সংরক্ষিত নারী আসনে আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে ৪৮ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চূড়ান্ত হওয়া ৪৮ জন নারীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়নপ্রত্যাশী ১ হাজার ৫৪৯ জনের সাথে বৈঠক করেন।

মনোনীতরা হলেন পঞ্চগড় থেকে রেজিয়া ইসলাম, ঠাকুরগাঁও থেকে দ্রৌপদী দেবী আগারওয়ার, নীলফামারী থেকে আশিকা সুলতানা, জয়পুরহাট থেকে রোকেয়া সুলতানা,নাটোর থেকে কোহলি কুদ্দুস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জেবিন মাহবুব, খুলনা থেকে রুনু রেজা, বাগেরহাট থেকে ফরিদা আক্তার,বরগুনা থেকে ফারজানা সুমি, ভোলা থেকে খালেদা ভান, পটুয়াখালী থেকে নাজনীন নাহার, নরসিংদী থেকে ফরিদা ইয়াসমিন, ময়মনসিংহ থেকে উম্মে ফারজানা, নেত্রকোণা থেকে নাদিয়া বিনতে আমিন, জয়পুরহাট থেকে মাহফুজা সুলতানা মলি, ঝিনাইদহ থেকে পারভীন জামান কল্পনা, কুমিল্লা থেকে অ্যারোমা দত্ত, সাতক্ষীরা থেকে লায়লা পারভীন,খুলনা থেকে বেগম মান্নিজামান সুফিয়ান, গোপালগঞ্জ থেকে বধুরা আহমেদ সালাম, ঢাকা থেকে শবনম জাহান, হাসিনা বাড়ি চৌধুরী, অনিমা মুক্তি গোমেজ, শেখ আনারকলি, নাহিদ ইজহার, সহিদা তারিক দীপ্তি, পারুল আখতার, সানজিদা খানম ও সাবেরা বেগম,বরিশাল থেকে শাম্মী আহমেদ, ফরিদপুর থেকে নাহার লাইলি, মুন্সীগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন্নেছা , নরসিংদী থেকে মাসুদা সিদ্দিক রোজি, টাঙ্গাইল থেকে তারানা হালিম, অপরাজিতা ও বেগম শামসুন্নাহার, গাজীপুর থেকে মেহের আফরোজ চুমকি, গোপালগঞ্জ থেকে নাজমা আক্তার, সিলেট থেকে অরুণা চক্রবর্তী, ফরিদুর থেকে নাহার লাইলী, লক্ষ্মীপুর থেকে আশরাফুন নেছা, নোয়াখালী থেকে কানন আরা বেগম ও ফরিদা খানম, চট্টগ্রাম থেকে শামীমা হারুন লুবনা, ডেলারা ইউসুফ ও ওয়াসিকা আয়েশা, রাঙ্গামাটি থেকে দার্তি এবং রংপুর থেকে নাসিমা জামান।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপত্র বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। তিন দিনে মোট ১ হাজার ৫৪৯ ফরম বিক্রি করেছে দলটি। যা থেকে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মূলত জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। একেকটি রাজনৈতিক দল ছয়টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পান। এ হিসেবে নিজেদের এবং স্বতন্ত্রদের সমর্থন পাওয়ায় আওয়ামী লীগ পাবে মোট ৪৮ আসন।

রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শেষ হবে।
রোববার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন মাওলানা সাদের ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী ।আখেরি মোনাজাতে বেশ কয়েকজন ভিআইপি অংশগ্রহণ করবেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও মুসল্লিদের নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল এবং জিকির-আসগারের মধ্য দিয়ে শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিনে টঙ্গীর তুরাগ তীরের ময়দানে বয়ান করছেন তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিরা। মুরব্বিদের বয়ান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ময়দানে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। নিজের ইমান আমলকে মজবুত করার একমাত্র মোক্ষম সময় হৃদয়ে ধারণ করে গভীর মনোযোগ দিয়ে মুরব্বিদের বয়ান শুনছেন।
শনিবার বাদ ফজরের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। বিকালে এই ময়দানেই অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন বিয়ে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম জানান, শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা সাঈদ বিন সা’দ, তার বয়ান বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মুফতি ওসামা ইসলাম। সকাল সাড়ে ১০টায় তালিমে হালকা বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আব্দুল আজিম।এছাড়া বাদ জোহর ভারতের মাওলানা শরিফ সাহেব, বাদ আসর পাকিস্তানের মাওলানা ওসমান সাহেব, বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা মুফতি ইয়াকুব সাহেব বয়ান করবেন। তাদের বয়ান বাংলায় তর্জমা করবেন যথাক্রমে মাওলানা মাহমুদুল্লাহ, মাওলানা আজিম উদ্দিন, মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
দ্বিতীয় দিনেও ইজতেমাস্থলে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২০-২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিবেন বলে আয়োজকদের ধারণা। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে শিল্প নগরী টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ-লাখ মুসল্লির পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এদিনও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। সেটি আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে ।
ইজতেমার মিডিয়া সম্বনয়কারী মোহাম্মদ সায়েম জানান, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ ছাড়াও ৬৪টি দেশের প্রায় ৬৫০০ বিদেশি মেহমান এবারের শেষ পর্বের ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন।
এদিকে সম্পূর্ণ শরিয়ত মেনে তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী শনিবার বাদ আসর ইজতেমার বয়ান মঞ্চের পাশেই বসবে যৌতুকবিহীন বিয়ের আসর।
কনের সম্মতিতে ও তার অনুপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দানে বর এবং কনে পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ওই বিয়ে। বিয়ের পর বয়ান মঞ্চ থেকেই মোনাজাতের মাধ্যমে নবদম্পতিদের সুখ-সমৃদ্ধিময় জীবন কামনা করা হবে।এবার ইজতেমার প্রথম পর্বে এরকম ৭২ জোড়া বিয়ে সম্পাদন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে ১৪ জোড়া বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে সফিকুল ইসলাম জানান, ইজতেমায় প্রতিদিন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের খেদমতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষ্যে গাজীপুর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব আলম।তিনি শনিবার সকালে ইজতেমা মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান।কমিশনার বলেন, আখেরি মোনাজাতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন। শনিবার রাত ১২টা থেকে টঙ্গী-কামারপাড়া রোড, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস পর্যন্ত এবং আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত এবং টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে পূবাইল মীরেরবাজার পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও গাজীপুরগামী যানবাহনগুলোকে গাবতলী দিয়ে কোনাবাড়ি হয়ে এবং ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভোগরা বাইপাস দিয়ে ৩০০ ফিট রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এ সময় এসব সড়ক হয়ে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরো জানান,বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে কাজ করছেন।
ইজতেমায় ৭ মুসল্লির মৃত্যু : শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ঢাকা জেলার বংশাল থানার বাবুবাজার এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে মুনতাজ উদ্দিন (৭৮)। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ময়দানে মারা যান জালাল মন্ডল (৬০)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার বড়াইখোলা গ্রামের মৃত বেলায়েত মন্ডলের ছেলে।ময়দানে মারা যাওয়া আরও ৪ মুসল্লি হলেন- জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার গোয়ালেরচর গ্রামের ছাবির উদ্দিনের ছেলে নবীর উদ্দিন (৬০), শেরপুর জেলা সদরের মৃত মহেজ উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৬৫), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামের মৃত সুলতান উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হেলিম মিয়া (৬২) ও দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার শেরনগর গ্রামের মৃত ইউসুফ উদ্দিনের ছেলে জহির উদ্দিন (৭০)।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এদিকে, বিশ্ব ইজতেমায় আসার পথে আব্দুল্লাহপুর মাছ বাজার এলাকায় বাসের ধাক্কায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বাসিন্দা আবুল কাসেম (৬৫) নামে এক মুসল্লি মারা গেছেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ, নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব ও পুলিশের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, শৌচাগার, গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে। ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্ষক্রম চলমান রয়েছে।
চিকিৎসা সেবা: টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মুসল্লি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে বাথজ্বর, মাথা ব্যথা, সর্দি, কাশি, পেটেরপীড়া, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগজনিত কারনে ২০ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ২৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
ইজতেমায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প : এবারের বিশ্বইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে। অলিম্পিয়ার স্কুল মাঠে হামদর্দ ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প ছাড়াও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিভিল সার্জন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, র‌্যাবসহ কয়েকটি সংস্থার ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ময়দানের মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল পর্ষন্ত তারা বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ১৫হাজার অসুস্থ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসুল্লির জুমা আদায়

