গাজীপুর-২ আসনে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে -যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেল

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, আমি আজীবন এলাকায় সততার সাথে কাজ করেছি, মন্ত্রণালয়েও সততার সঙ্গে কাজ করেছি। এ কারণেই ভালবেসে এলাকার মানুষ বারবার আমাকে নির্বাচিত করেন। এবারও নৌকার পক্ষে আমি বহু সমর্থন পাচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি পথসভা করলে তা জনসভা, জনসমুদ্র বা গণজোয়ারে পরিণত হচ্ছে। মোটকথা নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এটা অব্যাহত থাকলে ৭ জানুয়ারি নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।
গতকাল বুধবার টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লা খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, জয়নাল আবেদীন, কাউন্সিলর আবুল হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গাজীপুরে বেকার যুব-যুবাদের প্রশিক্ষণের জন্য তিনটি যুব প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থাপন করেছি। এসব সেন্টারে তরুণ বেকারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখান থেকে প্রতি বছর বহু বেকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চাকুরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি বেকারদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
তিনি বলেন, মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে পারাটা আমার অনেক ভালো লাগে, আমি শান্তি পাই। মনেপ্রাণে ভালবেসে এলাকাবাসীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও সবার সাথে মিলে মিশে কাজ করবো।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এর বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা এই রায় দেন।

বাকি তিনজন হলেন—গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান এবং দুই পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় ড. ইউনূসসহ চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর আপিলের শর্তে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়। আপাতত তাঁদের কারাগারে যেতে হচ্ছে না। আগামী এক মাসের মধ্যে আপিল করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের পক্ষে শ্রম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

গত ২৪ ডিসেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। গত বছরের ১৬ নভেম্বর এই মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। এর আগে ৯ নভেম্বর ডক্টর ইউনূসসহ চারজন আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুন এই মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে ড. ইউনূসের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন জানালে হাইকোর্ট ওই আবেদন খারিজ করেন। পরে আপিল বিভাগও হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

আদালতে ড. ইউনূসসহ চারজনের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ ও অ্যাডভোকেট এস এম মিজানুর রহমান মামলা পরিচালনা করেন।

অন্যদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বরত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী মামলা পরিচালনা করেন।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে এ মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি ২০২১ সালে দায়ের হওয়ার পর এটা বাতিলের জন্য ড. ইউনূস হাইকোর্টে আবেদন করেন। একই বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ১৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলা বাতিলে ইউনূসের আবেদনে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিল বিভাগ গত বছর ৮ মে ড. ইউনূসের আবেদন খারিজ করে দেন।

শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতীক নৌকা। যারা অন্য কোনো প্রতীককে শেখ হাসিনার প্রতীক বলে প্রচার করছেন, তারা মিথ্যাচার করছেন- শেখ ফজলে শামস্ পরশ

শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতীক নৌকা। যারা অন্য কোনো প্রতীককে শেখ হাসিনার প্রতীক বলে প্রচার করছেন, তারা মিথ্যাচার করছেন বৃহস্পতিবার গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের পক্ষে নির্বাচনি পথসভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ এ আহ্বান জানান।

গাজীপুরের বোর্ড বাজার বটতলা এলাকায় মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলের সভাপতিত্বে পথসভাটি হয়।

তিনি আরোও বলেছেন, “আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকে যদি ভোটের দিন অন্ততপক্ষে ১৫ জন করে ভোটার কেন্দ্রে নিয়ে আসার শপথ নেন, তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পেতে পারি।”

পরশ আরও বলেন, “আমাদের দরকার অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই উদ্দেশ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।”

এ সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান আরো বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা আদর্শের রাজনীতি করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চাই। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।তাই আগামী ৭ জানুয়ারি সারাদিন গাজীপুর-২ আসনের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এটিকে আবারও প্রমাণ করে দিতে হবে।”

শেখ ফজলে শামস্ বলেন, “মাননীয় শেখ হাসিনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাস্তবমুখী ইশতেহার দিয়েছেন। এখানে কোনো ভাঁওতাবাজি নেই, প্রতারণা নেই। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এ সরকারের পক্ষেই ওই ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্ভব।”

