ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪৫৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা সিটির ৩৩৬ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরের ১০৮ জন। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৫৬৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তির মধ্যে ঢাকার ৮০৪ জন এবং ঢাকার বাইরে ৭৬১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৭৭ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৭ হাজার ৮৫১ জন।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

ডেঙ্গুতে আরও ১৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৭৫১

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৭৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৩২ জন। এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, আর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৪ জন।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ৫৭২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। ঢাকার হাসপাতালে ৪ হাজার ৬৫২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪ হাজার ৯২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৪৮৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৬ হাজার ৭২০ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩২ হাজার ৭৬৩ জন। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৯ হাজার ৫৮৪ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩১ হাজার ৮১০ জন এবং ঢাকার বাইরে ২৭ হাজার ৭৭৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই এত মৃত্যু এর আগে দেখেনি বাংলাদেশ।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয় দুজনের। মার্চে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও এপ্রিল ও মে মাসে দুজন করে মারা যায়।

জুন মাসে এসে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায় ২০৪ জন। চলতি আগস্ট মাসের তিন দিনেই ডেঙ্গুতে ৩২ জনের মৃত্যু হলো।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ১০ আগস্ট

চলতি বছরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১০ আগস্ট। যা চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে আগামী ৮ অক্টোবর। একাদশ শ্রেণির ভর্তির নীতিমালা সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ সোমবার আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। তিনি বলেন, ‘আজ একাদশ শ্রেণির ভর্তির নীতিমালা সংক্রান্ত সভা হয়েছে। সভায় আগামী ১০ আগস্ট থেকে ভর্তির আবেদন অনলাইনে শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা চলবে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত।’

সব কার্যক্রম শেষে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে একাদশের ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হবে বলে জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

একাদশ শ্রেণিতে এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তবে খ্রিষ্টান মিশনারি পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন—নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ ও সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।

গত ২৮ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ৯টি সাধারণ, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন।

মেরামতের পর ফের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

যান্ত্রিক ত্রুটিতে চার দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের ঘূর্ণমাণ যন্ত্র (টারবাইন) মেরামত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। এর আগে টারবাইন ত্রুটির কারণে গত রোববার বন্ধ হয়ে যায় রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র।

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ একরাম উল্লাহ বলেন, বন্ধ হওয়ার পর ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেডের প্রকৌশলীরা টারবাইন ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। মেরামত সম্পন্ন হওয়ার পর গতকাল সকাল পৌনে ১০টায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের বয়লার ফায়ার করা হয়। এরপর দুপুর ২টা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গেই তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।’

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর সাত মাসে পাঁচবার বন্ধ হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ ডা: নাজিম উদ্দিন আহমেদ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: নাজিম উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দায়িত্ব গ্রহনের ঘোষনা দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ ডা: নাজিম উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ৪ জন ট্রাস্টি ছিলেন। এর মধ্যে ডা: জাফরুল্লা চোধুরী ও সাদেক খান অন্তধান করেছেন এবং অপর ট্রাস্ট্রি দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ ¯œায়ুরোগে শষ্যাশায়ী রয়েছেন। বর্তমানে একমাত্র সক্ষম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি হিসাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র রক্ষার জন্য নিজেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। তিনি আরো বলেন, ডা: জাফরুল্লা চৌধুরীর মৃত্যুর পর আলতাফুন্নেসার সাম্প্রতিক কিছু অসংলগ্ন এবং বিতর্তিক কর্মকান্ডে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৫হাজার কর্মীর জীবন জীবিকা বিপন্ন হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সকল কর্মী ও ডাক্তারদের বেতন বন্ধ করে দিয়ে সকলের জীবন যাপন ব্যবস্থা দূরবস্থা,সংকটপূর্ন এবং মানবেতর ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢেলে দিয়েছে এবং উক্ত কলেজের ২৭তম ব্যাচে ৬০জন শিক্ষার্থীর অনুমোদন স্বত্তে¡ও ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে ৫০জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় কারনে শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।তিনি আরো বলেন, যুদ্ধোপরাধী সাকা চৌধুরীর জামিন সনদ জালিয়াতির অভিযুক্ত আইনজীবি ব্যারিস্টার ফকরুলকে গণস্বাস্থ্যের প্রধান আইনজীবি হিসাবে বহাল রেখে বিভিন্ন নিয়ম বর্হির্ভূত কাজ করে যাচ্ছেন এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফান্ড থেকে টাকা-পয়সা অযাচিতভাবে খরচ করছেন। এ সকল কারনে একমাত্র বৈধ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি হিসাবে আমি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলতাফুন্নেসাকে অব্যহতি দিয়ে আমি নিজে দায়িত্ব গ্রহন করলাম। এ সময় গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: গিয়াস উদ্দিন,নির্বাহী কর্মকর্তা ডা:গোলম রহমানসহ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. মিলিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

