বীরবিক্রম নাজমুল হুদা হত্যার ৪৮ বছর পর মামলা, জিয়া-তাহেরের নির্দেশে খুনের অভিযোগ

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীরবিক্রমকে হত্যার ৪৮ বছর পর তার মেয়ে ওই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

মামলায় ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর (অব.) আব্দুল জলিলকে নামিও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় এ মামলা করেন নিহতের মেয়ে ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইজহার খান।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলাটি বুধবার হয়েছে। মামলা নম্বর ১৮। আপাতত আমরাই মামলাটি তদন্ত করছি।

মামলার এজাহারে নাহিদ ইজহার খান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আমার বয়স তখন ৫ বছর এবং আমার বড় ভাইয়ের বয়স ৮ বছর, তখন আমার বাবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭২ বিশেষ কমান্ডার, রংপুর, কর্মরত অবস্থায় ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপথগামী, বিশৃঙ্খল সদস্যদের হাতে নিহত (শহীদ) হন। তার সঙ্গে অপর দুই সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ, বীর উত্তম এবং শহীদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ টি এম হায়দার, বীর উত্তমও নিহত (শহীদ) হন।

এজাহারে বলা হয়, পরবর্তীতে আমরা বড় হয়ে বাবার কোর্সমেট, কলিগ এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে নিজেদের অনুসন্ধানে জানতে পারি, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, সকাল বেলা বাবাসহ অপর দুই সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন ১০ নম্বর ইস্ট বেঙ্গলের অফিসে, যেটি তখন জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলে অবস্থান করছিল। সকালে বাবারা নাস্তা করা অবস্থায় ২য় ফিল্ড আর্টিলারী থেকে একটি টেলিফোন আসে দশম ইস্ট বেঙ্গলের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল নওয়াজেশের কাছে।

এজাহারে নাহিদ ইজহার খান বলেন, এরপর বাবাসহ অপর দুই সামরিক কর্মকর্তাকে বাইরে নিয়ে আসে দশম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তারা। আমাদের অনুসন্ধানে আমরা আরও জানতে পারি, তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং জাসদের নেতা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের (অব.)-এর নির্দেশে ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকরা সংঘবদ্ধভাবে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজ (ততকালীন ক্যাপ্টেন) ও মেজর মুকতাদির, সাবেক পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান (ততকালীন ক্যাপ্টেন) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আমরা আরও জানতে পারি ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তা, জেসিও এবং সৈনিকদের সঙ্গে মেজর মো. আসাদউজ্জামান (অব.), এই তিন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গুলি করার পর বেয়নেট চার্জ করা হয়।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাবা যোগদান করেন এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন যশোর ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টর কমান্ডার। তার সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত বিখ্যাত গরিবপুরের ট্যাঙ্ক যুদ্ধ, চৌগাছা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরাজিত হয়েছিল এবং ৬ ডিসেম্বর বাবার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম জেলা হিসাবে যশোর মুক্ত হয়। আমাদের জন্য সময়টা এতটাই প্রতিকূল ছিল যে, একবার ঢাকার মেয়র সাদের হোসেন খোকার কাছে আমার ভাই গিয়েছিল বাবার নামে রাস্তার নামকরণের জন্য। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তার নামকরণ করা হচ্ছিল। তিনি ভাইয়ের আবেদন পত্র হাতে নিয়ে আমার বাবার নাম দেখে ভাইকে তার অফিস কক্ষ থেকে থেকে বের করে দেন।

নাহিদ ইজহার খান বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় আছে। সকল দেশবাসী ন্যায়বিচার পাচ্ছে। তাই আমি আমার বাবাসহ তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তার হত্যার বিচার দাবি করছি। সরকারের কাছে আবেদন এই তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তদন্ত করে দোষীদের বিচার অনতিবিলম্বে করা হোক।

মামলায় নামীয় আসামিদের মধ্যে কেবল মেজর (অব.) আব্দুল জলিল বেঁচে আছেন। আর যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা কেউ বেঁচে নেই। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়।

