নিখোঁজ ব্যক্তি সমন্বয় ইউনিট শুক্রবার গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে যেসব ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করা হবে সেসব পরিবারকে অবহিত করেছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

খবরে বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ মাস পর গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে চুক্তিতে উপনীত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস।
আগামী রবিবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এ চুক্তির লক্ষ্য গাজা যুদ্ধের অবসান।চুক্তির আওতায় প্রথম ৪২ দিনে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে ইসরায়েলকে বলা হয়নি যে ৩৩ জনের মধ্যে কতজন জীবিত আছেন, যদিও ইসরায়েল আশা করছে জীবিতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
যুদ্ধবিরতির সাত দিনের মধ্যে ইসরায়েল তালিকায় থাকা সকলের পূর্ণ অবস্থার প্রতিবেদন পাবে।টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, যারা ফিরে আসবে তাদের পরিচয় ২৪ ঘণ্টা আগে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  মুক্তির সময়সূচী অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে তিনজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং আরও চারজন সপ্তম দিনে। পরবর্তীতে, চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে তিনজন জিম্মিকে ফেরত পাঠানো হবে।
অবশেষে, প্রথম পর্বের ষষ্ঠ সপ্তাহে ১৪ জন জিম্মিকে ফেরত পাঠানো হবে।যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনার সময় হামাস একটি নথি প্রকাশ করেছিল। এই মাসের শুরুর দিকে একটি সৌদি নিউজ আউটলেটে সেই নথির সূত্র ধরে জিম্মিদের মুক্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ১২ জন নারী ও শিশু রয়েছেন।তারা হলেন— রোমি গনেন (২৩), এমিলি দামারি (২৭), আরবেল ইহুদ (২৯), ডোরন স্টেইনব্রেচার (৩১), এরিয়েল বিবাস (৫), কেফির বিবাস (২), শিরি সিলবারম্যান বিবাস (৩৩), লিরি আলবাগ (১৯), করিনা আরিয়েভ (২০), আগাম বার্গার (২১), ড্যানিয়েল গিলবোয়া (২০) এবং নামা লেভি (২০)।

তালিকায় ১০ জন বয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। তারা হলেন— ওহাদ বেন-আমি (৫৮), গাদি মোশে মোসেস (৮০), কিথ সিগেল (৬৫), অফার ক্যাল্ডেরন (৫৪), এলি শারাবি (৫২), ইতজিক এলগারাত (৭০), শ্লোমো মনসুর (৮৬), ওহাদ ইয়াহলোমি (৫০), ওডেড লিফশিটজ (৮৪) এবং সাহি ইদান (৫০)।এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ৫০ বছরের কম বয়সী আরও ১১ জন পুরুষ। তারা হলেন— হিশাম আল-সাইদ (৩৬), ইয়ার্ডেন বিবাস (৩৫), সাগুই ডেকেল-চেন (৩৬), ইয়ার হর্ন (৪৬), ওমর ওয়েঙ্কার্ট (২৩), সাশা ট্রুফানোভ (২৮), এলিয়া কোহেন (২৭) অথবা লেভি (৪৩), আভেরা মেঙ্গিস্তু (৩৮), তাল সোহাম (৩৯) এবং ওমর শেম-তোভ (২২)।

এদিকে হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র এএফপিকে বলেছে, ইসরায়েল প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এ দলে দীর্ঘ কয়েক বছর কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরাও থাকবেন।

নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী হবে আরিয়া, প্রয়োজন মেটাবে প্রেমিকারও!

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে ১ হাজার ২১০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইসরায়েলের। এ ছাড়া দেশটি থেকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় ২৪১ জনকে। তাদের মধ্যে ৯৪ জন এখনো বন্দী। জিম্মিদের মধ্যে ৩৪ জনকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মৃত বলে ঘোষণা করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কেন ইসরাইলের জন্য ‘বড় পরাজয়’?