নিজের যোগ্যতা না থাকলে অন্যের ওপর ভর করে বিজয়ী হওয়া যায় না: যুব প্রতিমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, নিজের যোগ্যতা না থাকলে অন্যের ওপর ভর করে বিজয়ী হওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরোও  বলেন,মানুষের প্রয়োজনে সুখে-দুঃখে যে মানুষ  কখনও কাছে আসেনি। কিছুদিন আগে যে সিটি নির্বাচন হয়ে গেছে সেই নির্বাচনেও তো তাকে মাঠে দেখা যায়নি।  এবার তিনি আরেকজনের ওপর ভর করে সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। নিজের যোগ্যতা না থাকলে অন্যের ওপর ভর করে বিজয়ী হওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, যারা বিভিন্ন মানুষের জমি-জমা দখল করেছে, মানুষ তাদের এমপি হিসেবে দেখতে চায় না। যারা আপনাদের কাছে কোনোদিন আসেনি। আপনাদের কোনো উপকার করেনি। আপনাদের কোনো কাজে-কর্মে আসেনি। আজ তারা অপনাদের কাছে আসবেন, টাকা-পয়সা দেবে। আপনারা টাকা পয়সা নেবেন, কারণ ওই টাকায় আপনাদের হক আছে। কিন্তু ভোটটা দেবেন যোগ্য প্রার্থীকে। এখন এলাকাবাসীর সুযোগ এসেছে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মের জবাব দেওয়ার।

তিনি বলেন, যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই নৌকার পক্ষে জনস্রোত ও গণজোয়ার দেখতে পাচ্ছি। এ অবস্থা আজকে আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। এলাকার মানুষ সব সময় নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। এবার আশা করছি আপনারা নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। আমি এমন কোনো কাজ করিনি, যাতে আপনারা ছোট হন। আমি মানুষের আমানত রক্ষার চেষ্টা করেছি।

আবার ক্ষমতায় এলে দ্রব্যমূল্য কমানো, কর্মসংস্থানসহ ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে আ.লীগ

আবারও ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয় ক্ষমতায় আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে আওয়ামী লীগ। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির ইশতেহার ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলটির ইশতেহারে ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্মার্ট বাংলাদেশ থিমে ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে ইশতেহার দেয় দলটি।

১১টি বিশেষ অগ্রাধিকার হচ্ছে 
১.দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
২. কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
৩. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
৪. লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষিব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
৫. দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো।
৬. ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো।
৭. নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা।
৮. সর্বজনীন পেনশন-ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা।
৯.আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
১০. সাম্প্রদায়িকতা এবং সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ করা।
১১. সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজা উপত্যকায় আরও অধিক মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাবটি পাস হয়েছে

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজা প্রস্তাব পাস হয়েছে। গাজা উপত্যকায় আরও অধিক মানবিক সহায়তা পাঠানোর এ প্রস্তাবটি ১৩-০ ভোটে পাস হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। প্রস্তাবটির খসড়ায় গাজায় অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির কথা থাকায় এতে ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরে যুদ্ধবিরতির কথা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মানবিক সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এক সপ্তাহ ধরে ঝুলে থাকা প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হলেও গাজায় যুদ্ধ বিরতি বন্ধে এতে কোনো আলোচনা করা হয়নি।

নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১৫ দেশের মধ্যে ১৩টি প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিলেও; যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য রাশিয়া বলেছে, এই প্রস্তাব একটি ‘দন্তহীন’ ও ‘অক্ষম’ প্রস্তাব।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নিবানজিয়া বলেছেন, এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে বলা হয়নি। এর বদলে এটির মাধ্যমে ‘মুক্ত হস্তে’ ইসরাইলকে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গাজায় ইসরাইলের হামলায় ২৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গাজার পরিস্থিতিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা পৃথির নরক বলে মন্তব্য করেছেন।

জাতিসংঘে ব্যাপক সমর্থনে গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে প্রস্তাব পাশ

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনীত প্রস্তাবটি ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাশ হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে দেড় শতাধিক দেশ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এই প্রস্তাব পাশ হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আরব দেশ মিসর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ মোট ১৫৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ১৯৩ সদস্য বিশিষ্ট জাতিসংঘের ১০টি সদস্য এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, অস্ট্রিয়া, গুয়াতেমালা, লাইবেরিয়া, নাউরু, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে, মাইক্রোনেশিয়া ও চেক রিপাবলিক। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন ও আর্জেন্টিনাসহ ২৩টি দেশ এই প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