রাজধানীর গ্রিন রোডে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ডা. মাকসুদা ফরিদা আক্তার মিলির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি হাইকোর্ট। মিলিকে জামিন না দিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত মাসে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন ডা. বেগম মাকসুদা ফরিদা আক্তার মিলি। এরপর ২৫ জুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আদেশ দেন আদালত।

ডা. মিলির আগাম জামিন আবেদনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন শুনানি করেছেন।

জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। এমনকি তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলেও চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্ত করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা।

প্রসব ব্যাথা ওঠায় গত ৯ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়; কিন্তু সেদিন ডা. সংযুক্তা হাসপাতালেই ছিলেন না। পরে তার দুই সহযোগী চিকিৎসক আঁখির সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু জটিলতা দেখা দেওয়ায় নবজাতককে এনআইসিইউতে রাখা হয়। একই সঙ্গে আঁখির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরে ১০ জুন বিকালে আঁখির নবজাতক সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী ধানমন্ডি থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর একটি মামলা করেন। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়।

এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েক জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা করার পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৮ জুন দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখিও।

 

শপথ নিলেন তিন সিটির মেয়র

নবনির্বাচিত তিন সিটির মেয়র বরিশালের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ, খুলনার তালুকদার আব্দুল খালেক ও গাজীপুরের জায়েদা খাতুন আজ সোমবার শপথ নিয়েছেন। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে এই তিন সিটির মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করান।

পরে একই স্থানে তিন সিটির সাধারণ ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ১৭৭ জন কাউন্সিলরও শপথ গ্রহণ করেন। এঁদের মধ্যে বরিশালের ৪০ জন, খুলনার ৪১ জন ও গাজীপুরের ৭৬ জন শপথ গ্রহণ করেন। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এসব কাউন্সিলরকে শপথবাক্য পাঠ করান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) ৮৭,৮০৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। একই তারিখে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ১,৫৪,৮২৫ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

এর আগে গত ২৫ মে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ২,৩৮,৯৩৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান পেয়েছেন ২,২২,৭৩৭ ভোট।

ইউরোপ প্রবাসী ৩০০ বাংলাদেশি প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছয় এমইপির চিঠির

বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলকে দেওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্যের (এমইপি) চিঠির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউরোপে থাকা ৩০০ বাংলাদেশি। ‘বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ইন ইউরোপ’-এর ব্যানারে জোসেফ বোরেলকে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ছয় এমইপি ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ওই চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে বাংলাদেশিরা বলেছেন, ছয় এমইপি তাঁদের চিঠিতে বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তাঁদের ভুল ও অসত্য তথ্যের কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এতে ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় সামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যার ধারা অব্যাহত রেখেছিল।

চিঠিদাতারা বলেন, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। কয়েকটি আসনে জয়লাভও করে। অন্য সব রাজনৈতিক দলও নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে ‘মধ্যরাতের ভোটের’ অভিযোগটি গুজব, এটি কখনও প্রমাণিত হয়নি।