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
টঙ্গীর তুরাগ তীরে দিল্লির মাওলানা ইলিয়াস বিন সাদ কান্ধলভী বয়ানের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ^ ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। ইলিয়ান বিন সাদ শুক্রবার ফজরের নামাজের পর উর্দুতে বয়ান শুরু করেন, যা বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে শুরুর দিন অনুষ্ঠিত জুমার জামাতেও অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ।শুক্রবার বেলা ১টায় ময়দানে জুমার আযান হয়। ১টা ৪৫ মিনিটে খুতবা শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী।
ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই বৃহত্তম জুমার জামাতে শরিক হয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই সর্বস্তরের মুসলমানরা জুমার জামাতে শামিল হওয়ার জন্য টুপি, পাঞ্জাবী পরে জায়নামাজ হাতে ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। দেশ বিদেশের অগণিত মুসল্লির সঙ্গে একই জামাতে শরীক হয়ে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে সাওয়াব হাসিলের উদ্দেশে সবার মধ্যে দেখা গেছে ব্যাকুলতা। যতই সময় গড়াতে থাকে ততই মুসল্লিদের ঢল আঁচড়ে পড়ে তুরাগ তীরে। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের সমাবেশ ঘটে জুমার জামাতে। জুমার জামাত শেষে তারা মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করেন।
ইজতেমা মাঠে জুমার জামাত সুবিশাল প্যান্ডেলের গন্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃৃতি লাভ করে চারপাশের অলি-গলি ও রাস্তায়।ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকেও সড়কটি জুমার সময় বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। নামাজের পর যান চলাচল শুরু হয়। তবে মুসল্লিদের ভিড়ের কারণে খুবই ধীর গতিতে চলছে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন।
প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। ১৬০ একর ময়দানে কিছু অংশ চটের প্যান্ডেল এবং ময়দানের বাকি অংশ ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসল্লিরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামিয়ানা টানিয়েছেন। তবে বিদেশি মেহমানদের জন্য টিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুবিধাসহ আবাসস্থল।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৫৪টি দেশের ৬ হাজার ১২৬ জন বিদেশি মেহমান ময়দানে এসে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আয়োজক কমিটি।ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অনুকূল আবহাওয়া ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় ইজতেমায় আগত মুসল্লিগণ স্বাচ্ছন্দ্যে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের বয়ান শুনছেন এবং ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল রয়েছেন।
বাদ জুমা আরবি ভাষায় বয়ান করেন শেখ মোফলে। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন শেখ আব্দুল্লাহ মনসুর। বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোশাররফ হোসেন। বাদ মাগরিব বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাশেম। মাওলানারা তাবলীগ জামাতের ৬উসুল নিয়ে বিস্তারিত বয়ান করছেন এবং উপস্থিত সাধারন মুসল্লিদের তাবলীগের কাজে বের হবার আহবান জানাচ্ছেন।
এ ছাড়া জুমার নামাজের আগে বিদেশিদের খিত্তায় যান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল।তারা বিদেশি মেহমানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। পরে তারা ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজে শরিক হন।
এর মধ্যে শুক্রবার সকালেই ইজতেমা ময়দানে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি বিদেশিদের খিত্তায় খিত্তায় গিয়ে মেহমানদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সব ধরনের সেবা প্রদানের আশ্বাস দেন। জাহিদ আহসান রাসেল জানান, প্রতি বছরই ইজতেমায় আগত মানুষদের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবার জন্য ইজতেমার ময়দানে আসেন। দুইপর্বের জন্য তিনদিন ময়দানে নেতাকর্মীদের নিয়ে সেবায় নিয়োজিত থাকেন।তিনি আরও জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ইজতেমায় পানির ব্যবস্থা, টয়লেটখানা, গ্যাস ব্যবস্থা, ফায়ার সার্ভিস, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিয়েছেন যারা : বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এসেছেন মালয়েশিয়ায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ বলে খ্যাত আলোচিত সমাজকর্মী ইবিট লিও ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এ সময় ময়দান থেকে অভ্যর্থনা জানান কাকরাইল মসজিদের শুরা সদস্য মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে মুফতি ওসামা ইসলাম ও মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম।
দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় ৪ মুসল্লির মৃত্যু: বিশ^ ইজতেমায় শুক্রবার বিকেল বিকেল পর্যন্ত ৪ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার শিবনগর গ্রামের মৃত ইউসুফ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন (৭০), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার গোয়ালের গ্রামের ছবির উদ্দিনের ছেলে নবীর উদ্দিন (৬৫), শেরপুর জেলা সদরের মৃত মহেজদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৬৫) ও নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামের মৃতু সুলতানের ছেলে আব্দুল হেলিম (৬২)। তাদের বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম।
তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ এ জমায়েত ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মাহবুব আলম গতকাল শুক্রবার বলেন, এবার মুসুল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক মুসুল্লিদের পাশে আছে। জিএমপি কমিশনার বলেন, ইজতেমা মাঠে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। তাদের সেবায় পুলিশ প্রশাসন পাশে আছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছু এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। এরিয়াটা নিরাপত্তার চাদরে যেহেতু ঢেকে দিয়েছি, সুতরাং কোনোরকম কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা ডায়ারিয়া, আমাশয়, শ^াসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে হামদর্দ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, এখন পর্যন্ত ইজতেমায় আসা প্রায় দুই হাজার মানুষকে তারা চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও জ্বরে আক্রান্ত।
টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইজতেমায় আসা ১ হাজার জন তার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আগামী রোববার (১১ ফেব্রেæয়ারি) সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার (৯ ফেব্রæয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। বাদ ফজর দিল্লির মাওলানা ইলিয়াস বিন সাদ কান্ধলভীর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাবলিগ জামাতের ইজতেমা। বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক বয়ান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা ময়দানে আসছে। শুক্রবার জুমা নামাজ ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠছে তুরাগতীর।ইতি মধ্যে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশাল এলাকা মুসল্লিদের দ্বারা মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশ^ইজতেমায় মুসল্লিদের আসা অব্যাহত রয়েছে। রোববার আখেরি মোনাজাত পর্ষন্ত মুসল্লিদের আসা অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যেই ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দ্বিতীয় পর্বের আয়োজক কমিটির শীর্ষ জিম্মাদার প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ। এবারের ইজতেমায় বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি নিজামউদ্দিন মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত না হলেও বুধবার সন্ধ্যায় তার তিন ছেলে ময়দানে পৌঁছেছেন। তারা হলেন- মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভী, মেজো ছেলে মাওলানা সাঈদ কান্ধলভী ও ছোট ছেলে মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী। তারাসহ নিজামউদ্দিন মারকাজের ১৪ জনের একটি জামাত ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন।
