নির্বাচনের ডেটলাইন দেন না কেন, এটা রহস্যজনক : রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অন্তর্বর্তী সরকারকে ‍উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘নির্বাচনের ডেটলাইন দিতে আপনাদের মধ্যে এত দ্বিধা, এত সংকোচ কেন?’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের চেতনাকে ধারণ করতে পারছেন না। তাই স্বৈরাচারের আরেক লোককে আপনারা বসিয়ে রেখেছেন। আপনারা বিভিন্ন জায়গায় স্বৈরাচারের দোসরদের বসিয়ে রেখেছেন। তারা আপনাকে ব্যর্থ করবেই।

’মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলওয়ে ময়দানে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা ও চৌমুহনী পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু।

এ সময় রিজভী বলেন, ‘আপনি আবার নতুন কয়েকজনকে উপদেষ্টা করেছেন।

নতুন উপদেষ্টা করার অধিকার আপনার আছে। কিন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশীজন যারা তাদের অভিমত নেওয়া দরকার ছিল। যে মেয়েটি বিতর্কিত শেখ মুজিবের বায়োপিকে অভিনয় করেছে। আপনারা তার স্বামীকে উপদেষ্টা বানিয়েছেন।
’অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপির সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আপনি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকারে বসেছেন। বিএনপি সমর্থন করেছে। যারা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে তারা সমর্থন দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সমর্থন দিয়েছে। আমরা আপনাদেরই সমর্থন করে যাচ্ছি, কিন্তু মাঝে মাঝে কথা বলতে হয় কেন?’তিনি বলেন, ‘আলুর কেজি কেন ৭৫-৮০ টাকা হবে? আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কেন? আপনি সিন্ডিকেটবাজদের কেন গ্রেপ্তার করতে পারছেন না? দুর্বলতা কোথায় এটা একটু জানতে চাই।

এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে মানুষের কাম্য নয়। কেন এটা বাড়ছে, মানুষ অনেক ধরনের প্রশ্ন করে।’রিজভী আরো বলেন, ‘আপনি নির্বাচনের কথা বলেন, কিন্তু নির্বাচনের কোনো ডেটলাইন দেন না। এটা রহস্যজনক। আপনারা মনে করছেন বিএনপির লোক যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আছে তারা অশিক্ষিত। আমরা তোমাদেরকে আগে সংস্কার শিখাই, তারপর তোমরা নির্বাচনের কথা বলো।’

এক উপদেষ্টার বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘তাদের একজন উপদেষ্টা বলছে, খালি নির্বাচন, নির্বাচন করলেই হবে। উপদেষ্টাকে বলি আপনি কি হেডমাস্টার? আপনি আগে শিক্ষা দেবেন তারপর আমরা শিখব, পড়াশোনা করব। আমরা কি জানি না সংস্কার কী? আপনারা প্রস্তাব দিতে পারেন। সেই প্রস্তাবটা দেবেন নির্বাচিত সরকারের কাছে। এ জন্য নির্বাচন দিন।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ জেগে উঠেছে বলেই হাসিনার মতো এত নির্মম, নিষ্ঠুর, এত রক্ত নিংড়ানো স্বৈরাচারকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মনে করেছে তার বাপের জমিদারি। আর এই জমিদারি রক্ষার্থে সে দেশের জনগণকে জনগণ মনে করত না; চাকরবাকর মনে করত। এ জন্য যারা প্রতিবাদ করেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় বক্তব্য রেখেছে, যারা মিছিল করেছে, জনসভা করেছে, স্লোগান দিয়েছে তাদের সে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। কাউকে অদৃশ্য করে দিয়েছে চিরদিনের জন্য, কাউকে বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার করিয়েছে। এই দানবকে বাংলােদেশের ছাত্ররা বিতাড়িত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যুতের টাকা পাচার হওয়ার কথা শুনেছি, মেট্রো রেলের টাকা পাচার হওয়ার কথা শুনেছি। মেগাপ্রজেক্টের অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার কথা শুনেছি। আপনি দুর্নীতি করে নিজের লোকদের মধ্যে টাকা ভাগ করে টাকাগুলো পাচার করে দিয়েছেন। যার খেসারত জনগণকে দিতে হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দিতে হচ্ছে।’