মিসর উত্থাপিত প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি দাবির পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর এবার ফিলিস্তিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী সহিংস ইসরায়েলিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)। ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেলকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়।

গতকাল সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক নীতির প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী চরমপন্থীদের সহিংসতায় ইইউ উদ্বিগ্ন এবং জেরুজালেমে আরও ১৭০০টি আবাসন ইউনিট অনুমোদন করায় ইসরায়েলি সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

পশ্চিম তীরে আরও আবাসন তৈরির অনুমোদনকে ব্রাসেলস আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জোসেপ বোরেল গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘কথা থেকে কাজে যাওয়ার সময় এসেছে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে আমরা যেসব ব্যবস্থা নিতে পারি তা শুরু করার সময় এসেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা নিষেধযুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ বোরেলের এই প্রস্তাব ও উদ্যোগ সম্পর্কে ইইউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সবাই সম্পূর্ণ উৎসাহী নন। এরপরও তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণে জড়িত প্রধান প্রধান বসতি স্থাপনকারীদের একটি তালিকা তৈরি করতে ইইউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করবেন। এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব জমা দেননি জোসেপ বোরেল। তবে মানবাধিকার হরণ করায় বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যাপারে তিনি পরামর্শ দেবেন।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানাননি বোরেল। তবে ইইউ কর্মকর্তারা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরির মতো ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর কয়েকজন কূটনীতিক।

গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরকে শোকজ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সময় আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার গাজীপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও চেয়ারম্যান নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচনি এলাকা গাজীপুর-২ নাজমুন নাহার তাকে এ নোটিশ পাঠান।

এতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জাহাঙ্গীর আলম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি এলাকা গাজীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনের পক্ষে গত ১১ ডিসেম্বর রোজ সোমবার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দের আগেই ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ আগে গাজীপুরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে মতবিনিময় সভায় নির্বাচনি প্রচারণা করেছেন। যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ১২ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন হয়েছে; যা নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক অনুসন্ধানকার্য পরিচালনাকালে এবং www.prothomalo.com এ প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়েছে।

এমতাবস্থায় উক্ত বিধি লংঘনের কারণে কেন নির্বাচন কমিশনে আপনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠানো হবে না তৎমর্মে ১৩ ডিসেম্বর বেলা ১১ টার মধ্যে আপনি স্বয়ং নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিন। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বুদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করছেন। বুদ্দিনের পক্ষে বিভিন্ন স্থানে উঠোন বৈঠক ও সমাবেশ করতে দেখা যাচ্ছে জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের। এর আগে সোমবার বুদ্দিনকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
 

গাজা নিয়ে এবার বিশেষ অধিবেশনে বসবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা চলমান থাকার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডেনিস ফ্রান্সিস জানান, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়  মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা তিনটায় এই অধিবেশন বসবে।

সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে জাতিসংঘের সব সদস্যদেশকে চিঠি দিয়েছেন ডেনিস ফ্রান্সিস। চিঠিতে তিনি বলেন, মিসর ও মৌরিতানিয়ার অনুরোধে বিশেষ এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। মিসর আরব দেশগুলোর জোট আরব গ্রুপের সভাপতি। আর মৌরিতানিয়া মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কো–অপারেশন অব কান্ট্রিসের (ওআইসি) সভাপতি।

মিসর ও মৌরিতানিয়া সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে লেখা এক চিঠিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৩৭৭ রেজল্যুশন উল্লেখ করে ‘শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ’ থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। ১৯৫০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩৭৭ রেজল্যুশন অনুমোদন দেয়। ৩৭৭ অনুসারে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হলে পরিষদের ১৯৩ সদস্য পদক্ষেপ নিতে পারে।

কিন্তু কী আছে এই ৩৭৭ ধারায়? কীভাবে গাজায় ইসরায়েলি হামলার লাগাম টানতে পারে এই ধারা? নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার পর গাজায় রক্তক্ষয় থামাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? এসব প্রশ্ন এখন জনমনে।