বিশ^ইজতেমায় আয়োজক কমিটির সদস্যরা আগত মুসল্লিদের তাদের জন্য নির্ধারিত ৮৭টি খেত্তায় অবস্থান নেওয়ার অনুরুদ করেছেন।
শুক্রবার সকালে ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বিদের পরামর্শক্রমে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত নিম্নোল্লেখিত মাওলানাগণ সমবেত দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তাবলিগের ৬ উসুল ১। ইমান ২। নামাজ ৩ এলেম ও জিকির ৪। একরামুল মুসলিমিন ৫ তাসহিহে নিয়ত ৬। দাওয়াত ও তাবলিগ সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান বয়ান রাখবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ ফজর সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে এস্তেকবালি (স্বাগত) বয়ান করেন দিল্লি নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ শরিফ। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ মনসুর।
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বয়ান করেন, পাকিস্তানের মাওলানা হারুনুর রশিদ। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা আজিম উদ্দিন। বাদ আসর বয়ান করেন ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি ওয়াসিফুল ইসলাম। বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তার বয়ান বঙ্গানুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি জিয়া বিন কাশেম।
শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করবেন দিল্লির মাওলানা ইলিয়াস বিন সাদ কান্ধলভী। তিনি মাওলানা সাদ আহমেদ কান্ধলভীর বড় ছেলে। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। এর পর সকাল ১০টায় তালিমের বয়ান করবেন দিল্লির মাওলানা ইলিয়াস বিন সাদ কান্ধলভী। জুমার আগে জুমার ফাজায়েল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। বাদ জুমা আরবি ভাষায় বয়ান করবেন শেখ মোফলে। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন শেখ আব্দুল্লাহ মনসুর। বাদ আসর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মোশাররফ হোসেন। বাদ মাগরিব বয়ান করবেন দিল্লির মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাশেম।
শনিবার বাদ ফজর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা সাঈদ বিন সাদ কান্ধলভী। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি ওসামা ইসলাম। সকাল সাড়ে ১০টায় মোয়াল্লেমদের উদ্দেশ্যে তালিমে হালকায় বয়ান রাখবেন ভারতের মাওলানা আব্দুল আজিম। বাদ জোহর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ শরিফ। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মাহমুদুল্লাহ। বাদ আসর বয়ান করবেন পাকিস্তানের মাওলানা ওসমান আলী। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন মাওলানা আজিম উদ্দিন। বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা মুফতি ইয়াকুব আলী। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
শেষ দিন রোববার বাদ ফজর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা মুফতি মাকসুদ। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ মনসুর। এর পরেই হেদায়েতের বয়ান ও দোয়া পরিচালনা করবেন দিল্লির মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তার হেদায়েতি বয়ানের বাংলা অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি মনির বিন ইউসুফ। বিষয়টি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব ইজতেমা দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম।
বিদেশী মেহমান: এবারের ইজতেমায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় ১২-১৪ হাজার বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করছেন ইজতেমার মুরুব্বিরা। ইতোমধ্যে ময়দানে প্রায় তিন হাজার বিদেশি মেহমান এসে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। আগত বিদেশী মেহমানের দেশগুলো হল, ভারত, পাকিস্তান, কুয়েত, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, জাপান, ওমান, কানাডা, মোজাম্বিক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্দান ও যুক্তরাজ্য অন্যতম। তিনি বলেন,বিদেশী মেহমানদের বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইজতেমা প্রশাসন। বিদেশি মেহমানদের খিত্তাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশি খিত্তার পাশে পুলিশ, র‌্যাবসহ সব বাহিনীর উপনিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও ভ্রমণের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশংকা নেই। সব পক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সব কিছু ঠিক আছে। আশা করি শান্তিপূর্ণ ভাবে ইজতেমা সম্পন্ন হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ব ইজতেমার বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তায় স্থাপিত গাজীপুর মহানগর পুলিশের বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনে পুলিশ ব্রিফিং করে জিএমপি কমিশনার মাহবুব আলম এসব কথা বলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রথম পর্বের মত দ্বিতীয় পর্বেও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশ মোতায়ন আছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিএমপি কমিশনার বলেন, মাওলানা সাদ আসবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই আমার কাছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কিছু করতে দেওয়া হবে না। ইজতেমার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাদ সাহেব সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা সরকারের বিষয়।
ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান গতকাল বৃহস্পতিবার টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুসল্লিদের সেবা ও নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর নিয়োজিত রয়েছে। এরপর মন্ত্রী বিদেশি খিত্তা পরিদর্শন করে বিদেশি মেহমানদের শুভেচ্ছা জানান।
মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম: টঙ্গী শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ইজতেমা উপলক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় বক্ষব্যাধি/অ্যাজমা ইউনিট, হৃদরোগ, ট্রমা (অর্থোপেডিক), বার্ন, ডায়রিয়া ইউনিট, স্যানিটেশন টিম ও ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এছাড়াও চক্ষু, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞসহ ১০০ চিকিৎসক রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
বিশ্ব ইজতেমাকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: জাহিদ আহসান রাসেল , গাজীপুরের জেলাপ্রশাসক সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিদিন ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।
৯ ফেব্রæয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ। ১১ ফেব্রæয়ারি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার এবারের আসর।

কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে গাজীপুরে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির মহা সম্মেলন 

কাদিয়ানীদেরকে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের সকল প্রকাশনা, অপ-তৎপরতা ও গাজীপুরে মসজিদের নামে ইসলাম  বিরোধী আস্তানা বন্ধের দাবিতে
খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি গাজীপুর বাংলাদেশ এর উদ্যোগে খতমে নবুওয়াত সম্মেলন  গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন গাজীপুর চৌরাস্তা ঈদগাঁ ময়দানে আজ বুধবার সকাল ১০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মহাসম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মুফতি লেহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া। উক্ত সম্মেলনের প্রধান মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, শায়ক উমর বিন মালিক আব্দুল হাফিজ মক্কী (হাফিজাহুল্লাহ) মক্কা মুকাররম,  সৌদি আরব।
প্রধান মেহমানের আরবি ভাষায় বক্তব্য বলেন,
আল্লাহতায়ালার হুকুম মানা ও মহানবী (সাঃ) শেষ নবীকে মানা প্রত্যেক মুসলমানদের উপর ফরজ। তাই আমি আপনাদেরকে এই কাজে শরিক হয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানাচ্ছি। এবং গাজীপুরে কাদিয়ানীদের আস্তানা বন্ধ করতে এবং মসজিদে নামে উপশনালয় না বানাতে পারে সেজন্য সরকারের কাছে জোর আহ্বান জানাচ্ছি, সাথে তাদের সকল প্রকাশিত বই পুস্তক বাজেয়াপ্ত করতে আহ্বান জানাচ্ছি।
উক্ত সম্মেলনে বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন, হযরত মাওলানা আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর),শায়খুল হাদিস আল্লামা বাহাউদ্দিন গাজীপুর, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওয়ানা, মাওলানা আশেকে মোস্তফা, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি আতাউর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুল মজিদ ও মাওলানা ফজলুর রহমান গাজীপুর প্রমুখ।
উক্ত সম্মেলনে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি গাজীপুর  ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন।
১) গাজীপুর রাজবাড়ীর মাঠ সংলগ্ন দক্ষিন ছায়াবীথি সীমা মসজিদের কাছে পাঁচ কাঠা জমির উপর কাদিয়ানীদের অনুসারীদের তথাকথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাতের মসজিদ নামে একটি ইসলামী বিরোধী ষড়যন্ত্র আস্তানা স্থাপনার অপচেষ্টা শুরু করেছে।
২) পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের তথাকথিত সালনা জলসা ২৩ ২৪ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বন্ধ করতে হবে।
৩) ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাদিয়ানীদের অমুসলিম বলে যে রায় প্রদান করেছে, অতিসত্বর তার জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাশ করে কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করতে হবে।
৪) ইসলামের নামে তাদের সকল প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫) ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করে অমুসলিমদের জন্য অবৈধ। অতএব ইসলাম সকল পরিভাষা যেমন কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব, মসজিদ, আযান, ইকামত, নবী, মাহাদি, মাসীহ, খিলাফত ইত্যাদি তাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন, মাওলানা আব্দুল হালিম খান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম কাসেমী,
মাওলানা আব্দুল মান্নান সহ গাজীপুর জেলা ও উপজেলার  আলেম-ওলামা, মসজিদের খতিব-মোয়াজ্জেন, মাদ্রাসার ছাত্র – শিক্ষক ও ইসলাম প্রিয় সাধারণ জনতা।

আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ঐক্য, শান্তি কামনায় শেষ হল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

 

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)

অশ্রæভেজা ফরিয়াদের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হলো ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।২২ মিনিটের  আখরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালের নাজাত এবং দ্বীনের দাওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। আখেরি মোনাজাতে নিজের আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লি প্রার্থনা করেন। এই মোনাজাতে দুই হাত উপরে তুলে লাখ মুসল্লি বারবার বলছিলেন, আমিন আমিন। গতকাল রোববার সকাল ৯টা ১ মিনিটে আখেরী মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় ৯টা ২৩ মিনিটে।২২মিনিট ব্যাপি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়ের। মোনাজাতে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে টঙ্গীর তুরাগ তীর ও ইজতেমা ময়দানের আশপাশ এলাকা। এ সময় অনেক মুসল্লি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।আখেরী মোনাজাতের আগে বাদ ফজর নামাজের পর হেদায়েতি বয়ান করা হয়। বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল। এরপর কিছু সময় নসিহত মূলক বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা। এরপর আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।এ সময়  পুরো ইজতেমা মাঠসহ আশপাশ এলাকার পরিবেশে ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে মহামহিমা ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অপার করুণা ও অশেষ রহমত কামনা করেন। মনিব-ভৃত্য, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

দক্ষিণে খিলক্ষেত, উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত বিশাল জনসমুদ্র থেকে ধ্বনি ওঠে ‘হে আল্লাহ, হে আল্লাহ’। মোবাইল ফোনে এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে হাত তুলেছেন আল্লাহর কাছে। সবাই প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় ৩ হাজার বিদেশি মেহমান আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।

মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ট্রেন: ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্তে ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা এবং টঙ্গী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য ১১ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এদিকে ইজতেমা ময়দানের মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত ১০টা থেকে গাজীপুরের তিনটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সড়ক তিনটি হলো, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের মিরের বাজার থেকে টঙ্গীর স্টেশন রোড পর্যন্ত এবং রাজধানী ঢাকার কামারপাড়া মোড় থেকে টঙ্গীর মন্নুগেট সড়ক।

সকাল সাড়ে ৯টায় আখেরি মোনাজাত শেষে সবাই ফিরতি পথ ধরেন। রাস্তা বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটেই তাদের রওনা হতে হয়।

পুলিশের ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, “ঢাকামুখী রাস্তাগুলোতে স্রোতের মত মানুষ হাঁটছে। তাই আমরা এসব সড়কে যাত্রীবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছি। এর মধ্যেই কিছু ছোট যানবাহন ছাড়া হচ্ছে। রোববার দুপুর ২টার পর সড়কগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে এবার বিপুল সংখ্যক নারী অংশ নিয়েছেন। ইজতেমায় নারীদের অংশ নেওয়ার কোনো বিধান না থাকলেও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার নারী শনিবার রাত থেকেই আসতে শুরু করেন। তারা ইজতেমা ময়দানের আশপাশ, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

রোববার ভোর থেকে নারীরা ইজতেমা ময়দানের পাশে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল মাঠ, ইজতেমা মাঠের পশ্চিম পাশে কামারপাড়া ও আশপাশের খোলা ময়দানে অবস্থান নেন। আখেরি মোনাজাতের ফজিলত লাভের আশায় তারা মোনাজাতে শরিক হতেই ময়দানের আশপাশের এলাকায় পর্দার সঙ্গে অবস্থান নেন।

টঙ্গী এরশাদ নগর এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় নারীদের অংশগ্রহণ না থাকলেও আমরা পর্দার সঙ্গে লাখ লাখ মুসিল্লদের সঙ্গে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে এসেছি। আল্লার কাছে নিজের, পরিবারের ও দেশের কল্যাণ কামনা করেছি।

১৯ মুসল্লির মৃত্যু: বিশ^ইজতেমায় গতকাল রোববার পর্ষন্ত ১৯মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার সানোয়ার হোসেন (৬০), চট্টগ্রামের আনোয়ারার জলিলের ছেলে আলম (৫৬), নরসিংদীর নুরুল ইসলামের ছেলে শাহনেওয়াজ (৬০), সিরাজগঞ্জ জেলার ওসমান গনির ছেলে আল মাহমুদ (৭০), শেরপুর জেলা সদরের জুগনিবাগ গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে নওশের আলী (৬৫), ভোলা জেলার পরাগগঞ্জ থানার সামানদার গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আ. কাদের (৫৫), নেত্রকোনা সদরের কালিয়াঝুড়ি এলাকার হোসেন আহম্মদের ছেলে স্বাধীন (৪৫), নেত্রকোনা সদরের কুমারী বাজার গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবদুস সাত্তার (৭০), একই জেলার বুড়িঝুড়ি গ্রামের স্বল্পদুগিয়া গ্রামের আব্দুস ছোবাহানের ছেলে এখলাস মিয়া (৬৮), ভোলা জেলার ভোল্লা গ্রামের নজির আহমেদের ছেলে শাহ আলম (৬০), জামালপুর জেলার তুলশীপুর এলাকার পাকুল্লা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মতিউর রহমান (৬০), টঙ্গীর বসির মিয়ার ছেলে আ. জব্বার(৫৫)। আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি।