এ েসময় আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রথমবারের মতো এস আলম গ্রুপের বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে

ঋণের টাকা আদায়ে এস আলমের সম্পত্তি নিলামে তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের কাছ থেকে এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য জনতা ব্যাংক গ্রুপটির অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের জামানত সম্পত্তি নিলাম করার ঘোষণা দিয়েছে।
গত ১ নভেম্বর জনতা ব্যাংক পত্রিকায় নিলামসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২০ নভেম্বর নিলামের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, এ ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে এস আলম গ্রুপের ১৮৬০ শতাংশ জমি, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৩৫৮ কোটি টাকা। এ দাম পাওনা টাকার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ কম। এ সম্পত্তি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব নয়। বকেয়া বাকি টাকা আদায়ে আরও আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থঋণ আদালত আইনের ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, ব্যাংক মামলা করার আগেই জামানতের সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায় সম্ভব।
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর ২০২১ সালের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা না মেনে ঋণসীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে সাধারণ বীমা ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রাম করপোরেট শাখা থেকে গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন প্রাথমিকভাবে ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এই ঋণ ২০২১ সাল পর্যন্ত সুদে-আসলে মোট এক হাজার ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
এর মধ্যে ৬১৭.৪৭ কোটি টাকা পিএডি (পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট), ২২৩.১৮ কোটি টাকা এলটিআর (ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ঋণ এবং ২২৯.৯৯ কোটি টাকা সিসি হাইপো ঋণ। সুদাসল মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

বিবিসির সমালোচনায় প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক সাংবাদিক

গাজা যুদ্ধের প্রতিবেদনে ইসরাইলকে নিয়ে পক্ষপাতমূলক খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ২৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি। যেখানে কেবল ১০০ জনেরও বেশি বিবিসির কর্মী। এক চিঠিতে তারা বিবিসিকে ‘ন্যায্যতা, নির্ভুলতা এবং নিরপেক্ষতার’ প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রোববার (৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

বিবিসি মহাপরিচালক টিম ডেভির কাছে পাঠানো চিঠিতে ২৩০ জনেরও বেশি সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। যার মধ্যে ১০১ জন বেনামী বিবিসি কর্মী।  মিডিয়া সংস্থার সাংবাদিকদের পাশাপাশি ইতিহাসবিদ, অভিনেতা, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদরাও এই চিঠিতে সাক্ষর করেছেন। শুক্রবার দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে গাজার সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে ন্যায্য এবং নির্ভুল প্রমাণ-ভিত্তিক সাংবাদিকতার অভাবের বিবিসির সম্পাদকীয় মানকে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, ‘আমরা বিবিসিকে ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই প্রতিবেদন তৈরি এবং সর্বোচ্চ সম্পাদকীয় মানদণ্ডে পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানায়।  একইসঙ্গে ন্যায্যতা, নির্ভুলতা এবং যথাযথ নিরপেক্ষতার উপর জাের দিতে হবে’।

‘অপ্রতুল তথ্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের পরিণতি ভয়ংকর। বিবিসির অনেক প্রতিবেদন, নিবন্ধ এবং সাক্ষাত্কার যা ইসরাইলের দাবিকে শক্তিশালীভাবে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যা পদ্ধতিগতভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক আচরণ’।

অবশ্য বিবিসি দাবিগুলো অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশভিত্তিক বার্তাসংস্থাটি বলছে,‘তারা সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের জন্য দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে’।

একজন মুখপাত্র বলেন, ‘যখন আমরা ভুল করি বা প্রতিবেদন করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন করি, তখন আমরা স্বচ্ছ থাকি। আমাদের শ্রোতাদের কাছে আমাদের প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আমরা খুব স্পষ্ট। গাজা এবং লেবাননের কিছু অংশে প্রবেশের অভাব এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ওইসব এলাকায় সাংবাদিকদের পাঠাতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত’।