১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩৭৭ ধারা অনুমোদন দেয়। সর্বশেষ ২০২২ সালে এর প্রয়োগ দেখা যায়। ওই সময় সাধারণ পরিষদ ভোটাভুটির পর ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং অবিলম্বে রুশ সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

৩৭৭ ধারার আওতায় শক্তিপ্রয়োগের সুপারিশ করার ক্ষমতাও রয়েছে সাধারণ পরিষদের; যদিও মাত্র একবারই তা দেখা গেছে। ১৯৫১ সালে কোরিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সদস্যদের কাছে এমন সুপারিশ করেছিল পরিষদ।

মূলত গাজায় যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার কারণে ৩৭৭ ধারার বিষয়টি সামনে এসেছে। গত শুক্রবার গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব তোলে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভোটাভুটিতে পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ১৫ সদস্যদেশের ১৩টিই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য ভোট প্রদানে বিরত ছিল। আর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভেটো দেয় পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে গাজায় রক্তক্ষয় থামানোর প্রয়াস ব্যর্থ হয়।

ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাব আটকে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত রবার্ট উড বলেন, ‘প্রস্তাবটি ভারসাম্যপূর্ণ নয়। এতে বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি।’ তবে রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংগঠন মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে।

নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাবে ভেটো (আমি মানি না) দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রয়েছে পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের। দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। এদের কোনো একটি সদস্যদেশ চাইলে যেকোনো প্রস্তাব বাতিল করতে পারে।

গাজায় চলমান সংঘাত ঘিরে আগেও নিরাপত্তা পরিষদে আনা চারটি প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে। যদিও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘ সনদের ৯৯ ধারা প্রয়োগ করায় এবারের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব বেশ আলোচনায় ছিল।

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন গুতেরেস। এ ব্যর্থতার জন্য পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তির নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। ক্ষুব্ধ গুতেরেস বলেছেন, সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য ৩৪ বছর পর জাতিসংঘের ৯৯ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ

গাজার পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য জাতিসংঘ সনদের ৯৯ অনুচ্ছেদ আহ্বান করেছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এর মাধ্যমে গাজায় চলমান সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বকালে এই প্রথমবারের মতো ৯৯ অনুচ্ছেদ আহ্বান করলেন আন্তোনিও গুতেরেস। আর ১৯৮৯ সালের পর এই অনুচ্ছেদ ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম।

কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এখনো ইসরায়েল এবং হামাস ও তার সহযোগীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য কোনো প্রস্তাব পাশ করতে পারেনি। আর আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব অনেকাংশেই নিরাপত্তা পরিষদের ওপরেই বর্তায়।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে গুতেরেস এই দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান হুমকিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। গত ১৮ অক্টোবর থেকেই গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছেন গুতেরেস।

তিনি হুঁশিয়ারি জানিয়ে লিখেছেন যে, ফিলিস্তিনের সকল অধিবাসী এবং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। যেকোনো মূল্যে এ ধরনের পরিণতি এড়াতে হবে।

জাতিসংঘ সনদ অবশ্য এই বৈশ্বিক সংস্থার মহাসচিবকে সীমিত ক্ষমতাই প্রদান করে। জাতিসংঘ সনদের ৯৯ অনুচ্ছেদ মহাসচিবকে কেবল তার ধারণা মতে যেসব বিষয় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে সেসব বিষয়ের দিকে নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষমতা দেয়।

নিরাপত্তা পরিষদ যদি গুতেরেসের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাশ করার পথ বেছে নেয় তবে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকবে পরিষদের হাতে। পাশাপাশি, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্যও পরিষদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা রয়েছে।

তবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য- চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। আর গাজায় মানবিক সহায়তার অনুমতি দেওয়ার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গত ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সেই ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। সে সময় নিরাপত্তা পরিষদের অন্য ১২ সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানে বিরত থাকে রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য।

তবে আন্তোনিও গুতেরেসের এই ৯৯ অনুচ্ছেদ আহ্বান করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানাননি জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান। সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে এরদান চিঠিটিকে গুতেরেসের ‘নৈতিক বিকৃতি’ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার ‘পক্ষপাতের প্রমাণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য মহাসচিবের আহ্বান আসলে গাজায় হামাসের সন্ত্রাসের রাজত্ব বজায় রাখার আহ্বান। এরদান আবারও গুতেরেসকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।