টাইটানের ভাগ্যে কী ঘটেছিল

আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে ডুবোযান টাইটান বিস্ফোরণের শিকার হয় বলে জানায় মার্কিন কোস্টগার্ড। সাগর থেকেই উদ্ধার করা হয় এর ধ্বংসাবশেষ। এরপরই ডুবোযানটি উদ্ধারের প্রচেষ্টার চেয়ে বিশেষজ্ঞদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের বিষয়টি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন কোস্টগার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাউগার বলছেন, যে ধ্বংসাবশেষগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো মারাত্মক বিস্ফোরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিবিসি বলছে, বিস্ফোরণের বিষয়টি উঠে আসার কারণ হলো—ডুবোযানটির যে অংশগুলো পাওয়া গেছে, এর মধ্যে টাইটানের পেছনের অংশ এবং এর অবতরণের একটি ফ্রেম রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ডুবোযানটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল।

ব্রিটেনের রয়্যাল নেভির সাবেক সাবমেরিন ক্যাপ্টেন রায়ান রামসে বলছেন, ‘কেন এটি ঘটেছে এবং এসব ঘটনা প্রতিরোধে কী করা যেতে পারে, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য ধ্বংসাবশেষের প্রতিটি টুকরো সংগ্রহ করবে কর্তৃপক্ষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডুবোযানের কোনো ব্ল্যাকবক্স নেই। তাই সেটির শেষ গতিবিধি জানা যাবে না। তবে তদন্তের প্রক্রিয়াটি বিমান দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধানের মতোই।’

রায়ান রামসে বলেন, ‘একবার টুকরোগুলো পাওয়া গেলে কার্বন ফাইবার পরীক্ষা করা হবে। শেষ মুহূর্তে টাইটানের কী হয়েছিল, এ পরীক্ষা তা বুঝতে সাহায্য করবে। কার্বন ফাইবার ফিলামেন্ট পরীক্ষা করার জন্য প্রতিটি টুকরো মাইক্রোস্কোপে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। এরপর কাঠামোগত কোনো সমস্যা ছিল কিনা, এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ত্রুটি থেকে থাকে, তবে প্রশ্ন হলো এটি সঠিক পরীক্ষার অভাবে হয়েছে কিনা।

১০০ বছরের বেশি সময় আগে ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় সেই সময়ের সর্ববৃহৎ জাহাজ টাইটানিক। জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে গত রোববার পর্যটকদের নিয়ে ডুব দিয়েছিল ডুবোযান টাইটান। এটি পরিচালনা করে পর্যটন সংস্থা ওশানগেট।

আটলান্টিকের গভীরে ডুব দেওয়ার পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় টাইটানের সঙ্গে পানির ওপরে থাকা নিয়ন্ত্রক জাহাজ ‘পোলার প্রিন্সের’ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার পর থেকে চলছিল টাইটানের উদ্ধার অভিযান।

চার দিনের শ্বাসরুদ্ধকর তল্লাশি শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড জানায়, ভয়ংকর অন্তর্মুখী বিস্ফোরণে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে টাইটান। আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের পাশেই পাওয়া গেছে টাইটানের ধ্বংসস্তূপ।

জামালপুরে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক নিহত

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় গোলাম রব্বানী নাদিম নামে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গতকাল রাতে হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টার দিকে গোলাম রব্বানী নাদিমকে হাসপাতালে আনা ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

গোলাম রব্বানী নাদিম বাংলানিউজ টোয়েন্টফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি একই উপজেলার নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের গোমেরচর গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে।

নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার সময় নাদিমের উপর একদল লোক হামলা চালায়। ব্যাপক মারধরের একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয়রা নাদিমকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং পরে রাত ১২টার দিকে তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে আজ সকালে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে একই উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলমের লোকজন এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁর স্বজনদের ধারণা করছেন।

গোলাম রব্বানীর স্ত্রী মনিরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তিনি আগেও নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে।’

স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। এঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবুকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে গতকাল রাতে এবং দুজনকে আজ দুপুরে আটক করা হয়েছে।’

তবে ‘তদন্তের স্বার্থে’ আটককৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশের পাঁচটি দল মাঠে কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হবেন।