বিবিসি অন্যান্য ব্রিটিশ সংবাদসংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান গাজাভিত্তিক খবর প্রচারের জন্য গত এক বছরে সমালোচিত হয়েছে।

দ্য ইনডিপেনডেন্টের মতে, তালিকায় অন্যান্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল, ক্যাথরিন হ্যাপার, সমাজবিজ্ঞানের সিনিয়র লেকচারার এবং গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ডিরেক্টর, রিজওয়ানা হামিদ, সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিংয়ের পরিচালক এবং সম্প্রচারকারী জন নিকলসন।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের ইস্যু আরেকটি চক্রান্ত : ফখরুল

কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করবার আমরা কারা, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটাতো আরেকটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে। দেশে একটা অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা আবার শুরু করা জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। যেগুলো ইস্যু না, সেগুলোকে ইস্যু করা হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা সম্পর্কে সকলে সজাগ ও সর্তক থাকা দরকার।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও কূটনীতিক সাবিহ উদ্দিন আহমদের স্মরণসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। সাবিহ উদ্দিন আহমেদের বর্ণাঢ্য জীবন-কর্ম তুলে ধরেন তার সহকর্মীরা।

স্মরণসভায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাবিহ উদ্দিন ছিলেন রিয়াল ন্যাশনালিস্ট। দেশ ও জনগনের প্রশ্নে কোনো কম্প্রমাইজ নেই। আনকম্প্রমাইজিং ছিলেন। এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আমরা তার পরিবারের জন্য দোয়া করি।

স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাবিহসহ আমরা যারা ছাত্ররাজনীতি শুরু করেছিলাম। আমাদের একটা লক্ষ্য ছিলো- এই সমাজটাকে পরিবর্তন করবো, বদলে দেবো। সেটা সেই সময় সম্ভব হয়নি, সাবিহ চলে গেছেন সরকারি চাকরিতে। সরকারি চাকরিতে গেলেও কখনো সেই লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি। সাবিহ যেখানেই ছিল সেখানেই দেশের জন্য কাজ করেছে, জনগণের জন্য কাজ করেছে। সবচেয়ে বেশি আমার মনে পড়ে যে, যখন তিনি আমাদের ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন। তখন দেখেছি যে, তিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

শেখ হাসিনার শাসনমালে সরকারের রোষানল ও নির্যাতিত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওই সময়ে তার ওপরে প্রচণ্ড আক্রমণও হয়েছিল। রিয়াজ রহমানের গুলি লেগেছিল, সাবিহ উদ্দিন আহমেদের গাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছিল, আরেকজনের ওপরও আক্রমন হয়েছিল। এই সময়গুলো আমরা পার করেছি। বহুবারই বিভিন্ন গ্রেফতার হওয়ার মুহুর্ত থেকে সে বেরিয়ে এসেছে, তার চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টকর। আমরা যারা এক সঙ্গে ছিলাম তাদের কাছে এটা বেদনার। সাবিহর ছবিটা এখানে দেখে আতকে উঠলাম।

মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো কিছুতে ভেঙে পড়ার লোক ছিল না, সাবিহ লড়াই করেছে শেষ পর্যন্ত। আজকে সে থাকলে সবচেয়ে খুশি হতো ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখে।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সাবিহ শেষ দিন পর্যন্ত দেশের কথাটি ভেবেছেন, দশের কথাটি ভেবেছেন। দেশপ্রেমের প্রশ্নের কোনো আপোষ তিনি করেননি। আমি বিশ্বাস করব, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ জান্নাতবাসী হয়েছেন। জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে আল্লাহ তাকে স্থান দিয়েছেন।

রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারের কনফারেন্স হলে প্রয়াত কূটনীতিকের পরিবারের পক্ষ থেকে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে সাবিহ উদ্দিন আহমেদ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন।