কেউ যাতে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে-মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন,জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচন অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুরের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করতে চায়। কেউ যাতে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে’
তিনি আরো বলেন,গাজীপুরে সর্বস্তরের জনগণ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার পক্ষের সকল মানুষকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। নৌকার জন্য তিনবার ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে পরে তার প্রতিকের জন্য ভোট চাওয়ায় আহবান জানান। তিনি বুধবার গাজীপুর মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে টঙ্গীর নতুনবাজার আওয়ামী কার্ষলয়ে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি’র শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভায় এ বক্তব্য দেন।  স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেজবাহুল হোসেন সাচ্চুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান,স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক এ,কে,এম আফজালুর রহমান,স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী শহীদুল্লাহ লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোবাশ্বের চৌধুরী, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মোল্লা, উপ-দপ্তর সম্পাদক রাহুল দাস, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবী লীগের সভাপতি সঞ্জিত কুমার মল্লিক বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।

গাজীপুরের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্দেশ্য করে মায়া আরো বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন নৌকাকে ভালবাসে। আওয়ামী লীগের ছায়াতল থেকে বের হয়ে দেখুন একজন কর্মীও খুঁজে পাবেন না আপনার পেছনে। এবার নৌকার বিরোধীতা যে করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ছত্রছায়া থাকলেই হিরো হয়ে থাকতে পারবেন নয়তো জিরো হয়ে যাবেন।

 

মেয়র পদে বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রোববার জেলা শহরের রথখোলার বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে অবস্থিত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গত ২৭ এপ্রিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের শেষ দিন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মেয়র পদে ১২ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ৩০ এপ্রিল যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ অলিউর রহমান ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মো. আবুল হোসেন।

তবে জাহাঙ্গীর আলমের মায়ের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর আলমসহ যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আপিল করতে পারবেন।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি নির্বাচন করার জন্য এসেছি। তিনি দাবি করেছিলেন, সব ‘ফাঁকফোকর বন্ধ করে’ তবেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এমন একটা কিছু যে ঘটতে পারে, সেটি তিনি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। প্রয়োজনে তিনি আইনের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত লড়বেন।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণাকৃতরা হলেন— আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লাহ খান, জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য ও গণশিক্ষা সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল-মামুন মণ্ডল, আওয়ামী লীগ সমর্থক (স্বতন্ত্র) মো. হারুন অর রশীদ ও (স্বতন্ত্র) জায়েদা খাতুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম ও জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ।

আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

টঙ্গীতে রেলওয়ের লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের স্থানীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের স্থানীয় কর্মশালা বুধবার স্থানীয় পূর্বআরিচপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মহাপরিচালক ( অতিরিক্ত সচিব) মোঃ জহির রায়হান, ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প,বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্দিকুর রহমান উপপরিচালক (উপসচিব)সহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রনজিত কুমার মল্লিক (সাবেক অধ্যক্ষ আমজাদ আলী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ,স্থানীয় একটি সরকারী প্রাথমিক স্কুলের সবেক প্রধান শিক্ষক রজব আলী ভুইয়া, বাংলাদেশ টুডে উপসম্পাদক নাসির উদ্দিন বুলবুল,বাসস এর গাজীপুর প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লা, দৈনিক ইত্তেফাক এর গাজীপুর প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান ও রেডিও ও বিটিভি নিয়মিত কন্ঠশিল্পী ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলেন, প্রকল্পের পূর্ব প্বার্শে  পূর্ব আরিচপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে কয়েক লক্ষ লোকজনের বসবাস ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন চালু হলে তাদের টঙ্গীবাজার,ষ্টেশনরোড এলাকায় রেললাইন পার হয়ে আসতে মারাত্নক সমস্যা হবে। এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলেন, টঙ্গী রেলষ্টেশন থেকে টঙ্গীবাজার পর্ষন্ত এলাকায় গুরুত্বপূর্ন স্থানে আন্ডারপাস নির্মান করা হবে। তারা আরো বলেন, রেললাইনের প্বার্শে যে পুকুরগুলো আছে তা ভরাট করা হবে না। তা ছাড়া জনগনের সুবিধার্থে উক্ত রেল লাইনে আরো অতিরিক্ত রেলগাড়ী চালু হবে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন হবে দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান – আজমত উল্লাহ খান

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের সাথে ঈদশুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়রপ্রার্থীরা। ঈদের দিন বাদ জোহর থেকেই প্রার্থীদের বাসভবনে দলে দলে কর্মী-সমর্থকরা আসতে থাকেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের টঙ্গী ভরানের বাসভবনে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের ঢল নামতে দেখা যায়। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলরপ্রার্থীদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক আজমত উল্লাহ খানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসছেন।
সোমবার সমবেত নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘২৫ মে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। এ বিজয় হবে আওয়ামী লীগের, এ বিজয় হবে জনগণের। আমি নির্বাচিত হলে গাজীপুর সিটি করপোরেশন হবে দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে যে পরিমাণ বরাদ্ধ দিয়েছেন তার সঠিক ব্যবহার হলে রাস্তা-ঘাট-কালবার্ড এভাবে খোলা পড়ে থাকতো না। বিগত দিনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে যে দুর্নীতি হয়েছে তা ছিলো নজিরবিহীন। দেশের উচ্চ আদালতও এসব দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কোনো কাজের স্বচ্ছতা ছিল না। আমি যখন টঙ্গী পৌরসভার দায়িত্বে ছিলাম তখন প্রতিটি রাস্তার মাথায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো। কিন্তু বিগত দিনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনো প্রকল্পেই পরিচিতি সাইনবোর্ড পর্যন্ত ছিলো না। প্রতিটি কাজে অনিয়ম ও দুর্র্নীতি হয়েছে। এসব এখন আর বলতে চাই না, সময় মত সব বলে দিব।’ তিনি বলেন, ‘পানির গতি থাকে নিম্মমুখী, কিন্তু ড্রেনগুলো করা হয়েছে উর্ধ্বমুখী। রাস্তার ওপর লেভেলে ড্রেন নির্মাণ করায় মানুষের বাসা-বাড়ির একতলা পর্যন্ত ড্রেনের নিচে পড়েছে। অপরদিকে মানুষের বাসা-বাড়ির সামনে ময়লার স্তুপ পড়ে থাকে। বিগত দিনে তারা একটি নির্ধারিত ডাম্পিং প্লেসও করতে পারে নাই। আমি নির্বাচিত হলে নগরীর ময়লা-আবর্জনাকে একটি সঠিক ম্যানেজমেন্টের আওতায় আনবো। বর্তমানে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে নগরবাসীকে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। নিবন্ধন করতে ২/৩ মাস লেগে যায়, আবার অতিরিক্ত ফি নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আমি পৌর মেয়র থাকাকালে ট্রেড লাইসেন্সের ফি ছিল মাত্র সাড়ে তিনশ’ টাকা। আর তা বর্তমানে করা হয়েছে ১৪৪৯ টাকা। আমার সময়ের ৫০০ টাকার হোন্ডিং টেক্্র বর্তমানে ২২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এসব ভোগান্তির হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন আমার একার নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন নগরবাসীর, এই নির্বাচন নৌকার, এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের। এই নির্বাচনের পরই আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কাজেই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
এদিকে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী সররকার শাহ নূর ইসলাম রনি, আব্দুল্লাহ আল মামুন মÐল, জাপা মনোনীত মেয়রপ্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আজসমত উল্লাহ খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মাওলানা গাজী আতাউর রহমান শনিবার গাজীপুর রাজবাড়ি মাঠের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে বৃহত্তর ঈদের জামাতে শরিক হয়ে মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী সররকার শাহ নূর ইসলাম রনি টঙ্গী পশ্চিম থানার বড় দেওড়ায় পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়দানে ঈদের জামাতে শরিক হয়ে এলাকাবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করেন। জাপা মনোনীত মেয়রপ্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন টঙ্গী মরকুন গোরস্থান জামে মসজিদে ঈদের জামাতে শরিক হয়ে এলাকাবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করেন। সাময়িক বরখাস্ত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে শোনা গেলেও ফেসবুক প্রচারণা ছাড়া নির্বাচনী মাঠে তাকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ এপ্রিল, বাছাই ৩০ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৯ মে এবং ভোট গ্রহণ হবে ২৫ মে। সব ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহন করা হবে। গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৮১। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭২১, নারী ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪২ এবং হিজড়া ভোটার ১৮ জন।

পাঁচ সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

শনিবার বেলা ১১টায় গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের জন্য তালুকদার আবদুল খালেক, সিলেটে মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজশাহীতে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বরিশালে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লাহ খান।

জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের প্রায় অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

 

Advertisement

গাজীপুরে অধ্যক্ষসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

গাজীপুরে মাধ্যমিক ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) গাজীপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ কে এম তানভীর আহমেদ মামলাটি দায়ের করেছেন।

আসামিরা হলেন- গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র বর্মন, গাজীপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হরিপদ চন্দ্র পাল, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী আব্দুল বারেক সরকার ও কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং জাল রেকর্ডপত্র প্রস্তুত করেন আসামিরা। এভাবে তারা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি ফান্ডের ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৭ টাকা উত্তোলনের পর আত্মসাৎ করেন। গাজীপুরের চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সাধারণ শাখায় অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। সাধারণ শাখায় নিয়োগের কথা থাকলেও ওই নিয়োগ কমিটিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রতিনিধি ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি প্রতিনিধি রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা শাখায় কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটি গঠনের এখতিয়ার শুধুমাত্র কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের। সেক্ষেত্রে মজিবুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি বোর্ড থেকে কোনো বাছাই কমিটি গঠন করা হয়নি। চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটি গঠন করেন। কারিগরি শাখায় অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য এবং এমপিও ভুক্তির জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক বাছাই কমিটি গঠনের পত্র, বাছাই কমিটিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি মননোয়ন ও বাছাই কমিটিতে কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মনোনয়নের পত্র প্রয়োজন হলেও অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটির সদস্যরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের গাজীপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার বলেন, মাধ্যমিক ও কারিগরি কলেজের দুই অধ্যক্ষ ও শিক্ষকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং জাল রেকর্ডপত্র প্রস্তুত করে সরকারি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

ঘোমটা পরে সিটি নির্বাচনে আসবে বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি না এলেও ঘোমটা পরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীক (ধানের শীষ) ছিল না,

কিন্তু ঘোমটা পরে সবখানেই তাদের প্রার্থী ছিল। এই ঘোমটা পরা প্রার্থী কিন্তু সিটি নির্বাচনেও থাকবে। সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফ অলরেডি ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যান্য সিটিতেও ঘোমটা পরা তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকবে। এটা তাদের রাজনীতির আরেক ভণ্ডামি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষ্যে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদাহ ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ সভা হয়।

এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ জেলাগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা মহল বিএনপির নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত দিবসগুলোকে অস্বীকার করে, পালন করে না, উপেক্ষা করে। এর মধ্যে ১৭ এপ্রিল একটি। এদিন দেখবেন বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই। ৭ মার্চ তারা পালন করে না। স্বাধীনতার পথে স্বাধিকার আন্দোলনে ৭ জুন গুরুত্বপূর্ণ। এদিনও তারা পালন করে না। এরা নাকি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী! দেখবেন তাদের বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু নেই। তাদের অনুষ্ঠানমালায় বঙ্গবন্ধু নেই। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার মহানায়ক নেই।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যা শুরু করে দিয়েছিল সেই ধারা বিএনপি এখনো অব্যাহত রেখেছে। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি এমনটা করেছে, এখনো তারা সেই ভাবধারা বহন করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় তারা বিশ্বাস করে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার পাঠক মাত্র। ঘোষণার পাঠক ঘোষক হতে পারে না। স্বাধীনতার ঘোষণা অনেকেই পাঠ করেছেন। স্বাধীনতা ঘোষণার একমাত্র বৈধ অধিকার ছিল বঙ্গবন্ধুর। সত্তরের নির্বাচনে জনগণ তাকে সেই ম্যান্ডেট দিয়েছিল। তিনি বলেন, সুদীর্ঘ ও সুবিশাল ইতিহাস স্বাধীনতা সংগ্রামের।

একটা বাঁশির ফুঁতে হয়নি। সেখানে বীরের বীরত্ব আছে, পাশাপাশি ষড়যন্ত্রও আছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের ফুটনোট হতে পারে, তাকে নায়ক-মহানায়ক বানানো বিএনপির উদ্ভট কল্পনা, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। তিনি আরও বলেন, আজকে স্বাধীনতার আদর্শ ও চেতনাবিরোধী অপশক্তি বিস্তার করছে। এই বিষবৃক্ষ উৎপাটন পর্যন্ত আমাদের লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপির নেতৃত্বের অপরাজনীতিকে পরাজিত করতে হবে।

 

Advertisement

টঙ্গীতে আওয়ামী নেতাদ্বয়ের নিরব চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আউচপাড়ায় দুই সহদোর সরকার দলীয় নেতার বিরুদ্ধে নিরব চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই নেতাদের ‘খুশি’ না করলে নির্মাণ কাজে বাধা, জমি দখল, উচ্চ দামে নির্মাণ সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হয়। এমনকি বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়িতে অসামাজিক কাজ নিয়ন্ত্রণ ও আনাগোনার অভিযোগও রয়েছে ওই সহদোর নেতাদের বিরুদ্ধে। এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ থানা পুলিশের সাথে অতি সখ্যতার কারণে ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় অভিযোগ দেয়ার সাহস পান না। এমনকি চেরাগ আলীি মার্কেটসহ মহল্লার অলিগলিতে লটারির নামে জুয়ার আসর বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে নিম্ম আয়ের মানুষের সর্বস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দক্ষিণ আউচপাড়ার আওয়ামীলীগ নেতাদ্বয় এক সময় যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করতেন। বর্তমানে তারা আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছেন। বাড়ির নির্মাণ কাজ করতে গেলে তারা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাদের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যে নির্মাণ সামগ্রী নিতে বাধ্য করেন। কেউ রাজি না হলে সরকার বিপ্লব নিজে আবার কখনো তার ভাই অথবা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে নির্মাণ কাজে বাধা দেন। বর্তমানে এলাকাবাসী তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের বাধার কারণে বর্তমানে সুরতরঙ্গ রোডের একটি মার্কেটের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তাদের নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ট্রাকের মাধ্যমে সেই মার্কেটের বৈদ্যুতিক লাইনের তারও ছিড়ে যায়। ভয়ে ভুক্তভোগী মার্কেটের মালিক কিছুই বলতে পারেনি। একই রোডে জোরপূর্বক একজন প্রবাসীর জমি দখল করে রেখেছেন। পাশেই নিজস্ব কির্টারগার্টেন স্কুলের নামে একটি বাড়ি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সুরতরঙ্গ রোডের নির্মাণাধীন অপর একটি বাড়ির মালিক জানান, তিনি নির্মাণ কাজ শুরু করলে আওয়ামীলীগ নেতা বিপ্লব নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের প্রস্তাব করেন। তিনি ইটা, বালি, সিমেন্ট ও রডের দর দিতে বললে তাকে বাজার মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দর দেয়া হয়। এতো উচ্চমূল্যে কাজ দিতে রাজি না হওয়ায় বিপ্লব এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তার সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং বাহিনীর প্রধান ইসমাইলকে দিয়ে জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে বাধা উপক্ষো করে কাজ চালিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নেয়। সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সখ্যতা থাকায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করারও সাহস পান না। কেউ সাহস করে থানায় অভিযোগ করলে উল্টো হয়রাণির শিকার হতে হয়। জমি জবর দখল প্রতিরোধে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েও থানা পুলিশের কোনো সহযোগিতা পান না। আদালত জমি জবরদখল প্রতিরোধ বা শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য ১৫৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও থানার ওসি আদালতের নির্দেশ কার্যকর করেন না। ফলে ভুক্তভোগীরা আওয়ামীলীগ নেতা ও তাদের সন্ত্রাসী কিশোরগ্যাং বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এমনকি টঙ্গী কলেজ গেট থেকে চেরাগ আলী মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও এদের কাছে জিম্মি। প্রতিদিন ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা উত্তোলন করা হয়। আবার ব্যক্তি মালকানাধীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামনের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অংকের এডভান্সে ভাড়া দেয়া হয়। সরকার বিপ্লবসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে জোড়পূর্বক জমি দখলের অভিযোগে গাজীপুর আদালতে মামলা রয়েছে বলেও জানাগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি হয়েও ইসমাইল স্থানীয় সুরতরঙ্গ রোডে শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করেছিলো। উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে আওমীলীগ নেতা বিপ্লবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি রড, সিমেন্ট এমনকি কোন ব্যবসাই করিনা। কাজেই নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের প্রশ্নই আসে না। প্রয়োজনে আপনারাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা তদন্ত করে দেখেন। আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমানিত হলে শাস্তি মাথা পেতে নিব।
এদিকে এব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলেেমর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানায় এব্যাপারে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আসেনি । অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

ব্যবসায়ীদের ৩-৪ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে: সালমান এফ রহমান

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বঙ্গবাজার ও  এর আশপাশের বাজারগুলোতে আগামীকাল শুক্রবার থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আগামীকালের পর থেকে আইন-কানুন মেনে অস্থায়ীভিত্তিতে তাদের ব্যবসা চালু করতে পারবেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবাজার পরিদর্শনকালে সালমান এফ রহমান বলেন, একটি তালিকা তৈরি করা হবে এবং ক্ষতি অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হবে। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের তালিকা আলাদা থাকবে। যাদের স্থায়ী দোকান ছিল তারাই অগ্রাধিকার পাবে।