হামাস ও ইসরাইল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে তাদের যে মূল লক্ষ্য ছিল হামাসকে সমূলে ধ্বংস করা এবং দখলকৃত ভূখণ্ডের উত্তরে বিতাড়িত ইহুদিদের ফিরিয়ে আনা, তা পূরণে একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে।

আর এ কারণেই ইসরাইলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থি সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তীব্রতর হয়েছে

৪৬৮ দিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

গাজায় ৪৬৮ দিনব্যাপী যুদ্ধে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী ৪৭,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী রয়েছে। এছাড়া ২০ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। পাশাপাশি গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।

এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরাইল হামাসের প্রতিরোধ শক্তিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি ঘোষণার পর হামাস তাদের সংগঠনকে পুনর্গঠন করছে বলে জানা গেছে।

কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মূলত আলোর মুখ দেখেছে। চুক্তির শর্তগুলো মুসলিম বিশ্বে আনন্দের বার্তা দিলেও, দখলকৃত অঞ্চলের কট্টরপন্থি ইহুদি বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

‘খারাপ চুক্তি’

ইসরাইলের ‘ইসরাইল হায়োম’ পত্রিকা যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ অভিহিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের ওপর এই চুক্তিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থি নেতা ইতামার বেন গাভির এবং স্মোট্রিচও এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন।

বেন গাভির এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ’ সামরিক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন এবং মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, স্মোট্রিচ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে গোপন চুক্তি হতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে নেতানিয়াহু সম্ভবত পশ্চিম তীরের কিছু এলাকা বণ্টনের বিষয়ে ছাড় দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে পরামর্শ দিয়েছে যে, হামাসকে কেবল সামরিক আক্রমণের মাধ্যমে পরাজিত করা সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে তারা গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (ফাতাহ) পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ ফারাজকে এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে গাজার জনগণের মধ্যে হামাসের প্রতি যে পরিমাণ সমর্থন রয়েছে, তা ওই মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গাজার জনগণ ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের ঘটনাগুলো ভুলে যায়নি এবং তারা ফাতাহ তথা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি নাও হতে পারে।

হামাস-পিআইজের শক্তি ও ফলাফল

এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর গাজার জনগণ হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামি জিহাদের (পিআইজে) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং যুদ্ধজয়ের উল্লাস করেছে। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গাজার জনগণের মধ্যে এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দৃঢ় সমর্থন রয়েছে এবং তারা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিতে পারে।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইলের কৌশলগত ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্য—হামাসকে ধ্বংস করা এবং গাজার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা—এ যাত্রায় অপূর্ণ থেকে গেছে।

ইসরাইলের এই পরাজয় একদিকে যেমন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও পিআইজের প্রতি মুসলিম বিশ্বের সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় কট্টরপন্থি নেতাদের মধ্যে বিভাজন এবং অসন্তোষ স্পষ্টতই এই চুক্তির রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যতে গাজায় হামাস-পিআইজের ভূমিকাই সেখানকার পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে। তথ্যসূত্র: তাস

অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-হামাস

অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গাজা যুদ্ধের জন্য তারা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরার

বিশ্বস্ত সূত্রে বিবিসিতে জানায়, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্তততায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হামাস ও ইসরায়েলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন।

পরে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করা একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা এই চুক্তিতে ছয় সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির রূপরেখা রয়েছে এবং এতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বলা হয়েছে, গাজা শহর ও দক্ষিণ গাজার লাখো মানুষ তাদের বাড়ি ফিরে যাবে। এ সময়ের মধ্যে রাফা ক্রসিং দিয়ে তাবু, খাবার, চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করবে।

এ ছাড়াও ৫০টি জ্বালানিসহ গাড়ি প্রবেশ করবে।

৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে ফের ভোটগ্রহণ

জাতীয় অথবা স্থানীয় সরকার যেকোনো নির্বাচনেই ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে আবারও ভোটগ্রহণ করতে হবে বলে সুপারিশ করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। এছাড়াও সরকারের সামনে আরও একগুচ্ছ সুপারিশ রাখা হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ সংবলিত ৯ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ড. বদিউল আলম মজুমদার নেতৃত্বাধীন এ কমিশন।

 

প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

 

নির্বাচন ব্যবস্থা:

(ক) নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা।

(খ) নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা ।

(গ) কোনো আসনে মোট ভোটারের ৪০% ভোট না পড়লে পুন:নির্বাচন করা।

(ঘ) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বন্ধ করা, রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ, যোগ্য এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনে ‘না-ভোটের’ বিধান প্রবর্তন করা। নির্বাচনে না-ভোট বিজয়ী হলে সেই নির্বাচন বাতিল করা এবং পুন:নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাতিলকৃত নির্বাচনের কোনো প্রার্থী নতুন নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিধান করা।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:

(ক) ঋণ-বিল খেলাপিদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা।

(খ) কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি আসামি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস কমিউনিটি ভলান্টিয়ার উদ্যোগে টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতl

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের আশে পাশে ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবৈধ গাড়ি পাকিং ও ছিনতাই বন্ধের দাবীতে গতকাল টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস কমিউনিটি ভলান্টিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সিনিয়র ষ্টেশন মাষ্টার শাহিন আলম, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি সহ-সভাপতি রমজান উদ্দিন (বিল্লাল), সমাজসেবক আলাউদ্দিন,টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস কমিউনিটি ভলান্টিয়ার টিম লিডার শাকিল খান, রনিখান, মো:মৃদুল প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বক্তারা অবিলম্বে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের আশেপাশে অবৈধ পাকিং ও ছিনতাই,চাদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের প্রতি দাবী জানায়।

যুবদল নেতার মুক্তির দাবিতে টঙ্গীতে বিশাল সমাবেশ ও মানববন্ধন

আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় কারারুদ্ধ যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে টঙ্গীতে শনিবারের মানববন্ধন রূপ নেয় বিশাল সমাবেশে। এতে একপর্যায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এই মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে আহসান উল্লাহ মাস্টার খুন হলেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আওয়ামীলীগ এই হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে।
শনিবার সকাল ১০টায় টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় শুরু হওয়া এ মানববন্ধন বেলা সাড়ে ১২টায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে শেষ হয়।
নুরুল ইসলাম সরকার মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে পরিষদের আহŸায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজির আহমেদের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক বশির উদ্দিন ও আব্দুর রহিম খান কালার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহŸায়ক ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি আলহাজ সালাহ উদ্দিন সরকার, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর কারাভোগের পর সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া বিএনপি নেতা রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আইয়ুব আলী, কারারুদ্ধ নুরল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনুর ইসলাম রনি। আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার, মহানগর বিএনপি নেতা বশির আহমেদ বাচ্চু, হুমায়ুন কবির রাজু, রাশেদুল ইসলাম কিরণ, ইসমাইল শিকদার বসু, শেখ মো. আলেক, নূর মোহাম্মদ, গাজীপুর মহানগর যুবদলের আহŸায়ক সাজেদুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শাহীন, সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন ভাট, যুবদল নেতা সৌমিক সরকার সহ টঙ্গী ও গাজীপুর মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ কর্মসূচিতে টঙ্গীর সাধারণ মানুষও স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গী নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে স্বোচ্ছাসেবকলীগের এক সম্মেলনে কমিটি ঘোষণার পর পরই দলীয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। এ ঘটনায় আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে সাবেক টঙ্গী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের আসামী করা হলেও তৎকালীন যুবদলের কেন্দ্রীয় শ্রম ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নূরুল ইসলাম সরকারসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের মোট ৫ জনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসামী করা হয় বলে বিএনপির অভিযোগ। আহসান উল্লাহ মাস্টার দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে খুন হন মর্মে তখন সরকার একটি প্রেসনোটও জারি করে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ওই বছরের ১০ জুলাই ৩০ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদÐ এবং ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদÐাদেশ ও দু’জনকে খালাস দেন। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আসে। পাশাপাশি আসামিদের পক্ষ থেকে জেল আপিল করা হয়। বাদী পক্ষের কালক্ষেপন ও বার বার অনাস্থায় মোট ৮টি বেঞ্চ পরিবর্তের পর ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। রায়ে ছয় জনের ফাঁসি বহাল রাখা হয় এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১ জন ও মৃত্যুদÐপ্রাপ্ত ১০ জন মোট ১১ জনকে খালাস এবং সাত জনের ফাঁসির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ডের মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে হুকুমের আসামী করা হলে তিনি উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জালান। উচ্চ আদালতের অন্তবর্তীকালীন জামিন শেষে তিনি নিম্ম আদালতে আত্মসমর্পন করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান। প্রায় ২০ বছর যাবত তিনি এ মামলায় কারাগারে আটক আছেন।