সাবিহ উদ্দিনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ওপরে স্মৃতিচারণ করেন প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, এবিএম শাহেদ আখতার, সাবিহ উদ্দিন আহমেদর ছোট ভাই সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক, ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ। সাবিহ উদ্দিনের সহধর্মিনী রওনক আহমেদ, ছেলে সাইয়াব আহমেদ, বিএনপি মহাসচিবের সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমসহ নিকট স্বজনরাও ছিলেন স্মরণ সভায়।

হুমকি দিয়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামাল আদানি

বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ প্রায় ১০ হাজার ৮৬ কোটি টাকা পাওনা ভারতের আদানি গ্রুপের। এই অর্থ জমে থাকার কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে আদানি কর্তৃপক্ষ। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি গোষ্ঠী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে।

বিদ্যুকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনের বেলা আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে গড়ে মাত্র ৫৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। যদিও গত বুধবার পর্যন্ত দিনে গড়ে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।

সম্প্রতি আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের প্রতিনিধি ও যৌথ সমন্বয় কমিটির সভাপতি এম আর কৃষ্ণ রাও এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিসি) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১৭০.০৩ মিলিয়ন ডলারের জন্য প্রয়োজনীয় এলসি প্রদান করেনি এবং ৮৪৬ মিলিয়ন ডলারের (১০,০৮৬ কোটি টাকা) বকেয়াও শোধ করেনি।

তিনি উল্লেখ করেছেন, সময়মতো এলসি না দেওয়া এবং বকেয়া পরিমাণ পরিশোধ না করার ফলে পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় ম্যাটারিয়াল ডিফল্ট ঘটেছে, যা আদানি পাওয়ারের সরবরাহ বজায় রাখতে বাধা দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বহু বকেয়া পরিশোধ ও এলসির অভাবে আমরা কয়লা সরবরাহকারী এবং অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কন্ট্রাক্টরদের জন্য কাজের মূলধন নিরাপদে রাখতে পারছি না।

আমাদের ঋণদাতারাও সহায়তা প্রত্যাহার করছে।’আদানি তাদের চিঠিতে বিপিডিসিকে ৩০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের মধ্যে এই ডিফল্টগুলো সমাধানের আহ্বান জানায়। অন্যথায় ৩১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে সরবরাহ বন্ধ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদানির বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। এ কারণে কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎসরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লাসংকটের কারণে ইউনিট-২ বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ইউনিট-১ বর্তমানে ৫৩৯ মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ দুই মাসের জন্য মেরামতে যাচ্ছে। কম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম জানিয়েছেন, তাঁরা পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বকেয়া পরিমাণের কারণে কার্যকর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। যদিও এখন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট।

মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ, গুলিতে আহত ২

রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরের কচুক্ষেত এলাকায় পোশাককর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে নারীসহ দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—সেনটেক্স ফ্যাশন লিমিটেডের সুইং অপারেটর আল-আমিন হোসেন (১৭) ও ঝুমা আক্তার (১৫)।

আল-আমনি ও ঝুমা আক্তারের সহকর্মী কবির হোসেন জানান, কচুক্ষেত এলাকায় মৌসুমি নামের একটি গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার রাতে হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ করে দেয়। সে কারণে আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মচারীরা কারখানার সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে আশপাশের সব কারখানাও ছুটি দেওয়া হয়। তখন সবাই একসঙ্গে রাস্তায় অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ছুড়লে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

কবির হোসেন জানান, আল-আমিনের বাড়ি খুলনায়। বর্তমানে মিরপুর-১৪ নম্বরের বিআরপি এলাকায় থাকেন। সকালে কারখানা ছুটি ঘোষণা করলে তিনি বাসায় যাচ্ছিল। তখন পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। আহত ঝুমার বড় বোন মর্জিনা বেগম জানান, সেনটেক্স ফ্যাশনে অপারেটর হিসেবে কাজ করেন ঝুমা। তিনি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ আহত দুজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। এর মধ্যে ঝুমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে আল-আমিন পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাঁর অস্ত্রোপচার চলছে।