খুলনা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ১লাখ ৫৪ হাজার ৮২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আব্দুল আউয়াল পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৪ ভোট।

সোমবার (১২ জুন) মোট ২৮৯ কেন্দ্রের বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে খুলনা সিটিতে তৃতীয় মেয়াদে মেয়র হলেন তালুকদার আব্দুল খালেক।

অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মধু লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭৪ ভোট, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৬ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান টেবিল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ২১৮ ভোট।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১২৬ টির মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ফলাফলে নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত ৮৭,৭৫২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৩৪,৩৪৫ ভোট।

 

 

তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ —ঠিক সেই সময়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে সারা দেশ যখন তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে—ঠিক সেই সময়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে।

আজ বুধবার ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা পৃথিবীতে তেলের দাম বেড়েছে। আমরা যে এলএনজি ও গ্যাস আমদানি করি সেগুলোর দামও বেড়ে গেছে। আর আমরা নিজেরা কূপ খনন করে গ্যাস উৎপাদন করেছি। এসব কিছুর মধ্যেও আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। সেই বিদ্যুতের এখন অসুবিধা হচ্ছে। আমরা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। আমি জানি মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তাদের কষ্ট আমি উপলব্ধি করতে পারি। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। দুএকদিনের মধ্যে আরও ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হবে, ১০-১৫ দিন পর আরও যুক্ত হবে। তারপর আর কষ্ট থাকবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ খালেদা-তারেক জিয়ার অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির দুঃশাসন কি ভুলে গেছেন দেশবাসী? আন্দোলন-সংগ্রাম করে নাকি আমাদের সরকারকে উৎখাত করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি এখনো সংঘাত করে তাহলে আমেরিকাই তো তাদের ভিসা বন্ধ করে দেবে। আমি বলে দিয়েছি, তারা যেভাবে খুশি আন্দোলন করে করুক, কোনো বাধা যেন না দেয়া হয়। তারা ভেবেছে, বিদেশিরা তাদের নাগরদোলায় করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। আসলে বাইরের শক্তি তাদের ব্যবহার করবে কিন্তু ক্ষমতায় বসতে দেবে না। ক্ষমতায় কোনো দলকে বসাতে পারে শুধু জনগণ।

বাজেটে পন্যের দাম কমছে ও বাড়ছে

দাম কমছে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) এবং শুল্ক কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে সেগুলো হলো-

ওষুধ : ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মার ওষুধ উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে। ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধেও করছাড় দেওয়া হয়েছে বাজেটে।

পানি প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র : সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনের লক্ষ্যে আমদানিকৃত সোলার পাওয়ার অপারেটেড ওয়াটার ডিস্টিলেশন প্ল্যান্টের আগাম কর অব্যাহতির সুপারিশ।

মিষ্টি : মিষ্টান্ন ভাণ্ডার সেবা হতে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এ খাতে বলবৎ ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার অর্ধেক কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পশুখাদ্য : পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য কোকোনাট বা কোপরা ওয়েস্টের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

হাতে তৈরি বিস্কুট-কেক : হাতে তৈরি বিস্কুটের ভ্যাট অব্যাহতি সীমা প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং কেকের ভ্যাট অব্যাহতি সীমা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এতে হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেকের উৎপাদন খরচ কমবে। তবে পার্টি কেকে এই ছাড় নেই।

অপটিক্যাল ফাইবার : অপটিক্যাল ফাইবার কেবল উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে। এতে এর দাম কমতে পারে।

উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ : নিবন্ধিত এয়ারলাইন্সের আমদানিকৃত উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, টার্বো জেট ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগাম কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কনটেইনার : আমদানি ও রপ্তানিতে ব্যবহৃত কনটেইনার ব্যবসাকে উৎসাহ দিতে চায় সরকার। এ জন্য কনটেইনার আমদানিতে করভার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগে যা ধরনভেদে ৩১ ও ৩৭ শতাংশ ছিল।