তাঁরা বলেন, ছয় এমইপির উচিত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির কী অবস্থা হয়েছিল, সে বিষয়ে জানা।

মস্কো অভিমুখে যাত্রা থামাল ওয়াগনার গ্রুপ

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো অভিমুখে যাত্রা স্থগিত করেছে ভাড়াটে আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থততায় মস্কো অভিমুখে যাত্রা বন্ধ করতে রাজি হন ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোশিন।

টেলিগ্রাম চ্যানেলে অডিওবার্তায় ‘রক্তপাত এড়াতে’ এই যাত্রা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরে দিনভর চলা উদ্বেগ, উত্তেজনার আপাত অবসান হলো। খবর- বিবিসি

লুকাশেঙ্কোকে উদ্ধৃত করে রশিয়া ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলারুশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার পর ওয়াগনার প্রধান প্রিগোশিন মস্কো অভিযান বন্ধ করতে রাজি হন। ওয়াগনার যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্মতি নিয়েই লুকাশেঙ্কো ও প্রিগোশিন এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। উত্তেজনা কমাতে সম্ভাব্য একটি গ্রহণযোগ্য উপায় বের করা হবে।

এর আগে শনিবার রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াগনার বিদ্রোহ ঘোষণা করে। দলবল নিয়ে ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোশিন মস্কোর দিকে এগুতে থাকেন। ভাগনার বাহিনীর সৈন্যরা রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গোটা মস্কো অঞ্চলে ‘সন্ত্রাস-বিরোধী’ বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। মস্কোতে পূর্বনির্ধারিত সবধরনের গণ-জমায়েত ও অনুষ্ঠান ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, মস্কোর মেয়র সবাইকে শহরের ভেতরে ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করেছেন। মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি খুব কঠিন। শহরের বেশ কিছু রাস্তা এবং অঞ্চল যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।

১৮ দিন পর রোববার থেকে আবার চালু হচ্ছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে পৌঁছেছে জাহাজ। ১৮ দিন পর আবার চালু হচ্ছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়ে সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৪১ হাজার ২০৭ টন কয়লা নিয়ে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পায়রা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছায় বলে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল হাসিব জানান।

শাহ আব্দুল হাসিব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জাহাজ থেকে সম্পূর্ণ কয়লা খালাস করতে আরও দুই-তিন দিন লাগবে। আমরা আগামীকাল (২৪ জুন) রাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ইউনিটও উৎপাদনে যাবে।’

কয়লাসংকটের কারণে গত ২৫ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ৫ জুন বন্ধ হয় দ্বিতীয় ইউনিট। মূলত শুরু থেকেই পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা কিনতে ঋণ দেয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চীনা অংশীদার চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি (সিএমসি)। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা কেনার দায়িত্বও সিএমসির।

কয়লা কেনার জন্য সিএমসিকে অর্থ দিয়ে থাকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) পায়রার কাছে সিএমসি বকেয়া। বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় নতুন করে কয়লা কেনা যাচ্ছিল না।

ডলারের সংকটে সর্বশেষ প্রায় ৩০ কোটি ডলার বকেয়া পড়ে। এ কারণে কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। পরে বকেয়ার ১০ কোটি ডলার পরিশোধ করে আবার কয়লা সরবরাহ শুরু করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে রাজি করানো হয়।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান বলেন, ‘এমভি এথেনা জাহাজটি ১০ মিটার গভীরতায় বন্দরের ইনটার অ্যাংকরে অবস্থান করছে। ১ জুলাই কয়লা নিয়ে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। ঈদের পর ধাপে ধাপে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আরও অন্তত ১০টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।’

কয়লার মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫ জুন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশব্যাপী ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়। এর আগে গত ২৫ মে থেকে বন্ধ হয়ে যায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে উৎপাদনে আসার পর এই প্রথম ৫ জুন কয়লা সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়েছিল।