এর আগে, রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরে ডায়না গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা মিরপুর ১৪ নম্বরের কচুক্ষেত সড়কে বিক্ষোভ করে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

পুলিশ জানায়, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের শান্ত করতে এলে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। আত্মরক্ষায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়। পুরো এলাকা বন্ধ করে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সকাল থেকেই রাস্তায় ছিল। পোশাকশ্রমিকেরা হঠাৎ করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। এখন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।’

নেপালকে কাঁদিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফ জয়

 দশরথ স্টেডিয়ামে আরেকবার ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ । স্বাগতিক নেপালকে আরেকবার বাকরুদ্ধ করে ২-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ছয়বার ফাইনালে উঠে একবারও স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি নেপাল।

২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়েই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমার দুই গোলে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আজ। সর্বোচ্চ ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।
এর নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমে নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ করেছে বাংলাদেশ।
দুই দলকেই হতাশ করেছে গোলবার। অন্যথা, বাংলাদেশ-নেপাল দুই দলের নামের পাশে ১-১ গোল থাকতে পারত।
দশরথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন তহুরা খাতুন। নিজের কাজটাও করেছিলেন বাংলাদেশি স্ট্রাইকার।
কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলবার। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় গোলকিক নেওয়ার সময় পরে গেলে তাতে শট জোরালো হয় না। নেপালের ডি বক্সের সামনেই দাঁড়ানো তহুরা বল পান। গোলরক্ষককে একা পেয়ে শটও নিলেন তিনি। কিন্তু তা বারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে হেড দিলে তা ধরে ফেলেন গোলরক্ষক অঞ্জিলা সুব্বা।এই গোলবারই নেপালকেও হতাশ করে ১০ মিনিটে। আমিশা কারকির শট বারে লেগে ফিরে আসে। ৩৫ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন মনিকা চাকমা। গোলরক্ষক অঞ্জিলা গোলবার থেকে বের হয়ে এসে বাংলাদেশের একটি ক্রস প্রতিহত করলে ফাঁকা গোলবারেও বল জালে জড়াতে পারেননি মনিকা।

প্রথমার্ধে কোনো দল গোল না পেলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন সাবিত্রা ভান্ডারি। বক্সে বেশ কিছু বল বাড়িয়েছিলেন তিনি। যা থেকে গোলও পেতে পারত নেপাল যদি তার সতীর্থরা ঠিকমতো সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারত। তবে সেই সুযোগ দেননি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা।

প্রথমার্ধে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। যার ফলও পায় বিরতির পর পরেই। ৫২ মিনিটে সাবিনার বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে সেই সুযোগ নেন মনিকা। ডান প্রান্ত থেকে নেপালের গোলরক্ষক অঞ্জিলাকে ফাঁকি দেন তিনি। তিন মিনিট পরেই অবশ্য দশরথ স্টেডিয়ামে জন সমুদ্রের গর্জন শুরু হয়। ১৫ হাজারেরও বেশি দর্শককে আনন্দে ভাসান আমিশা।

৫৬ মিনিটে প্রীতি রাইয়ের অবিশ্বাস্য এক পাসে গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করেন আমিশা। রক্ষণ চেরা পাসে শুধু বলকে পথ দেখানোই বাকি ছিল। সমতায় ফেরার চতুর্থ মিনিটের মাথায় আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সাবিত্রা বাঁ প্রান্তের দুরূহ কোণ থেকে যে শট নিলেন তা ডান প্রান্তের গোলবারের বাইরে দিয়ে যায়।

৬৮ মিনিটে নেপালকে বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন অঞ্জিলা। নিশ্চিত গোলকে যেভাবে শূন্যে লাফ দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করলেন তা এককথায় অবিশ্বাস্য। বক্সের বাইরে থেকে চোখ-ধাঁধানো এক শট নিয়েছিলেন মারিয়া মান্দা। কিন্তু বাঁ প্রান্তে লাফ দিয়ে দারুণ সেভ দিলেন নেপালের গোলরক্ষক। গ্যালারিতে থাকা নেপালের উত্তাল জন সমুদ্রকে থামানোর দুর্দান্ত এক সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ৭৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রসে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র।