কৃষিযন্ত্র : কৃষিতে ব্যবহৃত রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার, ড্রায়ার, সব ধরনের স্প্রেয়ার মেশিন, পটেটো প্ল্যান্টার, আমদানিকৃত সব ধরনের কন্টেইনারের আগাম কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য : ব্লেন্ডার, জুসার, প্রেশার কুকারের মতো গৃহস্থালি সরঞ্জাম উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও দুই বছর (২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত) বহাল থাকবে। একই সুবিধা পাবে ওয়াশিং মেশিন এবং মাইক্রোওয়েভ ও ইলেকট্রিক ওভেন উৎপাদনকারী কারখানা। তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার পণ্য উৎপাদনে অব্যাহতি সুবিধা তিন বছর (২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত) বাড়ানো হয়েছে। রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার উৎপাদনে এখনকার ৫ শতাংশের অধিক ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ এক বছর বাড়বে। স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল আমদানিতেও ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও এক বছর থাকবে। সাবান ও শ্যাম্পুর দুটি কাঁচামালে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা এক বছর বহাল রাখা হচ্ছে।

 

দাম বাড়ছে

প্রতি বছর বাজেটে শুল্ক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের হেরফের ঘটে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় শুল্ক পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, ফলে বাজেট পাস হলে এসব জিনিসের দাম বাড়তে পারে। এগুলো হলো-

সিগারেট : সিগারেট ও তামাক পণ্যের শুল্ক বাড়ছে। তরল নিকোটিনের বিপরীতে ১৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব এসেছে। ই-সিগারেট ও ভেপোরাইজিং ডিভাইস ও এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২১২ দশমিক ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গাড়ি : একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে সিসি বা কিলোওয়াটভিত্তিক পরিবেশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেছের অর্থমন্ত্রী। ফলে একাধিক গাড়ি রাখার ক্ষেত্রে খরচ বাড়বে।

জমি : জমি নিবন্ধনে উৎসে কর বাড়ছে।

ভ্রমণ : বিদেশ ভ্রমণ কমিয়ে আনতে ভ্রমণ কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণেও কর হার বাড়ছে।

কলম : বল পয়েন্ট কলমে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সফটওয়্যার : সফটওয়্যার ও কাস্টমাইজেশন সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে এই সেবার মূল্য বাড়তে পারে। বিদেশি কিছু সফটওয়্যারের ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। অন্য ক্ষেত্রে হারটি ২৫ শতাংশ। শুল্ক ফাঁকি রোধে হারটি সব ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। ১৫ শতাংশ ভ্যাটও বসবে।

এলপিজি সিলিন্ডার : এলপিজি সিলিন্ডার তৈরির স্টিলের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশে তৈরি মোবাইল সেট : স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে শূন্য শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ, সংযোজন পর্যায়ে যথাক্রমে ৩ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ এবং ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লিখিত প্রজ্ঞাপনের কিছু শর্ত যৌক্তিকীকরণ ও নতুন শর্ত সংযোজনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্লাস্টিক পণ্য : প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালী সামগ্রী, হাইজেনিক ও টয়লেট সামগ্রীসহ যে কোনো পণ্যের (টিফিন বক্স ও পানির বোতল ব্যতীত) ভ্যাট ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

থালাবাসন : অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কিচেন বা অন্যান্য গৃহস্থালি তৈজসপত্র, স্যানিটারিওয়্যার এবং যন্ত্রাংশের মূসক হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব।

টিস্যু : কিচেন টাওয়েল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল বা পকেট টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়েল/পেপার টাওয়েল/ক্লিনিকাল বেড শিটের ভ্যাট হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খেজুর : খেজুরের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে বাজেটে। শুকনা খেজুরের ওপর এখন ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। তবে সাধারণ খেজুরের ওপর নেই। তাই দুই ক্ষেত্রেই ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। সঙ্গে থাকবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, খেজুর কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়।

চশমা ও রোদচশমা : চশমার ফ্রেমের ওপর আমদানি শুল্ক এখন ৫ শতাংশ। তৈরি চশমার ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ। শুল্ক ফাঁকি রোধে ফ্রেমের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। রোদচশমা বা সানগ্লাসের (প্লাস্টিক ও মেটাল ফ্রেমযুক্ত) ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে আড়াই শতাংশ। নতুন হার সাড়ে ৭ শতাংশ।

বাসমতী চাল : সাধারণ বাসমতী চালে এখন ভ্যাট নেই। তবে ফর্টিফায়েড বাসমতী চালে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। ফাঁকি রোধে সাধারণ বাসমতী চালেও ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

কাজুবাদাম : বিদেশি কাজুবাদামের মোট কর হার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে উৎপাদিত কাজুবাদামকে সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ।

আঠা : আঠা (অ্যাডহেসিড/গ্লু) আমদানিতে ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে বিদেশি আঠার দাম বাড়বে।

বাইসাইকেল : বাইসাইকেলের কিছু যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ৫ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বিদেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহারকারী বাইসাইকেলের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে

সিমেন্ট : সিমেন্টের মূল কাঁচামাল ক্লিংকারের আমদানি শুল্ক টনপ্রতি ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য ক্লিংকারে শুল্ক একই হারে বেড়ে ৯৫০ টাকা হবে।

সাধারণ ইট : যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া তৈরি সাধারণ ইটে ভ্যাট (নন-রিফ্লেকটরি বিল্ডিং ব্রিকস) প্রতি হাজারে ৪৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এটা ‘ফেসিংয়ে’ ব্যবহৃত ইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বিদেশি লিফট : দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে লিফটের সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদেশি লিফটের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ হবে চলন্ত সিঁড়ি বা এস্কেলেটর আমদানিতে।

বিদেশি স্যান্ডউইচ প্যানেল : স্যান্ডউইচ প্যানেল ভবনে ব্যবহার করা হয় তাপ ও শব্দপ্রতিরোধক হিসেবে। পণ্যটি মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে রেয়াতি সুবিধায় মাত্র ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক পরিশোধ করে আমদানির সুযোগ রয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পণ্যটি কোনো মূলধনী যন্ত্রপাতি নয়। দেশে এটি তৈরি হয়। তাই দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পণ্যটির আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদেশি সাবান : আমদানি করা সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডারের রেগুলেটরি ডিউটি ৩ থেকে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে বাজেটে। শুল্ক বাড়ছে আমদানি করা ফেসওয়াশেও।

ফল : প্রক্রিয়াজাত ফল আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব ধরনের খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব এসেছে। আপেলের দামও বাড়তে পারে।

 

টঙ্গীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭নং ওয়ার্ডের সদ্য বিজয়ী কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকারের অনুসারীদের হামলা, মারধর, লুটপাট, দখলবাজি, বসত ঘর-দোকানপাট তালাবদ্ধ করা ও অব্যাহত হুমকির প্রতিবাদে ও এসব অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ওই ওয়ার্ডের নির্যাতিত জনগন। বৃহস্পতিবার বিকেলে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, সিটি নির্বাচনে আমরা দলীয় প্রতীক নৌকার হয়ে কাজ করেছি পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মিষ্টি কুমড়া প্রতিকের শেখ মো: নজরুল ইসলামের হয়ে কাজ করি। নির্বাচনে মিষ্টি কুমড়া প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী পরাজিত হলে বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন সরকারের অনুসারীরা নির্বাচনের দিন সন্ধ্যার পর থেকে আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। তারা আমাদের ঘরবাড়ী দোকানপাট ভাঙচুর চালায়, মারধর করে আমাদের বাসা বাড়ীতে তালা লাগিয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত তাদের ভয়ে শতাধিক লোক এলাকা ছাড়া। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানাই হাজী মাজার বস্তি তথা পুরো ৫৭ নং ওয়ার্ডে যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে আমাদের উত্তরণ করুন। আমরা এ দেশের নাগরিক, আমাদের স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে দিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক শাহ আলম, ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রাসেল, ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, মোহাম্মদ আলী, জাফর সিকদার, আবু তালেব, খোকন, সাঈদ মিয়া, কাজলী বেগম, সকিনা, রাহেলাসহ ভুক্তিভোগী অসহায় লোকজন।

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি চলমান রাখতে নৌকায় ভোট দিন ……..মায়া

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নৌকা প্রতিকের প্রধান সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি চলমান রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দিয়েছেন। আমি বিশ^াস করি আজমত উল্লা খান মেয়র হলে গাজীপুর একটি উন্নত সিটি কর্পোরেশন হবে। আপনারা শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। গতকাল সোমবার দুপুরে টঙ্গীর শ্রমিক অধ্যুষিত বিসিক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে উন্ডি গ্রæপের একটি তৈরী পোষাক কারখানার শ্রমিকদের কাছে ভোট চাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী ২৫ মে রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহন কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে নৌকায় ভোট দিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে দূর্নীতিমুক্ত ও স্মার্ট নগরী গড়ে তোলার সুযোগ করে দিবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, উন্ডি গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী প্রমূখ।
এর আগে টঙ্গী বিসিক এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের নেতৃত্বে নৌকা মার্কার গণ সংযোগ করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৩৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ আমির হোসেন ভুট্টুর ইজতেহার ঘোষনা

মেঘনা প্রতিবেদক

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৩৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ আমির হোসেন ভুট্টু গাজীপুরের বটতলায় তার অফিস কার্ষ্যলয়ে ভোটার ও সুধীজনের সামনে মঙ্গলবার তার নির্বাচনী ইজতেহার ঘোষনা করেছেন। ইজতেহারে তিনি বলেন,
১। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের রাস্তা সংস্কারে নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০লক্ষ টাকা ব্যয় করবেন। ২। অসুস্থ্য ওয়ার্ডবাসীর জন্য বিনামুল্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করবেন। ৩। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তুলবেন। ৪। বিনামূল্যে জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদের ব্যবস্থা করবেন।৫। বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য তিনি ৩কাঠা জমি দান করবেন। ৬।পোশাক শ্রমিকরা তাদের টাকা নিয়ে নিরাপদে বাড়ী ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন এবং সড়ক বাতির ব্যবস্থা করবেন।৭। ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রয়োজন অনুযারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে কাজ করাবেন। ৮। নতুন বাড়ী নির্মানের সময় ওয়ার্ডবাসীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহন করবেন না। ৯। তিনি আরো বলেন কাউন্সিলর হিসাবে প্রাপ্ত সম্মানীর এক তৃতীয়াংশ গ্রহন করবেন বাকী টাকা তিনি এতিমখানা,অসহায় ও দুস্থ্য ওয়ার্ডবাসীর জন্য ব্যয় করবেন। ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য আগামী ২৫মে তাকে ঠেলাগাড়ী মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।

আজমত উল্লার ২৮ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

নির্বাচিত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সনদের ফি, ইউটিলিটি বিল ইত্যাদি অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা এবং ওয়ার্ডগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা ও ফ্রি ওয়াইফাই জোন করার উদ্যোগ নেবেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মেয়রপ্রার্থী আজমত উল্লা খান।

রোববার বেলা ১১টায় মহানগরীর প্রকৌশল ভবনের হলরুমে ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে নগরবাসীর সেবার জন্য ২৮ দফা কর্মসূচি হাতে নেবেন।

তিনি বলেন, অভিজ্ঞ নগরবিদ ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশ্বমানের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হবে। হোল্ডিং করের হার না বাড়িয়ে রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে চূড়ান্ত করবেন। সিটির পক্ষ থেকে সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।

বিশেষ করে স্বল্পমূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা, দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মৃত্যুর পর প্রয়োজন অনুযায়ী কাফনের কাপড়ের ব্যবস্থা করা এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিক, বস্তিবাসী ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য কার্ড/লাল কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে সব নাগরিকের সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবেন।

যানজট নিরসন, পার্কিং, ফুটপাথসহ যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করবেন।

তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনে জিসিসির অধীনে কারিগরি ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ নগরীতে অবস্থিত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসমূহে সাহায্য প্রদান করবেন।

এ ছাড়া অনাথ, গরিব, যোগ্যতাসম্পন্ন মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, সিটির নিজস্ব পাঠাগারের আধুনিকীকরণ, নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারসমূহকে সহায়তা প্রদানের উল্লেখ করেন এই ইশতেহারে।

তিনি নির্বাচিত হলে শ্রমিক-কর্মচারী ও বস্তিবাসীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন। তরুণদের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং বয়স্ক ও শিশুদের মিলনস্থল ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড সেন্টার’ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করাসহ কমিউনিটি সেন্টার, সেবাদান কেন্দ্র, আত্মরক্ষা ও বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন।

তিনি নির্বাচিত হলে বর্জ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণসহ বর্জ্য পরিশোধনকেন্দ্র স্থাপন এবং বর্জ্যকে জ্বালানি শক্তিতে রূপান্তরিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের বিভিন্ন উদ্যোগসহ ক্রীড়া, পার্ক ও উদ্যান নির্মাণ, ঈদগাহ, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা, প্রতিটি ওয়ার্ডে ঈদগাহ ও কবরস্থান নির্মাণ, শ্মশানগুলোর উন্নয়ন ও নির্মাণ করবেন।

তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে সমৃদ্ধ সুষম নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বার্থে নৌকা মার্কায় সবার সমর্থন, দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেন।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমুদ্দিন বুদ্ধিন, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল, অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, আব্দুল হাদী শামীম, আফজাল সরকার রিপন, মজিবুর রহমান, কাজী ইলিয়াস, মাসুদ রানা এরশাদ প্রমুখসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানবের কল্যাণ করা যায় না — আজমত উল্লা খান

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান বলেছেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠান যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো মানবের কল্যাণ করা যায় না। তাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত একটি সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করতে হবে। আমি সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই, সহযোগিতা চাই।’
তিনি শনিবার মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাহাটা এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি টঙ্গী পৌরসভায় একটানা ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছিলাম। আমার দল দুই বারই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো না। কিন্তু ১৮ বছরে আমার বিরুদ্ধে ১৮ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আল্লাহর রহমতে কেউ আনতে পারে নাই। সুতরাং এইভাবেই সিটি কর্পোরেশনকে আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই সিটি কর্পোরেশনের মালিক নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলররা নন। তারা মাত্র পাঁচ বছরের জন্য কেয়ারটেকার দারোয়ান হিসেবে কাজ করবে। এই সিটি কর্পোরেশনের মালিক এই নগরের ৩৫ লক্ষ জনগণ, এই সিটি কর্পোরেশনের মালিক ১২ লক্ষ ভোটার। আল্লাহ যদি আপনাদের সহযোগিতায় আমাকে কামিয়াব করেন, সিটি কর্পোরেশনের দরজা সব সময়ের জন্য জনগণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে। যাতে করে তারা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে সরাসরি মেয়রের সাথে আলাপ করতে পারেন।’
আজমত উল্লা খান আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা যারা বসবাস করি, তাদের রাস্তা-ঘাট, ড্রেন-কালভার্ট-ব্রিজ উন্নয়নসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলা, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত একটি নগর হিসেবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে গড়ে তুলা, আমাদের এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকে পাস করে প্রথমেই সাত শত কোটি টাকা দিয়েছেন। আবার এক হাজার পাঁচ শত ঊনপঞ্চাশ কোটি টাকা দিয়েছন। তার পর আবার তিনি ২০ হাজার ৮শ ২৮ কোটি টাকা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই নগরীকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলার জন্য, এই যে আজকে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, এই ময়লা আবর্জনার স্তুপ সরিয়ে এটাকে সুন্দর পরিষ্কার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৭শ ৮২ কোটি টাকা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘কাজ করতে টাকার প্রয়োজন হয়, কাজ ছাড়া টাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কাজ থাকলে টাকা থাকতেও কাজ হয় না। এটা কি মেনে নেয়া যায় ? এতো টাকা দিলেন, এই রাস্তাটার অবস্থাটা আপনারাই দেখতেছেন।’ তিনি বলেন, ‘টাকা থাকতেও কাজ কেন হয় নাই ? অনেকে বলেন ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ এই কালাটা কী আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি, বহিষ্কৃত মেয়রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত যে পত্রপত্রিকা টেলিভিশনে অনেক দুর্নীতির প্রমাণচিত্র বের হয়েছে। এমনকি মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোট ডিভিশনে তার দুর্নীতি নিয়ে রিট পিটিশন হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার মাঠও তার দুর্নীতি থেকে রেহাই পায় নাই। দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান পেয়ে তাকে শোকজ করেছে।’
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান প্রখর রোদ উপেক্ষা কারে শনিবার দিনভর প্রচারাণায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত নগরীর ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২৭টি নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টে পথসভা ও গণসংযোগ করেন।