ময়দানে আসার সময় মারা যাওয়া ছয়জন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার ধামাউরা গ্রামের ইউনুছ মিয়া (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চৌহদ্দীটোলা গ্রামের জামান মিয়া (৪০), পুলিশ সদস্য হাসানুজ্জামান (৩০), শেরপুরের আমেলা খাতুন (৬০),  ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মোশাররফ আহমেদের ছেলে মোবাশ্বের আহমেদ (৬৮) ও আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত রোববার শেষ হয়েছে এরপর চার দিন বিরতির পর ৯ ফেব্রæয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে, ১১ ফেব্রæয়ারি আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হচ্ছে প্রথম পর্বের বিশ^ ইজতেমা

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হবে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে ইজতেমা সূত্রে জানা গেছে। এর আগে হেদায়েতি বয়ান করা হবে। তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শের ভিত্তিতে বিশ্ব তাবলিগ জামায়াতের শীর্ষ মুরুব্বি বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের ধারণা। ইজতেমার প্রথম পর্বে শিল্প নগরী টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের আম বয়ান চলছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের ইমান, আমল ও আখলাককে পরিপূর্ণ শুদ্ধরূপে গড়ে তুলতে বয়ান শুনছেন ইজতেমার শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বিরা। গতকাল সকালেই টঙ্গী শহর এবং ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।ইজতেমা মাঠের ১৬০ একর এলাকা জুড়ে নির্মিত প্যান্ডেল ইতিমধ্যেই মুসল্লিদের দ্বারা পরিপূর্ন হয়ে অনেক মুসল্লি ইজতেমা মাঠের রাস্তাগুলোতে অবস্থান করছেন। টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিরা টঙ্গীতে আসছেন। মানুষের এ ঢল অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শনিবার বাদ ফজর মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান, তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। বাদ জোহর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা। বাদ আসর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা জুহাইরুল হাসান। বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা।
বয়ানে ওলামায়ে কেরাম বলেন, তাবলীগের মুল ভিত্তি হল ছয় উসুল। ছয় উসুল প্রত্যেক মুসলমানদের মেনে চলার উপর তাগিদ দেন। তিনি আরো বলেন, পরকালের চিরস্থায়ী সুখ শান্তির জন্য আমাদের প্রত্যককে দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বীনের দাওয়াতের কাজে জানমাল দিয়ে মেহনত করতে হবে। ঈমান আমলের মেহনত ছাড়া কেউ হাশরের ময়দানে কামিয়াব হতে পারবে না।
বয়ানে বলা হয়, দাওয়াতের মেহনত হলো নবুওয়াতি মেহনত। এই মেহনত খুলুসিয়াত ও আজমতের সাথে যারা করবে তাদের যেকোন আমলের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়। ইজতেমায় মূল বয়ান উর্দুতে হলেও অংশ নেওয়া বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
বিদেশী ক্যাম্পের নিয়োজিত জিম্মাদার জানায়, শনিবার দুপুর পর্ষন্ত ৮৭টি দেশের ২৩০০ জন বিদেশী মেহমান ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করে তাবলীগের বিভিন্ন কাজ ব্যস্ত রয়েছেন। তাদের জন্য উন্নত খাবার, উন্নত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব আলম জানিয়েছেন, বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। শনিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের কন্ট্রোল রুমে সামনে আয়োজিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, আমরা আখেরি মোনাজাতের জন্য আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছি। আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা নতুন করে সাজিয়েছি। সেটা হলো, আমাদের ভোগড়া বাইপাস থেকে ইজতেমা মুখী সাধারণ জনগণের কোন গাড়ি চলবে না, তারা ড্রাইভার্ট হয়ে ভোগড়া বাইপাস দিয়ে মীরের বাজারের দিকে চলে যাবে। মুসল্লিদের গাড়ি আসতে পারবে। মীরের বাজার পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ থাকবে, মুসল্লিদের গাড়ি ছাড়া অন্য কারো গাড়ি আসতে পারবে না। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ এলাকায় একই ভাবে কুড়িল বিশ্ব রোড থেকে ড্রাইভার্ট করে দিবে তিনশ ফিটের দিকে। আশুলিয়া সড়েক মিরপুর বেড়িবাধের দিকে ড্রাইভার্ট করে দিবে । এই হলো আমাদের ট্রাফিক পরিবর্তন। এছাড়া যখন আখেরী মোনাজত শেষ হবে তখন আমরা প্রথম চেষ্টা করবো যে, এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার টি আগে চালু করার জন্য। ফ্লাইওভারটি চালু হলে আস্তে আস্তে যানবাহন গুলো ভেতরে ঢুকবে, অনেক মুসল্লি দ্রæত চলে যেতে পারবেন।
১০ মুসল্লির মৃত্যু : গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ইজতেমা আয়োজক কমিটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার দুপুর থেকে আজ শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ময়দানে আসা তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন রোগ অসুস্থ হয়ে তারা মারা যান। তারা হলেন শেরপুরের সদরের জুগনিবাগ গ্রামের মৃত শমশের আলীর ছেলে নওশের আলী (৬৫), ভোলার সামানদার গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের (৫৫) ও নেত্রকোণার সদরের কালিয়াঝুড়ি এলাকার হোসেন আহম্মদের ছেলে স্বাধীন (৪৫)। এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার মারা গেছেন ৪ জন। এছাড়া ময়দানে আসার সময় এক পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
এর আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মারা যাওয়া চার মুসল্লি হলেন নেত্রকোনার সদর থানার কুমারী বাজার গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবদুস সাত্তার (৭০), একই জেলার বুড়িঝুড়ি গ্রামের স্বল্পদুগিয়া গ্রামের আব্দুস ছোবাহানের ছেলে এখলাস মিয়া (৬৮), ভোলার ভোল্লা গ্রামের নজির আহমেদের ছেলে শাহ আলম (৬০), জামালপুরের তুলশীপুর এলাকার পাকুল্লা গ্রামের হজরত আলীর ছেলে মতিউর রহমান (৬০)।
এছাড়া ময়দানে আসার সময় মারা যাওয়া তিনজন হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ধামাউরা গ্রামের ইউনুছ মিয়া (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর থানার চৌহদ্দীটোলা গ্রামের জামান মিয়া (৪০) ও ইজতেমায় আসার পথে বাসচাপায় নিহত পুলিশ সদস্য হাসান উজ্জামান (৩০)।
বিশ্ব ইজতেমায় যৌতুক বিহীন বিয়ে:
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে গতকাল যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়ের আগে বাদ আসর বিয়ের খুতবা প্রদান করা হয়ে থাকে। বয়ান শেষে ওইসব বর-কনের অভিভাবকদের সম্মতিতে বিয়ে পড়ানো হয়।শনিবার বাদ আসর ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ে পড়াবেন দিল্লির মাওলানা জুহায়েরুল হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটির মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান।
তিনি জানান, যৌতুকবিহীন বিয়েতে আগ্রহী বর-কনের আত্মীয়রা নাম লিপিবদ্ধের কাজ করছেন। আসরের পর সঠিক সংখ্যাটি বলা যাবে যে, কত জোড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে হচ্ছে। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫৭ জোড়া নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এবার ৬০ থেকে ৭০ জোড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হয় ‘মোহরে ফাতেমি’র নিয়মানুযায়ী। এতে মোহরানার পরিমাণ দেড়শ তোলা রুপা বা তার সমমূল্য অর্থ। বিয়ের পর নবদম্পত্তির সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করা হয়। এ সময় মঞ্চের আশপাশের মুসল্লিদের মাঝে খুরমা খেজুর ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
হকার আটক : ইজতেমা ময়দানে এলোমেলোভাবে দোকান বসিয়ে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪৫ জন হকারকে আটক করেছে। শনিবার তাদের আটক করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইয়াসির আরফাত জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় হকার বসে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টির অভিযোগে টঙ্গী পূর্ব থানায় ২১ জন হকারকে আটক করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আটক হকারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফুটপাত বন্ধ করে মুসল্লিদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে ২৪ জন হকারকে আটক করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত রোববার শেষ হবে এরপর চার দিন বিরতির পর ৯ ফেব্রæয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে, ১১ ফেব্রæয়ারি আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

 

বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লীর অংশগ্রহণে বৃহত্তম জুম্মার নামাজ আদায়

আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত টঙ্গীর তুরাগ তীর

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ তাবলীগ জামায়াতের ৫৭তম বিশ^ ইজতেমা গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লীদের অংশগ্রহণে গতকাল শুক্রবার বৃহত্তম জুম্মার নামাজ আদায় হয়েছে। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে টঙ্গীর তুরাগ তীর। ১ম পর্বে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর নামাজের পর বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা আহমদ বাট। সকাল ১০টা থেকে তালিম করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক। দুপুর পৌনে ২টায় জুমার নামাজ শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা জুবায়ের। জুমার নামাজে খুতবা পাঠ শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। ইজতেমার ময়দানের মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মুসল্লি ইজতেমাস্থলে এসে হাজির হন। শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকেই বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে হাজার হাজার মুসল্লি জড়ো হন। শুকনো খাবার, পানি, বিছানাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে ছুটতে থাকেন টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দানের দিকে। জুমার নামাজের আগেই ময়দান পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জুমার নামাজে অংশ নেন লাখো মুসল্লি। এ সময় ইজতেমার ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়েন মুসল্লিরা। ইজতেমা ময়দানে স্থান না পেয়ে অনেকে বিভিন্ন ভবনের ছাদে নামাজ আদায় করেন। জুমার নামাজের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকেও সড়কটি নামাজের সময় বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। নামাজের পর পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। তবে মুসল্লিদের ভিড়ের কারণে খুবই ধীর গতিতে চলছে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। যে যেখানে পারছে সেখানেই বসে পড়ছে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য।

বিশ্ব ইজতেমা সৌভ্রাতৃত্ব প্রসারে সহায়ক হোক: দেশ-বিদেশের আলেমরা তাদের বয়ানে ইসলামের মর্মবাণী তথা মানবিক আদর্শ ও ভ্রাতৃত্ববোধের দিকগুলো তুলে ধরেন। বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছর তাবলিগ জামাতের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা একত্রিত হন। পারস্পরিক ভাব ও ধর্মীয় জ্ঞান বিনিময় করেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব ইজতেমা বর্তমানে আর তাবলিগ কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইজতেমা আজ পরিণত হয়েছে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মহাসমাবেশে।স্মরণ করা যেতে পারে, প্রায় অর্ধশত বছর আগে দিল্লির কাছে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার (রহ.) মাজারসংলগ্ন মসজিদকে কেন্দ্র করে মওলানা ইলিয়াস (রহ.) মাত্র কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে শুরু করেছিলেন তাবলিগ বা ইসলাম প্রচারের কাজ। এভাবেই গোড়াপত্তন হয়েছিল তাবলিগ জামাতের। আজ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র এর কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় গ্রাম সন্নিহিত মাঠে যে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বিদেশ থেকে তাবলিগ জামাতের অনেক অনুসারী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন থেকেই এটি বিশ্ব ইজতেমা নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তী সময় থেকে নিয়মিত ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে।দেশে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের ফলে ইসলাম ধর্মের অনেক মৌলিক শিক্ষা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ঈমান, আমল, আখলাক ও ইলম অর্জন এবং আত্মশুদ্ধিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিদেশী মেহমান: গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের ৪৩টি দেশের এক হাজার ৫৬৯ জন বিদেশি মেহমান ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। ৪৩টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, কুয়েত, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, জাপান, ওমান, কানাডা, মোজাম্বিক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কিরগিজস্তান, সিঙ্গাপুর, ইতালি, জর্ডান ও যুক্তরাজ্য অন্যতম। প্রথম পর্বের ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়ক মো: হাবিবুল্লাহ রায়হান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃষ্টিতে দুর্ভোগ : কুমিল্লার সদর থেকে আসা মো. হান্নান মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা থেকে মোট ১৬০ জন সাথী একসঙ্গে ইজতেমা ময়দানে আসছি। সকল সফর সঙ্গীর মাল-সামানা নিয়ে দুইদিন আগেই ৩৮নং খিত্তায় আছি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বয়ান শুনছি। দুপুর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু সকলেই একসঙ্গে রয়েছি। বৃষ্টি আসলেও বয়ান শোনা বন্ধ করছি না। বৃষ্টিও আল্লাহর রহমত।
আরেক মুসল্লি আবুল কালাম জানান, আজ ভোর থেকে কয়েক দফায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও সন্ধ্যায় বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে গেছে। দিনের বৃষ্টিতে মুসল্লিদের ভোগান্তি না হলেও সন্ধ্যার বৃষ্টিতে ভোগান্তি বেড়েছে।
দুর্ঘটনা: ইজতেমায় দায়িত্ব পালন করতে এসে টঙ্গীতে সড়কে প্রাণ গেল পুলিশ অফিসারের

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালন করতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের একজন এএসআই নিহত ও একজন এসআই গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত এএসআই এর নাম হাসানুজ্জামান (৩০)। একই দুর্ঘটনায় আহত এসআই আমীর হামজাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তারা উভয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ থেকে ইজতেমায় দায়িত্ব পালন করতে এসেছিলেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইব্রাহিম হোসেন জানান, উল্লিখিত দুই পুলিশ অফিসার টঙ্গী পূর্ব আরিচপুরস্থ অস্থায়ী আবাসস্থল থেকে মোটরসাইকেল যোগে ইজতেমায় তাদের দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত স্থানে যাচ্ছিলেন। এএসআই হাসানুজ্জামান মোটর সাইকেল ড্রাইভ করছিলেন এবং তার পেছনে বসা ছিলেন এসআই আমীর হামলা। তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী মিলগেট এলাকায় পৌছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগামীর একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এএসআই হাসানুজ্জামান নিহত ও এসআই আমীর হামজা গুরুতর আহত হন। ভোরে সড়ক ফাঁকা থাকায় ঘাতক বাসটি সহজেই পালিয়ে যায়। বাসটিকে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান জিএমপির ওই কর্মকর্তা।

স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন: ইজতেমা ময়দানে এসেছেন স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও। ঢাকা জেলার ধামরাই থানার জামিয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, মাওলানা ফজলুর রহমান হুজুরের সঙ্গে ২৩ জনের একটি জামাতে বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দানে আসলাম। পাঁচ দিনের জামাতে আমরা এসেছি আল্লাহর দিদার লাভের আশায়। আমরা এই পাঁচ দিন বয়ান শুনব। বড় বড় হুজুরদের মুখে হাদিস ও কুরআনের কথা জানব। আল্লাহর রাস্তায় কাজ করতে আমরা এসেছি। নরসিংদী মাধবদী বড় মাদ্রাসার ছাত্র রাজ্জাক, ইউসুফ, আবির, আব্দুল্লাহ ও সাদেক জানান, তারা ইজতেমায় এসেছেন নিজেদের জন্য ও মা-বাবার জন্য দোয়া করতে। তাদের উদ্দেশ্য তারা যেন এখান থেকে দ্বীনি শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের পরিচালিত করতে পারেন।

গতকাল শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেন এবং বলেন, বাংলাদেশে ইজতেমার আয়োজন হচ্ছে। তাই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে হয়নি। আমরা আশা করি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ব ইজতেমার দুটি পর্ব সমাপ্ত হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুসল্লিদের সেবা ও নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর নিয়োজিত রয়েছে। এরপর মন্ত্রী বিদেশি খিত্তা পরিদর্শন করে বিদেশি মেহমানদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন।

চার জনের মৃত্যু : ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়ক মো. হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. এখলাছুর রহমান মারা যান। তার বাড়ি নেত্রকোণার বুরিজুরি এলাকায়।

এদিন দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৭০ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার। তার বাড়িও নেত্রকোণার কুনিয়া কুমড়ি এলাকায়। এর পূর্বে ইজতেমায় আগত আরও দুই মুসল্লি মারা যান।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত ৪ ফেব্রæয়ারি। মাঝে চার দিন বিরতি পর ৯ ফেব্রæয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে, ১১ ফেব্রæয়ারি আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

টঙ্গীতে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

প্রতিনিধি,টঙ্গী(গাজীপুর)
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার (২ ফেব্রæয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাবলিগ জামাতের ইজতেমা।  বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক বয়ান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা ময়দানে আসছে। শুক্রবার দেশের বৃহত্তর জুমা নামাজ ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠছে তুরাগতীর।ইতি মধ্যে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশাল এলাকা মুসল্লিদের দ্বারা পরিপূর্ন হয়ে গেছে। বিশ^ইজতেমায় মুসল্লিদের আসা অব্যাহত রয়েছে। রোববার আখেরি মোনাজাত পর্ষন্ত মুসল্লিদের আসা অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যেই ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী মাহফুজ হান্নান। প্রথম পর্বের ইজতেমায় মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা এবং দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নেবেন।
বিশ^ইজতেমায় আয়োজক কমিটির সদস্যরা আগত মুসল্লিদের তাদের জন্য নির্ধারিত খেত্তায় অবস্থান নেওয়ার অনুরুদ করেছেন। ইজতেমায় অংশ নেওয়া তাবলিগের সাথীরা যে সমস্ত খিত্তায় অবস্থান করবেন তা হলো-গাজীপুর (খিত্তা-১), টঙ্গী (খিত্তা-২, ৩ ও ৪), মিরপুর (খিত্তা-৫-৬), সাভার (খিত্তা-৭-৮), মোহাম্মদপুর (খিত্তা-৯), কেরানীগঞ্জ (খিত্তা-১০-১১), কাকরাইল (খিত্তা-১২,১৩,১৪,১৫, ১৮,২০, ২১), যাত্রাবাড়ী (খিত্তা-১৬,২৬,২৮), ডেমরা (খিত্তা-১৭) ধামরাই (খিত্তা-২৭), দোহার (খিত্তা-৩০)।
রাজশাহী (খিত্তা-১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা-২২), নাটোর (খিত্তা-২৪), নওগাঁ (খিত্তা-২৩), নড়াইল (খিত্তা-৪০), সিরাজগঞ্জ (খিত্তা-২৯), টাঙ্গাইল (খিত্তা-২৫)।
রংপুর (খিত্তা-৩১), গাইবান্ধা (খিত্তা-৩৪), লালমনিরহাট (খিত্তা-৩৬), মুন্সীগঞ্জ (খিত্তা-৪১), যশোর (খিত্তা-৪৬), নীলফামারী: (খিত্তা-৩২), বগুড়া (খিত্তা-৩৫), জয়পুরহাট (খিত্তা-৩৩), নারায়ণগঞ্জ (খিত্তা-৩৮-৩৯),
ফরিদপুর (খিত্তা-৬২), ভোলা (খিত্তা-৪৪), নরসিংদী (খিত্তা-৪৫), সাতক্ষীরা (খিত্তা-৪৭), বাগেরহাট (খিত্তা-৪৮), কুষ্টিয়া (খিত্তা-৫৪), মেহেরপুর (খিত্তা-৪৭), চুয়াডাঙ্গা (খিত্তা-৪৯), ময়মনসিংহ (খিত্তা-৫৫,৫৩), শেরপুর (খিত্তা-৫৬), জামালপুর (খিত্তা-৫১,৫২), গোপালগঞ্জ (খিত্তা-৫৯), কিশোরগঞ্জ (খিত্তা-৫৮), নেত্রকোনা (খিত্তা-৫৭), ঝালকাঠি (খিত্তা-৪৩), বান্দরবান (খিত্তা-৫৭), বরিশাল (খিত্তা-৪২)।
পিরোজপুর (খিত্তা-৬৫), হবিগঞ্জ (খিত্তা-৬৬), কক্সবাজার (খিত্তা-৬৪), সিলেট (খিত্তা-৬৭), সুনামগঞ্জ (খিত্তা-৬৮), ফেনী (খিত্তা-৬৯), নোয়াখালী (খিত্তা-৭০), লক্ষ্মীপুর (খিত্তা-৭১), চাঁদপুর (খিত্তা-৭২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা-৭৩)।
খুলনা (খিত্তা-৭৪), পটুয়াখালী (খিত্তা-৭৫), বরগুনা (খিত্তা-৭৬), চট্টগ্রাম (খিত্তা-৭৭-৭৮), কুমিল্লা (খিত্তা-৭৯), মৌলভীবাজার (খিত্তা-৭৬), রাজবাড়ী (খিত্তা-৯০), মাদারীপুর (খিত্তা-৮৮), শরীয়তপুর (খিত্তা-৮৯), মানিকগঞ্জ (খিত্তা-৮৫), রাঙ্গামাটি (খিত্তা-৮১), দিনাজপুর (খিত্তা-৩৭), পাবনা (খিত্তা-৮৪), পঞ্চগড় (খিত্তা-৮৭)।

বয়ানে যারা অংশ নেবেন: বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মাওলানা রবিউল হকের পর বাদ আসর মাওলানা ফারুক, বাদ মাগরিব মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা বয়ান করবেন। তবে আগামীকাল শুক্রবার ফজর নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে ইজতেমা।

আগামীকাল শুক্রবার ফজরের পর বয়ান করবেন মাওলানা আহম্মেদ বাটলা, সকাল ১০টায় তালিম করবেন মাওলানা জিয়াউল হক। জুমার নামাজে ইমামতি করবেন মাওলানা যোবায়ের। বাদ জোহর বয়ান করবেন জর্ডানের খতিব ওমর, বাদ আসর মাওলানা যোবায়ের ও মাগরিবের পর মাওলানা আহম্মেদ লাট বয়ান করবেন।

প্রথম ধাপে ইজতেমা আয়োজক কমিটির গণমাধ্যম সমন্বয়ক মুফতি জহির ইবনে মুসলিম  বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আখেরি মোনাজাতের আগপর্যন্ত এভাবেই প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে শীর্ষ মুরুব্বিরা বয়ান করবেন।

শনিবার বাদ ফজর মাওলানা আব্দুর রহমান, বাদ জোহর মাওলানা ইসমাইল গোদরা, বাদ আসর মাওলানা যোহারুল হাসান, বাদ মাগরিব মাওলানা ইব্রাহিম।

রোববার বাদ ফজর বয়ান করবেন মাওলানা জিয়াউল হক, সকাল ১০টায় হেদায়েতি বয়ান শেষে বাংলাদেশের মাওলানা যোবায়ের প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।

বিদেশী মেহমান: বিদেশী ক্যাম্পের নিয়োজিত জিম্মাদার জানান,এরই মধ্যে ৩৬ দেশের ৭৫৯ জন বিদেশি মেহমান এখন ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছেন। ৩৬টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, কুয়েত, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, জাপান, ওমান, কানাডা, মোজাম্বিক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কিরগিজস্তান, সিঙ্গাপুর, ইতালি, জর্দান ও যুক্তরাজ্য অন্যতম।তিনি আরো বলেন,বিদেশী মেহমানদের বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইজতেমা প্রশাসন। বিদেশি মেহমানদের খিত্তাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশি খিত্তার পাশে পুলিশ, র‌্যাবসহ সব বাহিনীর উপনিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও ভ্রমণের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রথম ধাপে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ হাজার ৪০০ জন সদস্য।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহাবুব আলম এই তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাহাবুব আলম বলেন, বৃস্পতিবার দুপুর থেকেই পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে নেমেছে। পুরো ইজতেমার ময়দানে ৫ হাজার ৪০০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করবেন। পাশাপাশি ইজতেমা এলাকায় ট্রাফিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করে বিভিন্ন যানবাহনের গতিবিধি মনিটরিং করা হচ্ছে।পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, র‌্যাবের একাধিক ইউনিটও ইজতেমা ময়দানে কাজ করছে। বিভিন্ন বিভাগের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে পুরো ইজতেমা এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান গতকাল বৃস্পতিবার টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ইজতেমা ময়দানে স্থাপিত হামদর্দের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান বিশ্ব ইজতেমায় দুই গ্রুপ এক হোক। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে হয়নি। বাংলাদেশে এর আয়োজন হচ্ছে। তাই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আশা করি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ব ইজতেমার দুটি পর্ব সমাপ্ত হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুসল্লিদের সেবা ও নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর নিয়োজিত রয়েছে। এরপর মন্ত্রী বিদেশি খিত্তা পরিদর্শন করে বিদেশি মেহমানদের শুভেচ্ছা জানান।এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মো. বসিরুল আলম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, বিশ্ব ইজতেমার প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মাহফুজ হান্নান, সমন্বয়কারী আবুল হাসনাত প্রমুখ।
মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম: টঙ্গী শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ইজতেমা উপলক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় বক্ষব্যাধি/অ্যাজমা ইউনিট, হৃদরোগ, ট্রমা (অর্থোপেডিক), বার্ন, ডায়রিয়া ইউনিট, স্যানিটেশন টিম ও ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও চক্ষু, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞসহ ১০০ চিকিৎসক রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমাকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: জাহিদ আহসান রাসেল ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুন, মেয়রের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এড. মো: জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিন ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ ফেব্রæয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ধাপ। চার দিনের বিরতি দিয়ে ৯ ফেব্রæয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ। ১১ ফেব্রæয়ারি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার এবারের আসর।

 

কুষ্টিয়ার খাজানগর চালের মোকামে হঠাৎ হাজির খাদ্যমন্ত্রী

হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে মিনিকেট চালের (সরু চাল) অন্যতম বৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে অভিযান চালিয়েছেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি খাজনগর চালের মোকামে উপস্থিত হন । এ সময় একটি মিলের গুদামে প্রায় ৪০০ টন ধানের মজুদ খুঁজে পান মন্ত্রী। সুবর্ণা অটো রাইস মিলের মালিক জিন্নাহ আলম অন্য একটি মিলের গুদামে অবৈধভাবে এ ধান মজুদ করেছিলেন। মন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিক গুদামটি সীলগালা করা হয়। এছাড়া একই ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি আটা মিলের গুদামে ১৫০ টন গমের অবৈধ মজুদ পেয়ে সেটিও সীলগালার নির্দেশ তিনি।

মন্ত্রীর অভিযানের মাত্র ৮দিন আগে গত ২৩ জানুয়ারী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাজানগরে মজুত বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোনো রাইস মিলেই চালের অতিরিক্ত মজুত খুঁজে পাননি, কেবল চালের বস্তায় ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে দুটি রাইস মিলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রীর অভিযানে মজুত পাওয়া গেলো।

এদিন মন্ত্রী পর্যায়ক্রমে খাজানগর মোকামের অন্যতম মিনিকেট চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশ এগ্রো ফুড, সুর্বণা এগ্রো, স্বর্ণা এগ্রো ফুড, আল্লার দান এগ্রো এবং রশিদ এগ্রো ফুড পরিদর্শনে যান। এসব চালকল ও এর গুদাম ঘুরে ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। প্রায় প্রতিটি মিলেই কিছু না কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান তিনি। এর মধ্যে আল্লার দান এগ্রো ফুডের একটি গুদামে প্রায় ৪০০ টন ধানের মজুদ দেখতে পান তিনি। পরে জানা যায়, ওই ধানের মালিক সুর্বণা এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারি জিন্নাহ আলম। পরে জিন্নাহ আলমের আটার মিলে প্রায় ১৫০ টন গমের মজুদও খুঁজে পান মন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিক গুদাম দুটি সীলগালা করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী এ সময় সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের ভর্ৎসনা করেন। পাশাপাশি তিনি কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেনকেও ভর্ৎসনা করেন। তিনি খাদ্য নিয়ন্ত্রকে বলেন, ‘এসব অনিয়ম কেন এতো দিন চোখে পড়েনি। সব কিছু যদি আমাকে দেখতে হয়, তাহলে তোমরা এখানে কি কর।’ এ সময় খাদ্যমন্ত্রী গণমাদ্যমকর্মীদের জানান, অবৈধ মজুতসহ কেউ কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানে মন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজাসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং চালকল মালিক সংগঠনের নেতার উপস্থিত ছিলেন। পরে খাদ্য মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্যমজুদকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেউ অতিরিক্ত মজুদ বা বিনা লাইসেন্সে ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।