তবে ৮১ মিনিটে ঠিকই ১৫ হাজারের বেশি সমর্থককে বাকরুদ্ধ করে দিলেন ঋতুপর্ণা। বাঁ প্রান্ত থেকে প্রায় টাচ লাইন থেকে যে শটটা নিলেন তা এককথায় অবর্ণনীয়। নেপালের গোলরক্ষক শূন্যে লাফ দিয়ে বিশ্বস্ত হাতে বলকে বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করলেও ঋতুর মাপা শটকে হার মানাতে পারেননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির আবেদন করেছিল নেপাল। তবে ৯০ মিনিটে সাবিত্রার শট যখন মাসুরা পারভিনের হাতে লাগে তখন শরীরের সঙ্গে লেগেছিল তার দুই হাত।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে আরেকবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মারিয়ার ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড সরাসরি গোলরক্ষক অঞ্জিলার হাতে চলে যায়। নেপাল পরে চেষ্টা করেও গোল শোধ দিতে না পারেনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো বাংলাদেশ দল। অন্যদিকে ভিন্ন চিত্র তখন পুরো স্টেডিয়ামে। নেপালের পায়ে বল থাকলে একটু আগে যেখানে জন সমুদ্রের ঢেউ উঠত সেই স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা।

আ.লীগ–জাপাসহ ১১ দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকানোর রিট প্রত্যাহারঋ

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ১১টি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বৈধতা নিয়ে করা রিটটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর বেঞ্চে রিট দুটি না চালানোর কথা জানান রিটকারী আইনজীবী আহসানুল করিম। এরপর আদালত রিট আবেদন দুটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
এর আগে গতকাল সোমবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও আবুল হাসনাত এবং হাসিবুল ইসলাম পৃথক দুটি রিট করেন।
একটি রিটে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, গণতন্ত্রী দল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট (বড়ুয়া) ও সোশ্যালিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

অপর রিটে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম কেন নিষিদ্ধ করা হবে না—এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয় রিটে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে ১১ দলকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—এই মর্মেও রুল চাওয়া হয় আবেদনে।

রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় ওই দলগুলোকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ ছাড়া ১১টি দলকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার নির্দেশনাও চাওয়া হয় আবেদনে।

অপর রিটে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গেজেট কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল চাওয়া হয়। সেই সঙ্গে ওই ১১টি দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের বিরুদ্ধে কেন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হবে না, সে বিষয়ে রুল চাও

এ ছাড়া দশম, একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচনে ১১টি দলের সংসদ সদস্যদের প্লট বরাদ্দ বাতিল, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ির কর ও শুল্ক আদায় এবং পারিশ্রমিক–ভাতাদি ফিরিয়ে নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয় আবেদনে।

এই রিটে আইনসচিব, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং ১১টি দলকে বিবাদী করা হয়।

কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি

কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।আজ শনিবার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গণভবন পরিদর্শন নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি।

চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩৫ চায় সমন্বয় পরিষদ

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থী সমন্বয় পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. শরিফুল হাসান শুভ এ তথ্য জানিয়েছেন।

শরিফুল হাসান বলেন, আমরা সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। সেখানে ৩২ বছর করা হয়েছে।

এটি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।
 

বিসিএসে তিনবার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক দাবি করে তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। কারণ একজন শিক্ষার্থী ২৪ বা ২৫ বছর বয়সে স্নাতক পাস করলে পরবর্তী সময়ে এমনিতেই ৩০ বছর পর্যন্ত পাঁচ -ছয়বার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। কিন্তু বর্তমান শর্তের কারণে সেটি আর পারবেন না।

তাই আমরা এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখান করছি।

তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশে কোনো শর্ত ছাড়াই ৫৩ বছর চান জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করা হবে। যা সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্তের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতাবহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারিত হবে। স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে স্ব-স্ব নিয়োগবিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজন সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে।